somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করা বেশী লাভবান?

২৬ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম।

এই পোষ্ট একান্তই যারা ঈমানদার এবং বিশ্বাস করে "আল্লাহ এক তার কোন শরীক নাই এবং মূহম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল" তাদের জন্য। দয়া করে তারা কোন আজেবাজে মন্তব্য করবেন না যারা একান্তই নাস্তিক এবং বিশ্বাস করেননা আল্লাহকে।

আমরা আজ এতো বড় পাপী যে নিজেদের পাপ মোচন করার জন্য হতাশ হয়ে পড়েছি, কেউ বা মাজারে মাজারে ধর্ণা দিচ্ছি, কেউ বা পীরকে ওসীলা বানাচ্ছি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে দেবার জন্য। অথচ আমরা চোখমেলে একবারও আল্লাহ পাকের বিধি নিষেধকে পড়ে দেখছি না। আমরা কেউ জানতেও চেষ্টা করছি না যে আল্লাহ আমাদের কিভাবে সুযোগ করে দিয়েছেন নিজেদেরকে পাপ মুক্ত করার জন্য। আজ আমরা সাহিত্য, কবিতা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রবীন্দ্র সামগ্রী, নজরুল সহ অসংখ্য মোটা মোটা বই পড়ে ফেলছি অথচ যা জানা দরকার তার জন্য একটুও সময় ব্যয় করছি না। কেউ বা সময় কাটানোর জন্য সিনেমা দেখছে, কেউ বা আড্ডা। অথচ আমরা এই মূল্যবান সময়টা ধর্মীয় কাজে ব্যয় করেত পারি। শুধু মাত্র শুক্রবার ইমাম সাহেবের মুখে যা শুনছি তাই আমাদের একমাত্র সম্বল। আমরা যেন আজ শিক্ষিত মূর্খ। যাই হোক আজ আপনাদের মাঝে কিছু গুরূত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখব। আমার এই লেখা পড়ে যদি কোন মুসলমান ভাই অথবা বোন সামান্য উপকৃত হন এবং আমল করার চেষ্টা করেন তাহলে আমি সার্থক।

আজকের বিষয় রাতে সালাত আদায়কারীর মর্যাদাঃ

অতীত কালে সৎ মানুষের আমল ছিল রাতে সালাত আদায় করা। নবীগণের নীতি ছিল রাতে তাসবীহ তাহলীল ও যিকির করা। জান্নাতে উচ্চ স্থান ও বড় মর্যাদা পাওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে রাতে সালাত আদায় করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'মুত্তাকী ব্যক্তিদের পিঠ রাতে বিছানা থেকে আলাদা হয়ে থাকে' (সাজদা ১৬)
অন্যত্র বলেন, 'তারা রাতে কম শুইত এবং রাতে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত' (যারিয়াত ১৭-১৮)
আল্লাহ অন্যত্র বলেন, 'হে নবী আপনি আল্লাহ জন্য রাতে সালাত আদায় করুন এবং দীর্ঘ সময় তার তাসবীহ পাঠ করুন' (দাহার ২৬)

আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনে আছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি রাতে সালাতে দাঁড়িয়ে দশটি আয়াত পাঠ করে তাকে অলসদের মধ্যে গণ্য করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করে তাকে বিনয়ীদের মধ্যে গণ্য করা হবে। যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত তেলাওয়াত করে কাকে অধিক কার্যকারীদের মধ্যে গণ্য করা হবে' (আবুদাউদ, তাহক্বীক্বে মিশকাত হা/১২০১)

ওবাদা ইবনু ছামেত (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয়ে বলে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুআলা কুল্লি শাঈইন কাদীর ওয়া সুবহানাল্লাহে ওয়ালহামদুলিল্লাহে ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার ওয়া লাহাওয়া লায়ালা কুওতে ইল্লা বিল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত মা'বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁর হাতে, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁর জন্য, তিনি সর্ব শক্তিমান। আমি আল্লহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই। আল্লাহ অতি মহান। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার কোন শক্তি ও সামর্থ নেই। অতঃপর বলে হে আমার প্রতিপালক তুমি আমাকে ক্ষমা কর। আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করেন। আর যদি সে ওযূ করে সালাত আদায় করে তাহলে আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন' (বুখারী, মিশকাত হা/১২১৩)

মু'আয ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'যে কোন মুসলমান ওযূ অবস্থায় আল্লাহর যিকির করে সন্ধ্যায় শয়ন করে এবং রাতে উঠে আল্লাহর নিকট কোন কল্যান চায় আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে তা দান করেন' (আহমাদ, আলবানী, তাহক্বীক্বে মিশকাত হা/১২১৫)

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ ঘুমায় শয়তান তার মাথার পিছন দিকে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রত্যেক গিরার উপর মোহর মারে বা থাবা মেরে বলে রাত অনেক আছে তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও। যদি সে জাগে এবং দো'আ পড়ে তাহলে একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি সে ওযূ করে আরও একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি সে সালাত আদায় করে তবে অপর গিরাটিও খুলে যায় এবং সে সকালে প্রফুল্ল মন পবিত্র অন্তরে সকাল করে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষিত অন্তর ও অলস মনে' (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১২১৯)

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক রাতেই এই নিকটবর্তী আকাশে অবতীর্ন হন, যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে এবং বলতে থাকেন কে আছে যে, আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে যে আমার নিকট কিছু চায় আমি তাকে তা দান করব এবং কে আছে যে আমার নিকট ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করব' (মুসলিম, মিশকাত হা/১২২৩)

আবু উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'তোমাদের জন্য রাতে সালাত আদায় করা উচিত। রাতে ইবাদত করা হচ্ছে তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের নিয়ম। তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পন্থা, গুনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ, অশ্লীলতা হতে বিরত থাকার মাধ্যম' (তিরমিযী, তাহক্বীক্বে মিশকাত হা/১২২৭)

আবু মালি আ'আরী (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, 'জান্নাতের মধ্যে এমন মসৃণ প্রসাদ রয়েছে যার বাহিরের জিনিস সমূহ ভিতর হতে এবং ভিতরের জিনিস সমূঞ বাহির হতে দেখা যায়। সেসব প্রসাদ আল্লাহ এমন ব্যক্তি জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন যে ব্যক্তি মানুষের সাথে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খেতে দেয়, নিয়মিত সিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করে' (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১২৩২)

তাহাজ্জুত সালাত পড়ার নিয়ম কি?

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, একজন জিজ্ঞেসা করলেন, হে আল্লাহ রাসূল! রাতের সালাতের পদ্ধতি কি? তিনি বললেনঃ দু' দু' রাক'আত করে। আর ফাজর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলে এক রাক'আত মিলিয়ে বিতর করে নিবে। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড, হা/১১৩৭)

মাসরূক (রঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'আয়িশাহ (রাঃ) কে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বললেন, ফাজরের দু' রাক'আত (সুন্নাত) বাদে সাত বা নয় কিংকা এগার রাক'আত। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড, হা/১১৩৯, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ৭৩৮)

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) রাতে বেলা তের রাক'আত সালাত আদায় করতেন, যার ভিতর আছে বিতর এবং ফাজরের দু'রাক'আত (সুন্নাত)। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড, হা/১১৪০, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৮)

মহান আল্লাহর বানীঃ "হে চাদর আবুত রাসূল! রাতে সালাতে দন্ডয়মান থাকুন সামান্য পরিমাণে রাত বাদ দিয়ে। অর্ধ রাত্রি কিংবা তার চেয়ে কিছু কম। অথবা তার চেয়ে কিচু বৃদ্ধি করুন। আর কুরআন পাঠ করুন ধীরে ধীরে, খুব স্পষ্টভাবে। অবশ্যই আমি আপনার প্রতি অচিরেই এক গুরুভার বানী অবথীর্ণ করছি। নিশ্চয় রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তি দলনে প্রবলতর এবং বক্তব্যের ব্যাপারে বিশেষ ক্রিয়াশিল। দিনের বেলায় তো রয়েছে আপনার বহু কাজ।" (সূরাহ মুযযাম্মিল ৭৩/১-৭)

"তিনি অবগত আছেন যে, তোমরা এর যথাযথ হিসাব রাখতে পারনা। অতএব, তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হয়েছেন। সুতরায় কুরআনের যতটুকু তোমাদের পক্ষে পাঠ করা সহজ, ততটুকু পাঠ করো।তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। অতএব, কুরআনের যতটুকু তিলাওয়াত করা সহজ, ততটুকু তোমরা তিলাওয়াত করো। আর তোমরা সালাত কায়িম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম কর্জ দাও। আর তোমরা নিজেদের মঙ্গলের জন্য যা কিছু নেক কাজ অগ্রে প্রেরণ করবে, আল্লাহর কাছে তা তোমরা পাবে তদপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ পুস্কার হিসেবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরাহ মুযযাম্মিল ৭৩/২০)

আল্লাহ পাক আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি তাহাজ্জুত সালাত আদায় করার তৌফিক দান করুন যেন আমরা ফরজ নামাজের ঘাটতি নফল নামাজ দ্বারা পূরাণ করতে পারি। আমিন।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×