আবারও অপেক্ষা শুরু হলো। এবারের অপেক্ষা জানার অপেক্ষা – চাকুরীটা হবে কিনা। এই দেশের হসপিটালগুলো অনেক কড়াকড়ি করে চাকুরী দেয়ার ক্ষেত্রে। ক্রিমিনাল ব্যকগ্রাউন্ড চেক, ক্রেডিট হিস্ট্রি চেক করার পর রেফারেন্স চেক অবশ্যই করে। আমার ক্ষেত্রে এরা পাঁচজন রেফারেন্সকে যোগাযোগ করেছিল। যাদের একজন ছিল বাংলাদেশে আমি যেখানে কাজ করতাম সেখানের এক সিনিয়র কলিগ। এই দেশে ভাল রেফারেন্স থাকা খুবই জরুরী একটু ভাল চাকুরী পেতে হলে।
তারপর মোটামুটি এই পর্ব শেষ হবার পর তারা আমাকে ডাকলো আমার স্বাস্থ্যসম্পর্কে অবগত হবার জন্য। সমস্যাটা হলো সেখানেই। ড্রাগ, এল্কোহল টেস্ট কোন সমস্যা না, সমস্যা অন্য জায়গায়। ওহ্, আরেকটি ব্যপার বলে রাখা ভাল যে এখানে হসপিটালগুলোতে যক্ষার টেস্ট করা হয় নিশ্চিত হবার জন্য যে রোগটি আপনার নেই। আগের কথায় ফিরে যাই – সমস্যা হলো যখন জিজ্ঞেস করলো MMR (Measles, Mumps & Rubella) এর টিকা দেয়া আছে কিনা। বাংলাদেশে আমার যখন জন্ম তখন এই টিকা শিশুদের দেয়া হতো না। অতএব, আমারও দেয়া নেই। কি আর করা, দিলাম টিকা। তাতেও সমস্যা মিটলো না, MMR এর একটি Booster ডোজ আছে যেটি কিনা প্রথম ডোজের কমপক্ষে ২৮ দিন পর দেয়া যায়। সবাই দেয়ও না কিন্তু হসপিটালের নিয়ম যে যারা এখানে কাজ করবে সবাইকেই দু’টো ডোজ দেয়া থাকতে হবে। তাদের মতে, সাবধান থাকা ভাল। আমি তো ভেবেছিলাম চাকুরীর আশা সেখানেই শেষ, কিন্তু না তারা ঠিক করলেন যে আমার জন্য অপেক্ষা করবেন এক মাস। আজও ভেবে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেই এমন একটি সুযোগ করে দেবার জন্য। একমাস পর Booster ডোজ দিয়ে চাকুরীতে যোগ দিলাম।
হসপিটালে এত নিয়মকানুন কে জানতো? পোশাক আশাকের উপর নিয়মকানুন, যার মধ্যে কয়েকটি হলোঃ কোন ব্র্যান্ড বা লোগো কাপড়ে দেখা যেতে পারবে না। Tommy Hilfiger, Guess অথবা CK লেখা কাপড় পড়ে যদি ভাবেন কাজ করা যাবে তাহলে ভুল, এরা সোজা বাড়ি পাঠিয়ে দেয় কাপড় বদলে আসার জন্য। কাজে জিন্স পড়ে যাওয়া যায়না। ভারী মেকাপ দেয়া যায়না। খোলা জুতো পড়া যায়না। শরীরের উন্মুক্ত কোন স্থানে উল্কি থাকতে পারবে না কোন কর্মকর্তার (এইদেশে প্রচুর মানুষ গা ভর্তি করে উল্কি আঁকায়), শুধু কানফুল পড়া যাবে ইত্যাদি। আমার চেনা এক নার্স নাকফুল পড়া বাদ দিয়েছে এই হসপিটালে কাজ করতে এসে। লিস্ট পড়বার সময় সুগন্ধিও যে মাখা যায়না সেটি চোখে পড়েনি। প্রথমদিন গেলাম কাজে পারফিউম মেখে, সুপারভাইজার দিনের শেষে ডেকে বললেন যে আর যেন পারফিউম না মাখি। উনি সুন্দর করে বলেছিলেন কিন্তু নিজের বোকামীর জন্য ভিষণ লজ্জা পেয়েছিলাম।
কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ভাল লাগছে। নিয়মকানুনগুলো কড়া কিন্তু জানি যে এগুলোর পেছনে তাদের শক্ত যুক্তি আছে। যেমন, ব্র্যান্ডের নাম দেখা যাচ্ছে এমন কাপড় পরা নিষেধ কারণ সবাই দামী ব্র্যান্ডের কাপড় কিনতে পারে না। অনেক কর্মচারী হীনমন্যতায় ভুগতে পারে যখন সে তার সহকর্মীকে দেখবে দামী ব্র্যান্ডের দামী জামা পড়ে থাকতে – কর্মক্ষেত্রের জন্য এই জিনিষ অনেক সময়ই স্বাস্থ্যকর না। আর পারফিউম না দেবার নিয়মটি এই কারণে যে অনেক রুগীর পারফিউমে এলার্জী থাকতে পারে, কোন রুগীর যেন গন্ধে কোন সমস্যা না হয় সেই জন্য এই সাবধানতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

