আমার ছিলো ইচ্ছাঘুম। যখন ইচ্ছা তখন চাইলেই ঘুমাইতে পারতাম। আর এখন আমি চাইলেই ঘুমানের সেই ক্ষমতা হারাইয়া ফেলছি। ঠিক যেনো টাইফয়েড রোগীর মতোন অবস্থা। জ্বর শেষে তার একটা দাঁগ রাইখা যাবে রোগীর শরীরে। কেউ কানে খাটো হয়, কারো কোন একটা অঙ্গ শক্তিহীন হইয়া পড়ে। স্পৃহা নষ্ট হয় কারো। আর আমার জীবনের এই মুহুর্তের বদলা গেছে ঘুম, আসছে একগাদা স্মৃতির পসরা। আমি নির্ঘুম থাকি, গান শুনি আর আমার মাথায় খেলে সব উদ্ভট ইমেজ।
তবে অবস্থার উন্নতিটা বুঝতে পারি। মাসখানেক আগেও আমি মানুষের সঙ্গ আদৌ উপভোগ করতাম না। এখনও হয়তো উপভোগ করি না। কিন্তু সহ্য কইরা নিতে পারি। মাঝখানে অনেক আবোল তাবোল অভ্যাসের দাস হইয়া পড়ছিলাম। সেইগুলি থেইকা নিজেরে বের কইরা আনতে পারছি। রাত হইলেই যখন ঘুম থাকে না চোখে...কেবল স্মৃতিহত স্বপ্ন থাকে, তখন বিষন্নতায় পায়।
ছোটবেলায় সিবা-গেইগীর একটা অষুধের বিজ্ঞাপন দিতো। বিষন্নতা একটি রোগ। আর কিছু না বইলা তারা বেচতো তাগো স্ট্রেস রিলিভিং পিল লারগ্যাকটিল। পরে এই অষুধটারে মানসিক চিকিৎসকরাও প্রেসক্রাইব করতো মাদকাশক্তি নিরাময়ের পথ্য হিসাবে। কিন্তু ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমছে, কারণ এইসব প্রজাতির অষুধে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। মানুষ ক্রমশঃ অন্য আসক্তিতে নিপতিত হয়। এক শেকল থেইকা বের হইয়া অন্য শেকলের বন্ধনে আটকায়।
আর আমি যখন চেষ্টা করলাম...আমার কোন আসক্তিতেই খামতি পড়লো না। আমি আরো আষ্টেপৃষ্টে জড়াই স্মৃতিরে। স্মৃতিরে অনেক আনন্দময় মনে হয়...যার নিরীখে ভবিষ্যতরে মনে হয় অনিশ্চয়তা আর একাকীত্বের...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

