সিপিএম এর বিপর্যয়রে বাম বিপর্যয় কওনের চেষ্টাটা সন্দেহজনক...
১৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১২:০৭
একসময় ভারতের নির্বাচন বিষয়ে উৎসাহ ছিলো ষোলআনা। তখনো ইন্টামিডিয়েট পড়ি...এরমধ্যেই ৯১'এ সোভিয়েত ইউনিয়নে বিপর্যয়...আমাগো দেশে যারা ছাতা ধরনের রাজনীতি করতো তারা দিশেহারা। এমন সময়ে আবেগী সমাজতান্ত্রিক আমার সম্বল ছিলো পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম...যেনো দুনিয়াতে ধিকি ধিকি জ্বলে একমাত্র প্রদীপ...সেই সময়টাতে চিত্তে রাজনীতি ছিলো...অন্তরে ছিলো প্রতিবাদের বিচ্ছুরণ...মাত্র এরশাদ সরকার হটানের পর আমরা নিবেদিত শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ডাকে গণ আদালত সংঘটনে...
এই সময়টায় পৃথিবীর যেকোনখানে সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের অবশেষ দেখলে তারেই ভালোবাসতাম...এই আবেগে অনৈতিকতা নাই। এই আবেগে অনিশ্চয়তা আছে...আর তাই দিশাহারা হইতে হয় খানিক। এমন একটা সময়ে আমার দিশাহারা প্রানে দিশা ফিরা পাইলাম একজন আঞ্চলিক মার্ক্সিস্টের নিজস্ব ইন্টারপ্রিটেশন পড়নের পর। শিবদাস ঘোষ নামের একজন ভারতীয় পার্টি নেতার ৬৮ সালে লেখা একটা রচনা পাইলাম এক বন্ধু মারফত...চেকোস্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত আগ্রাসন নিয়া সেই সময়ের একটা মূল্যায়ন। একজন বামপন্থী বিশ্লেষক ৬৮'র সোভিয়েত অগ্রসরতারে আগ্রাসন কইতেছেন দেইখা আমার এমনিতেই আগ্রহ তৈরী হইয়া গেছিলো...তার লগে ছিলো আমার নিজস্ব কুন্ডেরা ভক্তি!
সোভিয়েত পার্টির অবক্ষয়ী চরিত্র...শ্রেণী সংগ্রাম থেইকা সইরা আসার সম্ভাবনার কথা পড়তে গিয়া সেই ৯২তেও খানিকটা তব্ধা খাইছিলাম...বন্ধু মারফতেই যোগাযোগ হইলো বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের নেতাগো লগে...তাগো লগে দীর্ঘ বাতচিতের ফলস্বরূপ হতাশার নোঙর থেইকা আবার পরিপূর্ণ ডাঙায় বসতির চিন্তা...ভারতের যেই পার্টির নেতা ছিলেন শিবদাস ঘোষ, সেই পার্টি সম্পর্কে কিছু জানা বুঝা আমার ভারতীয় কমিউনিস্ট আন্দোলন সম্পর্ক ধারনা পাল্টাইয়া দিলো পুরা...গর্ভধারিণী পর্ব থেই আমি চললাম অগ্নিবলাকায়...
সিপিএম সম্পর্কীত আবেগগুলি ক্রমশঃ অগ্নিবলাকার আগুনে পুড়তে লাগলো...ভারতে সিপিএম বাম তরীকা নিয়া যেই খেলা করতেছিলো তার জন্মলগ্ন থেইকা, সেইসবরে কি আসলেই কেবল বামাবেগে ইগনোর করন যায়? ৯১'এর নির্বোধ কিশোর তা পারলেও ইতিহাস কি তা পারে?
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সিপিএম আসলে কি ধরনের পার্টি সেইটা কোলকাতার বা পশ্চিমবঙ্গের বন্ধুরা আমার চাইতে অনেক ভালো কইরা কইতে পারবো...কিন্তু তার চরিত্রে যেই বামপন্থা ছিলো সেইসব আজ বালখিল্যতায় বিলীন হইছে, এইটা বুঝতে অনেক দূর যাইতে হয় না। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামেই তা সম্ভব..৭০'এ হয়তো লাইনের লড়াই বইলা চালাইতে পারছে তারা নকশালবাড়ি বিদ্রোহরে...কিন্তু নন্দীগ্রাম কিম্বা সিঙ্গুরে কোন কথিত মাওবাদী আশ্রয় না নেওয়াতে তারা পড়ছে বিপদে...সিপিএমের বামধারার আর বাম্পার প্রকাশ ঘটেনা এই ধরায়...মানুষের প্রতিরোধের মূল্য যারা দ্যায় না, তারা কতোটা পাতি বুর্জোয়া সেই বিবেচনায় বড়জোর যাওয়া যাইতে পারে...তাগো বামত্ব নিয়া কথা কওয়াটা কেবলই বাতুলতা...
এই ব্লগপোস্ট লিখনের মর্তবা আসে পত্রিকার পাতায় পাতায় বাম গেলো-বাম গেলো বইলা আনন্দ কিম্বা হুতাশনের নমূনা দেইখা...সিপিএমের বিপর্যয়রে বাম বিপর্যয় হিসাবে দেখনের কোন বারন তারা অবশিষ্ট রাখে নাই তারা বহুকাল ধইরাই...কিন্তু যারা সুবিধা নেওনের তাগো হুঙ্কার খুব সন্দেহজনক...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১২:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আমিতো সিপিএমের পাল্টা হিসাবে মমতাতে কোন সমস্যা দেখি না...তাগো চরিত্রগত পার্থক্যটা কি?
তয় পশ্চিমবঙ্গ কি পাইবো এইটা কওয়াটা আমার পক্ষে সম্ভব না, কারন পশ্চিমবঙ্গবাসীগো চাওয়াটা আমি ঠিক জানি না...
আমি বরং সিপিএম-মমতা এই শাসকচক্রের বাইরে গিয়া বাম বিকল্পের কথা ভাবতে পারি বড়জোর...
কৌশিক বলেছেন:
এতটুক? শিবদাস ঘোষ, সোভিয়েত আগ্রাসন, সিপিএম ইত্যাদি লইয়া খালি এইরকম নোকতা ছোঁয়াইয়া গেলে ক্ষিধা মিটবে কেমনে?
লেখক বলেছেন: ক্ষুধা মিটতে পারে আলোচনায়...
অমলকান্তি বলেছেন:
সি পি এম যে বাম নয়, এইডা বুঝতে মার্কস,লেনিন পড়া লাগে না।
লেখক বলেছেন: হ...
কৌশিক বলেছেন:
ঠিকাছে। "ভারতে সিপিএম বাম তরীকা নিয়া যেই খেলা করতেছিলো তার জন্মলগ্ন থেইকা" - সিপিএম এর তরীকা কেন বাম নয় সেইটা যদি একটু বিস্তারিত আলাপ করতেন।
লেখক বলেছেন: আজকের সিপিএম মানে ৬৪ সালের সিপিআই (এম) যখন মহাবিতর্কের শুরুতেই আলাদা দল করে তাগো বিরোধের মূল জায়গা ছিলো ব্যক্তিকেন্দ্রীক। যদিও সিপিআই'এর জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লাইনের বিপরীতে তারা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের লাইনের অবতারণা করছিলো, তবুও তাগো দল ছিলো নেতৃত্বের আত্মঅহমিকার প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই না। জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের মূল শক্তি কৃষক বিদ্রোহীরা, কিন্তু তারা গেলো popular democracy স্টাইলে...যাতে বিরাটাকায় আয়োজনে কংগ্রেস করন যায়, পার্টির অবয়ব নিয়া পাল্লা দেওন যায়...কিন্তু বঞ্চিত থাকে তলার দিকের সকল কর্মী সমর্থকেরাই...যারাই হইতে পারে গণতান্ত্রিক একেন্দ্রীকরণের মূল শক্তি।
ব্যক্তি অহমিকা আর কোন্দলই যে ৬৪তে সিপিএমের আবির্ভাবের মূল কারন সেইটা বুঝন যায় তার ৩ বছরের মাথায় আবার দল থেইকা আরেকটা গ্রুপ বাইর হইয়া গিয়া যখন নকশাল বাড়ি আন্দোলনে ঝাপাইয়া পড়ে, চীনের চেয়ারম্যান তাগো চেয়ারম্যান বইলা। তদ্দিন চীনের চেয়ারম্যান সিপিএমেরও চেয়ারম্যানও আছিলো...এইরম একটা সময়েই সিপিএম বান্ধব বানায় পূর্ব ইউরোপিয়ান অনেকগুলি কমিউনিস্ট পার্টিরে, যারা আবার ছাতা ধরতো ঐ আমলে রাশিয়াতে বৃষ্টি হইলে...
এইরম শত্রুর শত্রু আমার মিত্র স্টাইলে হয়তো যুদ্ধে জিতন যায়, কিন্তু তার চর্চারে বামসূলভ ঠেকেনা।
সিপিএম চীরকালই ব্যক্তিকেন্দ্রীক দল...যেইকারনে আমরা জ্যোতি বসুরে যতোটা চিনি, হালের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যিরে যতোটা চিনি, মূল দলরে চিনি তার অনেক কম...এর লগে মমতা'র পার্থক্যটা কই?
লেখক বলেছেন: হ...
ধন্যবাদ আপনেরে...
কৌশিক বলেছেন:
মহাবিতর্কের আগে সিপিআই দল হিসাবে কতটুকু শক্তিশালী ছিলো? জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের যে লাইন সিপিআই এর ছিল সেটা থেকে সিপিএম কৃষকদের বিদ্রোহের কথা বইলা যে আলাদা লাইনে চালান হইলো তার সাথে সিপিআই এর গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লাইনের কি কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়? মহাবিতর্কের সময়ে নেতৃত্বের আত্মঅহমিকাটা আসলে কিভাবে প্রকাশ পাইছিলো?
লেখক বলেছেন: ভারতে সিপিআই বেশ শক্তিশালী দলই ছিলো...সোভিয়েত পার্টির সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হইতো সিপিআই।
বিপ্লবী লাইনগুলি হইলো জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব আর জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব। প্রথমটা হইলো বুর্জোয়া ডেমোক্রেটিক ম্যুভমেন্টের লগে সম্পর্কীত...যেইটার উত্থান মূলতঃ সোভিয়েত পার্টির ৬০ দশকীয় সংশোধনবাদী নীতির পথ ধইরা...দ্বিতীয়টা হইলো পিপলস ম্যুভমেন্ট, যার নির্ভরতা ছিলো চীনা পার্টির পথ ধইরা...
নেতুত্বের কোন্দলতো অবশ্যই প্রকাশিত হইছিলো। কিন্তু সেইটার সাথে মহাবিতর্কের কোন সম্পর্ক নাই। মহাবিতর্ক হইলো মাও জে দং'এর পার্টি আর সোভিয়েত পার্টির তাত্ত্বিক বিতর্ক।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
সিপিআইএম বিপর্যস্ত হইলে হইছে। তাতে কি? ওইখানে বাম থাকলে না বাম বিপর্যস্ত হইবো।
লেখক বলেছেন: পত্রিকার শিরোনাম দেখলে বা অনেকের ব্লগপোস্ট দেখলে তা মনে হয় নাই আমার...
গৌতম রায় বলেছেন:
ভাস্করদা, আপনাকে আমি যতোটুকু চিনি, তাকে সিপিএম আর মমতাকে এক করার মানুষ বোধহয় আপনি নন। যা হোক, আপনার মতামত পাল্টাতে পারে; আবার কথাগুলো নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বলছেন। তবে সিপিএম আর মমতাকে এক কাতারে ফেলতে আমি রাজি নই। কেন- সেটা নিয়ে ভিন্ন আলোচনায় যাওয়া যায়। তবে দর্শনগত ও আচরণগত উভয় অবস্থানেই মমতার নিজস্বতা আমি খুঁজে পাই নি।এই পরিস্থিতিতে আমি অন্য একটি বিষয় ভাবছি। ভারতে বামপন্থীরা একসময় শক্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলো রনদীভের আমলে। আর সাম্প্রতিক সময়ে পড়লো প্রকাশ কারাতের আমলে। উল্লেখ্য, অন্য সময়ের নেতৃত্বের তুলনায় এরা তরুণতর। সারা ভারতের বামপন্থার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব উপযুক্ত কিনা এই প্রশ্নটা হয়তো এবার সামনে আসবে। গত সিপিএমের সম্মেলনে যারা এ ধরনের প্রশ্ন করেছিলো, তাদেরকে বসিয়ে রাখা হয়েছিলো। নতুন নেতৃত্ব এলে ডায়নামিক চেঞ্জ আসবে- এ স্লোগানও দিয়েছিলো নাকি কেউ কেউ।
লেখক বলেছেন: গৌতম
আমি সিপিএমরে যেইভাবে দেখতেছি তার ভিত্তি হইলো সিপিএম যতোটা বামপন্থী ছিলো চীরকাল তার চাইতে অনেক বেশি ছিলো ফিলানথ্রোপিস্ট। যতোটা বিপ্লবী ছিলো তার চাইতে অনেক অনেক বেশী ছিলো ক্ষমতামুখীন ব্যক্তিকেন্দ্রীক দল। আর মমতারেও আমার ফিলানথ্রোপিক চরিত্র মনে হয়...তার সততাতো ঐখানেই...নাকি?
অনেক ক্ষেত্রে মমতা বরং অনেক জনগণমুখী হইছে, ইতিহাসে তার নজীর আছে। তয় মমতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করনের মতোন সময় এখনো হয় নাই এইটাও মানি। বিধানসভা নির্বানের পরে হয়তো কওন যাইবো...
সিপিআই (এম) আসলে সকল সময় চরিত্র সংকটে ভুগছে। সোভিয়েতের সংশোধনবাদের বিরোধীতার নামে দল ভাইঙ্গা নতুন বিপ্লবী দলগড়নের স্বপ্ন দেখাইছে মানুষরে। কিন্তু যখন নকশালাইটগো কারনে চীনা পার্টির সমর্থন হারাইছে তখন তারা রুমানিয়ান পার্টির লগে সম্পর্ক করছে...রনদীভের আমলে তারা সংশোধিত সোভিয়েত পার্টির লগে সম্পর্কোন্নয়নের পথ খুঁজছে...ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতি কইরা বিপ্লবের লাইন হিসাবে এখনো সাইনবোর্ড রাখছে জনগণতান্ত্রিক...
নেতৃত্ব পুরান কিম্বা নতুনের হাতে যাইতাছে কি না তার চাইতে বড় কথা হইতেছে মার্ক্সবাদ কতোটা আছে অন্তরে...সিদ্ধান্ত নেওনের পপুলার ডেমোক্রেসীর পন্থায় আসলেই কি গণতান্ত্রিক একেন্দ্রীকরণ সম্ভব কি না? এইসব বিবেচনার জায়গা আছে এখনো...পার্টি যারা করতেছে বা নেতৃত্ব যারা দিতেছে তারা আদৌ মার্ক্সিস্ট কীনা, নাকি কালের প্রবাহে পাতি বুর্জোয়া থেইকা এখন পুরাপুরি বুর্জোয়ায় পরিনত হইছে?
গৌতম রায় বলেছেন:
সেই হিসেবে ধরতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে লেনিনের ক্ষমতা দখলের কিছুদিন পর থেকে খোদ সোভিয়েত ইউনিয়ন তো বটেই, এর বাইরে কোনো দেশেই কমিউনিস্ট নেতৃত্ব ব্যক্তিকেন্দ্রিক চর্চার বাইরে যেতে পারে নি, ঐতিহাসিক এবং দলের ভিত্তিগত কারণে সেটা সম্ভবও নয়। এমনকি বাংলাদেশে যে কমিউনিস্ট নেতৃত্ব আছে, ক্ষমতার সাথে যাদের সম্পর্ক নেই, সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চা প্রবলভাবে বিদ্যমান। সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র- যে তন্ত্রের কথাই বলুন না কেন, সবখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা চর্চাটা পুরোপুরি স্বাভাবিক। সামনে আইকন না থাকলে এ সমস্ত দলের এগুনো সম্ভব না। কংগ্রেস যেমন রাহুল গান্ধী, বিজেপি আদভানি, সিপিএম জ্যোতি বসু- সবারই কোনো না কোনো আইকন আছে। একেকটি আইকনের চরিত্র এবং ধরন কেবল আলাদা। একমাত্র অ্যানার্কিজমে এর কিছুটা ছাড় পাওয়া যায়, নোম চমস্কি যেটা বারবার বলার চেষ্টা করছেন।কিন্তু এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চার বিষয়টি দেখতে গিয়ে মমতা আর সিপিএমরে এক করে দেখাটা কি ঠিক হবে? এটা তো একটি মাত্র বৈশিষ্ট্য। আজ যদি মমতাকে জিজ্ঞেস করা হয়- নাম ছাড়া তার দলের এমন কী দর্শনগত, আদর্শগত, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এজেন্ডা আছে যেটা তাকে অন্য দল থেকে আলাদা করতে পারে? তেমন কিছুই সেখানে পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঘটনার সময় মমতার প্রতিটি বক্তব্য খেয়াল করছিলাম। কিন্তু সেখানে মমতার বা তার দলের কোনো মৌলিকত্ব আমি খুঁজে পাই নি। বদলে সিপিএমের কাছ থেকে চাইলে ঐতিহাসিক কারণেই আপনি অনেক কিছু পাবেন।
ঠিক এই জায়গায় এসে বিতর্কটা বাধে। অনেক কিছুই সিপিএমের দলিল থেকে পাওয়া যাবে ঠিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো বা সত্য হলো, তারা সেগুলোর চর্চা করে না। মানুষ বা দলকে যেহেতু চর্চার মধ্য দিয়েই মূল্যায়িত হতে হয়, সে হিসেবে মমতা বা সিপিএমকে এককাতারেই মুল্যায়ন করতে হবে। কিন্তু যাদের কোনো আদর্শিক লক্ষ্য নেই, তাদের সাথে আদর্শিক লক্ষ্য যাদের আছে- সময়ান্তরে, প্রসঙ্গান্তরে এবং পরিপ্রেক্ষিত বদলের সাথে সাথে তাদের মধ্যকার অনেক পার্থক্যই আসলে ফুটে উঠে। এখানে এটিও মনে রাখা দরকার- যার মধ্যে সততা আছে তার মধ্যে দক্ষতা খুঁজে পাওয়া ভার, এবং যার মধ্যে দক্ষতা আছে তার সততাও খুঁজে পাওয়া ভার। দুটো মেলানো দুরূহ। বুদ্ধদেবরা যেমন দুটোকে মেলাতে পারেন নি, মমতাও পারেন নি।
****
বাম দলগুলো কখনও চরিত্র সংকটে ভুগে বলে আমার মনে হয় না। চরিত্র সংকট কথাটা অন্য অর্থ বহন করে। আমার কাছে মনে হয়, বাম দলগুলো সবসময়ই 'ফিনিশিং টাচ' দিতে ব্যর্থ হয়, বিশেষ করে গণজোয়ার সম্বলিত ঘটনাগুলোতে। আর এই ব্যর্থতাই পরবর্তী সময়ে তাদেরকে মানুষের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেয়। মানুষ সবসময়ই রেজাল্ট দেখতে ভালোবাসে, প্রসেস নয়।
****
নেতৃত্ব নতুন বা পুরাতনের ব্যাপারটাও এখানে ধরা দরকার। মার্ক্সবাদ অন্তরে আছে কিনা সেটা বুঝার জন্যও। না হলে রনদীভের আমলে বামদলগুলোর যে যে জায়গায় দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছিলো, প্রকাশ কারাতের আমলে ঠিক একই জায়গার ঘাঁ-গুলো ফুলছে কেন? অবশ্য এ নিয়ে আরো জানাশোনার দরকার, সময়ের দরকার।
এই জায়গায় অবশ্য আপনার মতো আমিও সন্দিহান যে, বর্তমান বাম নেতৃত্ব পুরোপুরি বুর্জোয়ায় পরিণত হয়েছে কিনা। বাম দলে শ্রমিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও সবসময়ই সেখানে লিডিং পজিশনে দেখা গেছে মধ্যবিত্তদের, শ্রমিকরা এখানে হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। ফলে, বাইরের দেশের কথা ভালো জানি না, এই দেশের বাম দলগুলোর মধ্যবিত্তের কব্জায়ই থেকে গেছে দিনের পর দিন।
বিষয়টা বুঝার জন্য আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই একটা উদাহরণ দিই। ছাত্রজীবনে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বাম দলের সাথে যুক্ত ছিলাম, বহুত কাঠখড় পুড়িয়ে সদস্যপদ অর্জন করতে হয়েছিলো। বছর দুয়েকের মধ্যে ব্যক্তিগত ও অন্যান্য কারণে সেখান থেকে চলে আসতে হয়েছিলো। আসার আগে দলটির সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলছিলাম। তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম- দলের নাম নিয়ে আমার কিছু যায় আসে না, আপনি শুধু বলেন এই দলটি কমিউনিস্ট আদর্শ বহন করে না; বরং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট আদর্শের সাথে এর প্রচুর মিল। এটি আসলে এক প্রকার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের দল। আপনি যদি এটি স্বীকার করেন, তাহলে আমি এখানে থাকতে রাজি আছি।
ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্র, জনাব নেতা, সেটি স্বীকার করেন নি।
লেখক বলেছেন: আইকন বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে গৌতম। একজন নেতার গণতান্ত্রিক একেন্দ্রীকরনের মধ্য দিয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান আর একজন নেতার ক্ষমতার জোরে বা প্রকাশ ভঙ্গীর কারনে আইকন হইয়া ওঠা, এই দুইয়ের ফল এক হইলেও সংগ্রামের ধারাবাহিকতার অর্থে দুইরম মর্তবা থাকে।
ধরেন লেনিন একজন আইকনিক নেতা। এইটা কি সে ব্যক্তি হিসাবে ক্ষমতাধর বইলা? বা তার গ্রুপ শক্তিশালি ছিলো বইলা সে নেতা? নাকি মার্ক্সিয় প্রজ্ঞা দিয়া বিশ্লেষণের জায়গায় তার সক্ষমতার লেইগা সে নেতা? যখন দলের মধ্যে সঠিক গণতন্ত্রের চর্চা থাকে...তথ্য প্রবাহ বা একেন্দ্রীকরনের চর্চা থাকে তখন একজন মার্ক্সবাদী নেতা হইলেন আর ক্ষমতার কামড়াকামড়িতে আগাইতে পারা একজন নেতা হইলেন এই দুইটা কি এক?
পপ্যুলার ডেমোক্রেসির যেই চর্চা সেই চর্চায় অবকাশ থাকে ভোটারগো মন জয় কইরা একজনের নেতা হইয়া যাওনের...এইখানে ভোটারগো কাছে মার্ক্সিয় বিচারবোধে বিশ্লেষণের চাইতে কাছের লোক আমাগো অমুক ভাই তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ হইতে পারে। নাম্বুদ্রিপাদ সাহেবের তত্ত্ব অনুযায়ি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির এই ফরম্যাট ঝাইরা ফেলতে পারে নাই কোন অংশই...
আমি ঠিক জানি না সিপিএমের আদৌ কোন আদর্শিক লক্ষ্য আছে বা ছিলো কীনা। তয় সিপিএমরে আমার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক একটা দলই লাগছে বুঝতে পারনের পর থেইকা। যার সাথে মমতার মতোন একজন নেতৃ'র অবস্থান দক্ষতা ছাড়া আর কোন জায়গায় পৃথক?
আমি চরিত্র সংকট কইতে তার প্রসেস নিয়া বলি নাই...সিপিএমের প্রসেস সবসময়েই জনগণতান্ত্রিক কাগজে কলমে...কিন্তু সে মিত্র বাছাইয়ে ভিন্ন চরিত্রের বৃহৎ শক্তি বাছছে চীরকাল...
বিডি আইডল বলেছেন:
ও! সিপিএম তাইলে ডানপন্হী দল আছিল! আমার সাধারণ জ্ঞাণ খুবই কম
লেখক বলেছেন: হইতে পারে...
লেখক বলেছেন: মমতা বিষয়ক এই তথ্য আমারো অজানা...
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
অফটপিক---
যাই হবে হোক, এবার সিপিএমের বিপর্যয় আমাকে খুবই দুঃখ দিয়েছে। বিজেপির এককালের দোসর মমতা ব্যানার্জির উত্থান কাম্য ছিল না।
লেখক বলেছেন: মমতা ব্যানার্জীরে বিজেপির দোসর কওনের চাইতে সিপিএম বিরোধী কইলে বেশি মানায়...
পিন্টু-সুমন বলেছেন:
ঠিক কি ঘটিলে বাম বিপর্যয় ঘটিবে?
লেখক বলেছেন: বামের বিপর্যয় হইলে বাম বিপর্যয় কওয়া যাইবো...
কৌশিক বলেছেন:
চলুক, পড়তেছি
আফজাল বলেছেন:
মিয়া ভাই, আমি এটটু কথা বুলবো বুসচেন, কিছু মুনে করেন না, করলেও বাচ্চা সাইজের করবেন,কারণ হইছে আমি পয়লা পয়লা তো, জাড়ী মারলে ঘাবড়িয়ে যাবো বুসচেন! আমার মনে হইছে, যত কতা লেখছেন,যত কতা বুলচেন, তরকা তরকী কচছেন, আবার কাচ্যালও হইছে, মিট্যাও যাইছে ! বুলেন হইছে কী না ? তবে ঠিক বুল্যাছি কিনা আপনারা কুতূবী করবেন। মাগার শাবজেটটা কিন্তু জবর ! মিয়া ভাই। আপনাদেরখে কিন্তু একটা জিনিস বুলি, সেঢ্যা হছে কাজ কামের ভিত্রে থ্যাকলে ব্যাপারেশনগুল্যা জবরভাবে প্যাচতে পারা য্যাবে।
লেখক বলেছেন: আপনের বক্তব্য বুঝনের ক্ষমতা আমার নাই মনে হয়...যদি অনুবাদ কইরা দিতেন তাইলে ভালো হইতো...
আফজাল বলেছেন:
আমি রাজশাহীর আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করেছি, কোন ভাষায় অনুবাদ করবো বুঝলাম না মিয়া ভাই ! ক্ষমা করবেন ভুল করে থাকলে।
লেখক বলেছেন: প্যাচতে পারা য্যাবে...এই জায়গাটা বুঝি নাই...
আবু নাঈম বলেছেন:
ভাস্কর দার মূল আলোচনাটা 'চাটনি' হয়েছে বলে একজন মন্তব্য করেছেন, আমারও তাই মনে হয়।আর পরে কিছু তর্ক-বিতর্ক হয়েছে, সেখানে কিছু বিষয় এসেছে।
আলোচনায় যে বিষয়টি আসেনি , তাহল, একটি রাজনৈতিক দল তা ডান-বাম যে পন্থিই হোক তার চরিত্র অথবা চরিত্র-সংকট নির্ভর করে ওই দেশটির আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা এবং তার ভিত্তিতে সমাজের মূল সমস্যা চিহ্নিত করা, এবং সর্বোপরি কর্মসূচি গ্রহণের ওপর। যেটাকে অন্যভাবে বলে রাজনৈতিক লাইন বা রণনীতি-রণকৌশল।
বাস্তবতা এবং তত্ত্বের মধ্যে ফারাক যত বেশি হয়, অর্থাৎ বাস্তবতার ভুল ব্যাখ্যা এবং তার ভিত্তিতে ভুল নীতি-কৌশল গ্রহণ এবং তার চর্চাই ক্রমাগত অসঙ্গতি তৈরি করতে থাকে। আবার বাস্তবতার যথার্থ বিশ্লেষণ কিন্তু ভুল নীতি-কৌশল গ্রহণও একই কাণ্ড ঘটায়। এভাবে সঠিক বিশ্লেষণ, সঠিক নীতি-কৌশল গ্রহণ করার পরও প্রয়োগক্ষেত্রে ক্রমাগত গাফিলতি, ক্রমাগত বড় ধরনের ভুল এবং তার সংশোধন না করার ফলে একটি জনগণের প্রতি দায়বোধসম্পন্ন দলও, বামপন্থি নামধারী দলও, জনবিরোধী, জনশত্রুতে পরিণত হতে পারে।
সহজ উদাহরণ দিতে পারি : (১) শ্রেণী শত্রু খতমের ভুল লাইন চর্চা করতে করতে জনগণের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত বিপ্লবীরাই একসময় নিজেরা পরস্পর খতম করে করে এখন বুর্জোয়াশক্তির, স্থানীয় কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের ভাড়াটে গুন্ডায়, সোজা কথায় সন্ত্রাসী গ্রুপে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে এটা অত্যন্ত সত্য। ভারতে অবস্থা কি জানি না।
(২) একদিন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আ:লীগ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিন্দুমাত্রও ধারণ করে না। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী প্রধান রাজনৈতিক শক্তি জামাতের সাথে পর্যন্ত আঁতাত করে।
যা হোক, সিপিএম সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে সিপিএম যেখান থেকে জন্মেছে সেই সিপিআই সম্পর্কে আলোচনা আসা দরকার।
সিপিআই-এর জন্ম পরাধীন ভারতে। তখন সিপিআই কি লাইন (রণনীতি-রণকৌশল) গ্রহণ করেছিল? তা কি সঠিক ছিল না ভুল ছিল?
সেই সিপিআই থেকে যখন একদল বেরিয়ে এসে সিপিএম গঠন করলেন তখন তারা কি লাইন গ্রহণ করেছিলেন? সিপিআই-এর সাথে লাইনগত ফারাক কি ছিল? ভারতের সমাজ-বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ওই লাইনের সঠিকতা কতটুকু?
ভারত যখন একটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের স্তরে উপনীত হয়েছে তখনও সিপিএম বা সিপিআই ভারতকে আধা সামন্তবাদী-আধা পুঁজিবাদী বা অনগ্রসর পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলে দেখাচ্ছে।
ভাস্কর দা'র লেখায় একটা ছোট ভুল আছে। সিপিআই কখনোই "সোভিয়েত পার্টির সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হইতো" না। কারণটা সিপিআই নয়, কারণটা সোভিয়েত পার্টি। তারা কখনো, অন্তত স্ট্যালিন পর্যন্ত এ ধরনের চর্চা করেন নি। আন্তর্জাতিকের নেতৃত্ব দেওয়া আর সরাসরি তত্ত্বাবধান করা এক নয়। ভুল ছিল বরং সিপিআই-এর। তারা অন্ধভাবে সোভিয়েত পার্টির অনুসরণ করেছে। একটা ঘটনা হয়ত অনেকেরই জানা, সিপিআইয়ের নেতারা স্ট্যালিনের কাছে জানতে চেয়েছিল তাদের এখন কি করা উচিত! স্ট্যালিন তাদের এ মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
আর সিপিএম-ও ৭০-এর দশক পর্যন্ত মোটামুটি একটা আন্দোলনকারী শক্তি ছিল। খাদ্য আন্দোলন ওই সময়ের একটা বিরাট আন্দোলন। আরেকটি আন্দোলন বাসভাড়া বৃদ্ধি আন্দোলন। কিন্তু এ সব গণআন্দোলনের ফলাফল হিসাবে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে হঠিয়ে দিয়ে আন্দোলনরত বামপন্থীদের জোট বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। এর পর ক্ষমতাসীন শক্তি হিসাবে বা প্রধান দল হিসাবে সিপিএমের কর্মকাণ্ডও বিচারের একটি উপকরণ।
লেখক বলেছেন: আমার চাটনিতে তোমার আরেকটু গোলমরিচ দেওনের উদ্যোগের লেইগা ধন্যবাদ...কিন্তু এই গোলমরিচের স্বাদটা একটু ঝামেলার মনে হইলো...স্বল্প পরিসরে ঐ আলোচনা যে বিপজ্জনক সেই বিষয়ে আমার বিশ্বাস আরো প্রকট হইলো...তুমিও দেখো উদাহরণ দিতে গিয়া খুব সরলীকৃত মন্তব্য কইরা ফেলছ।
এর বাইরে আমার যেই ভুল তথ্য উদঘাটন করলা সেইটা আদৌ ভুল নয়...সিপিআই'এর প্রতিষ্ঠা কোথায় হইছিলো জানো? ভারতের একটা কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হইতাছে মস্কো শহরের নীতি নির্ধারকগো হাতে, বিষয়টা কেরম লাগে শুনতে?
আর সিপিএম আন্দোলনকামী শক্তি ছিলো কি ছিলো না সেইটা এই আলোচনার কোন অংশ'ই হইতে পারে না। তারা বাস ভাড়ার আন্দোলন করছে কি খাদ্য আন্দোলন করছে তা দিয়া তাগো শ্রেণী চরিত্র কেমনে বুঝন যায় কও!? পোস্টে এই পেটি বুর্জোয়া ফিলানথ্রোপিক চরিত্র নিয়াও বলা আছে...আর শিবদাস ঘোষ সিপিএমের এই চরিত্র নিয়াও ৬৮ সালে আলোচনা করছেন...৭০ সুদূর পরাহত...৭০'এ সিপিএম করছে নকশাল বিরোধীতা...
আফজাল বলেছেন:
মিয়াভাই, "প্যাচতে পারা" মানে "বুঝতে পারা"।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














.jpg)


তবে বামদের বিকল্প মমতা নয়। মমতা ব্যক্তিগতভাবে সৎ হতে পারেন, কিন্তু গোয়ার্তুমি আর চিন্তাহীনতার ফসল হিসেবেই অধিক সমাদৃত হবেন। তাঁর কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ কিছুই পাবে না- এটুকু বলে দেওয়া যায়।