পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানে মানুষের মাঝে বিয়ে করবার প্রবনতা হ্রাস পাচ্ছে। মানুষ বিয়ে করছে তাদের কর্মজীবনকে, জীবনের বেশিরভাগ সময় তারা কাটাচ্ছে তাদের কর্মক্ষেত্রে। গতকাল ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে একটি লেখা এসেছে যার বিষয়বস্তুঃ জাপানে ২০ এবং ৩০ এর কোঠায় যেসব তরুণদের বয়স তারা নিজেদের জন্য বেছে নিচ্ছে ভারচুয়াল মেয়েসঙ্গী। এখানেই শেষ নয়, সেই মেয়েবন্ধুদের সাথে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, কথা বলছে, টেক্সট মেসেজ পাঠাচ্ছে, মান-অভিমান করছে এমনকি ছবিও তুলছে একসাথে। ভাবছেন ব্যাপারটা কি করে সম্ভব? আসলে পুরো ব্যাপারটাই হচ্ছে একটি simulation গেইম, যেখানে তিন ধরণের মেয়ে থেকে একজন গেইমার যেকোন একটি মেয়েকে বেছে নিতে পারেন। একটি হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে দেখা যায় সেই মেয়েটিকে এবং তার সাথে কথোপকথন করা যায়। গেইমটির নাম হচ্ছে LovePlus+।
জাপানের আতামী শহর তাদের পর্যটন ব্যবসা বাড়াতে LovePlus+ এর নির্মাতা কোনামী ডিজিটাল এন্টারটেনমেইন্টের সাথে চুক্তি করেছে। উদ্দেশ্য, LovePlus+ এর গেইমারদের আতামীতে আসতে আকৃষ্ট করা। একসময় মধুচন্দ্রিমা কাটাতে অনেকে আসতো আতামীতে কিন্তু এখন আর আসে না। কারণ ঐ যে, বিয়ে করবার প্রবণতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে জাপানে। এখন আতামীতে ঘুরতে আসা এসব তরুণেরা তাদের ভারচুয়াল মেয়েবন্ধুর সাথে সময় কাটিয়ে তাদের অবকাশযাপনকে মুক্ত করছে দূর্বিসহ একাকীত্বের হাত থেকে।
LovePlus+ শুধু একটি খেলাই না। এই গেইমে খেলোয়াড় মেয়েটির সাথে একটি সম্পর্ক তৈরী করে। মেয়েটিকে সময় না দিলে, মেয়েটি অভিমান করে, ঘুরতে যেতে চায় না, রাগ করে কথা পর্যন্ত বলেনা ঠিক মত। সময়ের একটি ব্যাপারও আছে, খেলাটি সত্যিকারের ঘড়ি এবং ক্যালেন্ডার মেনে চলে। যে কারণে গেইমারকে মনে রাখতে হয় তার বান্ধবীর জন্মদিন অথবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো।
আতামী শহরের হোটেলরুমগুলো তৈরী করা হচ্ছে এসব তরুণ LovePlus+ গেইমারদের কথা চিন্তা করে। জাপানের বেশীরভাগ হোটেলেই কতজন থাকছেন তার উপর ভাড়া নির্ধারিত হয়ে থাকে। যদি দু’জন থাকেন তাহলে তো ভাড়া অবশ্যই বেশী। আর এসব গেইমারদের কথা চিন্তা করে আতামীর অনেক হোটেলকক্ষই সাজানো হচ্ছে দু'জনের কথা চিন্তা করে। এক একটি হোটেলকক্ষের প্রতিরাতের ভাড়া $৫০০ পর্যন্ত কিন্তু তারপরও অনেকেই থাকছেন। একাকীত্ব থাকতে পারে কিন্তু জাপানী এসব তরুণদের পয়সা-কড়ির ঘাটতি নেই।
পৃথিবী পাল্টে গিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত যাচ্ছে। সংসার ব্যাপারটি অনেকের কাছেই এখন আর মধুর নয়। মানুষের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে তাদের কর্মক্ষেত্র। এই ধরণের জীবনযাত্রা পৃথিবীর জন্য ভবিষ্যতে সুখকর হবে কিনা সেটি সময়ই বলে দিবে।
Wall Street Journal

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

