আমার প্রিয় পোস্ট

গ্রাউন্ড জিরো বিতর্ক

২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪১

শেয়ারঃ
0 6 0

কত তর্ক-বিতর্কই না হচ্ছে গ্রাউণ্ড জিরোর দু’ব্লক দূরে একটি ইসলামিক সেন্টার স্থাপন করা উচিত হবে কিনা সেটি নিয়ে। আবারো পশ্চিমা মানুষ এবং মিডিয়া সাধারণ মুসলমানদের সাথে মিশিয়ে ফেলেছে হাতেগোনা কিছু সন্ত্রাসীকে যারা ইসলামের নামে শুধু অমুসলমান না মুসলমানদেরও নির্দ্বিধায় হত্যা করতে পারে। একজন বিবেকবান মানুষ এবং মুসলিম হিসেবে আমি জানি যে ইসলাম এগুলোর কোনকিছুই সমর্থন করেনা।

যে ধ্যান-ধারণার উপর ভিত্তি করে এই দেশের প্রতিষ্ঠাতারা এই দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল তা দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিচ্ছে এই ক্ষমতাধর দেশটির রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষের কাছে। অথচ আমেরিকার First Amendment এ স্পষ্ট লেখা আছে এই দেশে বসবাসকারীদের স্বাধীনভাবে নিজ ধর্মপালনের অধিকারের কথা।

আর Park51 কোন মসজিদও না, এটি হবে একটি ১৩ তলা ইসলামিক সেন্টার যেখানে রান্নার স্কুল থেকে শুরু করে সাঁতার কাটার পুল পর্যন্ত থাকবে। শুধু একটি তলায় থাকবে নামাজের স্থান। আর এমনও না যে এই ভবনটি গ্রাউন্ড জিরোতে তৈরী হচ্ছে, এটি তৈরী হচ্ছে গ্রাউন্ড জিরো থেকে দুই ব্লক দূরে। নিউ ইয়র্ক শহরের আকাশচুম্বি ভবনের ভীরে ইসলামিক সেন্টারটিকে দেখাও যাবেনা গ্রাউণ্ড জিরো থেকে কিন্তু তারপরও এটি নিয়ে কত হট্টগোল। অথচ গ্রাউণ্ড জিরোর ঠিক কাছেই যে একটি গির্জা (Saint Paul’s chapel. অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি যে ৯/১১ এর ভয়ঙ্কর হামলায় কোন ক্ষতি হয়নি আঠারো শতকের এই গির্জার।) সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে সেটি নিয়ে কিন্তু কারও কোন মাথা ব্যথা নেই। আমারও নেই কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি প্রত্যেক মানুষেরই আছে তার নিজ ধর্মপালনের অধিকার। ইহুদী, ক্রিশ্চিয়ান, হিন্দু, বৌদ্ধদের মত মুসলমানদেরও আছে তাদের ধর্মপালনের অধিকার। আর সেই অধিকার থেকে যদি তারা একটি ইসলামিক সেন্টার স্থাপনই করে তাহলে দোষটি কোথায়? আর এটি যদি ইসলামিক সেন্টার না হয়ে একটি মসজিদই হতো তাহলেই বা দোষটি কোথায় ছিল?

কতজন আমেরিকান জানেন যে এই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠাতাদের একজন টমাস জেফারসনের নিজ সংগ্রহে ছিল কোরআনের একটি কপি, যেটি আজও সংরক্ষিত আছে লাইব্রেরী অফ কংগ্রেসে? শুনেছি ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়াতে জেফারসনের একটি মূর্তি আছে, সেখানে তার হাতে ধরা আছে একটি ফলক যেখানে খোদাই করা আছে আমেরিকার Religious Act 1876, নিচে লেখা God-Jehovah, Brahma, Rama, Atma, Allah। তারা কি জানেন আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে খোদাই করা আছে আমাদের প্রিয় নবীর একটি প্রতিকৃতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের একজন হিসেবে? যদিও প্রতিকৃতিটি নিয়ে বিতর্ক হওয়ায় সেটির নিচে এখন দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি ফুটনোটে লেখা আছে যে ভাস্কর সৎ উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কে সম্মান জানাতেই প্রতিকৃতিটি তৈরী করেছেন।

একবার সু্যোগ এসেছিল গ্রাউণ্ড জিরোতে যাবার। গিয়ে হতবিহ্ববল হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ দমকা বাতাসে মানুষ যেমন কুঁকড়ে যায়, তেমন কুঁকড়ে গিয়েছিলাম। চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল CNN এ বহুবার দেখা Twin Towers এর ধ্বসে পড়ার দৃশ্যটি। আমার আবেগের মাত্রাটা একটু বেশি তাই নিজের চোখের জল সামলাতে পারিনি। সাথে ছিল এক ভারতীয় মুসলমান বন্ধু যার খালাতো ভাই কাজ করতো Twin Towers এর ভিতর অবস্থিত কোন এক অফিসে, ৯/১১’র সেই হামলায় সে নিহত হয়। খুব সম্ভবত তার দেহটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই বন্ধু গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে হুহু করে কেঁদে উঠেছিল। তার কান্নার রেশ ছুঁয়ে গিয়েছিল আমাকে, আমাদের সাথে থাকা অন্যান্যদের। শুধু আমি না, আমার মত আরও কোটি কোটি মুসলমান বিশ্বাস করে যে ৯/১১ এর হামলাটি ছিল নির্মম, বর্বর। সাধারণ আমেরিকানরা কি কখনও জানবে আমার মত মুসলমানদের তাদের প্রতি এই আবেগ, এই সমবেদনার কথা?

ভাবলে কষ্ট পাই যখন দেখি বারবার শুধু ইসলামকেই টেনে আনা হয় এই বিষয়ে। ভেবে পাইনা যে হাতেগোনা কিছু মানুষের অপরাধের জন্য কেন সাধারণ মুসলমানেরা ছোট হয়ে থাকবে অন্যদের চোখে, কেন তারা বঞ্চিত হবে তাদের অধিকার থেকে, কেন সামান্য একটি ইসলামিক সেন্টার স্থাপনা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বয়ে যাবে ঝড়, কেন মানুষ রাস্তায় নেমে যাবে, মিছিল করবে, স্লোগান দিবে এই স্থাপনা ঠেকাতে? আমেরিকাতেও তো ছিল এবং এখনো আছে Klu Klux Klan এর মত কুখ্যাত বর্নবাদী সংগঠন যারা বিশ্বাস করে আমেরিকা হবে শুধু সাদা ক্রিশ্চিয়ানদের। আমরা কি তাই বলে সকল সাদা ক্রিশ্চিয়ানদের ঘৃণা করি বা করবো? আমাদের এখনকার সমাজের একটি বড় সমস্যা হলো একজনকে দিয়ে একশজনকে যাচাই করা। গ্রাউন্ড জিরোর দু’ব্লক দূরে ইসলামিক সেন্টার স্থাপন করা যাবে কিনা সেটার বিতর্ক পশ্চিমাদের সেই মানসিকতার পরিচয়ই হয়তো আরও একবার দিচ্ছে। তবে ভাল লেগেছে বারাক ওবামার এই সেন্টারের প্রতি সমর্থন।

Conspiracy Theoryগুলো পড়লে সবকিছু ধোঁয়াটে মনে হয়। আসলেই জানিনা কাদের হাত ছিল সেপ্টেম্বর ১১ এর নাশকতার পিছনে। শুধু জানি যে যাদের হাতই থাকুক না কেন, তাদের প্রতি ঘৃণা আর ক্ষোভ ছাড়া আমার মত একজন সাধারণ মানুষের মনে আর কিছু নেই।

* নিচের ছবিগুলো গ্রাউন্ড জিরোর সামনে থেকে তোলা।










 

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: :) জ্বী।

২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: :-) অনেক ধন্যবাদ। টাইপিং এ কিছু ভুল ছিল, শুধরে দিচ্ছি সেগুলো।

৩. ২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৮
মে ঘ দূ ত বলেছেন: ভালো লেগেছে পোষ্টটা।

এখানে আজকাল ট্রেনে উঠলেই চোখে পড়ে পেপার পত্রিকায় এই বিষয়টা নিয়ে প্রতিদিন তাল কে গোল পাকানো হচ্ছে। লোকাল পেপার পড়া বাদ দিয়েছি অনেক আগেই। গুগুলের নিউজ ফীডে ডিফল্ট নিউজ টার্ন অন করা ছিল। সেখানেও মিনিটে মিনিটে এই বিষয়টা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার মনগড়া খবর দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে ডিফল্ট নিউজ চেঞ্জ করে ইউকে করে দিয়েছি। এখন ইউকের নিউজ গুলো আসে ফীডে। কিছুটা হলেও স্বস্তিকর। :)
২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:০১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। ইউকে-র মিডিয়া আমেরিকার মিডিয়ার চাইতে অনেক দিক থেকে ভাল।

৪. ২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:০৫
মে ঘ দূ ত বলেছেন: কয়েকদিনের নিউজ গুলো দেখে আমারও তাই মনে হয়।
২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: :-)

২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৬. ২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১৭
েছাটন বলেছেন: ধন্যবাদ। পোস্ট পড়ে মনে হল, আপনাকে ধন্যবাদ দেয়া দরকার।

আপনার হৃদয়গ্রাহী পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন, লিখতে থাকুন।
২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ লেখাটি পড়ে মন্তব্য করেছেন বলে। ভাল থাকবেন :-)

৭. ২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:২৮
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: দারুন লাগলো। যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার অধিকার সবার আছে। যারা সন্ত্রাসী তাদের কোন ধর্ম নেই। তাই ইসলামের নামে যারা এসব করে তাদের প্রকৃত অর্থেই কোন নীতিবোধ নেই।


আমার ঘরে আপনাকে নিমন্ত্রণ
২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন :-)

৮. ২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫১
অক্টোপাস বলেছেন: অনেক তথ্য জানতে পারলাম!! ধন্যবাদ। :) :)
২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০৪

লেখক বলেছেন: :-) পড়বার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৯. ২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫৮
নিশাচর নাইম বলেছেন: আল্লাহ যেন আমাদের মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরন করার তৌফিক দান করেন। আমিন
২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০৭

লেখক বলেছেন: আমিন :-)

২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০৭

লেখক বলেছেন: :-)

২৫ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:১১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ :-)

১২. ২৬ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:২৭
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: আজকে ভোরে ব্লগে একবার ঢু মারাটা সার্থক হলো। ধন্যবাদ, নিজের মত করে আসলে আমাদের মনের কথাটাই লিখেছো। অনেক ধন্যবাদ, সুন্দর একটা আত্মবিশ্বাসের ছাপ তোমার চিন্তা ভাবনায় ... ... ...
পড়াশুনা করা আর জানারতো কোন বিকল্প নেই, ওটা কম দেখেই আমরা উদার হতে পারিনা। কেউ ই পারেনা স্বশিক্ষিত ব্যক্তিরা ছাড়া!

কেমন আছো এমনি ওয়ারা?
২৬ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৭:০২

লেখক বলেছেন: আমি ভাল আছি সোহায়লা, আর তোমার মন্তব্যটি পড়ে এখন ভাল লাগাটা আরেকটু বেড়ে গেল :-) তুমি কেমন আছ???

১৩. ২৬ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৫৭
জাহাঙ্গীর জান বলেছেন: মসলমান হলে ওরা টুইইন টাওয়ার দ্বংস করতে পারতোনা । ওরা সয়তান ইসলাম কখনও দ্বংসের অনুমতি দিতে পারে না । আপনার লেখা অনেক ভালো ।
২৬ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৭:০৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

২৬ শে আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৫

লেখক বলেছেন: :-) অনেক ধন্যবাদ।

১৫. ২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:০৮
শাফ্‌ক্বাত বলেছেন: খুব ভালো লিখেছো।
শুধু আমি না, আমার মত আরও কোটি কোটি মুসলমান বিশ্বাস করে যে ৯/১১ এর হামলাটি ছিল নির্মম, বর্বর। সাধারণ আমেরিকানরা কি কখনও জানবে আমার মত মুসলমানদের তাদের প্রতি এই আবেগ, এই সমবেদনার কথা?
এই কথাটা হাইলাইট করার মত।
২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:২৯

লেখক বলেছেন: :-) অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে, আপু।

১৬. ২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩৭
ফজলুল করিম বলেছেন: খুব ভালো লাগলো আপনার লেখাটি।
২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক খুশি হলাম জেনে :-) ভাল থাকবেন।

১৭. ২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:২৭
মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: খুব ভাল লিখেছেন, ধন্যবাদ।

অফ টপিকে একটা কথা বলে যাই, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অমুসলিম বিজ্ঞানীরাই সব কিছু বিশ্লেষন করে বলেছেন, টুইন টাওয়ার ধ্বংস ছিল একটি "ইনসাইড ইভেন্ট", মানে বুশ বা তার মত কোন সার্থান্বেষী মহলের ঘটানো একটি ঘটনা। এই সংক্রান্ত বিশাল একটা রিসার্চ প্রামাণ্য চিত্র আমি দেখেছি এবং সেটি আমার সংগ্রহে আছে যাতে পরিষ্কার বোঝা যায়, শুধু মাত্র দুটো যাত্রীবাহী বিমান আছড়ে পড়াতেই টুইন টাওয়ার এভাবে সোজাসুজি ভেংগে পড়েনি।

শুধু কয়েকটি পয়েন্ট হাইলাইট করি। টুইন টাওয়ারের যে স্টিল কোর ছিল মাঝ বরাবর সেই steel core যদ্দুর মনে পড়ে ২৪০০ বা ২৮০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় গলে আর জেট ফুয়েলে তাপমাত্রা সম্ভবত ১০০০ ডিগ্রির মত উঠে। সুতরাং সেই তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ steel core গলে গিয়ে একদম straight বা খাড়া গুড়ো হয়ে পড়ে যাওয়া অসম্ভব, কারণ ভবনগুলো state of the art প্রযুক্তিতে তৈরী এবং যার কাঠামোতে high grade steel core ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউরোপীয় কিছু বিজ্ঞানী (সম্ভবত ডেনমার্কের, ওই বিজ্ঞানীর ইন্টারভিউওর ক্লিপটি ফেইসবুকেও শেয়ার করা হয়েছিল) গবেষনা করে পেয়েছিলেন যে গ্রাউন্ড জিরোর ধ্বংসাবশেষে nano thermaite (ন্যানো থারমাইট) নামক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল যেটি একটি উচ্চ মাত্রার বিষ্ফোরক এবং একমাত্র এর সাহায্যেই তাপমাত্রা ওই steel core কে গলানোর তাপমাত্রায় উঠানো সম্ভব। আর যাদের বিন্দুমাত্র প্রযুক্তি জ্ঞ্যান আছে বা সাধারণ জ্ঞ্যানেই এটা বোঝা সম্ভব, আধুনিক যুগে ইমারত নির্মাণে যে কৌশল ব্যবহার করা হয়, মানে যেখানে reinforced concrete এর বিম ব্যবহার করা হয় সেখানে যেকোন পাশ থেকে কোন আঘাত এলে ভবনের কোন অংশ আংশিক ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বা উপরের কিছু অংশ হেলে ভেঙ্গে যেতে পারে, কিন্তু একেবারে খাড়া গুড়ো হয়ে ধুলোয় মিশে যেতে পারে না !! এটা একমাত্র তখনই সম্ভব, যখন সেখানে পরিকল্পিতভাবে বিষ্ফোরক স্থাপন করে কোন ভবন ধ্বংস করা হয়। উন্নত বিশ্বে মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনের ক্ষেত্রে ডিনামাইটের মাধ্যমে খুব বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভবন ধ্বংস করা একটা কমন প্রাকটিস যেটা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের কল্যাণে হয়ত আমরা অনেকেই দেখেছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের বর্ণনা থেকে এটাও জানা গেছে তারা "বুম বুম" শব্দ পেয়েছেন যখন ভবন দুটো ধ্বসে পড়ছিল !! এসব অনেক কিছুই হয়ত মিডিয়াতে আসেনি কারণ যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছিল মিডিয়াও সম্ভবত তাদের হাতেই ছিল!!!

আরেকটা ব্যাপার হয়ত আমরা অনেকেই জানি না, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেই কমপ্লেক্সে টুইন টাওয়ার সহ মোট ৭ টি ভবন ছিল। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ৬ ঘন্টা পরে আরো একটি ভবন ধ্বসে পড়ে। এবং সেই ভবনটিতে আমেরিকার কিছু ইন্টেলিজেন্সের অফিস সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল, যেগুলো ধ্বংস করাও হয়ত এই পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল !!

মূল কথা হল, যে বা যারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা এই ঘৃন্য মানব হত্যার সাথে যেই কাজটি করেছে সেটা হল, মুসলমানদেরকে সারা বিশ্বের সামনে সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে এবং বলা বাহুল্য, তারা এই কাজটিতে বেশ সফলই হয়েছে, কারণ বিশ্বের মিডিয়াযে তাদেরই হাতে !! আমাদের ওরা যা খাওয়াবে আমরাতো তাই খাব, তাই না? ইসলামের মত একটি শান্তির ধর্মকে তারা এই ঘৃন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে মানবতার বিরুদ্ধে চরম প্রতারণা করেছে বলে আমি মনে করি।

অনেকে হয়ত বলবেন, এত মূল্যবান তিনটি ভবন ভেংগে আমেরিকার কি লাভ? এর উত্তর হল, "সমঝদারকে লিয়ে ইশারাই কাফি হ্যায়!!" কারণ, আমেরিকা এর পর যুদ্ধ করে যে পরিমাণ অস্ত্র পরীক্ষা আর বিক্রি করেছে, তার ব্যাবসায়িক মূল্য ওই ৩ টি ভবনের চেয়ে অনেক বেশী। B-) কর্ম সূত্রে আমি উগান্ডায় ছিলাম কিছুদিন। সেখানে আমার এক ক্রিশ্চিয়ান ম্যানেজারের একটা উক্তি দিয়ে শেষ করছি, "America needs at least one war in every ten years for their existance !!!" আমেরিকা তার নিজের স্বার্থেই বিশ্বে সব সময় যুদ্ধ লাগিয়ে রাখবে, আর কেন সেটা বুঝতে গেলে আমাদের দেমাগের বাত্তি আরো অনেক জ্বালাতে হবে !! ;) B-) B-)
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনি তো আমার চাইতে একশত গুন ভাল লিখেছেন :) আপনি কি ফারেনহাইট ৯/১১ এর কথা বলছিলেন? নাকি অন্য কোন প্রামান্যচিত্র? ফারেনহাইটটা আমার দেখা।

১৮. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:০২
শয়তান বলেছেন: আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে প্রফেট মুহাম্মদের প্রতিকৃতির ঘটনা জানা ছিলো না ।

অনেক ধন্যবাদ ।
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: :-) আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

১৯. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:২৮
মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: আসলে ঠিক মনে নাই, উগান্ডায় থাকা অবস্থায় ২০০৮ এ এই সংক্রান্ত কিছু লিংক পেয়ে গিয়েছিলাম আর সেগুলো সব পড়েছিলাম/দেখেছিলাম। প্রায় দেড় ঘন্টার সেই ভিডিওটা তখনই নামিয়েছিলাম, সম্ভবত আমার ব্যাক আপ ডিস্কে রয়ে গেছে। :)
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:১৬

লেখক বলেছেন: বুঝলাম :) ভুল না হলে ফারেনহাইটেও এরকম কিছু তথ্য ছিল। আপনি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন।

২০. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:২০
ডিস্কো ঘোড়া বলেছেন: হযরত মুহম্মদ (সাঃ ) কে সম্মান জানাতে তৈরী প্রতিকৃতিটির কোন ছবি দিতে পারেন ওয়ারা আপু?
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৩২

লেখক বলেছেন: গুগল এ থাকতে পারে। আমি খুঁজে দেখব। আমি সামনে থেকে দেখেছি কিন্তু ছবি তোলা হয়নি কারণ সুপ্রিম কোর্টের ভিতর ক্যামেরা নেয়া নিষেধ।

২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: Click This Link

২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: লিংক্টা কাজ করছে না :( আপনি গুগলে টাইপ করলেই পেয়ে যাবেন। ওনার এক হাতে ধরা কোরআন আর অন্য হাতে তরবারী।

২১. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:২২
মোসারাফ বলেছেন: সুন্দর লেখা। প্লাস।

আমেরিকানরা হিরোশিমা ও নাগাসাকি গেলে তাদের প্রতিক্রিয়া কি হয় খুব জানতে ইচ্ছা করে। তখন কি তাদের মনে হয় তারা কত বড় অপরাধ করেছে।
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ :-) আর আমারও জানতে ইচ্ছে করে।

২২. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৩৩
এক্স বলেছেন: এখানে ইস্যু দুইটা..

প্রথম, মার্কিন শাসন যন্ত্র বর্তমানে ইসলামের সাথে একটা সহাবস্হানে যেতে চাচ্ছে যার মূল কারন হল মুসলমানরা যেন গনতন্ত্রের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ইসলামিক শাসন ব্যবস্হার দিকে না ঝুঁকে. এবং নন পলিটিক্যাল ইসলামকে মুসলমানদের মধ্যে প্রমোট করা যা গনতন্ত্রকে মুসলমানদের শোষন ও শাসনের হাতিয়ার বানাবে.

দ্বিতীয়ত, মার্কিন জনগন যখনই গ্রাউন্ড জিরোতে ইসলামিক সেন্টার দেখবে তখনই মার্কিন প্রপাগান্ডা মেশিনের মুসলমান=জঙ্গী থিওরীর কথাই মনে করবে.

বস্তুত এক ঢিলে দুই পাখি মরবে. একদিকে মুসলমানরা সেকুলারিজম ও গনতান্ত্রিক হায়েনা মার্কিনদের বন্ধু মনে করে ইসলামিক জীবন ব্যবস্হা পরিত্যাগ করবে অন্যদিকে অমুসলমান মার্কিনদের মনে ইসলাম ও মুসলমান বিদ্বেষ বজায় রাখবে.

মার্কিনদের মধ্যে সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দলিল সাপেক্ষ ডকুমেন্টারি ও ভাষ্য দেয় এলেক্স জোন্স. যেখানে ফারেনহাইট ৯-১১ অনেক রাঘববোয়ালকেই ক্যামেরা থেকে গোপন রেখেছে সেখানে এলেক্স জোন্স তাদের সবারই কাছা খুলে দিয়েছে.

মার্কিন যন্ত্রের সাবভার্সিভ স্বৈরতন্ত্র ও ৯-১১ এর সত্যতা জানতে ঘুরে আসতে পারেন এই সাইটে
এলেক্স জোন্স - ইনফো ওয়ার
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: বাহ্‌! আমি ওয়েবসাইটটাতে গেলাম মাত্র। অনেক কিছু আছে পড়ার এবং জানার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ :-)

২৩. ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪১
ডিস্কো ঘোড়া বলেছেন: লিংক এর জন্যে ধন্যবাদ, দেখি খুঁজে ওখানে :)
২৭ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: ওখানে আছে ছবিটা। প্রতিকৃতিটা দেয়ালে খোদাই করা।

২৪. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:৩৭
নাজনীন১ বলেছেন: সুপ্রীম কোর্টে মহানবীর প্রতিকৃতি? অভাবনীয় ব্যাপার! এটা ইসলামী স্কলাররা মেনে নিয়েছেন বলছেন?
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:২৩

লেখক বলেছেন: মেনে তো নিয়েছে। এটি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল কিন্তু নিচে এখন ফুটনোটটি দিয়ে দেয়ায় ব্যাপারটি নিয়ে আর কথাবার্তা শুনিনা। আর এটি ওনাকে সম্মান দেয়ার উদ্দেশ্যে করায় বোধহয় কেউ কিছু বলে না।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭১২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই