somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্য মানুষের ক্যাচালে আমি নাই...নিরাপদে সম্মান নিয়া চলতে চাই

১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
আজকাল ব্লগ লিখতে গেলে আইলসামিতে পাইয়া বসে। তাই অনেক কিছু পড়ি...প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় কিন্তু সেই প্রতিক্রিয়া আর প্রকাশ করা হয় না। নিজেরে কেরম অথর্ব মনে হয়। মনে হয় এই সমাজে অথর্ব হইয়া বাঁইচা থাকনটাই নিরাপদ। অনাহুত আক্রমণগুলি এড়াইয়া চলা যায়। ফেইক নিক কিম্বা ব্যঙ্গাত্মক গালি খাওনের সম্ভাবনা তো তিরোহিত হয়...সামাজিক সম্মান থাকে। লোকে আড়ালে আবডালে আমারে নিয়া হাসাহাসি করে এই তথ্য তো তেমন আরামদায়ক না।

আর তাই জেনারেল নিকধারী একজন পুরুষ যখন আইরীন সুলতানারে এক্কেরে পুরুষতান্ত্রিক স্বরে একের পর এক আক্রমণ কইরা যায় আমি নীরব থাকি। কি লাভ এইসব গ্যাঞ্জামে নজর দিয়া! আমি তো নিরাপদ আছি! সমাজের দূর্বল অংশ হিসাবে একজন নারী এইরম আক্রমণের শিকার হইতেই পারে। তার স্মার্টনেস, তার পাল্টা জবাব দেওনের ধৃষ্টতা বরং অপরাধ। ব্লগীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা থেইকা জানি এই জেনারেল নিকের আড়ালে থাকা মানুষটাই হয়তো অন্য কোন জায়গায় নারীর প্রতি পুরুষের অবমাননা নিয়া তুমুল প্রগতিবাদী পরিচয় প্রকাশ করে। হয়তো সে এই মুহুর্তেও কোন আসরে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর লাঞ্ছনার শিকার বাংলাদেশী মা-বোন'দের নিয়া জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চালাইতেছে। সেই আসরে অনেক আহা উহু সূচক ধ্বনি উঠতেছে...

আমার তাতে কি আসে যায়!? এইসব উটকো ঝামেলা বরং আমার জন্য ক্ষতিকর হইবো। তারচে উভয়েই আমারে কাছের মানুষ ভাবুক...নীরবতাই মনে হয় মানুষরে অধিক কাছে টানে। নীরব থাকার সুবিধা কেউ অন্ততঃ শত্রু মনে করবো না। সকলের কাছের মানুষ হইয়া থাকনে আখেরে হয়তো লাভও হইতে পারে। তর্ক মানেই বিরোধ...তর্ক মানেই সংহতির কবর...আমার প্রয়োজন আরো অনেক মানুষের ভালোবাসা। যেই ভালোবাসা নিরুদ্বিগ্ন...যেই ভালোবাসাতে কোন প্রশ্নের স্থান নাই। চুপচাপ থেকে সকলের ভালোবাসা চাই...

ব্লগীয় জেনারেল কিম্বা বাবুয়ারা এই সমাজে বেশ ভালোমতোনই থাকে। আমি তাগো খেপাইয়া নিজের ভালো থাকনের সম্ভাবনারে বিনষ্ট করতে চাই না। তারা পুরুষ থাকুক...তারা নিজের অবস্থানের অহমে থাকুক। আমিও তাদের মতোনই হইতে চাই।

২.
"দাশ" না হয়ে "দাস" হলেতো চামচা হবেই।

ভারত মাতার আশীর্বাদ থাকলে বাংলাদেশ একদিন সুসন্তান রূপে বিশ্বের দরবারে আত্মপ্রকাশ করবেই।


এই উক্তি পড়লেই বুঝতে পারি...যিনি লিখছেন তিনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি। বাংলা বানান বিষয়ে তার বেশ দক্ষতা আছে। তিনি তালব্য শ আর দন্ত্য স নিয়া জানেন। আমি নিজেও এই বানান সম্পর্কে খানিকটা জানি...তয় এই মন্তব্যদাতা কিছু বেশি জিনিস জানেন আমার চাইতে। দন্ত্য স বানানের দাস হইলে ভারতের নিকট জন হয় সেই তথ্য আমার অজানা ছিলো...আর তাই জ্ঞানী মন্তব্য দাতারে আমি ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করি।

কালপুরুষ নিকের মানুষটারে আমি বহুদিন যাবত চিনি। তার লেখা আর আচরনের তারুণ্য আমারে অনেক সময় ভাবায়। তারে সবসময়েই আলাদা চোখে দেখি। তিনি যখন শ্বাশত'রে দাতব্য পৌছাইয়া দিতে যাওনের টাইমে একজন সাথীর ট্রেন ভাড়া দিয়া সেইটা ফেরত না চাওনের মতোন উদারতা দেখাইছিলেন তাতে আমি বিস্মিত হই নাই। মনে হইছিলো তিনি ঠিক আমার মাপের মানুষ না। তিনি অন্যরম...আমি যদিও ঐসময় তার প্রকাশে একটু খেপছিলাম...কিন্তু কি আর করা এই ভাবেই সমাজে থাকতে হয়। সম্পর্কের বন্ধন এইখানে নিত্য নতুন ফর্মুলায় তৈরী হয়...আমরা নতুন সম্পর্ক নির্মাণের লেইগা ভুলতে শিখি...এই ভুলে যাওয়াতে কৃতিত্ব আছে...

এই দেশে কতো মানুষের নামের শেষে দাস পদবী আছে আমি জানি না। এই না জানায় আমার কোন ক্ষতি বৃদ্ধি ছিলো না কখনো। কিন্তু কালপুরুষ সাহেবের উক্তি আমারে নতুন কইরা ভাবায়। দন্ত্য স দাসের সংখ্যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হইতে শুরু করে। এই দেশের ভবিষ্যতের লগে যেহেতু এই সংখ্যা সম্পর্কীত। ভারতের চামচা'রা তো খুব সুখকর নয়। আমার পরিচিত দাস/শ ব্যক্তিদের নামের বানান জাইনা নেওনের উদ্যোগ নিতে হইবো শীঘ্রই। দেশ নিয়া ভাবনা জানি আমার সম্মান বাড়াইবো।

৩.
আজকাল আরেকটা বিষয় দেখি। ফেইসবুকে-শিক্ষিত মানুষগো ব্লগে ব্লগের সংজ্ঞা নির্ধারনী আলোচনা চলে। কে কোথায় কি করতে পারে, কে কোথায় কতোদূর লিখতে পারে, কে কোথায় কদ্দূর কইলে সেইটা ভালো লেখা হয়...এইসব...আমি খেই হারাই...কতো কম জানি। জানলে আরো ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ হইতাম হয়তো। ক্ষমতা থাকলে মানুষের সম্মান বাড়ে।

মনে হয় এইসব সম্মান বিষয়ক ধারণাই মানুষরে বড় করে...আর তাই আমি সম্মান বাঁচাইতে নিরাপদে থাকনের সিদ্ধান্ত নিছি। চুপচাপ আছি...চুপচাপ থাকি...সবাই ভালো...আপনারাও ভালো থাকুন...
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪৬
৩৪টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×