somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রিকেট ও আমি (অভিন্দন বাংলাদেশ দল)

১১ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেটা ৯০-৯২ সালের দিকের কথা। বন্ধু- বান্ধব সবার উৎসাহ ফুটবলকে ঘিরে।কিন্তু মফস্বলের যে পাড়ায় আমি থাকি সেখানে জেলা দলের একাধিক খেলোয়ার থাকায় সেখানে ক্রিকেটের চর্চাটাই বেশি। তার উপরে আমাদের বাসাটা ঠিক খেলার মাঠের সাথেই। তখন ক্লাস ফোর/ ফাইভে পড়ি। আমার সাথে ক্রিকেটের সখ্যতা তখন থেকেই। মা অফিসে চলে যেতেই গল্পের বই হাতে জালানার পাশে বসে ক্রিকেট খেলা দেখা। আর সময় পেলেই বোলিং প্রাকটিস করা।

বাবা'র প্রিয় খেলা ফুটবল। আবাহনি- মোহামেডানের খেলা হলে বা বিশ্বকাপের সময় সবসময় বাবা সাথে নিয়ে খেলা দেখত, বুঝিয়ে দিত। কিন্তু মনের টানটা কখনোই অনুভব করিনি ফুটবলের জন্য। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যখন সবাই মাতোয়ারা তখন আমি গল্পের বইয়ে মাথা গুঁজে আছি।

মা তার ছোট বেলা থেকেই ক্রিকেট ভালোবাসতেন। সেটা পাকিস্তান আমলের কথা। কিন্তু কখনওই আমাদের নিয়ে তেমন খেলা দেখেন নি, অথচ আমাদের মানুষ করার পিছনে তার ভূমিকাই বেশি।
বাসা থেকে পড়ার জন্য খুব কমই বলা হত। বরংচ বেশি লেখা পড়া করাই মায়ের চোখে খারাপ ছিল। অল্প সময় মনোযোগ দিয়ে পড়, সারাদিন পড়ার বই পড়ে জ্ঞান বাড়ে না।গল্পের বই পড়, খেলাধুলা কর- সবদিকেই উৎসাহ দেয়া হত।
আমাদের বাসায় আমার ৩জন কাজিন থাকত লেখাপড়া করার জন্য।আমার থেকে বছর ১০এর বড় হবে। তাদের সময় মিললেই শুরু হত তাদের সাথে ক্রিকেট খেলা। আর তাদের যখন সময় মিলত না তখন আমার প্রাকটিস। বোলিংটা ভালো লাগত। আর ব্যাটিং তো একা একা প্রাকটিসও করা যায় না। বোলিং করে ক্লান্ত হয়ে গেলে গল্পের বই আর খেলা দেখা শুরু হত। তখন ধ্যান-জ্ঞান ছিল বল কিভাবে করতে হবে- অফ স্টাম্পের উপরে, গুড লেংথে নাকি ফুল লেংথে, ব্যাটসম্যানের মন বুঝে নাকি ঝুলিয়ে দেব এই সব। তার উপর ব্রায়ান লারা (আমার প্রিয় খেলোয়ার) কত রান করল,কার্টলি এ্যামব্রোস, কোর্টনি ওয়ালসের(এই দুজনকেও অনেক ভাল লাগত) কত উইকেট হল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ (প্রিয় দল) জিতল কিনা, শচীন কেমন খেলল- এ সবের খোঁজ। কে কবে কোথায় কোন রেকর্ড করেছে সব মুখস্ত ছিল।
নিজে খেলা ছেড়ে দিতে হল ক্লাস এইটের মাঝামাঝি- বাসা বদল হল, নিজের বাসার কম্পাউন্ডে খেলার উপায় নেই, কাজিনরাও আর আমাদের সাথে থাকে না কারন লেখাপড়ার পাট চুকে গেছে তাদের।
কিন্তু আমার ক্রিকেট প্রেম অক্ষুন্ন থাকলো কেবল টিভি'র বদৌলতে।

এরপর বাংলাদেশ বিশ্বকাপে গেল। তখন এইচ.এস.সি পরিক্ষা চলে। বিশ্বকাপ দেখলাম না। পড়ার জন্য না। বাংলাদেশ তো ভাল কিছু করতে পারবে না; কিন্তু অন্য কোন দল করব না; ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ও না।যার সাথেই যার খেলা থাক তাতে আমার কি? পাকিস্তানে বিপক্ষে খেলার পরদিন ম্যাথ সেকেন্ড পার্ট (শেষ পরীক্ষা) পরীক্ষা। কিসের লেখাপড়া; সব বাদ দিয়ে খেলা দেখলাম। জিতবার তো শুরু আমাদের।

এরপর থেকে ক্রিকেটের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকল। অন্য কারো স্কোর জেনে কি হবে? বাংলাদেশ আজ ভাল খেলে কাল খারাপ। খেলা দেখি কিন্তু তারপরও ...।

গতকাল রাতে সমরেশ মজুমদারের "মনের মত মন" বইটা পড়ছিলাম। ক্রিকেটকে আবার সেই ৯০-৯২ সালের মত ফিল করছিলাম। সেই বোলিংটাকে।তখনই ভেবেছিলাম এই অনুভুতি নিয়ে লিখব।

সকালে খেলা দেখছিলাম না(কানাডাতে সকাল)। স্কোর দেখছি মাঝে মাঝে। আশা করছি না। কারন ইংল্যান্ডের সাথে জিততে জিততে হেরে যাবার রেকর্ড তো আমাদের কম না। দেশে কথা বলছিলাম আপু'র সাথে। ডেস্কটপে খেলা ছাড়লাম। আবার জিততে জিততে হারব? ৪৯ ওভারে আবার মাশরাফি ৪এর পর ৪ দিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশ দলের জন্য খারাপ লাগছে। হেরে যাব? খারাপ লাগছে। তারপরও আমি মাশরাফি'র দিকে তাকাতে পারছিলাম না; মনে হচ্ছিল ওর তো আমার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে। আবার ভাবছি প্রেশারে ভাল বল কর না তাহলে কেন এ সময়ে বল করতে আস? এরই মাঝে কট এন্ড বোল্ড।তারপরও যে খুব বেশি আশাবাদি ছিলাম তা না।নেটে একটু স্লো আসে। আপু আমার চেয়ে একটা বল আগে দেখতে পায়। আপু চিৎকার করে উঠল- জিতে গেছি।আমিও চিৎকার করছি।

অবশেষে ইংল্যান্ডকেও....

বাংলাদেশ দলকে অভিন্দন। আমায় এই বিদেশ বিভুঁয়ে বসে এমন ভালো লাগা দেবার জন্য ধন্যবাদ তাদের।

আগেই লিখেছি লেখাটা লেখার ইচ্ছে গতকাল থেকে। কিন্তু শেষের প্যারাগ্রাফটা লিখতে পারব তা কি কাল রাতে ভেবেছিলাম:)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:৪৯
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×