মনে পড়ে ফেলে আসা দিনের কথা। ছোটবেলায় চাঁদ রাতে ঘুম আসতেই চাইত না, কখন-সকাল-হবে এই চিন্তায়। ঈদের দিনটিকে অন্যরকম মনে হতো। বাতাসে ভেসে বেড়াতো সুঘ্রান, সুখ আর হাসি কোলাহল। বাবা, ভাই মসজিদ থেকে ফিরে আসলেই মা, বাবাকে সালাম করা হতো। আগে বাবা খালা, চাচা, নানুর বাসায় নিয়ে যেতেন ঈদের দিন।
সালামী নেয়া, আর নতুন জামা, জুতো পড়ে ঘরে বেড়ানোতেই ছিল মূল মজা। বাসায় এসে বারবার গুনতাম সালামী। শিশুমন ভাবতো, হয়তোবা প্রথমবার কিছু টাকা কম গুনেছিলাম...…। নতুন কচকচে টাকার অন্যরকম ঘ্রান। পুরোনো নোট তাই একেবারেই পছন্দ ছিল না, কেউ একটু পুরোনো নোট দিলেও বাবার মানিব্যাগ থেকে নতুন নোট নিয়ে সেগুলো পালটে রাখতাম।
অনেক ছোটবেলায় চাঁদ দেখা নিয়ে মনে থাকত তুমুল আগ্রহ। ইফতার খেয়ে জানালায় উঁকিঝুকি অথবা ছাদে উঠে যাওয়া। ইউনিভার্সিটি বা হাইস্কুলের জীবনে চাঁদ দেখা নিয়ে মনের ভিতর আর তেমন একটা আগ্রহ কাজ করতো না। কে জানে কেন। দেশে চাঁদ রাতটি অসম্পূর্ণ থেকে যেত টিভিতে কবি নজরুলের “রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” গানটি ছাড়া। মনে পড়ে গতবারের রোজার ঈদে ঘন্টার পর ঘন্টা বাজিয়েছিলাম ইউটিউব থেকে এই গানটি। যতবার শুনি প্রতিবারই ভাল লাগে।
সকাল বেলায় শুরু হতো ফোন আর sms এর ঢল। তাই চাঁদ রাতে মোবাইলে টাকা ভরা ছিল অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি। ইউনিভার্সিটি থেকে বের হবার পর যখন চাকরী জুটলো একটি মোবাইল কোম্পানীতে তখন ব্যালেন্স নিয়ে অবশ্য চিন্তা করতে হতো না আর। কত যে মজার মজার sms পেতাম বন্ধুদের কাছ থেকে। মনে পড়লে আজও হাসি পায়।
আশা করছি এবারের ঈদটি অন্যরকম হবে। খালা, মামাদের বাড়ি যাব ঈদে। ঈদের দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটবে আকাশে আর রাস্তায়। তারপরও অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি কিছু প্রিয় মুখ দেখবার আশায়। অনেকদিন দেখিনা তাদের। এবারই প্রথম আত্মীয়স্বজনের সংস্পর্শে কাটবে পরবাসের ঈদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

