somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি প্রোটোটাইপ যুদ্ধ এবং ভবিষ্যতের দুর্ভাবনা : আহসান মোহাম্মদ

২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি প্রোটোটাইপ যুদ্ধ এবং ভবিষ্যতের দুর্ভাবনা
আহসান মোহাম্মদ


২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানায় যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতন ঘটানো হয়েছে তা যে বিডিআর সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দাবীতে নিছক একটি অন্দোলন ছিল না, এতাদিনে বিষয়টি সকলের নিকট স্পষ্ট হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ক্ষয়-ক্ষতির দিক থেকে এটি ছিল একটি ভয়ংকর যুদ্ধের চেয়েও মারাত্মক । মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে দেশের সেরা আর্মি অফিসারদের ৬৫ জনকে হত্যা করা হলো। তাঁদের অনেকেই ছিলেন স্বস্ব ক্ষেত্রে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সেরা কয়েকজনের একজন। তাঁরা ছিলেন আমাদের সেনাবাহিনীর বাছাই করা সেরা অফিসার। শত্রু দের একজন সেনা কিংবা একটি গুলিও খরচ না করে আমাদের ৬৫ জন সেরা সমর নায়ককে হত্যা করা হলো। শুধু তাই নয়, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী-কন্যাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরণের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক অফিসারদের স্ত্রী-কন্যাকে এরূপ অপমান ও নির্যাতনের ঘটনা বিগত একশত বছরের কোন যুদ্ধে ঘটেছে বলে জানা নেই। আমাদের নিরাপত্তাবোধকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে, আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর বিভিন্ন অংশকে গভীর পারস্পারিক সন্দেহের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং আমাদের সামরিক অহংকারের মূলে কুঠারাঘাত করা হয়েছে। অনেকে বলছেন, আমাদের শত্রুরা কয়েক বছর আগে তাদের পরাজয়ের ভয়ংকর একটি প্রতিষোধ নিয়েছে।

তবে এই নারকীয় হতাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতন বহি:শক্তির কোন একটি পরাজয়ের প্রতিষোধের মধ্যে শুধু সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করলে ভুল হবে। এ ধরণের হামলার পিছনে আরো বড় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে একে ব্যবহার করা হয় প্রোটোটাইপ যুদ্ধ হিসাবে। প্রকৌশলীরা কোন নতুন যন্ত্র বানাতে গেলে প্রথমে তার একটা প্রোটোটাইপ তৈরী করে তার উপর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান। সেই পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে যন্ত্রটির চূড়ান্ত রূপ দেয়া হয়। এই প্রোটোটাইপ যুদ্ধের থেকে আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সামরিক, বেসামরিক এবং রাজনৈতিক রূপটি হামলাকারী বিদেশী শক্তির নিকট স্পষ্ট হয়ে গেছে। বেরিয়ে পড়েছে এর দুর্বল দিকগুলো। বৃহত্তর এবং চূড়ান্ত যুদ্ধের পরিকল্পনাতে সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

২৫ ফেব্রুয়ারী হত্যাযজ্ঞ সম্ভব হয়েছে আমাদের সামগ্রিক সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তা উপাদানগুলোর নিম্নোক্ত দুর্বলতাগুলোর জন্য:

১. এ ঘটনার কোন আগাম তথ্য দিতে সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থা ব্যর্থ হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বলা হচ্ছে, বিডিআর এর গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে হত্যাযজ্ঞ পরিকল্পনাকারীরা ব্যবহার করেছে। আমাদের নিরাপত্তা গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে কি তাহলে এতো সহজে কিনে নেয়া যায়? বাজার অর্থনীতির যুগে সকলেই কি তাহলে বিক্রি হবার জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছে?

২. ভিতরে যখন সেনা কর্মকর্তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছিল, তাদের মৃতদেহ বিকৃত করা হচ্ছিল বা ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হচ্ছিল এবং তাদের পরিবারের নারী সদস্যদেরকে পাশবিক নির্যাতন করা হচ্ছিল, বাইরে তখন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে হত্যাকারীদেরকে নির্যাতিত দেখিয়ে তাদের দাবী দাওয়া তুলে ধরা হচ্ছিল এবং বাম রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের সমর্থনে মিছিল করছিল। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, যিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে পরিচয় দেন, তিনি আল জাজিরার সাথে সাক্ষাৎকারে বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের দাবী দাওয়াকে ন্যায্য বলে বর্ণনা করেন। মূলত: ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কারণে সে সময় জনমত বিপথগামী বিডিয়ার সদস্যদের পক্ষে এবং সেনাবাহিনীর বিপক্ষে চলে যায়। একদিকে কিলিং মিশনের সদস্যদের বক্তব্য মিডিয়া সরাসরি প্রচার করছিল, অপরদিকে বিভিন্ন টক-শোতে বিদগ্ধজনেরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষেদগার করছিলেন। ভিতরের সেনা অফিসারদের কথা কারো মনে আসলো না কেন? তাহলে কি পরিকল্পিতভাবে মিডিয়াকে ব্যবহার করে জনমতকে আরো ক্ষতিকর দিকে প্রবাহিত করা সম্ভব? মিডিয়া চাইলে কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকেও মূল্যহীন বস্তুতে পরিণত করতে পারে? এর উত্তর ইতিবাচক। দেশের অভ্যন্তরের কোন গোষ্ঠীকে ভিলেন হিসাবে দাড় করাতে পারলে মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জনগণই বিদেশী আগ্রাসনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত: হয়ে যেতে পারে।

৩. যদি আমরা ধরে নিই যে, এই ‘বিদ্রোহ’তে কয়েকশত বিডিআর সদস্য প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, বাকী দশ হাজার বিডিআর সদস্য তাতে বাধা দিলো না কেন? তাদের মধ্যে অনেকেই নারী ধর্ষণ ও লুটপাটে অংশ নিয়েছে। অন্যেরা তাদেরকে বাধা দেয়নি। নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের কিছুটাও থাকলে একজন সৈনিক কি এ ধরণের কাজ করতে পারে? রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কঠিন ও পবিত্র দায়িত্ব যাদের কাধে তাদেরকে কি পর্যাপ্ত পরিমাণে নৈতিকতা ও দেশপ্রেম শিক্ষা দেয়া হচ্ছে? এমনকি এই মর্মান্তিক ঘটনা ফাস হয়ে যাবার পরও অনেক বিডিআর সদস্যদের পিতা ঢাকায় এসে লুন্ঠিত মালামাল নিয়ে গেছে এবং সেগুলো মাটির নীচে ও বিভিন্ন গুপ্তস্থানে লুকিয়ে রেখেছে। আমাদের সাধারণ জনগণের দেশপ্রেম ও নৈতিকতা কোথায় গেছে এই ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। এই ‘জাগ্রত জনতা’কে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা কতটুকু সম্ভব?

৪. তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সরকারী দলের একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে এই ঘটনা ঘটেছে। অতীতেও দেখা গেছে, ক্ষমতাশীন দলের স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে মারাত্মক হত্যাকান্ডগুলো ঘটানো হয়েছে। এর কারণ, তাদের প্রতি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ কম থাকে, তাদের মাধ্যমে শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা পাওয়া যায় এবং তাদেরকে সস্তায় কিনতে পারা যায়।

উপরের চারটি বিষয় বিবেচনা করলে আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে একটি ভীতিকর হতাশাজনক চিত্রই ফুটে ওঠে। প্রতিবেশী দেশটির প্রতি অনুগত রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতাদেরকে কিনে নিয়ে, নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে বিদেশী চরদের বিস্তার ঘটিয়ে এবং তার সাথে সমমনা মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবিদেরকে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে বাংলাদেশে সামরিক আগ্রাসন চালানো কঠিন হবে না।

কেয়ারটেকার সরকার কতৃক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা এবং তারপর আওয়ামী লীগ অবিশ্বাস্য রকমের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবার পর অনেকেই আশংকা করছিলেন যে, প্রতিবেশী দেশটি বাংলাদেশকে নিয়ে তার সকল পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করে ফেলতে চেষ্টা করবে। অন্তত: তারা এমন অবস্থা সৃষ্টি করবে যাতে তাদের মাস্টার প্লান বাস্তবায়নে বড় কোন বাধা ভবিষ্যতে না আসতে পারে। সেই আশংকা এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। এই পরিকল্পনা করিডোর নেয়া থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করা, প্রত্যক্ষ সামরিক আগ্রাসন এবং শেষ পর্যন্ত বৃহৎ ভারত গঠন পর্যন্ত গিয়ে ঠেকতে পারে।

এখন দেখা যাক ভবিষ্যতে হামলা কোন পথে আসতে পারে:

১. পিলখানা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে নিরাপত্তাবাহিনীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে এবং তাদের সাথে রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে আস্থাহীনতা তৈরী হয়েছে তারই পথ ধরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতে পারে যাতে সরকারের পক্ষ থেকে নিরপত্তার জন্য প্রতিবেশী দেশের নিকট সাহায্য চাওয়া হয়। এ রকম অবস্থায় একটি স্বল্পস্থায়ী সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে মোটামুটি ধ্বংস করা সম্ভব হবে। মিডিয়া এবং সুশীল সমাজ পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময়কার মত জনমতকে এই অভিযানের পক্ষে নিয়ে যেতে পারবে।

২. বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ মোকাবেলা কিংবা বাংলাদেশী ভূখন্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশে হামলার অভিযোগেও সামরিক অভিযান হতে পারে। এ ধরণের অভিযান বারবার হতে পারে এবং তাতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা গুপ্ত হত্যার শিকার হতে পারেন। বাংলাদেশকে মেধাশূণ্য করার কাজও এ অভিযানে ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা হতে পারে।

৩. পিলখানা হত্যাযজ্ঞ তদন্তে আমেরিকান ও বৃটিশ গোয়েন্দাসংস্থা এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে আনা হয়েছে। কারোই ভুলে যাবার কথা নয় যে, এই দুটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেয়া মিথ্যা তথ্য - সাদ্দাম হোসেনের হাতে ব্যপক বিধ্বংসী রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে - এর ভিত্তিতে ইরাক দখল করা হয়। বাংলাদেশে সামরিক আগ্রাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে এই গোয়েন্দা সংস্থা দুটি এই ধরণের কোন রিপোর্ট দিলে বিস্মিত হবার কিছু থাকবে না।

৪. প্রথম দুটি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বাংলাদেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীল অবস্থায় নিপতিত হবে যা তাকে ইরাক ও আফগানিস্তানের অবস্থায় নিয়ে যাবে। সেই সময় এদেশের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিসমূহের পক্ষ থেকে দাবী উঠতে পারে ব্যর্থ বাংলাদেশের ইতি টেনে ভারতবের্ষর জয়জয়কারের অংশীদার হবার।

একটি সিনেমার কাহিনী দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। সিনেমাটির নাম দ্যা টাইগার এন্ড দ্যা স্নো। ইতালিয়ান ছবি। বিখ্যাত পরিচালক ও নায়ক রবার্তো বেনিংনি পরিচালিত ও অভিনীত।

নায়ক এলিয়টি ডি গিওভানি একজন সাহিত্যের প্রফেসর, দুই মেয়ের ডিভোর্সড বাবা। ভিটোরিয়োর প্রেমে তিনি পাগল, যদিও ভিটোরিয়ো তাকে পাত্তা দেয় না। এক গভীর রাতে এলিয়টি তার ইরাকী কবি বন্ধু ফুয়াদের ফোন পান। ফুয়াদের জীবনী লিখতে বাগদাদে গিয়েছিলেন ভিটোরিয়া। ফুয়াদ জানান, সেখানে যুদ্ধে ভিটোরিয়া আহত হয়ে কোমাতে রয়েছেন। এলিয়টি তখনই ছুটলেন এয়ারপোর্টে। বাগদাদের ফ্লাইটের টিকেট চাইলে তাকে সকলে পাগল ভেবে বের করে দিলো। কেননা, বাগদাদে তখন এয়ারপোর্ট বলে কিছু আর অবিশিষ্ট নেই। তিনি রেডক্রসের সহায়তায় ইরাকে প্রবেশ করলেন। বাগদাদ থেকে অনেক দূরে তাকে নামিয়ে দিলো রেডক্রসের গাড়ী। বাগদাদ তাদের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি কিছুদূর গাধার পিঠে গিয়ে পেলেন একটা বাস। একটু আগে বোমা পড়েছে তাতে। সিটে রক্তাক্ত লাশ। তিনি বাস চালিয়ে গেলেন কিছুদূর। তারপর পায়ে হেটে, পরিত্যাক্ত মোটর সাইকেলে করে, উঠের পিঠে চেপে অবশেষে তিনি বাগদাদে পৌছলেন এবং ভিটোরিয়ার দেখা পেলেন তিনি। বিধ্বস্থ হাসপাতালের এক কোনায় ভিটোরিয়া পড়ে আছেন। ডাক্তার জানালেন, তার জন্য যে ওষুধ প্রয়োজন তা হাসপাতালে নেই। বিধ্বস্থ হাসপাতাল, ওষুধ তো দূরের কথা, সেখানে রোগীদের থাকার মত বিছানাপত্রই নেই। এলিয়টি বের হলের ওষুধের খোজে। অনেক কষ্টে একটা ফার্মেসী খোলা পাওয়া গেলে তার দরজা ঠেলে দেখা গেলো ভিতরের সব কিছু লুটপাট হয়ে গেছে, শুধু বিক্রেতার চেয়ার পড়ে রয়েছে পচে যাওয়া লাশ। অবশেষে ফুয়াদের মনে হলো একজন অশীতিপর বৃদ্ধ হেকিমের কথা। তিনি কিছু হেকিমি চিকিৎসা দিলেন যাতে ভিটোরিয়াকে কোন রকমে বাচিয়ে রাখা গেলো। পরে তিনি জীবনের ঝুকি নিয়ে রেডক্রসের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে এসে ভিটোরিয়োকে বাচালেন। ফুয়াদকে খবরটা দিতে গিয়ে দেখা গেলো তিনি গলায় ফাসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কমেডি সিনেমা। হাসতে হাসতে হাওমাও করে কাদার মত সিনেমা। মাত্র কয়েক বছর আগের সমৃদ্ধ বাগদাদ যে কিভাবে মৃতের নগরীতে পরিণত হয়েছে, তা প্রতিটি দৃশ্যে দেখা যায়।

কে জানে, হয়তো আগামী কয়েক বছর পর এই ব্যস্ত রাজধানী পরিণত হবে ভুতুড়ে নগরীতে, চন্দ্রিমা উদ্যান, ধানমন্ডি লেক আর রমনা পার্ক ভর্তি হয়ে যাবে মাইনে। আমাদের বিশাল হাসপাতালগুলোতে হয়তো তখন সামান্য স্যালাইন পাওয়া যাবে না। রাস্তায় রাস্তায় হয়তো টহল দেবে বিদেশী সৈন্য। পিলখানায় আমাদের অহংকারগুলোকে বিকৃত লাশের সারি হিসাবে দেখার পর আমাদের উচ্চ পদস্থ সামরিক অফিসারদের স্ত্রী-কন্যাদের অকল্পনীয় নির্যাতেনর কাহিনী শোনার পর এই দৃশ্য কি খুব বেশী অকল্পনীয় মনে হয়?
Click This Link
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×