somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ভাস্কর রায় ( সৌরভ রাজধন )
বাংলাদেশি বাঙালি, উগ্র সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধতা মুক্ত , বিজ্ঞান চিন্তক একজন লেখক হিসেবে লিখতে চাই মানুষ ও মানবতার কথা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনের কথা , ধরিয়ে দিতে চাই ধর্মের নামে গড়ে উঠা কুসংস্কার ও ভন্ডামিগুলোকে । পাঠকদের স্বাগতম।।

হুমায়ূন আহমেদ এর হিমুর অনুপ্রেরণায়

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৩ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সীমু পার্ট -১

মেসে শুয়ে আছি । আজকে থেকে শীতের শুরু হয়েছে বোধকরি । শীত শীত লাগতেছে। মেসে কোনো ধরনের বাংলা বা ইংরেজি কেলেন্ডার নেই। থাকলে বাংলা তারিখটা বলা যেতো। তবে একেবারেই নেই বললে ভুল হবে। পুরনো দিনের একটা কাটা ছেড়া কেলেন্ডার আছে। তবে সেটা বছর তিনেক পুরনো। পুরোনো হলেও রাখার একমাত্র কারণ হলো সেখানে থাকা ছবিটা। একটি সুদর্শন ছেলে নদীর পাড়ে গাছের নিচে বাঁশি বাজাছে। আর দূর থেকে পানি ভর্তি কলস হাতে খোলা ভেজা চুলে দাঁড়িয়ে আছে একটি কিশোরী। হয়তো মেয়েটির বাঁশির মধুর সুর শুনতে ভালো লাগে। হয়তোবা তার বাড়িতে অনেক কাজ পরে আছে। তবুও তার সেই বাঁশির সুর শুনতে মন চায়। আরও কিছু সময় এবং আরো কিছু সময় সে ভেজা শাড়িতে দাঁড়িয়ে বাঁশির সুর শুনতে চায়। তবে আমার ভালো লাগার কারণ মোটেও এটা না। কারণটা হলো যুক্তিবিদ্যার। মেয়েটির যদি বাঁশির সুর শুনতে এতোই ভালোলাগে তবে সে ছেলেটির কাছে কেনো গেলো না। তার পাশে বসে ঘারে ভেজা কালো রেশমী চুল এলিয়ে দিয়েও তো বাঁশির সুর শুনতে পারতো । চিত্র শিল্পী কি কারণে তাদের আলাদা করে রেখেছেন। যদি কোনদিন ঐ চিত্রকরের সাথে দেখা হয় এটা তাকে জিজ্ঞেসা করার জন্যই আধছেড়া লিপিয়ার সালের ক্যালেন্ডারটি রেখেছি। আজকাল লোকে বলে আমার মনভোলা রোগ হয়েছে । অনেক কিছুই ভুলে যাই। এই যেমন সীমুর দেওয়া চিঠিটার কথাই ধরুন না !! আচ্ছা সেঘটনা পরে বলছি । এই প্রশ্নের কথাও যাতে ভুলে না যাই সেজন্যই রাখা । যাইহোক নতুন কেলেন্ডার থাকলে হয়ত তারিখটা বলতে পারতাম। তবে এখন যে সকাল ১০ বাজে এটা আমি নিশ্চিত। কারণ মেস মালিকের বাড়ির ওয়াল ঘড়ির ঢং ঢং আওয়াজ। প্রতিদিন ঠিক ১০ ঘটিকায় বেডা বাজে। কিছুখুন আগেও বেজেছে। ঘুমটা ভেঙেছে কার যেনো ডাকে। ছোটো ছেলেমেয়েরা যেমন মারের ভয়ে পাগলের মতো পড়া মুখস্ত করে ঠিক সেরকমই ডাকাডাকি। গলাটা একটা মেয়ের। কিন্তু কার সেটাই ভাবছি। হঠাৎ মনে হলো এটা তো সীমুরগলা। ভালো নামএকটা ছিল মনে হয় এখনো জানা হয় নি। হাই তুলতে তুলতে দড়জা খুল্লাম। সীমু খুব রেগেছিল বোঝাই যাচ্ছে । মেয়েরা ভালোবাসলে উপর থেকে বোঝাা যায় না তবে মেয়েরা রেগেগেলে খুব সহজেই বোঝা যায়।
"কি খবর সীমু, কেমন আছ?"
"ভালো, তুমি কেমন আছো ? আর আমার দেওয়া চিঠিটা পড়েছো।"
" এইতো বেঁচে আছি ,খাচ্ছিদাচ্ছি । ওহ তোমার ঐ চিঠিটা তো ; না মানে এখনও পড়া হয় নি। তাছাড়া। "
এবার মনে হয় রাগটা আরও অনেক বেড়ে গেলো।এই প্রথম কোনো মেয়েকে দেখছি যাকে রাগলে খুবই আশ্চর্যরকম সুন্দর লাগে। রাগে তার ঠোঁট জোড়া কাঁপতেছে।
"তাছাড়া কি হা, তাছাড়া কি??"
"চিঠি যতো দেরিতে পড়া হবে তত ক্ষণ মজা থাকবে । পড়লেই তো সব মজা, সব এক্সাইটেড শেষ। "
"আছা , তুমি অদ্ভুত কেনো হা। "
" কই না , আমি তো সাধারণ । অতি সাধারণ বলেই হয়তো আমাকে তোমার অদ্ভুত মনে হয়। "
"আছা ঠিক আছে। চিঠিটা তাড়াতাড়ি পড়ে রেজাল্ট জানিও ; তাড়াতাড়ি।"
"তুমি তো কোনো চাকরির জন্য এপ্লিকেশন করো নি যে রেজাল্ট চাইবে। তাছাড়া চিঠিতে কি আছে তা তো মুখেও বলা যায় । "
"না, মুখে বলা যায় না। "
"ওহ আছা,"
"কি আছা, তাড়াতাড়ি যেন রেজাল্টটা পাই। এখন বাড়ি যাব। পরে দেখা হবে। "
"কিছু খেয়ে যাও , অবশ্য টিনের বাক্স একটা কসমস বিস্কুট ছাড়া তেমন কিছু নেই , চা আছে খাবে সে।"
"তাও তো আমাকে বানিয়ে খেতে হবে , আর তোমার বিস্কুট তো ডাইনোসরের আমলের। তাছাড়া আজ আমার সময়ও নেই , অনেক কেনাকাটা করার আছে , বিকেলে দেখা করিও তো তোমার জন্যও কেনার আছে ।
"আমার তো লাগবেই না কিছু"
" কথা বাড়াইও না , লাগবে মানে লাগবেই "
" আছা ঠিক আছে।" রাগের রণচণ্ডী মুখ দেখে আর কিছু বলার সাহস হলো না।
সে চলে গেল।

মুখটা ধোয়া দরকার।
মুখটা ধুয়ে সীমুর চিঠিটা বুকের ডান পাশের পকেটে রেখে বেড়িয়ে পরলাম । একটা কথা মনে হলো পকেট সবসময় বুকের ডানপাশেই কেনো থাকে। বাঁ পাশে থাকলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হতো। আমার এক বন্ধু টেইলর তাকে জিজ্ঞেসা করা যেতে পারে।


আমার লেখা গল্প। বিশেষ দ্রষ্টব্য:আমি হিমু সাহিত্য ভালোবাসি। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা।যদিও হিমুর হলুদ পাঞ্জাবীতে কোনো পকেট ছিলো না কিন্তু আমার হলুদ পাঞ্জাবীতে পকেট আছে । বুকের বাঁ পাশে , যেখানে টাকাকড়ির পরিবর্তে সীমু নামের কোনো একটি রাগী সুন্দরী মেয়ের হাতে লেখা চিঠি রাখা যায় । { তিন বছর পুরনো এই গল্পের ২য় পার্ট এখনো লেখা হয়ে উঠে নি } পাঠকগণকে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। © ভাস্কর রায় ( সৌরভ রাজধন) ছবি : ফেসবুক

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৩ রাত ১০:৫৩
৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×