somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা তিনজন ভীষন ব্যস্ত

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






উফ আমরা আর কত দিকে ট্যাকল দিবো । মোটে তিন তিনটা মানুষ আর এতো গুলো রুম । সব গুলো রুম কভার করা কম ঝাক্কির ব্যাপার না । কোন দিকে যে যায় মাথা আওলা হওয়ার উপক্রম। আর প্রতিদিন সব ঘরে যাওয়াও সম্ভব না । একটা ঘরেই অনেক সময় চলে যায় ।

যেমন ধরা যাক উত্তরা, দাদার ঘর । আহ দাদার ঘর B-)। দাদার ঘর ট্যাকেল দিতেই তো কত সময় কেটে যায় । আর দাদার ঘর ট্যাকেল দিতে কতই না মজা!! এই ঘরে কাজের কি শেষ আছে । বিস্কুটের কৌটা থেকে শুরু করে দাদার টাকা রাখার বাক্স, যন্ত্রপাতি রাখার বাক্স আরও কত কি । দাদার ঘরে কত উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়েই না আমরা কাজ শুরু করি ।

আমাদের প্রথম টার্গেট দাদার চায়ের ফ্লাক্স ,বিস্কুটের টিন,আর স্যাকারিন ট্যাবলেট । গরম চা খাওয়া কি সোজা কথা ? কেন যে দাদা রিস্ক নিয়ে এতো গরম চা খান,বুঝিনা । আমরা অবশ্য প্রথমে ফ্লাক্সের ঢাকনা,কাপ বা আশে পাশে কাপের মতো যা থাকে তাতে গরম চা ঢেলে ঠাণ্ডা করতে দেই । সাথে স্যাকারিন ট্যাবলেট দিতে ভুলিনা । আহ! ঠাণ্ডা চায়ে বিস্কুট ভিজিয়ে খেতে কি যে মজা দাদা হয়তো জানেই না । না খেলে দাদা তা কোন দিনই বুঝবেন না । বুঝিয়ে বলতে হবে।

চা খাওয়া শেষ হলে আমরা অন্য কাজে নেমে পড়ি । আমাদের সবচেয়ে মজার কাজ হল দাদার কার্টুন ভরা বিড়ি সিগারেট আর দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে বৃষ্টি বৃষ্টি খেলা । সেগুলো হাতের মুঠোই নিয়ে উপরের দিকে ছুঁড়ে মারলে বৃষ্টির মতো ঝর ঝর করে নিচে পড়ে । আর আমরা লাফিয়ে লাফিয়ে সেই বৃষ্টি ধরি,খাই ঘুষি মারি । কত মজাই না লাগে আমাদের ।

দাদার পাঁচ ব্যাটারির টর্চ লাইট আর টেবিল ঘড়ি আমরা বেশী যত্ন করি । লাইটের পাঁচটা ব্যাটারি খুললেই যেন ফাঁকা হয়ে যায় ।হাতে নিলে হালকা লাগে।দেখলে কষ্ট হয় দুঃখ পাই । সেই হালকা পাতলা ফাঁকা লাইটে আমরা কত কষ্ট করে বিভিন্ন কাগজ ঢুকিয়ে রাখি।মাঝে মাঝে দাদার টুপি রুমালও ঢুকিয়ে রাখি । ব্যাটারি গুলো নিয়ে ডিম ডিম খেলি । সেই ডিম এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখি যে বিড়াল ( বিড়াল নাকি ডিম খেয়ে ফেলে ) কেন কোন মানুষও খুঁজে পায়না । আর টেবিল ঘড়ির সুইচ পেচিয়ে পেঁচিয়ে ছেড়ে দিলে দারুন গান বাজে । অবশ্য এই জিনিসটা বেশি করা হয়না কারন শব্দে বাড়ির অন্যরা ছুটে চলে আসে । তাতে আমাদের কাজের ব্যাঘাত ঘটে । আমরা নিরিবিলিতে কাজ করতে পছন্দ করি ।

আমাদের আরও একটি প্রিয় ঘর ক্যালিক্স, ফুপিদের ঘর । কেউ যখন রুমে থাকে না তখন আমরা কাজে নেমে পড়ি । ফুপিদের পড়ার টেবিল আর বুক সেলফে উঠলে কত যে বিচিত্র কাজ চোখে পড়ে । কত ধরনের বই ,বইয়ের মাঝে মজার মজার ছবি । আমরাও ছবির পাশে আঁকিবুঁকি করি, ছবি আঁকি । কলম দানিতে কত রঙ্গের কলম থাকে । তিনজন ইচ্ছা মতো সাদা খাতায় নানা রঙ্গের কলম দিয়ে লিখি । সেলফে রাখা বই আমরা টেবিলে নামিয়ে রাখি , খাতা গুলতে কত রকম আঁকিবুঁকি করি । টেবিলের উপর রাখা ছোট জগের পানিতে কলম ধুয়ে দেই । ফুপিদের ড্রেসিং টেবিলে গেলে তো আরও কাজ বেড়ে যায় । সাদা সাদা ক্রিম আর পাউডার এক সাথে মাখালে যে রুটি বানানো যায় সেটা আমাদের কাছেই সবাই প্রথমে শেখে । জগে যেমন পানি রাখা যায় তেমন জুতার মধ্যেও যে পানি রাখা যায় সেটাও আমরাই প্রথম আবিস্কার করি । মেঝে ঝাড়ু দিয়ে যে বিছানা ঝাড়া যায় এটাও কেউ জানতো না । আমরা কত কিছুই না জানি ।

স্নিগ্ধা, এটা বাড়ির ড্রয়িং রুমের নাম । এই রুমে তেমন কোন কাজ নেই । কিন্তু মাঝে মাঝে যখন বাড়িতে অতিথি আসে তখন কাজ বেড়ে যায় । সোফার কুশন নিয়ে খেলা করা । কুশনের পিঠে উঠে চাবুক পেটানো । মাঝে মাঝে সেই চাবুক গেস্টের পিঠেও পড়ে । অবশ্য গেস্ট চলে গেলে আমাদের পীঠেও তাল পড়ে । আর গেস্ট কে নাস্তা দিলে খেতেই চায়না । শুধু হেসে হেসে গল্প করে । খাওয়ার সময় এতো কথা বললে খাবে কখন ? তাই আমাদেরি খেতে হয় । মাঝে মাঝে গেস্টের জুতা খোঁজার দায়িত্বও আমাদের উপর পড়ে । আমরা ছাড়া কেউ আবার জুতা খুঁজেও পায়না । পাবে কেমন করে জুতাকে তো আমরাই সেফে রাখি ।

মধ্যমা,এই বাড়ির মাঝের ঘর । এই ঘরে কাজ করে সবচেয়ে বেশি শান্তি লাগে । কারন আমাদের প্রিয় মোটর সাইকেলটা এই ঘরে থাকে । তিন জন ঘিরে ধরে মোটরসাইকেলটার
যত্ন করি । মোটা মোটা চাকার বল্টু খুলে চিকন করি , প্লাসের তার খুলে পরিষ্কার করি , ট্যাংক খালি থাকলে পানি দিয়ে পুরে দেই, নিচের চঙ্গা গরম থাকলে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা রাখি। মোটরসাইকেলটা নিয়ে আরও কত কাজ যে করতে হয় , তা শুধু আব্বুই জানে ।


নিরিবিলি আম্মুদের রুম , যদিও আমাদের কারনে নাম টা তার ঐতিহ্য হারিয়েছে । এই রুমে তেমন কোন কাজ নেই । মাঝে মাঝে আম্মুর আলমারিটা খোলা পেলে আমাদের কাপড় চোপড় খুলেমেলে দেখি । যেটা ড্রেসটা ভাল লাগে সেটা পড়ে ফেলি । নয়তো আর তেমন কিছুই করিনা ।

ক্যামেলিয়া , খাবার ঘর । আম্মু দাদি না থাকলে এই ঘরে অনেক কাজ । মিটসেলফ , থালা বাটি রাখার সেলফ,টেবিল চেয়ার সব কিছু মিলিয়ে অনেক কাজ পড়ে যায় । একবার তিনজন মিলে খাবার ঘরের সব জিনিস পত্র টিউবওয়েল পাড়ে এনে জমা করেছিলাম পানি দিয়ে ধুবো বলে সেটা দেখে দাদি লাঠি নিয়ে তেড়ে আসলো ।আমরা ভয়ে মনটা খারাপ করে দৌড়ে পালিয়ে গেলাম । দাদি একটা কি যে আমাদের কোন কাজ পছন্দ করেনা , শুধু লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে ।

আমরা সারাদিন এতো এতো কাজ করি তবু আমাদের কাজের সঠিক মুল্যায়ন হয়না । কাজ শেষে কারো উৎসাহ মিলেনা । সুযোগ পেলেই তেড়ে আসে । মাঝে মাঝে পিঠে লাঠিও পড়ে । কখনো কখনো বন্দিও থাকতে হয়। তাতে কি । যত বাধাই আসুক সুযোগ পেলেই আমরা আমাদের কাজে নেমে পড়ি ।


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৪
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×