somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁধার রাতের গল্প: পর্ব-০৪

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সেদিন খুব ভোরে প্রতিবেশী একজন মহিলা লাইলিদের বাড়িতে গিয়েছিলো খাবার দিতে। গিয়ে দেখে লাইলির বাবা কপালে হাত দিয়ে উঠানে বসে আছে। লাইলির মা বাঁশ দিয়ে বানানো চৌকির এক পাশে আরাম করে তখনো ঘুমোচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে তাদের বাড়িতে কিছুই হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেও কি করে ঘুমোয় এভাবে! কথায় বলে না, "মায়েরা সাত জাত, মাছের মা হলে তো কথাই নেই!"

লাইলিকে বাড়িতে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। কোথায় গেছে তা প্রথমবার জিজ্ঞেস করে লাইলির বাবার কাছ থেকে কোন উত্তর পাওয়া গেলো না। দ্বিতীয় বার জিজ্ঞেসেও এমনভাবে উত্তর দিলো, শুনে মনে হলো কতদিনের না খাওয়া।
- "ওর মামুর বাড়ি গেছে।"
কথাটা বলতে যেন খুব কষ্ট হলো। গতকাল সকালবেলা সেই প্রতিবেশীর ঘর থেকে এক সের চাল এনেছিলো লাইলির মা। সেও লুকিয়ে। যদি আবার দেখে ফেলে লোকজন, তাহলে তো যাদের কাছ থেকে সাহায্য নিচ্ছে তাদেরও বিপদ হবে। কাপড়ের আঁচলের নিচে লুকিয়ে এনেছিলো।

প্রতিবেশী মহিলা একটু আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
- খান নাই কিছু?
- ক্যাইলক্যা বিহানে খাইছিলাম। এতো মাইনসের মধ্যে কয় নলা ভাগে পরে কও?

লাইলির বাবার শুকনো মুখের এমন কথা শুনে মহিলার মনে খুব মায়া জন্মালো। কিন্তু কয়দিনই বা এভাবে চলবে? বাড়ির কর্তাকে লুকিয়ে দুইবেলা খাবার দিয়েও ছিলো। শেষমেশ রাতে খাবার দিতে গিয়ে কর্তার কথা শুনে আর দিতে পারেনি।

লাইলির মামা বাড়ি বেশি দূরে নয়। মিনিট বিশেকের পায়ে হাঁটার রাস্তা। লাইলি তার মামার বাড়ি গেছে সপ্তাহ হয়ে এলো। এর মধ্যে লাইলির মামা লাইলিকে থানায়ও নিয়ে গেছিলো। ঘটনা বৃত্তান্ত শুনে লাইলির মামাকে আলাদা রুমে ঢাকলো থানার ওসি। কি যে বলছিলো তা এ রুম থেকে লাইলি স্পষ্ট বুঝতে পারলো না। পাশের রুম থেকে শুধু দু'জনের হাসার শব্দ ভেসে আসলো লাইলির কানে। এমনিতেই বাচ্চা হবার সময় হয়ে এলো, তার উপর হাতে পায়ে পানিও এসেছে ক'দিন ধরে। বসে থাকতে খুবই কষ্ট হচ্ছে লাইলির। তার সামনে এমন হাসির আওয়াজ কানে বিষের মতো বিঁধছিলো!

গ্রামে তখনো ডিশ লাইন যায়নি। উপরে অ্যান্টেনা লাগানো বিটিভিই ভরসা। টিভিতে একটা নাটক হচ্ছিলো তখন। সেই নাটকই দেখছিলো লাইলি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক নাটক। নাটকে দেখানো হচ্ছে একজন গর্ভবতী মায়ের কতটা যত্ন নেয়া প্রয়োজন, কতবার ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন, কিভাবে শিশুর যত্ন নিতে হয়.... এইসব আর কি। লাইলির মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো। কই, তাকে তো কেউ এমন যত্ন নিচ্ছে না। ডাক্তারের কাছে চেকআপ করার বদলে তাকে দৌঁড়াতে হচ্ছে থানার বারান্দায়! ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! না জানি এই ভুলের জন্য আরো কত খেসারত দিতে হবে.....। ভাবতে ভাবতে চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো লাইলির।

ওর মামা বাড়িতে খাওয়া পড়ার কোন অভাব নেই। কিন্তু কখনো নিজের বোন-ভাগ্নিদের একটু খোঁজও নেয় না। বাড়িতে বিড়াল-কুকুর থাকলেও তাদের প্রতি একটা মায়া জন্মে। মামার মনে তেমন কোন দয়া কখনোই দ্যাখেনি লাইলি। হঠাৎ করে কেমন যেন বদলে গেছে ওর মামা, যেন একটু বেশিই খেয়াল রাখছে লাইলির দিকে। যদিও আগের মতোই বেখেয়াল লাইলির মামা তার নিজের বোন, মানে লাইলির মায়ের প্রতি!

লাইলির মামা পাড়ার মাতাব্বর ডেকে শালিসের আয়োজন করলো একদিন। গ্রামের মাতাব্বার টাইপের লোকজন সবাই উপস্থিত। ফরহাদও আছে শালিসে। ফরহাদের পক্ষ থেকেও এসেছে অনেকে। প্রথম দফায় ফরহাদকে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। ফরহাদ অকপটে সব স্বীকার করে নিলো। সে এও বললো, আমি লাইলিকে বিয়ে করতে চাই। লাইলিকে বলা হলো তার কোন কথা আছে কি না। সে শুধু "আমার মামা যা বলবে তাই" কথাটা বলেই থেমে গেলো। কিন্তু আপত্তি জানালো লাইলির মামা। সে স্রেফ জানিয়ে দিলো, "ঐ বাড়িতে নিজের ভাগ্নিকে কিছুতেই বিয়ে দিবো না। এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করেছে ফরহাদ। আমরা এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।"

পাশ থেকে লাইলির বাবা বলে উঠলো "আমি এই বিয়াতে রাজি!" কথাটা শুনে লাইলির মামার সে কি রাগ! মনে হচ্ছে তার বড় কোন ক্ষতি হয়ে গেলো। রাগে গড় গড় করতে করতে উঠে গেলো শালিস থেকে। যাওয়ার সময় বলে গেল, "মাইয়ারে আর আমার বাড়ি পাঠাইয়ো না। আমার উপর মাতাব্বরি করলা, তোমরাই বুঝো বাকিটা। আমি নাই এর মধ্যে।"

চলবে......
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:১৩
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রলিং, বাঙালি জাতি ও খাদ্যে ভেজাল।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:১৬

ট্রলিং বিষয়টা আমার অসহ্য লাগে। এমন না যে আমার সেন্স অফ হিউমার নেই, বা খারাপ। কিন্তু বাঙালি ট্রলিংয়ের সীমা পরিসীমা সম্পর্কে কোনই ধারণা রাখে না। ফাজলামি করতে করতে আমরা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাছাকাছি থেকেও চির-অচেনা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৪



স্ত্রীর জন্য স্যান্ডেল কিনতে বের হয়েছি; আমি ট্রেনে যাবার পক্ষে ছিলাম, গাড়ীর পার্কিং পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার; আরো ২/১ যায়গায় যেতে হবে, শেষমেষ গাড়ী নিয়ে বের হতে হলো; রেসিডেন্সিয়েল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:২১


বাংলাদেশের জয় উদযাপন।

১। ভালো লেখক হতে হলে সর্বাগ্রে ভালো পাঠক হতে হবে। পাঠক হবার আগেই যদি সমালোচক হতে চাও, তবে তা হবে বোকামী। বিচারক হতে যেও না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে শিক্ষা তারপর সমালোচনা।

লিখেছেন মাহমুদুর রহমান, ২০ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪১



পাঠকেরা সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, ভালো না লাগলে চুপ করে কেটে পড়বেন, লেখার সমালোচনা করা যাবে না, লেখার উপর বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না; তা'হলে, ব্লগ আপনার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×