এক.
পর্নগ্রাফির নিষিদ্ধ জগতের প্রতি দুর্বার আগ্রহ ছিলো এইরম না ব্যাপারটা, কিন্তু এক্কেরেই শহুইরা সংস্কৃতির ঝোকে পরিকল্পনা কইরা নীলছবি দেখছি সেই স্কুল বয়সে। বন্ধু-বান্ধব যখন চুরি কইরা নগ্ন নারী দেহের ছবিআলা বই নিয়া আসতো স্কুলে হুমড়ি খাইয়া পরা অনেক মাথার একটা আমিও ছিলাম। বিশুদ্ধ ধ্রূপদী সাহিত্যের পাশাপাশি মাসুদ রানা সিরিজের বই পড়ছি ক্লাস ফাইভে থাকতেই...বইয়ের প্রথম দিককার সিরিজগুলিতে মীরা দত্তের স্ট্রিপ নাচের শারিরীক বর্ণনা পড়নের টাইমে ভিজ্যুয়ালি ফ্যান্টাসাইজ করতে কখনো দ্বিধা করি নাই...হয়তো নিজের পুরুষ হইয়া উঠনের চর্চামতোই পোষাক পরা নারীদেহ দেখলে সবসময় না হইলেও প্রায়শঃ তার নগ্ন দেহের দৃশ্যায়ন করি নাই কখনো এইরম কথা হলফ কইরা কইতে পারুম না। কিন্তু বয়স যতো গেছে পর্নের প্রতি আগ্রহ অবক্ষয়িত হইছে...শুণ্যের কোঠায় না হইলেও অন্ততঃ তদ্দূর গেছে, যদ্দূর গেলে নারীর প্রতি অসম্মানের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হইবো না। কোন মেয়ের প্রতারিত হওনের যৌনদৃশ্য দেখনের লেইগা পাগল হই নাই...
ইন্টারনেটের লগে পরিচয় আমার বয়সকালে...মধ্যবয়সে...৯৯ সালে ঘন্টায় ৩০ টাকা দিয়া সাইবার ক্যাফে। মেইল এড্রেস খোলা, তাতে প্রবাসী বন্ধুগো মেইল চেক করা...গুগল সার্চ দিয়া কনফিউশন কমানোর পাশাপাশি ইয়াহু চ্যাট করতাম তখন। মাঝে সাঝে পর্নসাইটে ভিজিট করি নাই কইলে মিথ্যার দায় নিতে হইবো...তয় একটা কথা কইতে পারি পর্নসাইট দেখনের লেইগাই কেবল ঐ ৩০ টাকা খরচ করছি এইরম হয় নাই কখনো। বাংলাদেশের পর্ন ফোরাম যৌবনজ্বালার নাম শুনছি ২০০৫-এর মাঝামাঝি... কিন্তু তাগো জটিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া উৎরাইয়া গিয়া পর্ন দেখার বাসনা আমার হয় নাই। এই সময়টায় দিনে প্রায় ১০/১২ ঘন্টা অনলাইন থাকতাম, কিন্তু পর্ন সাইটে গিয়া ডাউনলোড করাটারে খুব দরকারী বোধ করি নাই। বিশ্লেষণে সাফাই গাওনের টোন থাকলেও আসলে তা নয়...আমি যেকোন সাধারন বাঙালির মতোই প্রায়শঃ পর্নগ্রাফি প্রীতি দেখাইছি, পর্ন ফ্রিক কোনদিন ছিলাম না কইতে পারি...
পর্নগ্রাফি'র রাজনৈতিক প্রবনতাটারে আমার চিরকালই, মানে যখন থেইকা বুঝনের আক্কেল হইছে তখন থেইকাই পুরুষতান্ত্রিক একটা অ্যাপ্রোচ মনে হয়। আর পুরুষতান্ত্রিকতার যেই ক্ষমতা চর্চার প্রবনতা আছে, সেইটারে আমি অপছন্দ করি। আমার সিনেমা গুরু রম্য রহিম একবার কইছিলেন, অনেক কম ব্যাটা ছেলেই নারীদের পোষাক পরা অবস্থায় কল্পনা করে...তার এই বাক্যের আংশিক সত্যতা আমি টের পাই বন্ধু মহলের আলোচনায়...পুরুষের সামাজিকতায়...পর্নগ্রাফিক আলোচনায়...
একটা কনফিউশন অবশ্য তৈরী হয়...পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ক্যানো তাইলে এতো পর্নবিরোধী সামাজিক রুচীবোধের খেলা!? এইটা কি হইতে পারে পুরুষতান্ত্রিকতার যেই দখলদারী মনোবৃত্তি তার কোন একটা প্রকাশ? ইতিহাসে জানি ক্ষমতাবান পুরুষেরা সেবাদাসী ধরনের নারী সেবক রাখতো দখলে...আর এই সব নারীরা অস্পৃশ্য ছিলো সাধারন পুরুষের কাছে...নিষিদ্ধ এই বোধ থেইকাই কি সমাজের নিজস্ব প্রতিরোধী আচরনের শুরু? নাকি সমাজে শুভবোধটাও ছিলো? আমি খানিকটা সংশয়ি হই এই প্রসঙ্গে...অনেক ধর্মেও তো দাসীর সাথে সঙ্গমরে জায়েজ করা হইছে! তবে!?
পর্নগ্রাফির ইফেক্ট নিয়া অনেক বিশ্লেষণি গবেষণা হইছে জানি। পুরুষের শারিরীক সমস্যার কথা প্রচার করা হইছে মিডিয়ায় এইসব গবেষণার উদাহরন দিয়া...পুঁজির চালকেরা নারীর ছদ্ম ক্ষমতায়নের কথা প্রচার করেন, আবার তারাই নারীরে পণ্য বানাইয়া ব্যবসা করেন...কোনটায় আস্থা থাকবো তাইলে সমাজের? বিভ্রান্ত সময়ের যাত্রী হইতে বাধ্য হই আমরা। পর্ন সাইটে ভ্রমণ বিষয়টা আমাগো কাছে আনন্দের হইলেও তার প্রবণতা আমাগো কাছে হয় নিষিদ্ধ...এ এক অদ্ভুত ডিলেমা!
দুই.
অমি রহমান পিয়াল পর্ন সাইটে যখন ভ্রমণ করতেন তার ইতিহাস আমি জানি না, জানি না তিনি পুরুষতান্ত্রিক আচরনে কদ্দূর হ্যারাসমেন্টে নামতে পারেন...কিন্তু যৌবনজ্বালা ফোরামের খোঁজখবর যখন উনি করতেছিলেন তখন এই বিষয়টা উনি শিশুসুলভ আতিশয্যে আমারেও শুনাইছিলেন...তার ভিডিও এডিটিং শিক্ষা দিয়া জম্পেশ ভিডিও বানানের গল্পও শুনাইছেন আমারে...আগ্রহহীনতার কারনে হয়তো পরবর্তীতে এই বিষয়ে আলোচনা হইছে কম বা এক্কেরেই হয় নাই...যতোটা তিনি আমার সাথে শেয়ার করছেন জন্মযুদ্ধের সংগঠনে তার তুলনায়তো বিষয়টা শুণ্যের হার...কিন্তু তিনি সেইখানে যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের দাবীতে সচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে সেই ব্যাপারটা কখনোই জানান নাই...নিভৃতে-নীরবে তিনি সেইখানেও চটিলেখক হইছেন জানলাম বহুকাল পর অন্য এক ব্লগে লেখা এক পোস্ট থেইকা...তার ঐ পোস্টের আলোকে আমার দুইটা চিন্তা মাথায় আসছে...একটা হইলো, ক্যানো এই অপ্রয়োজনীয় কাজ নিয়া লোকটা সময়ক্ষেপন করতেছে, ঐ সময়টাতো তিনি জন্মযুদ্ধের পুনরুত্থানে দিলেই বেশী ভালো হইতো! আর দ্বিতীয়টা হইলো, সম্ভবতঃ এই কারনেই তিনি আমারে কন নাই, কারন আমারে জিগাইলে আমি তারে নিরুৎসাহিত করতাম...
আমি এখনো এর কার্য্যকারীতা নিয়া সংশয়ি। যৌ্বনজ্বালা কিম্বা যৌবন যাত্রা যাই হোক না ক্যানো, দুইটারই সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা শুণ্যের কোঠায় থাকবো। যেই লোক ঐ ফোরামে গিয়া সাক্ষর দিতাছে, সেই এই কার্য্যক্রমের কথা লোকসমক্ষে কতোটা প্রাঞ্জল ভাবে কইতে পারবো তা নিয়া আমার সন্দেহ আছে। আর আদালতে যদি যৌবন যাত্রা ফোরামের উদ্যোগ হিসাবে তার সাক্ষর সংগ্রহের নমূনা দেওয়া হয় তার আবেদন হাস্যকরও হইতে পারে...আমার নাগরিক সুশীল আত্মা এই সংশয়ে পইড়া ব্লগীয় তুমুল যুদ্ধেও দুইদিন নিশ্চিপ থাকে অতএব...কিন্তু হঠাৎ আমার মনে হয় অমি পিয়ালের উপলব্ধির শিশুসুলভ আনন্দের কথা! সমাজের সকল বাধা তার কাছে ক্ষুদ্র হইয়া যায়! তিনি যুদ্ধাপরাধীদের দাবী তথাকথিত অসামাজিক সার্কেলে তুমুল জনপ্রিয় কইরা তুলতে পাইরাও কেরম স্বর্গীয় শান্তি পাইতেছেন! এই লোকের সকল শান্তি কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতে সমর্পিত!?
আমি জানি না অমি পিয়াল আসলে কোন মোড়কে তৈরী। তার সমাজ ভাঙা বেপরোয়াপনায় আমার নিজের অনেক প্রশ্ন থাকলেও যুদ্ধাপরাধীগো বিরুদ্ধে তার সকল প্রকাশ আমারে আবেগী করে! তিনি তার জীবনের ট্রেডমার্ক সম কইরা ফেলছেন এই এক বিষয়রে...তার একাডেমিক জীবনের ফেনসিডিল খাওনের গল্পেও মুক্তিযুদ্ধ থাকে...তার প্রেম ভালোবাসার বর্ণনাতেও স্বাধীনতার চেতনা...পর্নগ্রাফির চর্চাতেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের ভাবনারে বিসর্জন দিতে পারেন না।
তিন.
যৌবন যাত্রার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়া আমার প্রশ্ন আছে...প্রচারের-অপপ্রচারের সম্ভাবনায় আমি এক্কেরেই সন্দিহান না। আমারে দুইটা অপশন দিলে আমি অবশ্যই এই আন্দোলনরে জন্মযুদ্ধের আন্দোলন হিসাবে দেখতে উদ্যোগী হমু। আর তাই জন্মযুদ্ধের পুনরুত্থান নিয়া তার কাছে আবেদন জানাই...জন্মযুদ্ধ যদি হ্যাকারের আক্রমণে হারাইয়া যায় তাইলে তার এই আন্দোলনের সাইবার চত্বর হিসাবে দেখতে চাই সামহোয়্যার ইন ব্লগরে...এই প্রাঙ্গনে আমরা কমতো লড়াই করি নাই পাশাপাশি..সামহোয়্যার ইন ব্লগের কর্তৃপক্ষ আমাগো যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের দাবীতে সাথে থাকবো তাগো সামর্থ্য অনুযায়ি...অতীতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ব্লগারগো যেমনে তারা হটাইছে, সেরম কইরা এই বার সকলের সাথে গলা মিলাইবো...কেবল ব্যানার ঝুলানোতেই থাইমা থাকবো না তাগো ইনিশিয়েটিভ...
আমরা আওয়ামি লীগের মিথ্যা আশ্বাসের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত না...আমরা বিএনপি'র সুবিধাবাদী অবস্থানের ভয়ে ভীত না...বাস্তবিকই আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীগো বিচার বাংলার মাটিতেই! তার জন্য যা করতে হয় আমি নিশ্চিত আছি তার লগেই...মনে হয় সকল সচেতন নাগরিকই থাকবো...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


