কাতার পৌঁছলাম বেকায়দা এক সময়ে - তার চেয়েও বড় দু:সংবাদ - আমাদের কানেক্টিং ফ্লাইট আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে নাকি। আমরা বললাম, "সম্ভব না, যেভাবে পার আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দাও।"
"তোমাদের হোটেলে থাকবার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।"
"হোটেলে থাকতে চাই না। আমাদের এক জায়গায় রিপোর্ট করতে হবে ৭ তারিখে। এখানে ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করলে সেটি সম্ভব না।"
কাউন্টারের মহিলার দয়া হলো। তিন ঘন্টা পর ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফ্লাইটে তিনি আমাদের তুলে দিলেন।
আমাদের অরিজিনাল রুটতো অনেক আগেই লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ঢাকার সেই চাকার ঘটনার কারণে। নানা স্টেট ঘুরে মিনেসোটা পৌঁছলাম। কনভেয়ার বেল্টে ১ ঘন্টা ব্যয় করবার পর বুঝলাম যে একটি লাগেজ এসেছে, তিনটি আসেনি! সেই একটি লাগেজ আমার।
আমরা ইউনিভার্সিটির কাছে বাসা ভাড়া নিলাম। বর দোকানে গিয়ে কাপড় চোপড় কিছু কিনলো, আমিও কিনলাম। এক সপ্তাহ পর বাসায় দু'টি লাগেজ হাজির। লাগেজ ফেরত পাবো সেই আশা মোটামুটি ছেড়েই দিয়েছিলাম। খুললাম একটার ডালা - তুলোধুনো বোধহয় একেই বলে। এমন কোন জিনিষ নেই যেটি এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ঘেটে দেখেনি। বিয়ের স্যান্ডেল জোড়া ছিল সেই লাগেজে - যেটির হিলের শক্ত পাথরও তারা খুলে ফেলেছেন। শক্তির তারিফ করতেই হয়! আমার শখের গহনাগুলোর পর্যন্ত করুণ দশা। কাঁদলাম কিছুক্ষণ জুতো আর গহনার শোকে। হঠাৎ দেখি এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির ছোট্ট একটা নোট যার বিষয়বস্তু - কোন জিনিষের ক্ষতি হয়ে থাকলে আমরা দু:খিত। দু:খ প্রকাশ করেই তারা তাদের দায়ীত্ব শেষ করেছেন।
তারপর প্রায় একমাস কেটে গেছে - আমরা ক্লাস শুরু করেছি ইউনিভার্সিটিতে। বর ঠিক করলেন ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন এয়ারলাইনের কাছে - একটি লাগেজের নামগন্ধ তখনও নেই। দাবিদাওয়া পর্যন্ত যেতে হলো না কারণ দু'দিন পর হঠাৎ ফেডেক্সে করে হাজির সেই হারানো লাগেজ। খোদা জানে বেচারা লাগেজ কিসের ভিতর দিয়ে গিয়েছিল কারণ তার একপাশ থেকে অন্যপাশ ছিল ছেঁড়া। চেইন লাগানোর অবস্থা নেই বলে প্লাস্টিকের ব্যাগে করে পাঠানো হয়েছে লাগেজটিকে। খুশি হয়েছিলাম ফেরত পেয়ে কারণ কোন কিছু খোয়া যায়নি একমাসেও। কিন্তু অপেক্ষাটা বড় বিরক্তিকর ছিল। লাগেজটিকে দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যাবেনা সেটি ভেবেও কিঞ্চিৎ দু:খ পেয়েছিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

