somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিএম বরকতউল্লাহ
পড়াশোনা করি। লেখালেখি করি। চাকরি করি। লেখালেখি করে পেয়েছি ৩টি পুরস্কার। জাতিসংঘের (ইউনিসেফ) মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ২০১১ ও ২০১৬ প্রথম পুরস্কার। জাদুর ঘুড়ি ও আকাশ ছোঁয়ার গল্পগ্রন্থের জন্য অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১৬।

আপনার আগমন শুভ হোক

৩১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এবারের ঈদে এমনই কয়েকটি ফেস্টুন দেখতে পাবে আমাদের গ্রামের প্রবেশ পথে। যেখানে লেখা আছে “আপনার আগমন শুভ হোক-ঈদ মুবারক।” নির্মাণ করা হয়েছে কলাগাছের তোরণ। তোরণের ঠিক মাঝখানটায় হলুদ কাপড়ের গায়ে লাল অক্ষরে লেখা আছে এই কথাগুলো। আমরা ছোটরা অনেক বুদ্ধি আর পরামর্শ করে এই কাজটি করেছি। আর এই আনন্দে টগবগ করছে গ্রামের শিশু আর কিশোররা। ব্যাপারটা দারুন মজার।
যারা চাকরি ও ব্যবসার কারণে গ্রামের বাইরে থাকেন তারা ঈদ উপলক্ষে সপরিবারে বাড়ি চলে আসেন। তাদের আগমনে আমাদের আনন্দ বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
ঈদের দিন পাড়ার ছেলেমেয়েরা সাজুগুজু করে দল বেধে ঘুরে বেড়াই। আর মুরুব্বিদের সামনে পেলেই ধপাস করে বসে পড়ি পায়ের কাছে। পা ছুঁযে সেলাম করি। তারা মাথায় হাত বুলিয়ে হাসিমুখে সেলামি দিয়ে দেন। কড়কড়ে নতুন টাকা পেয়ে আনন্দে আমাদের মুখ চিকচিক করে ওঠে। আমাদের হাতে জমা হয় অনেকগুলো টাকা। আগে দলবেধে হই চই করে এটা সেটা কিনে খেয়ে শেষ করে ফেলতাম সেলামির টাকাগুলো। কিন্তু এবার অন্যরকম একটা বুদ্ধি বের করেছি আমরা। ঈদি বা সেলামী পাওয়া টাকাগুলো এভাবে আর খেয়ে ফেলব না। ভালো কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।
সবাই মিলে ঠিক করেছি, আমাদের পাড়ায় যে কয়টা গরিব পরিবার আছে, যারা ঈদে নতুন জামা কিনে পরতে পারে না, ভালো কিছু খেতে পারে না, তাদের জন্যে কিছু একটা করব।

২.
কী করা যায়, কী করা যায়! চিন্তা করতে করতে আমাদের মাথায় দুর্দান্ত একটা বুদ্ধি এসে গেল। সেটা কী? গ্রামের প্রবেশ পথে একটা তোরণ নির্মাণ করা হবে। আমাদের গ্রামের যে-সকল চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীগণ ঈদ উপলক্ষে বাড়ি চলে আসবে তাদেরকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানাব। পথের উপরে নির্মাণ করা হবে কলাগাছের গেট। সবুজ কলাপাতার উপর হলুদ কাপড়ের গায়ে লাল অক্ষরে লেখা থাকবে “আপনার আগমন শুভ হোক-ঈদ মুবারক।”
তোরণের সামনে আসতেই আমরা তাদের বুকে ছোট্ট একটা টিকিট লাগিয়ে দেব সেফটিপিন দিয়ে। যে টিকিটে লেখা থাকবে “ঈদ মুবারক।” আমাদের শুভেচ্ছা পেয়ে বাড়ি আসা লোকগুলো নিশ্চই খুশি হয়ে যাবে। আমরা বলে দিব আমাদের মহৎ উদ্দেশ্যের কথা। কেউ খালি হাতে ফিরিয়ে দেবে না। আমরা তাদের দেওয়া টাকাগুলো জমিয়ে গরিব পরিবারগুলোর জন্য কিছু একটা করব।
হিসাব করে দেখেছি, আমরা যে পরিমাণ টাকা পাব, তাতে আমাদের পাড়ায় যে কয়টা গরিব পরিবার আছে তাদের জন্য নতুন জামা কিনে দেয়া যাবেএবং ঈদের দিন উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই উদ্যোগটা নেয়ার পর থেকে আমরা অনেক হিসেবি হয়ে গেছি। এখন অপ্রয়োজনে কেউই টাকা খরচ করি না। আর টাকা জমিয়ে গরিব মানুষের জন্য কিছু একটা করার আনন্দে টগবগ করছি। কারণ পরের উপকার করার মাঝে রয়েছে অনেক আনন্দ।
আমরা এই কথাটা বুঝতে পারছি যে, ঈদের আনন্দ একা একা করা যায় না। এই আনন্দ করতে হয় সবাইকে নিয়ে। কাউকে বাদ দিয়ে ঈদের আনন্দ পূর্ণ হয় না।
গ্রামের মুরুব্বিরা বলছেন, ”মহৎ কাজে ব্যর্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তোমাদের এই উদ্যোগ ভাল কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা থাকবো তোমাদের পাশে।”
বন্ধুরা ইচ্ছে করলে তোমরাও করে ফেলতে পারো এমন কিছু কাজ। ঈদ হোক আনন্দময়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:৩৯
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×