আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেছে। দেশের মানুষ কে স্বপ্ন দেখিয়েছে। সে নির্বাচনী ইশতেহারের কি কি এ পর্যন্ত আওয়ামী রেখেছে? আমরা কি সেই ১/১১ পুর্ব রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছি না? এক নির্বাচনী রায়ে ৫ বছরে যা কিছু করার করা যাবে। কেউ তাদের বাধা দিতে পারবে না! বিরুদ্ধী দল কে ৫ বছরের জন্য শান্ত ছেলের মতো বসে বসে দেখতে হবে। কিন্তু ক্ষমতাবান সরকারের যা কিছু মন চায় তা করবে!
আওয়ামী লীগ শুধু সরকারে থেকে কেন, ক্ষমতায় না থেকে ও যা খুশি তা করার ক্ষমতা রাখে! কারন দেশটা জাতির পিতার। নীতি পরিবর্তন হয় কিন্তু ক্ষমতার চেতনা অপরিবর্তীত থাকে। গত ১৫/২০ বছরের গনতন্ত্রের নানা ক্রটি বিচ্যুতি দেশের মানুষ কি পরিমানে হতাশ করেছে সে উপলব্ধি আমাদের রাজনীতিবিদের হয়নি! এ দেশের সব রাজনীতিবিদেরা দুই পরিবারের পালক কুকুরের মতো। তাদের যা কিছু সাধানা আরাধনা সবই হাসিনা খালেদা কেন্দ্রিক। যার কারনে মনিব কুকুরদের শত অন্যায় অপরাধের মধ্যে ও রাজনীতির ষড়যন্ত্র আবিস্কার করে। তাতে অবশ্য নিপুন ভাবে সাড়া দেয় আমাদের হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট।
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে একমাত্র এরশাদ ছাড়া আমাদের বিচার বিভাগ কি কোন দুর্নীতিবাজ ষড়যন্ত্রকারি কে শাস্তি দিয়েছে? ঝুলিয়ে রাখা ছাড়া? শুধু চাষা ভূষা অসহায় গরীব মানুষের বিচার করার জন্য তো হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট গঠন করা হয়নি? অন্যতম এক বড় পালাতক দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী বাফুফে কে ২০০ কোটি টাকার জমি দান করে মইন সালাউদ্দিন ঘটা করে তা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করে! শাহ আলমেরই বা কি দোষ যদি সালাম এফ রহমান আ.লীগের নেতা হয়? মইন চেতনা বদল করেছে! নাকি লুংগির তলে লুকিয়ে রেখে ছিলো? হয়তো আগামী কয়েক বছর পরে তারে বিশাল এক সুশীল লেংটা হয়ে নয়তোবা আ.লীগের বিশাল নেতা হয়ে
হাজির হবে। যেই দিন থেকে জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কে সরানো হয়েছে আর্মি থেকে সেই দিন থেকেই সব চোর বাটপার ফালুরা সে আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে টাকার পুজা করে! নীতি তুমি এখন কোথায়? দুর্নীতির সে সব মামলা ঘুমাইবো যুগ কে যুগ হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টে! কেন? আবার সে আইনজীবি, রাজনীতিবিদেরা আইনের শাসনের কথা বলে ফেনা পালাইবো। আওয়ামীলীগ বিএনপি সরকারের আমলে দায়ের করা মামলা ক্ষমতায় এসে প্রত্যাহার করবে রাজনীতির ষড়যন্ত্রের চুতো খুজে! তবে আদালতে যাবে না রায়ের জন্য! কারন রায় যদি ধানমন্ডি অথবা মইনুল রোডে দেয়া যায় আদলতে যেয়ে কি হবে
রাজনীতির দুই দলীয় খেলায় যে কেউ কাটা পড়তে পারে। তা গনতন্ত্রের স্বার্থে মেনে নিতে হবে। তা নিয়ে কিছু দিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে কালো ব্যাজ ধারন করতে হবে নুর হোসেনের জন্য। কিন্তু ২০০৮ সালে স্বৈরাচার কে একই মন্চে নেয়ার জন্য টানা টানি করতে হবে! হে চেতনা হে আপোশহীন নীতি তুমি কোথায় থাকো তখন?
এই কিছু দিন আগে ঢাকার এক আদালত এরশাদের ক্ষমতা দখল কে বৈধতা দান করেছে(মানে মামলা প্রত্যাহার করেছে)! কার ইশারায়? যাদের ইশারায় এরশাদের ক্ষমতা দখল কে বৈধতা দেয় তারা(ইশারা দাতারা) কোন মুখে জিয়ার সমালোচনা
করে? এই আওয়ামী লীগ জামাতের সাথে আন্দোলন করেছে! কিন্তু কেন? হে চেতনা তুমি কেন তখন ঘুমিয়ে ছিলে? কেন তখন ঘুমিয়ে ছিলো আমাদের সেক্টর কমান্ডারেরা? এ সব বলতে নেই তাতে চেতনার লুঙ্গি খুলে যায়। আর মানুষ লজ্জাজনক পরিস্হিতিতে পড়লে সাধু ভাষায় রচনা লিখে
এই সরকারের প্রথম মাসে বিডিআর বিদ্রোহ হয় যদি ও তা বিদ্রোহ ছিলো না। এই ঘটনার সাথে কিছু মন্ত্রী/ সাংঘাতিক সম্পাদকের জঙ্গি কানেকশন আবিস্কার! তাদের নিজস্ব শিরা সূত্রের!তদন্ত কমিটির নয়। আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি জঙ্গিদের তিন নম্বর স্তরের নেতা! বড়ই সুস্বাদু প্রচারনা। সেক্যুলার বলে কথা। যেখানে নীতি ঘুমায় সেখানে সেক্যুলার জাইগা উঠে। সেক্যুলারিত্বের জন্য অনেক গোপন গেম খেলা লাগে। জয়েরে গবেষনা, আব্দুল গাফ্ফার চৌ গৃহযুদ্ধের আহবান জানিয়ে স্বাধীনতা পদক পায়! , শাহরিয়ারের বর্বর ইসলাম ধর্ম এবং বর্বর সেনাবাহিনী সূত্র, "র" এর সাবেক প্রধানের বিডিআর প্রবন্ধ, সাবেক ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানের নজর, সাবেক মার্কিন রাষ্টদূত বলে ছিলেন বাংলাদেশ ভারতীয় গোয়ান্দা সংস্হা এবং পাকিস্তানের গোয়ান্দা সংস্হার খেলার ময়দান।
ছাত্র রাজনীতির নামে যে ছাত্ররা ক্ষমতা লোভী নেতাদের হয়ে কাজ করে তা প্রমানিত সত্য। শুধু যে রাজনীতিবিদেরা ছাত্রদের ব্যবহার করে এমন ও নয় প্রায় সব ক্ষমতা লোভী চক্র জড়িত। তার মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মাদক চক্র সবই জড়িত। বর্তমান যুগের ছাত্র সমাজ যে সেই ৬০/৭০ দশকের নীতি আদর্শের মধ্যে নেই তা দেশের প্রতিটি সাধারন মানুষ বুঝতে পারলে ও আমাদের রাজনীতিবিদেরা বুঝে ও না বুঝার ভানে আছে! কারন ৯৯% রাজনীতিবিদের ছেলে মেয়েরা বিদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়া লেখা করে। রাজনীতিবিদের দায়িত্ব শুধু টাকা কে ডলার বানিয়ে বিদেশে পাচার করা। ওহ্ শুধু যে রাজনীতিবিদের ছেলে মেয়েরা বিদেশে পড়া লেখা করে তাও নয়! বলা যায় এই গরীব এদেশের এলিট শ্রেনী ওয়ালাদের সব ছেলে মেয়ে
বিদেশে পড়া লেখা করে। তার মধ্যে আমলা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবি ভন্ডচেতনাবাদী পত্রিকার সম্পাদকদের ছেলে মেয়েরা পর্যন্ত আছে! তাই তারা পত্রিকায় লিখে গাছের গোড়া কাটলে তো সমস্যার সমাধান হবে না প্রয়োজন পরিবর্তন। কুত্তার লেজ কি সোজা হয়? গোড়া বারাবর না কাটিলে?
বিডিআর বিদ্রোহ, ছাত্রদের নৈরাজ্যের কারনে প্রায় সব কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় বন্ধ, বিদ্যুৎ নাই, পানি নাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা অবস্হা তাই ৩০০০ কোটি টাকার সহায়তা। এর মাঝে আওয়ামীলীগ বুদ্ধিজীবিদের মাথায় মইনুল রোডের বাসাটা নাযিল হয়েছে!! অনেক কিছু ঢেকে দেয়ার জন্য খালেদা জিয়ার বাড়ির
লিজ বাতিল করা হয়েছে। এটা কি পরে করা যেত না? তার মধ্যে বিডিআর হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া অন্যতম। শুধু তদন্তের তারিখ পরিবর্তনের খেলা চলিতেছে। কত সমস্যা সৃষ্টি করা যায়..
৩০০০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেয়া হবে! কাকে কাকে দেয়া হবে? যাদের অনেক তেল তাদের কে আরো তেল দেয়া হবে? পৃথিবীর সবচেয়ে সুবিধা ভোগী ব্যবসায়ী সমাজের বাস বাংলাদেশে। যারা হাজার রকমের সুবিধা ভোগ করার পরে ও
তারা .... ১. শ্রমিকদের সঠিক সময়ে বেতন না দেয়া ২. অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়ে নেয়ার পরে ও ওভার টাইমের পয়সা না দেয়া । ৩. কাজের সুস্হ পরিবেশ নাই। ৪. টাক্স
ফাঁকি দেয়া। আবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন!(লজ্জা শরম বলতে কি এদের কিছু আছে?) ৫. বিদেশে অর্থ পাচার ৬. শেয়ার মার্কেট নিয়ে খেলা।
৭. গোপন কারসাজির মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র মজুদ করে দ্রব্যমুল্যের দাম বাড়িয়ে অতি মুনাফা ভোগ করা। ৮. মেয়াদত্তীর্ণ পন্যো বাজারজাত করা। ৯. সঠিকমান নির্ধারন না করে উৎপাদন করা। ১০. রাজনীতিবিদের অর্থ দিয়ে অবৈধ সুযোগ লাভ করা।
আরো অনেক অপরাধ আছে যার সাথে প্রায় ৮০% ব্যবসায়ী সমাজযুক্ত। দেশের ১৫ কোটি মানুষের মাথায় কত টাকার ভোজা দিয়ে এই ৩০০০ কোটি টাকার সহায়তা দেয়া হবে? নাকি লুটপাট করা হবে। এখন দেখতাছি আমাদের আমপন্হি বামেরা চুপ!!! ঘটনাটা কি? তাদের কে কি হাসিনা মুহিতের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফেরা খরিদ
কইরা পালাইছে? আমি জানি না ঠিক আমাদের দেশের শ্রম আইনের কি অবস্হা। আইনে যাই থাকুক তার যে কোন কার্যকারিতা নাই তা প্রমান হয়েছে। শ্রমমন্ত্রনালয়ের
কর্মকর্তাদের কোন কাম নাই। বাংলাদেশের প্রয়োজন একটা কঠোর শ্রম আইন এবং তার
প্রয়োগ। না হলে ৩শ হাজার কোটি টাকায় শুধু ধনীরা ধনী হবে আর শ্রমজীবি মানুষ সে ৩০০০ কোটি টাকার দেনা মাথায় নিয়া ঘুরবে।
>> আরো অনেক কিছু কইবার ছিলো! আরো অনেক ফটুক দিবার ছিলো কিন্তু...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



