somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিথ্যা কথার ফুলঝুড়ি, স্ববিরোধিতা, দিগভ্রান্ত, মূলা ঝুলানোর অনন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দুবছর পূর্তি উপলক্ষে ভাষণ।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আওয়ামীলীগ সরকারের দুবছরের পূর্তি উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে গতকাল সন্ধায় সাড়ে সাতটায় একটা ভাষণ দেন। উনার ভাষণ নিয়ে এটি একটি সমালোচনা মূলক পোস্ট।

এই প্রথম মনে হয় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া কোন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে ভুল করলেন।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট সফল হয়েছি।
কিন্তু আমরা দুবছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকায় দেখেছি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রম,
যুবলীগের টেন্ডারবাজি, রাজপথে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রাকাশ্যে খুন, গুম, খুন, ধর্ষণ। ২০১০ সালেই খুন ৩২৯১ এবং ধর্ষণ ৫১১

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন ২ বছর আগে আমরা যখন সরকার গঠন করেছিলাম সে সময় চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ছিল আকাশচুম্বী।
আমরা জিনিসপত্রের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছিলাম। যে চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে তা ১৮/২০ টাকায় নেমে আসে।

কভে কোন দিন ১৮ টাকা কেজি চাল ছিলো? সেটা জনগণের জানার অধিকার আছে। উনার কথামতো বুঝা যাচ্ছে যে চালের কেজি ৪৫ টাকা ছিলো সে চাল ১৮ টাকায় পাওয়া যেতো। বরং বাস্তবতা হলো সে চাল এখন ৪৮ টাকা লাগে কিনতে। ১৮ টাকার ওএমএসের চালের বর্তমান দাম ২৬-২৯ টাকা। উনি ১ বছরের পূর্তিতে বলেছিলেন ৪৮ টাকা কেজির চাল ১৮ টাকা করেছেন। পেঁয়াজ, মসুর ডাল, তেলের আকাশ ছোঁয়া দামের কথা নাইবা বললাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমাদের নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখবেন না।
অথচ তার সরকার বঙ্গবন্ধুর নামে একটি বিমানবন্দর তৈরীর উচ্চ অভিলাষ বাস্তবায়ন করতে ৫০ হাজার কৃষি জমি অধিগ্রহণের চেষ্টায় লিপ্ত। যে দেশে বিমান সংকটের কারনে মানুষ বিদেশ যেতে পারেনা সে দেশে আরেকটি বিমানবন্দর কতটুকু প্রয়োজন?

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ এমডিজি এওয়ার্ড অর্জন করেছে।
এ অর্জনের দাবিদার জোট সরকার, তত্ত্ববাধয়ক সরকার ও আওয়ামীলীগ। কারন এ পুরষ্কারটি দেওয়া হয় ২০০৫-২০০৭ এর প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। পাটের মণ প্রতি দাম ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা।আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য পাটের জেনোম সিকোয়েন্স বা জন্ম রহস্য আবিষ্কার। এ আবিষ্কারের ফলে আমরা পাটের উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং বহুবিধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারব।
পাটের জেনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার নিঃসন্দেহে বিশাল একটা ব্যাপার। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা ধন্যবাদ অবশ্যই পাবেন। কিন্তু সরকার কি করলো? একের পর এক পাটকল বন্ধ করে দিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২০০৯ সালের নৃশংস বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং বিডিআর বিদ্রোহের বিচার শুরু হয়েছে। এজন্য নতুন আইন করা হয়েছে। বিডিআর-এর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ বি.জি.বি করা হয়েছে।
অথচ দেশের জনগণ জানতে পারলোনা প্রকৃত কারন কি? মূল হোতারা কারা? কাদের স্বার্থে বিডিআরকে দুর্বল করা হলো?

প্রধানমন্ত্রী যে সকল বিষয়ে জনগণের চোখে ধূলা দিলো?
১। কুইক রেন্টাল নামে বিদ্যুৎখাতে বিরাট একটা দুর্ণীতি। যেখানে ২০১০/জানু তে বিদ্যুত উৎপাদন ছিলো ৩,৭০০ মেগাওয়াট সেখানে ২০১১/জানুতে ৩,৪০০ মেগাওয়াট। বাকি ৩০০ মেগাওয়াট কোথায় গেলো?
২। গ্যাস নিয়ে একাধিক মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেলো। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান, গ্যাস ব্লক নিয়ে বিতর্কিত চুক্তি ইত্যাদি নিয়ে কোন কথায় বলেনি। সেটার প্রতিবাদ করায় আনু মোহাম্মদদের পুলিশ দিয়ে পিটুনির কথা আমরা ভুলিনি।
৩। ট্রাণজিট ও করিডোর চুক্তি নিয়ে তিনি কিছুই বলেন নি। উইকিলিকসের র‌্যাব ও ফুলবাড়িয়া-বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনি নিয়া অভিযোগ নিয়াও প্রধানমন্ত্রী কিছু বলতে পারেনি।
৪। বিদেশ থেকে শ্রমিক ফেরত, বিভিন্ন দেশের লোক নিতে অস্বীকার এগুলোও সম্পর্কেও জাতি আশার বাণি শুনতে চায়।

মোটামুটি বলা যায় পররাষ্ট্রনীতি নিয়া জনগণরে পুরাপুরি অজ্ঞ রাখা হয়েছে।

৫। পোশাক কারখানার অস্হিরতা নিয়েও সরকারের মনোভাব জানা যায়নি।
৬। তেমনি জানা যায়নি ২০১০ সালের অন্যতম আলোচিত বিষয় যুবলীগ/ছাত্রলীগ বনাম প্রশাসনের মুখামুখি অভিযোগ নিয়েও।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৩০
২৪টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধের দায় হযরত আলীর (রা.) হলে আমরা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) কেন দোষ দেব?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৪



সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×