somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বইয়ের গল্প

১১ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আর কতদিন দাঁড়িয়ে থাকবো এই কাঠের শেলফে? কতদিন কেউ রাখেনি আমায় সযত্নে কোন টেবিলে। কতকাল আমার পাতাগুলো এলিয়ে পড়েনি কোন বালকের সাদা বালিশে। নিজের বয়স আজ অনেক হয়েছে। আমার গায়ে লেখা আছে "প্রথম প্রকাশ ১৯৮৬," তার মানে ত্রিশ ছুঁই-ছুঁই করছি। বাব্বাহ্‌, বয়সতো তাহলে ঢের হলো! কিন্তু বইদের আবার বয়স হয় নাকি? তাদের পাতা মলিন হয়, কিন্তু এক একটি বই হাজার বছরও বেঁচে থাকে। বিশ্বাস হয় না? বড় কোন পাঠাগারে গিয়ে খোঁজ নিও, ওরা তোমায় বলবে।

ঐ যে একটা সময় ছিল না যখন ছোট ছেলেমেয়েরা দুপুরে ঘুমোতে যেত সাথে গল্পের কোন বই নিয়ে? আমি আগে যে বাড়ীর শেলফে থাকতাম, সেই বাড়ীতে ছিল দু’টি ছেলে আর একটি মেয়ে, তারাও এমনি বইয়ে চোখ বুলোতে বুলোতে ঘুমিয়ে পড়তো। আমাকে তাদের কেউ একজন প্রায়ই নিয়ে যেত সাথে করে। তাদের বাবা, মাও আমার পাতা উল্টে পাল্টে দেখত নানা সময়। কিন্তু ঐ বাড়ীতে আমি এখন আর থাকি না। আমার নতুন ঠিকানা ওদের এক বন্ধুর বাড়ী। ওদের এই বন্ধুটি আমায় ধার করে এনেছিল, কিন্তু আর কখনও ফেরত দেয়নি। যতবার এই কথাটি মনে হয়, আমার বুক হুহু করে উঠে।

অনেকদিন আমাকে কেউ এই শেলফ থেকে নামাইনি, বুলোয়নি আমার মলাটে হাত, পড়েনি আমার পাতা থেকে একটি লাইন। এমনকি এই বাড়ীর কেউ এই শেলফটি ঝাড়পোচও করেনি গত তিনমাস। আর কতকাল এভাবে থাকা যায়? মাঝে মাঝে রাতে তেলাপোকারাও উৎপাত করে।

আমার দু’পাশে আরো দু’টি বই। দু’টোই বেশ ভারী, তাদের চাপে আমার জীবন ওষ্ঠাগত, মাঝে মাঝে নিশ্বাস নেবার বাতাসটুকু পর্যন্ত পাইনা। আমার ডান পাশে দাঁড়িয়ে সন্দেশসমগ্র, তার বয়স অনেক। তার দশটি পাতা উইপোকারা কেটেছে, সেই যন্ত্রণায় বুড়ো বই প্রায় রাতেই কাঁদে। আমার খারাপ লাগে, ঘুমোতে পারিনা কিন্তু কি আর করা। জানি এমন দিন আমারও আসবে। ডানপাশে দাঁড়ানো জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসসমগ্র, আমার এই পড়শীর মন-মেজাজ সাধারণত ভালই থাকে, গুনগুন করে প্রায়শই সে গান ভাজে। বই পড়ার এই আকালের দিনেও এই বাড়ীর লোকজন আর তাদের মেহমানেরা তাকে নাড়াচাড়া করে। মাঝে মাঝে হিংসেই হয়।

আমার মনে পড়ে ছাপাখানায় আমার প্রথমদিকের কথা। বড় বড় কালো মেশিন থেকে শুধু মনে আছে দ্রুত বেগে পাতা বের হত আর লুটিয়ে পড়তো মেঝেতে। বুঝেছিলাম আমাকেই তৈরী করা হচ্ছে কিন্তু আমি তখনো জানিনা আমার মলাটের রঙ কি হবে, প্রচ্ছদ আঁকবে কোন শিল্পী।

নিউ মার্কেটের পরশ পাবলিশার্সে হয়েছিল প্রথম ঠাঁই। নিউ মার্কেটের অল্প ক’দিনের জীবন কিন্তু দারুন ছিল। প্রতিদিন আসত নতুন পাঠক, আমাকে তুলে নিয়ে পাতা উল্টাতো পরম যত্নে। পরিচয় হয়েছিল অনেক জাতভাইয়ের সাথে। তাদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় সুন্দর কেটে যেত। প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিষ জানা হতো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল আবার ইংরেজ। কয়েকজনের নাম এখনো মনে আছে, অলিভার টুইস্ট, লিট্ল উইম্যান এবং এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেইজ। তাদের কাছ থেকে দেশের বাইরের অনেক গল্প শুনেছি।

এখন আর নতুন গল্প শুনিনা। শুনি শুধু আমার এক পড়শীর কষ্টময় গোঙ্গানী এবং আরেক পড়শীর গুনগুন করে গাওয়া হারানো দিনের গান। অপেক্ষায় আছি কবে আমায় কে হাতে তুলে নিবে আবার। উল্টোবে আমার প্রায় ধূসর হয়ে যাওয়া পাতা, আর আউড়াবে আমার দেহ থেকে সুন্দর কিছু পংক্তি।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৫ সকাল ১০:৩৭
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×