লেখাটি বহুদিন পরে কোন এক দেশে এক সাধারন মানুষের ভাবনা
অনেক আগে দেশটিতে এত গরম পরতো না। এভাবে অনেকে হা-হুতাশ করে ইদানিং ।আবহাওয়া অফিস অবশ্য বলছে অন্য কথা। তারা শুধু প্রতি বছরের কাগুজে ফাইল গুলি দেখে, রাতের আকাশ দেখে , আর আশপাশের কয়েকটা জেলায় বসানো টাওয়ারে প্রবাহমান বাতাস দেখে। তারা বলে গত বছরের চেয়ে এ বছর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমান কম।গত বছরের টা যে আবার তার আগের বছরের চেয়ে কম ছিলো সেটা তাদের ধর্তব্য নয়। এভাবেই দেশের আবহাওয়া আজ ঠিক কতটুকু পরিবর্তিত টা আসলে কেউ জানেনা। জানবে কিভাবে। বহুদিন ধরে লোকজন কেবল মানুষকে নিয়েই অনবরত চিন্তা করে এসেছে। তারা দুইটি দলের কিছু মানুষকে বহুদিন ধরেই পর্যায়ক্রমে পরিচালক বানিয়েছে, তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। পত্রিকার ভেতরের পাতাগুলিতে কিছু খবর থাকে যেগুলির ধরণ কোনদিনও বদলায় না । নিতান্তই অবসর না থাকলে কেউ সেগুলি পরেও না। এদেশের মানুষের জীবনটাও আজকে সেরকমই। তাদের জীবনে কোন পরিবর্তন নেই। বহির্বিশ্বের মোড়লদের নিতান্তই অবসর না থাকলে কেউ এদেশ নিয়ে মাথাও ঘামায় না।
দেশটিতে একসময় অনেক ভালো সাংবাদিক ছিলো। ভালো বলতে যেটা বোঝাতে চাই সেটা হলো যা ঘটতো তারা সেটা লেখার চেষ্টা করত। লোকজন সংবাদ পত্রে দেশকে খুঁজে পাবার চেষ্টা করতো। গ্রামের কোন এক বৃদ্ধ তার অবসর সময়ে সংবাদপত্রের পাতায় দেশপ্রেম খুঁজে বেড়াত।
কিন্তু আজ আর সেই সময় নেই। আজো সংবাদপত্র বের হয় । কিন্তু লোকজন আর সংবাদপত্র পড়ে না। বাঘ বাঘ বলে চিল্লানো রাখল বালক যেমন একদিন ঠিকই হিংস্র বাঘের কবলে পরেছিলো দেশের সংবাদ পত্রগুলিরও আজ একই দশা। রাজনৈতিক মানুষগুলি তাদের মনগড়া রিপোর্ট আর কর্মকান্ড ঢাকার জন্য একসময় সাংবাদিক ও সংবাদপত্রে বেশ ভালো টাকা বিনিয়োগ করতো। তাই সাংবাদিকরাও সেখানো তোতা পাখির মত বুলি আওড়াতো। তারা মনে করেছিলো এভাবেই চলবে দিন। নির্ভেজাল, অমলিন।
কিন্তু যত বাগড়া দিলো ওই ইন্টারনেট টা। দেশে এলো ওই সর্বনাশা বস্তুটি। আর সবাই হলো সাংবাদিক। কি-বোর্ড নিয়ে সবাই পরলো ঝাপিয়ে। ঝুপ খুপ করে খবরের বন্যায় ভেসে গেল সংবাদপত্র, তাদের লীলা ক্ষেত্র, খাবারের প্যাকেট আর রাতের টাকা। তারা ভেবেছিলো আমাদের আছে রাজনীতিক বাবারা। তারা টিকলে আমরাও টিকবো। আজো রাজনীতিক বাবারা টিকে আছে। আজ তারা কিছু টাইপিস্ট পোলাপান ভাড়া করেছে। যারা সারাদিন তাদের নামে লিখে। ইন্টারনেটে, ব্লগে, ফেইসবুকে। তাদের কোন পরিচয় নেই। তাদের এত বেশী টাকাও দিতে হয় না ।দেশ -বিদেশের শহর,নগর বন্দরে তারা লিখে যায়। দুই দলের হয়েই তারা লিখে। তাদের কর্তাদের নাম বন্দনা করে। আজো মানুষ বিভক্ত । শুধু নেই সেই সাংবাদিক। কালের সাক্ষী যে কলমকে নিয়ে তারা একসময় মানুষের বিবেকের দিক নিদর্শন করতো সেই কলম আজ তাদের ধিক্কার দেয়।আজ তাদের প্রভুরা নেই। পত্রিকা নেই। একসময় যারা নির্ধারণ করতো দেশ ভালো আছে না খারাপ নিয়তির লীলাখেলায় আজ তাদের ভাগ্য খারাপ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



