দেয়ালের যেহেতু কান নাই, তাই দেয়াল হলাম...

মেষরে মেষ তুই আছিস বেশ

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২২

শেয়ার করুন:                   Facebook


সময়টা কেরম স্থবির হইয়া আছে...কোন কিছুতে মতি পাই না। বহুদিন কোন "অন্য" শহরে ঘুরতে যাই না। বহুদিন কোন ভালো সিনেমা দেখি না। বহুদিন জুইত কইরা খানা-পিনা করি না। কেরম স্রোতে ভাসা চেলা কাঠের মতো গতানুগতিকতায় চলি...যেদিকে যাইবো নদীর জল সেইখানেই আপাতঃ বিরতি...এই জীবনে মতাদর্শ নির্ভর বাগাড়ম্বর আছে, জ্ঞানের অহংকারজনিত স্ফুরন আছে, শ্রদ্ধা আর অশ্রদ্ধা নির্ভর রুচিবাণিজ্য আছে। কিন্তু মনে হয় জীবনে অস্থিরতা প্রয়োজন...প্রয়োজন আছে বিতন্ডার...প্রয়োজন পড়ে অনিশ্চয়তার অস্বস্তি...

গতো সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ গেলাম যৌন নিপীড়ন বিরোধী সমাবেশে...নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে ঐ দিন সংহতি সমাবেশ ছিলো স্বোপার্জিত স্বাধীনতা নামের ভয়াবহ স্থাপত্যের চত্বরে। যাওনের আগে হৃদয়তন্ত্রীতে অনেক প্রত্যাশার বাজুবন্ধ বানছিলাম বইলা একটু হতাশাগ্রস্থ হওনের অবকাশ পাইলাম। বয়স বাড়নের একটা সমস্যা আছে...নস্টালজিয়া নামের ব্যক্তিতান্ত্রিক অনুভূতির প্রাবল্যে হতাশার গুণিতক জ্যামিতিক হারে বাড়ে। আমার কেবলি ১৯৯৮ সালের রৌদ্রক্রান্ত দুপুর আর...অনিশ্চিত রাত্রির কথা মনে পড়তে শুরু করে...তখন আমরা ধর্ষিত নারীর অধিকার আদায়ের যেই ব্রত আরম্ভ করছিলাম, তখন আমরা ধর্ষকের বিচার দাবী কইরা দেশব্যাপী যেই ক্রোধের বিচ্ছুরন ঘটাইছিলাম, যার আগুণে এমনকি ধর্ষকের আশ্রয়দাতারা পর্যন্ত বিপর্যস্ত হইয়া উঠছিলো...অন্তরে ভয় আর প্রকাশে হায়েনা হইয়া তারা ভয় দেখাইতো বিভিন্ন জুজুর। তাগো আস্ফালনের নিঃশ্বাসে পুড়াইতে চাইতো আন্দোলনের পবিত্রতা...কিন্তু তবুও সংগঠিত ছিলাম...তবুও আমরা নির্ভয় ছিলাম...

১৬ তারিখের সমাবেশের আগত বক্তাগো বক্তব্য আমার প্রাণ ছুঁইয়া গেলো, ১৬ তারিখে সংহতিস্থলে উপস্থিত মানুষগুলির শক্ত কঠিন প্রতিবাদী মুখগুলির আন্দোলনের প্রতি আস্থা আর একাগ্রতা আমারেও খানিকটা আন্দোলিত করে...কিন্তু পুরা পরিবেশে কিসের অভাব টের পাই...সেই "কিসের" অভাবে আমি হতাশাগ্রস্ত হই...মনে হয় মানুষগুলি কেরম ব্যক্তি হইয়া উঠতেছে দিনকে দিন...বিরোধটাও তাই ছানি কিম্বা মানিকের লগে! আন্দোলনকারীরাও তাই বামপন্থী কিম্বা নাট্যতত্ত্বের ছাত্র-ছাত্রীরাই হয় সমাজের চোখে...যূথবদ্ধতায় তাই নিষেধের বেড়াজাল পরে। মুষ্টিবদ্ধ হাতের নিদর্শনে তাই ব্যর্থতা আইসা নাড়া খায়।

এইরম সুধী সমাবেশে আমার খানিকটা অনাগ্রহই ছিলো চিরকাল...আন্দোলনে মনে হয় আভ্যন্তরীন মানুষগুলিই বেশী ক্রিয়াশীল হয় বইলা আস্থা রাখি। আন্দোলনে থাকা মানুষের প্রিয়মুখে যেই দৃঢ়তা থাকে তারে অনুকরণ আসলেই সম্ভব না কোন কালে...এই মানুষগুলি তত্ত্ব জানে কম, প্রয়োগের উল্লাসই তাগো ব্রত হয়...প্রশস্তির আকাঙ্খা প্রায় দুরীভূত থাকে তাগো চোখে মুখে। ১৬ তারিখের সমাবেশে সেইসব মানুষগুলির মুখ আমি খুব একটা দেখতে পাই না...সুধীরাই কেরম অলঙ্কার হইয়া জ্বলজ্বল করে দিবালোকে।

শাসকেরা শাসিতের দাবী পূরণে কোনকালেই আগ্রহী হয় না, ইতিহাসে তার নজীর ভুড়িভুড়ি...শাসিতের দাবীতে তারা স্পর্ধা খুঁইজা পায়...দাবীপূরণের পুরা প্রক্রিয়াতে তারা পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখে। প্রবল প্রতিরোধের জোয়ার ছাড়া তাই শাসকেরা কোনদিন নতি স্বীকার করে না। শাসিতের যৌক্তিকতাও তাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় শাসকের প্রচারণায়। আন্দোলনের মাঠে তাই চলে লাঠিয়ালের তান্ডব! সুধীরা কোনকালে শক্তিমান ছিলো লাঠি'র সামনে!?

যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীতিমালা প্রণয়নের যেই আন্দোলন তার ভবিষ্যত নিয়া আমার কোন সন্দেহ নাই, কিন্তু ভয় পাই সুধী অনুরক্তির...প্রয়োজন মনে করি আন্দোলনের মাঠে প্রতিবাদের যূথবদ্ধতা...আড়াই ফুট উচু মঞ্চ সবসময় বিভাজন আনে...সাহসী প্রাণ তরুণ-তরুণীগো তাই দেখতে চাই বলীয়ান...মেষে'র মুখোশে সবাইরে মানায় না...সমর প্রাঙ্গনে চাই যুদ্ধের আয়োজন...

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;

 

  • ১৯ টি মন্তব্য
  • ২২৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৩ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩
comment by: সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: আড়াই ফুট উচু মঞ্চ সবসময় বিভাজন আনে...
২. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৪
comment by: রুবেল শাহ বলেছেন: ভাল লাগা রেখে গেলাম
৩. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৭
comment by: ফালতু মিয়া বলেছেন: কি যে কইল কিছুই বুজবার পারলাম না।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২

লেখক বলেছেন: আমার ব্যর্থতা...

৪. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮
comment by: বিগব্যাং বলেছেন: ...কিন্তু পুরা পরিবেশে কিসের অভাব টের পাই...সেই "কিসের" অভাবে আমি হতাশাগ্রস্ত হই...মনে হয় মানুষগুলি কেরম ব্যক্তি হইয়া উঠতেছে দিনকে দিন...বিরোধটাও তাই ছানি কিম্বা মানিকের লগে! আন্দোলনকারীরাও তাই বামপন্থী কিম্বা নাট্যতত্ত্বের ছাত্র-ছাত্রীরাই হয় সমাজের চোখে...যূথবদ্ধতায় তাই নিষেধের বেড়াজাল পরে। মুষ্টিবদ্ধ হাতের নিদর্শনে তাই ব্যর্থতা আইসা নাড়া খায়...কিন্তু ভয় পাই সুধী অনুরক্তির...প্রয়োজন মনে করি আন্দোলনের মাঠে প্রতিবাদের যূথবদ্ধতা...আড়াই ফুট উচু মঞ্চ সবসময় বিভাজন আনে...

৫. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২
comment by: আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: বক্তব্যটা মোটের উপর বুঝছি।কিন্তু ১৬ তারিখের সমাবেশ সংক্রান্ত কোন পোষ্ট পড়া হয়নি( কেউ কি দিয়েছে)।তাই পুরো বক্তব্য ঠিকমতো বোধগম্য হচ্ছে না।
৬. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৯
comment by: হোসেইন বলেছেন: এই জায়গাগুলা আসলেই ঝামেলার ।
আপনে মঞ্চের ভেতর থাইকা আন্দোলনের পরিপক্কতা আশা করেন না , আবার মঞ্চ ছাড়া আন্দোলনের সূত্রপাতও হইবে না ।

ঝামেলা আর ঝামেলা ।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন: আন্দোলন মঞ্চ থেইকা সূত্রপাত হওনের ইতিহাস মনে হয় না খুব একটা আছে...মঞ্চ বড়জোর আন্দোলনে গতিশীল প্রভাবকমতো কাজ করে। আর আন্দোলনের মঞ্চ আর সুধী সমাবেশের মঞ্চরেও আমি এক করতেছি না।

৭. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬
comment by: জটিল বলেছেন: এই নামের বইটা যেন কার লেখা !!
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন: এইটা কি কোন বইয়ের নাম? নাকি একটা কবিতার লাইন? স্মৃতিভ্রষ্ট হইছি বইলা কইতে পারতেছি না...

৮. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০
comment by: মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ভাল্লাগলো।
৯. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৯
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: ইন্টারেস্টিং আর কামের বিশ্লেষণ।
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: তোমাগো উপরেও কিন্তু এখন অনেক দায়িত্ব বর্তাইলো...

১০. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১২
comment by: জটিল বলেছেন: বই এর নাম , আমার কাছে ছিল , খুঁজে দেখতে হবে
১১. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৮
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আসলে আমরা সুধীরা , ভেতরের লোক না । ভেতরের বলতে আন্দোলন যেখান থেইকা শুরু হইছে সেইখানের কথা কইতেছি । তাই আমাদের আবেগ আছে , কিন্তু আন্দোলনের লাইগা যেই গতি দরকার সেই গতি অনুপস্থিত-- আমাগো সম্পর্কে আমার এই বিশ্লেষণ কি যথার্থ হইছে ?
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: গতি কইতে আমি যা বুঝতেছি তা হইলো স্পিরিট...স্পিরিটের অভাবটা মূখ্য না...পরিবেশ-প্রতিবেশের লেইগা অনেকসময় চোখের ভাষা পাল্টাইয়া যায়...আমরা যখন আন্দোলনের মানুষ ছিলাম তখন আন্দোলন নিয়া উপলব্ধি আর এখন ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যে আন্দোলন নিয়া উপলব্ধিতে কোন পার্থক্য নাই...পার্থক্যটা হয় অনুভূতিতে...

৯৮ সালে আমাগো কামরাঙ্গীর চরের বাড়িতে মা-বাপ ঘরের মধ্যে পাঁচ ফিট পানি নিয়া দিন যাপন করে...কিন্তু রাজনৈতিক উপলব্ধির প্রাবল্য আর উদ্দেশ্যমূখীনতার কারনে আমি তখন আন্দোলনের মাঠে...আমার মতোন আরো অনেকেই ছিলেন সেই জোয়ারে...কিন্তু আইজকা যখন আমি সুধী সমাবেশে যাওনের পরিকল্পণা করি, তখন যাওনের আগেই মাথায় আসে বাড়িতে বাজার নাই...তাড়াতাড়ি ফিরতে হইবো...

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূখীনতা খানিকটা ম্লান হইয়া গেছে ব্যক্তিগত চাহিদার দাপটে...এইটারে আমি কটাক্ষ করতে চাই না...কিন্তু একটা আন্দোলনে অবশ্যই লক্ষ্যাভিমূখী স্রোতের প্রভাববলয় থাকতে হয়...

১২. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৪
comment by: আবু সালেহ বলেছেন:

গতো সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ এর আন্দেলনের কথা জানা নাই....
তাই ব্যাপারটা পুরো বুঝতে পারি নাই...
১৩. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৫
comment by: কৌশিক বলেছেন: মাফ চাই। আমি কোন ফিউচার দেখি না আন্দোলনের। কি জানি কেন দেখি না!
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: এই আন্দোলনের ফিউচার আপনে দেখেন না কারন আপনে আন্দোলনের ভেতরকার মানুষ হিসাবে নিজেরে ভাবতে পারেন না...আমরাও যখন ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন শুরু করছিলাম তখনো আমরা বাদে আর সবাই ব্যর্থতার ফিউচার দেইখা ফেলছে...আর আমরা ফিউচার না দেইখা আন্দোলনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম...

 



 


স্বপ্ন দেখতে দেখতে কাটাইছি কৈশোর তক, স্বপ্ন ভাঙতে ভাঙতে গ্যাছে তারুণ্য, এখন মধ্যবয়সে আবার শৈশবের স্বপ্ন দেখি!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৮৪২২