somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীতিমালা সম্পর্কে আমি যা ভাবি...

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম ব্লগিং করতাম ব্লগস্পটে। সেইখানে নিজের মতোন-যাচ্ছেতাই লিখতাম...কেউ কিছু কওনের ছিলো না। সেই ব্লগের এড্রেস কাউরে দেওনের আগ্রহটাও হয় নাই, এখনো হয় না। কেবল ক্ষোভ মিশ্রিত বয়ান আর অনেক ব্যক্তিগত অনুভূতি লিপিবদ্ধ করতাম সেইখানে, যেই সব আসলে ব্যক্তিগত ডায়েরীর পাতা, অন্যকারো সেইখানে প্রবেশাধিকার নাই। প্রথম বাংলা ব্লগ সামহোয়্যার ইন'এর খোঁজ পাওনের পর সেইখানে লেখালেখি শুরু করতে চেষ্টা করলাম। এই লেখালেখিতে শুরুর দিকে নিপাট ব্লগিঙের আগ্রহটাই ছিলো। তয় ঐ সময়ের সামহোয়্যার ইন ঠিক আসলে কি ছিলো ঠিক করা মুশকিল...ঐ সময় কইলে আসলে ভুল হয়, এখনো সামহোয়্যার ইন কিম্বা অন্যান্য বাংলা ব্লগ'ই সাধারনতঃ যেইরম দেখছি ব্লগস্পট বা অন্যান্য ব্লগ সার্ভিসে, তার বাইরে গিয়া অন্যরম একটা চরিত্র তৈরী কইরা ফেলছে মনে হয়।

সকল বাংলা ব্লগেই পুরানা আমলের যেই ডিসকাশন ফোরাম টাইপ একটা জিনিষ আছে বা ছিলো, সেইটার ছায়া দেখি। যেই কারনে এইখানে একজন ব্লগার লেখালেখির উৎসাহ হারাইয়া ফেলে ইন্টারেকশনের অভাবে। মাইনাস-প্লাস এইখানে গুরুত্বপূর্ণ হয় প্রায়শঃই....কাস্টোমাইজ ফ্রন্ট পেইজের দাবী এইখানে তিরোহিত হয় সূচনাতেই...এইরম বহুরকমের পাঠক-লেখক চাহিদা তৈরী হয় আসলে আলোচনা-মূল্যায়ন এইসবের নিরীখেই।

ঐ আমলে সামহোয়্যার ইন'এর একটা নীতিমালা ছিলো...যেইটা ছিলো এখনকার প্রথম আলো ব্লগের নীতিমালার শেষ কথাটার মতোন। যে কোন ব্লগপোস্ট নিয়া সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষ যা ইচ্ছা তা করবার ক্ষমতা রাখেন। শুরুতে ব্লগীয় নীতিমালা নিয়া তেমন আগ্রহ না থাকায় এইটা জানছি ব্লগিং শুরু করনের বহু পরে। যখন ব্লগে ব্যানাব্যানির খেলাটা চরমে উঠলো...যুঞ্চিক্ত নামের এক সহ ব্লগার ব্যান খাইলেন যখন, তখন কে জানি এই বিষয়টা তুলছিলো সেইটা মনে নাই।

সামহোয়্যার ইনের নীতিমালা কখনোই সেই অর্থে দেখা হয় নাই, কারন ঐ সময়ে সামহোয়্যার ইন মডারেশন আসলে কখন কি হইতো সেইটা বুঝনের সাধ্য কারো ছিলো না। একটা নতুন ব্লগ সাইট যেইটা তখনো ডেভেলপমেন্টের পর্যায়ে ছিলো, সেইসময় তার অনেক ভুলভ্রান্তি মাইনা নিলেও যুঞ্চিক্তরে ব্যান করনের পর বিষয়টা ভালো না লাগাতে আমি নিজেই সামহোয়্যার ইনে আর না লিখনের সিদ্ধান্ত নেই। নতুন ব্লগ সচলায়তন, যার তখন মাত্র যাত্রা শুরু হইছে, সেইখানে লিখতে শুরু করি।

সচলায়তনে যাওনের পরেই মূলতঃ আমার নিজের নীতিমালা বিষয়ে আগ্রহ তৈরী হয়...সচলায়তনের একজন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা প্রণয়নে সহযোগিতা করনের তাগীদে। যদিও তাগো আমি সেই সময় জানাইয়া দেই এই ধরনের ব্লগীয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে আমি নীতিমালার চাইতে কর্তৃপক্ষের ট্রান্সপারেন্সী বেশি পছন্দ করি। আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারনেই আসলেই আর সেই নীতিমালা প্রণয়নে অংশ নেয়া হয় নাই। তয় পরে সচলায়তন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা আসনের পর সেই খানে বিতর্ক শুরু হয়।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় যা হয়, একটা সমস্যার সামনে পইরা, তৎসম্পর্কীত সিদ্ধান্ত নিয়া ফেইলা তারপর নীতিমালা বানানের উদযোগ থাকে ক্ষমতার চর্চাকারীগো। সচলায়তনেও অসমাধিত একটা বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভূক্ত হওনের আগেই তার বাস্তবায়ন শুরু করে কর্তৃপক্ষ, সেই সিদ্ধান্তের বলি আমার নিজেরেই হইতে হয়। ঘটনার পরম্পরায় সচলায়তন থেইকা আমারে ব্লক করা হয়। ইতোমধ্যে সামহোয়্যার ইন একটা ধোয়াটে হইলেও মোটামুটি সুস্থ্য নীতিমালা তৈরী করে...যেইটা আমার লেখালেখির লেইগা হুমকী মনে হয় নাই বইলা আমি আবারো সামহোয়্যার ইনে লিখতে শুরু কইরা দেই।

নীতিমালা আপাতঃ সুস্থ্য কইতে আমি যা বুঝি, আমার মতপ্রকাশের নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা। যেই স্বাধীনতা যেকোন সামাজিক বিষয় নিয়া লিখতে আমার লেইগা বাঁধা হইয়া দাঁড়ায় না। সামাজিক একটা রুচীবোধের জায়গা সেই নীতিমালায় হয়তো স্বীকৃত থাকে, কিন্তু সেই রুচীবোধ আমার মতপ্রকাশের লগে সংঘর্ষে না গেলেই হইলো।

সামহোয়্যার ইন ব্লগে একটা পোস্ট মারফত আইজকা জানতে পারলাম প্রথম আলো ব্লগ একটা নীতিমালা করছে। কিছুদিন আগে প্রথম আলো ব্লগের কর্তৃপক্ষরা বাংলাদেশের কয়েকজন ব্লগারের লগে মত বিনিময় সভা করলে সেই সভায় আমারেও পত্র মারফত আমন্ত্রন জানানো হয়, সেই আমন্ত্রনে আমি সেইখানে গিয়া দেখি সামহোয়্যার ইন'এরই একদল ব্লগার সেইখানে উপস্থিত...যারা আমি পৌছানের আগেই সেইখানে বক্তব্য দিয়া ফেলছে। আমিও তাই তাড়াহুড়ায় সেইখানে কিছু বলি, মডারেশনের কঠোরতা নিয়া আমার যেই বিরোধীতা আছে সেইটা খোলাখুলিই বলতে দ্যান প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ, অন্ততঃ সেই সভাতে কোন মডারেশন হয় নাই...

আইজকা সকালে প্রথম আলো'র যেই নীতিমালা দেখলাম তাতে আমি একটু অবাকই হইলাম...মনে হইলো এই নীতিমালার প্রায় প্রত্যেকটা অংশ একজন ভূক্তভোগীর ব্যক্তিগত প্রকাশ। সেই প্রকাশে আমার সহমর্মীতা থাকলেও নীতিমালা হিসাবে তারে মাইনা নিতে আমি অপারগ। পুরা নীতিমালা পইড়া দেখনের আগ্রহটাও আমার হয় নাই, যতোটুক জানছি সেইটা আরিফ জেবতিকের রম্য রচনা থেইকাই। তয় নীতিমালা'র শেষ লাইনটা...

কর্তৃপক্ষ যে কোনো ব্লগ ও ব্লগারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল করার অধিকার রাখে।

আমার চোখে লাগছে বেশি, সাথে কলিজাতেও লাগছে। এইরম ক্ষমতার দম্ভ থাকলে আমি কোন ভাবেই সেই শক্তির ধারে কাছে নাই। প্রথম আলো ব্লগের সদস্য আমি হইতে চাই না।
২৫টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×