somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একমাস পর পাওয়া লাগেজ

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৮ সালের কথা - বরের সাথে আমেরিকা যাচ্ছি। দু'জনেই চাকরি-টাকরি ছেড়ে আবার ছাত্রাবস্থায় ফিরে যাচ্ছি। উত্তেজনার সাথে উৎকন্ঠারও শেষ নেই। ফ্লাইট রাত ৯টায়। দুপুর চারটা পর্যন্ত ব্যাংকেই দৌড়াদৌড়ি করলাম। শুরু থেকেই বিপদ আমাদের পিছু নিল। প্লেন ছাড়লো সময় মতো কিন্তু ৫ মিনিট পরই আবার ফিরে এলো। কি কারণ? একটি চাকা নাকি খুলে যাচ্ছে। অবাক কান্ড! চাকা চেক না করে তারা কি করে প্লেন ছাড়লো?! যাই হোক, চাকা ঠিক করতে গিয়ে তারা রাত ১টা বাজিয়ে ফেলল। ফ্যাক্টরী থেকে চাকা কিনে এনে লাগাতেও হয়তো এর চাইতে কম সময় লাগে। একটা সময় প্লেনের শিশু যাত্রীরা ফুসফুসের সর্বশক্তি দিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করলো। কান্নার জন্যই কিনা কে জানে দয়া হলো কেবিন ক্রুদের - বাচ্চাদের খাবার দিলেন তারা। কিন্তু বুড়োদের নয়। আমার মত বুড়োরা ক্ষুধা সহ্য করতে পারে এটাই হয়তো কাতার এয়ারওয়েইজের বিশ্বাস।

কাতার পৌঁছলাম বেকায়দা এক সময়ে - তার চেয়েও বড় দু:সংবাদ - আমাদের কানেক্টিং ফ্লাইট আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে নাকি। আমরা বললাম, "সম্ভব না, যেভাবে পার আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দাও।"
"তোমাদের হোটেলে থাকবার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।"
"হোটেলে থাকতে চাই না। আমাদের এক জায়গায় রিপোর্ট করতে হবে ৭ তারিখে। এখানে ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করলে সেটি সম্ভব না।"

কাউন্টারের মহিলার দয়া হলো। তিন ঘন্টা পর ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফ্লাইটে তিনি আমাদের তুলে দিলেন।

আমাদের অরিজিনাল রুটতো অনেক আগেই লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ঢাকার সেই চাকার ঘটনার কারণে। নানা স্টেট ঘুরে মিনেসোটা পৌঁছলাম। কনভেয়ার বেল্টে ১ ঘন্টা ব্যয় করবার পর বুঝলাম যে একটি লাগেজ এসেছে, তিনটি আসেনি! সেই একটি লাগেজ আমার।

আমরা ইউনিভার্সিটির কাছে বাসা ভাড়া নিলাম। বর দোকানে গিয়ে কাপড় চোপড় কিছু কিনলো, আমিও কিনলাম। এক সপ্তাহ পর বাসায় দু'টি লাগেজ হাজির। লাগেজ ফেরত পাবো সেই আশা মোটামুটি ছেড়েই দিয়েছিলাম। খুললাম একটার ডালা - তুলোধুনো বোধহয় একেই বলে। এমন কোন জিনিষ নেই যেটি এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ঘেটে দেখেনি। বিয়ের স্যান্ডেল জোড়া ছিল সেই লাগেজে - যেটির হিলের শক্ত পাথরও তারা খুলে ফেলেছেন। শক্তির তারিফ করতেই হয়! আমার শখের গহনাগুলোর পর্যন্ত করুণ দশা। কাঁদলাম কিছুক্ষণ জুতো আর গহনার শোকে। হঠাৎ দেখি এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির ছোট্ট একটা নোট যার বিষয়বস্তু - কোন জিনিষের ক্ষতি হয়ে থাকলে আমরা দু:খিত। দু:খ প্রকাশ করেই তারা তাদের দায়ীত্ব শেষ করেছেন।

তারপর প্রায় একমাস কেটে গেছে - আমরা ক্লাস শুরু করেছি ইউনিভার্সিটিতে। বর ঠিক করলেন ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন এয়ারলাইনের কাছে - একটি লাগেজের নামগন্ধ তখনও নেই। দাবিদাওয়া পর্যন্ত যেতে হলো না কারণ দু'দিন পর হঠাৎ ফেডেক্সে করে হাজির সেই হারানো লাগেজ। খোদা জানে বেচারা লাগেজ কিসের ভিতর দিয়ে গিয়েছিল কারণ তার একপাশ থেকে অন্যপাশ ছিল ছেঁড়া। চেইন লাগানোর অবস্থা নেই বলে প্লাস্টিকের ব্যাগে করে পাঠানো হয়েছে লাগেজটিকে। খুশি হয়েছিলাম ফেরত পেয়ে কারণ কোন কিছু খোয়া যায়নি একমাসেও। কিন্তু অপেক্ষাটা বড় বিরক্তিকর ছিল। লাগেজটিকে দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যাবেনা সেটি ভেবেও কিঞ্চিৎ দু:খ পেয়েছিলাম।



সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৫ সকাল ৮:৪৯
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×