somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগ দিবসের বিশেষ ম্যাগাজিন "বাঁধ ভাঙার আওয়াজ" পাঠ প্রতিক্রিয়া-- ০৫ (বড় গল্প)

২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গল্প: নপুংশক -- (ফাহমিদা বারী)।

গল্প সংক্ষেপ:
গল্পের নায়ক মঞ্জু, নায়িকা রিক্তা।মঞ্জুর বন্ধু কমল এবং রিক্তার বান্ধবী নীলা। গল্পের লোকেশন, মানিক্গঞ্জের বেওথা ঘাট। মঞ্জু ও রিক্তার বাবা উভয়েই তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। থাকেন পুরানো সরকারী কোয়ার্টারে। রিক্তা আর মঞ্জু সমবয়সী হলেও ওদের মাঝে তেমন সখ্যতা নেই। নেই বললে ভুল হবে, বরং বলা চলে মঞ্জুই ওর সাথে সখ্যতা করতে চায় না। কারন, রিক্তা প্রায়ই বানিয়ে বানিয়ে নালিশ দেয় মঞ্জুর মায়ের কাছে। নালিশ জোড়ালো করার জন্য সাথে জুড়ে দেয় কান্না। আর মঞ্জুর মাও সত্য মিথ্য যাচাই না করে ঝগড়া থামানোর জন্য মঞ্জুকে দু-চারটা উত্তম মধ্যম বসাতো। মঞ্জু মায়ের পিটুনি খেয়ে কান্না করতো আর রিক্তাও হাসতে হাসতে মজা নিয়ে বাসায় চলে যেত। সেজন্যই মঞ্জু ওকে দেখতে পারে না। মাঝে মাঝে এমন এমন নালিশ করে যার ধারে কাছেও মঞ্জু নেই। এই যেমন "মঞ্জু আমার জামা ছিড়ে দিছে", "মঞ্জু আমারে ঝোপের আড়ালে নিয়ে গায়ে হাত দিছে" .......।

রিক্তাকে পছন্দ না হলেও ওর বান্ধবী নীলাকে খুবই পছন্দ করে মঞ্জু। কিন্তু কখনো চোখে চোখ রাখা হয়নি রিক্তার ভয়ে। এমনিতেই যে নালিশ দেয়, আরো যদি নীলাকে পছন্দের কথা জানতে পারে তাহলে রেহাই নেই। তবুও রিক্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে নীলাকে দেখে আড় চোখে। একদিন পুকুর পাড়ে বসে বসে লাউয়ের বড়ি শুকাচ্ছিল মঞ্জু। সেখানে রিক্তা ওকে নপুংশক বলে গালি দেয়। বলে, সে মেয়েদের সাথে কি করতে হয় কিছুই জানে না। ও রিক্তার কথায় কান দেয় না। বলে, মেয়েদের সাথে কি করতে হয় তা জানার কোন দরকার নেই। তখনই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে রিক্তা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মঞ্জুর হাত ধরে সোজা জামার ভিতর চালান করে দেয় । রিক্তার কান্ড থেকে হতবম্ভ হয়ে যায় মঞ্জু........।

তারপর কেটে যায় বহুদিন। রিক্তা সেদিনের পর থেকে আর মঞ্জুর সামনে আসে না। হয়ত লজ্জায়। এরই মধ্যে দুজনেই ভর্তি হয় কলেজে। দুজনেরই আলাদা আলাদা একদল বন্ধু জুটে যায়। মঞ্জুর বন্ধুদের মধ্যে সব চেয়ে দুষ্ট ছিল মাহিন। মেয়েদের দেখলেই টিজ করে, বাজে বাজে কথা বলে। বিশেষ করে রিক্তাকে দেখলে। রিক্তা বয়সের তুলনায় একটু বেশিই মোটাসোটা। কলেজ না পেরুতেই রিক্তার বিয়ের সমন্ধ আসে। ছেলে আগেও বিয়ে করেছিল, বাচ্চা-কাচ্চা হয়না বলে আগের বউ তালাক দিয়েছে। ছেলের সম্পত্তি দেখে রিক্তার বাবা-মা আর না করেনি। তার মধ্যে রিক্তা আবার পড়াশোনায় ভাল না। চেহারাও মুটামোটি। রিক্তার বিয়ে হয়ে যায়। কিছুটা কষ্ট লাগে মঞ্জুর...........।

এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় মঞ্জু। ভালোই চলছিল সবমিলে। এ কয়েকদিনে রিক্তা কিংবা নীলা উভয়ই মনের আড়ালে চলে গেছে। মঞ্জুর এখন একটাই চাওয়া বড় হবে, অনেক বড় হবে লেখাপড়া করে। একদিন ছুটিতে বাড়িতে এসে শুনে রিক্তাকে নাকি ওর শ্বাশুড়ি বলে দিয়েছে এক বছরের মধ্যে সন্তান না হলে ওকেও তালাক দিবে। মঞ্জুর মনটা খারাপ হয়ে যায়। রিক্তা সেদিন মঞ্জুদের বাড়িতে আসে। বলে মাহিনের সাথে দেখা করিয়ে দেয়ার জন্য। মঞ্জু বলে, মাহিনের চরিত্র ভাল না। যা বলার আমার কাছে বল, আমিই মাহিনকে বলে দেব। রিক্তা বলে, তোকে বললে যদি কাজটা হতো তাহলে তোকেই বলতাম। তোকে বলে লাভ নেই, মাহিনকেই বলতে হবে কথাটা। অবশেষে মঞ্জু রিক্তাকে নিয়ে মাহিনের সাথে দেখা করায়। মাহিন আর রিক্তা আলাদা দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলে। মঞ্জু দূর থেকে মাহিনের চকচকে হাসি দেখতে পায়। মাহিন আওয়াজ করে মঞ্জুকে বলে, শালা এতদিনে একটা কাজের কাজ করছস........।

অবশেষে একবছর পর সন্তান হয় রিক্তার। বেঁচে যায় রিক্তার সংসার।

গল্পের পাঠ প্রতিক্রিয়া:
এক কথায় বলতে গেলে অসাধারণ একটা গল্প নপুংশক। শব্দের ব্যবহার আর উপমার গুণে গল্পের বিষয় এবং ভাষা দুটোই তৃপ্তিকর হয়ে উঠেছে। ১১ পৃষ্ঠার গল্পটি একটানে পড়ে শেষ করার মতো। গল্পের মধ্যে উঠে এসেছে নিম্নবিত্ত পরিবারের সুখ-দু:খ, শৈশবের দারুণ সৃতি, কৈশোরের দুরন্তপনা। সমাজের কুসংস্কারের এক দারুণ চিত্র অংকিত হয়েছে গল্পে। সন্তান না হওয়ার জন্য এখনো যে পরিমান কথা শুনতে হয় মেয়েদের তার একটি তরতাজা চিত্র গল্পের শেষে। অবশেষে সংসার বাাঁচাতে রিক্তার ভিন্নপথ অবলম্বনকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছেন গল্পের লেখিকা। নপুংশক হয়েও রিক্তার স্বামী এবার বাবা হবার স্বাধ পাবে। নামকরনটিও যথেষ্ট স্বার্থক মনে হয়েছে আমার কাছে। গল্পটি আমার বিবেচনায় ২য় স্থানে রয়েছে এই বইয়ে।


রম্যগল্প: সিনেমার গল্প---- (ব্লগার চেয়ারম্যান ০০৭)

গল্পের সারসংক্ষেপ:

গল্প কথক নাদিম। তার বস মতিন সাহেব। গল্পের কোন একটা অংশে আছেন অভি নামের একজন। মতিন সাহেব সিনেমা দেখতে খুবই পছন্দ করেন। বাংলা সিনেমার একনিষ্ঠ ভক্ত তিনি। রাজ্জাক-শাবানা, ববিতা-আলমগীর আর এরকম হাজারো নায়ক-নায়িকার প্রেম কাহিনী মতিন সাহেবের নখদর্পনে। নাদিমের কাছে বাংলা এসব প্রেম-টেম ভাল লাগে না তেমন। তবুও তাল মেলাবার জন্য সিনেমার ট্রেইলর দেখে নেন। একদিন অভি নামের লোকটা মতিন বসের বিরুধিতা করে বলেন যে বাংলা সিনেমার বেইল নাই। তার পরের দিন অভির টেবিলে ছয়টা এসাইনমেন্ট জমা পড়ে। সেই থেকে নাদিম প্রতিজ্ঞা করে বসের সাথে তাল মলোনোর জন্য তাকে বাংলা সিনেমার বিশেষজ্ঞ হতেই হবে।

নাদিম তার বস মতিন সাহেবকে সিনেমার বিভিন্ন রোমান্টিক দৃশ্য বাস্তবে প্রয়োগ করতে বলেন। এই যেমন, মদ খেয়ে নায়ক রাজ্জাক বাড়িতে গিয়ে মাতাল হয়ে জুতা না খুলেই বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লে নায়িকা শাবানা গিয়ে পরম ভালোবাসায় জুতা খুলে দেয়, এই দৃশ্যটা করতে বলেন নাদিম। বাস্তবে এই দৃশ্য করতে গিয়ে বউ তার সব জুতা বাসা থেকে কুটিকুটি করে কেটে রাস্তায় ফেলে দেয়। বউয়ের কছে ধরাশায়ী হয়ে মতিন সাহেবের অবস্থা নাজেহাল। আবার বউয়ের রাগ ভাঙানোর জন্য নাদিম তার বসকে পরামর্শ দেয় বউকে ৫০,০০০ টাকা দিয়ে কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসার জন্য। মতিন সাহেব বাড়িতে গিয়ে তাই করেন। বউকে টাকা দিতেই মতিন সাহেবকে ঘরে বন্ধি করে রেখে দেন মতিন সাহেবের বউ আর তার শ্বাশুড়ি। কবিরাজের ঝাড়ফুঁক আর পানি পড়া খেয়ে থাকতে হয় অনেক দিন। এরকম কিছু রম্য নিয়ে এগিয়ে চলে এই গল্প।

পাঠ প্রতিক্রিয়া:
রম্য গল্প হিসেবে বেশ ভালোই লেগেছে লেখাটি। নামকরনে সিনেমার গল্প না দিয়ে অন্য কিছু দেয়া যেত। কারন সিনেমার গল্প বলতে চোখে ভেসে উঠে সিনেমা বানানো কেন্দ্রিক গল্প। কিন্তু আলোচ্য গল্পে সিনেমার কাহিনীকে নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে গিয়ে বিরম্বনার কথা উঠে এসেছে। বসকে খুশি রাখতে পারলে কাজ না করেও বসের নজরে আসার বিষয়টিও দারুণ ভাবে উঠে এসেছে।


বিদ্রূপাত্মক গল্প: হিউম্যান রাইটস --- (নয়ন বিন বাহার)

কাহিনী সংক্ষেপ:
গ্রামে শিয়ালের উপদ্রপ বেড়ে যাওয়ায় মুরগিগুলো সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় শিয়ালদের বংশ শেষ করতে হবে। গ্রামের মানুষদের রোজগারের একটা মাধ্যম এই মুরগি পালন। কেউ কেউ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালান এই মুরগি বেচে। অবশেষে শিয়াল ধরে ধরে গ্রামের লোকজন হত্যা করতে লেগে গেল। শিয়ালের সংখ্যা কমে আসছে। এখন আর আগের মতো শিয়ালের আক্রমন হয়না। গ্রামে একটু স্বস্তি ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে আইন পাশ করা হয়, শিয়াল বিলুপ্ত প্রায় প্রাণি। শিয়াল হত্যা করা আইনত দন্ডনীয়। গ্রামের সবাই মিলে আপত্তি জানানোর পরও কোন লাভ হলো না। আবার শিয়ালের সংখ্যা বেড়ে গেল। মুরগিগুলো সব সাবাড় হচ্ছে। এখনকার শিয়াল আগের চেয়ে বেশি হিংস্র হয়ে উঠেছে। আগে তো কুকুর দেখলে শিয়াল পালাত এখন কুকুরই পালায় শিয়ালের ভয়ে। গ্রামের লোকজন মিলে আবার যায় এনিম্যাল রাইটসের প্রতিনিধির কাছে। কাউছ মিয়া নামে গ্রামের এক লোক বলল, এভাবে চলতে থাকলে তো মানুষের টিকে থাকাও দায় হয়ে দাঁড়াবে। প্রতিনিধি গম্ভীর স্বরে বলল, "দু:খিত মানুষ এখনো বিলুপ্ত প্রাণীর তালিকায় নেই "......।

প্রতিক্রিয়া:
স্যাটায়ার গল্প হিসেবে দারুণ একটি গল্প। নামকরনের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় গল্পে। বাস্তবে হিউম্যান রাইটসের কথা বলা হলেও তা কেবল কাগজ কলমে, বিষয়টিই লেখক ফুঁটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।


গল্প: তুমি ও সে ... (তাহমিদ আহবাব)

গল্প সংক্ষেপ:
অচেনা একটা ছেলে নিপা নামের মেয়েকে খুব ভালোবাসে কিন্তু মুখে বলতে পারেনা। একদিন ছেলেটি নিপাকে একটি চিঠি দেয়। মাঝে মাঝে মুঠো ফোনে কথা হত ওদের মাঝে। কিন্তু একে অপরের প্রেম আলোর মুখ দেখে নি।

প্রতিক্রিয়া: গল্পটি আমার কাছে ভাল লাগেনি মোটেই। তবে গল্পে যে চিঠি আছে সেটা খুুবই চমৎকার লেগেছে।

গল্প: আকাশ গঙ্গার তারা (মলাসইলমুইনা)

গল্প সংক্ষেপ:
শ্বেতা ও স্বপ্নীলের প্রেম কাহিনী। স্থান কুমিল্লা রেলস্টেশন। স্বপ্নীল আমেরিকায় যায় মাস্টার্স করতে। ওয়ান ইলেভেনের জন্য দেশে আসতে দেরী হয়। এরই মাঝে স্বপ্নীলের মাস্টার্স শেষ করে পিএইচডিতে ভর্তি হয়। দেশে যখন আসে তখন আর শ্বেতাকে পাওয়া হয় না। শ্বেতা তখন আর পৃথিবীতে নেই। স্বপ্নীলের দেশে আসতে দেরী হওয়ায় শ্বেতার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়। বিয়েতে রাজী হয় না শ্বেতা। ভালেবাসার মান রাখতে ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করে। হয়ে যায় আকাশ গঙ্গার তারা........।

প্রতিক্রিয়া:
গল্পের নায়িকার নাম পছন্দ হয়নি। নায়িকার আত্মহত্যার বিষয়টি ভালো লাগেনি। গল্পের নায়ক স্টেশনের চাওয়ালাকে এক কাপ চায়ের বিনিময়ে ১০০ টাকা দেবার বিষয়টি ভালো লেগেছে। দেশের মেধাবী সন্তানেরা বিদেশে পড়াশুনা করে আর দেশে আসতে চান না কিন্তু গল্পের নায়ক দেশে ফিরেছেন যেটা পজিটিভ একটি দিক।

গল্প: আদি শিল্প ---- (এ.টি.এম মোস্তফা কামাল)

কাহিনী সংক্ষেপ:
মতি গ্রামের এক সহজ সরল কৃষক। বাবার রেখে যাওয়া জমিতে হালের বলদ দিয়ে হাল চাষ করে কোন রকমে সংসার চালান। তার বোন একদিন নিজের ভাগের জমি নিতে আসে। মতির বোন জানান, মতি যদি জমিটা কিনতে চায় তাহলে আর অন্য লোক দেখবে না। মতি তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি হাত ছাড়া করতে চাইলো না। এ বাড়ি ও বাড়ি ধার করে জমিটা রেখে দিতে চাইলেন। কারো কাছে ধার না পেয়ে হালের একটা বলদ বিক্রি করেই জমিটা কিনে রাখলেন মতি। কিন্তু মনটা তার খারাপ হয়ে গেল বলদটির জন্য। হাল চাষের সময় বলদের অনুপস্থিতি টের পান মতি। অবশেষে পুকুর ধারের আম গাছটি বেচে দিয়ে আর কিছু ধার-দেনা করে কিনে আনেন আরেকটা বলদ।

মাঠে ধানের চারাগুলো বেড়ে উঠছে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির। দূর থেকে পানি বইয়ে এনে মাঝে মাঝে ক্ষেত ভিজিয়ে দেয় মতি। এর মাঝে মতির চোখ আটকে যায় ধান ক্ষেতের এক কোনে, যেখানে কোন এক দুষ্ট লোক তার গরু দিয়ে ধান খাইয়েছে। খুব কান্না পায় মতির। কাছে গিয়ে যখন দেখে চাড়াগুলো তখনো জীবিত, তখন মতির কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কাউকে কিছু বলে না সে। এক মনে পরিচর্যা করতে থাকে। কদিন বাদেই মতির ক্ষেতগুলো ফসলে ভরে উঠে। অপরূপ এই সবুজের শিল্পকর্ম তার মনটা রাঙিয়ে দিয়ে যায়।

প্রতিক্রিয়া:
পাঠ্য হবার মতো একটি গল্প। গ্রাম্য কৃষকের জীবনযাত্রা আর সুখ-দু:খের চিত্র শিল্পের মতোই ফুটে উঠেছে গল্পে।

গল্প: মহাভিক্ষুক -- (সাইয়িদ রফিকুল হক।)

গল্প সংক্ষেপ:
নাহিদ একজন কলেজ শিক্ষক। ক্লাশ শেষ করে শ্যামলি ওভার ব্রিজ পার হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দিচ্ছিলেন। রাস্তায় একটি দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ালেন। একজন বৃদ্ধ লোক ভিক্ষা করছেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে। লোকজন থামিয়ে বলছেন, এই যে ভাই দশটি টাকা হবে? কেউ তাকে দশটাকা বের করে দিচ্ছেন আবার কেউ এড়িয়ে যাচ্ছেন। নাহিদও এগিয়ে গেল বৃদ্ধ লোকটির কাছে। দশটাকার বেশি দিতে চাইলেন। কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। অবশেষে লোকটার সাথে কথা বলে জানতে পারলেন তার নাম সুলতান মাহমুদ। উত্তরবঙ্গের একটি জেলা থেকে এসেছেন। তিনি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। এখন অবসরে আছেন। শিক্ষকতায় থাকাকালিন সময়ে গ্রামের লোকদের বই কিনে দিতেন। এখন তার ইচ্ছা একটি আধুনিক পাঠাগার গড়া। আর সে জন্যই তিনি মানুষের কাছে হাত পেতে ফান্ড জোগাড় করছেন। লোকটি যেহেতু সাধারণ ভিক্ষুক নয়, তার এই কাজের পেছনে রয়েছে মহৎ উদ্দেশ্য এজন্য লেখক গল্পের নাম দিয়েছেন মহা ভিক্ষুক।

প্রতিক্রিয়া:
এই ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে টাকা তুলে পাঠাগার করতে হবে এমন ধারনাটি আমার কাছে ভালো লাগেনি। তবে একজন স্কুল শিক্ষকের মনে মানুষের মাঝে জ্ঞান বিতরণের যে স্পৃহা তা সত্যিই ভাল লাগার মতোই ব্যাপার।

গল্প: ঠিক মাঝরাতে এখনো আমার ফোন বেজে ওঠে ...(আসাদ জামান)

গল্প সংক্ষেপ:
বর্ষা আর রজতের কাহিনী। রজত আর বর্ষার মাঝে ফ্রেন্ডশিপ অনেক দিনের। কথা বলতে বলতে রজত বর্ষার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। রজতের খুব ঝোঁক অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি। ফরাসি ভাষায় উচ্চ শিক্ষা নিতে বিদেশে পারি জমান। ফিরে এসে আবার বর্ষার সাথে আবার সখ্যতা ঘরে উঠে। বর্ষাও একদিন ইংল্যান্ডে যায় ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়তে। প্রথমে বর্ষা যেতে চায়নি। রজতই বর্ষাকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয় ইংল্যান্ডে। অবশেষে একদিন বর্ষার মৃত্যু হয় ইংল্যান্ডের সড়ক দূর্ঘটনায়। কিন্তু রজত তখনো খুব ভালোবাসে বর্ষাকে। এখনো ঠিক মাঝরাতে রজতের সাথে বর্ষার কথা হয় মনে মনে।

প্রতিক্রিয়া: একদম সাদামাটা প্লট। ভাল লাগার মতো কিছু পাইনি।

গল্প: জন্মই আজন্ম পাপ --- (নীলআকাশ)

গল্প সংক্ষেপ:
ডাক্তার ফাতেমা একজন নামকরা গাইনি বিশেষজ্ঞ। ডাক্তার রুমার রেফারেন্সে একজন লোক তার ওয়াইফের সমস্যা নিয়ে ফাতেমার কাছে এসেছেন। ফাইলপত্র সব দেখে ফাতেমা কিছুতেই মেলাতে পারছেন না কেন মহিলাটির সন্তান হচ্ছে না। সব রকমের টেস্ট করানোর পর দেখা গেল শারিরিক কিংবা হরমোনাল কোন সমস্যাই নেই। ডাক্তার ফাতেমার কথামত পেশেন্ট এসেছেন আজকে। পেশেন্টের নাম সুবর্ণা। বাড়ি বরিশাল। বরিশালের কথা বলতেই একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে মাতেমা ম্যাডামের। ফাতেমা ম্যাডামের ইন্টার্নি করার সময়কার ঘটনা। সেসময় তাঁর তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। ফুটফুটে বাচ্চাটির প্রতি একরকম মায়া জন্মে যায় ডাক্তার ফাতেমার। কিন্তু পরের দিন নাইট শিফটে ডিউটি করার সময় আর বাচ্চাটিকে দেখতে পান না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন কিছুক্ষণ আগে তারা হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। ফাতেমার মন খারাপ হয়। মধ্যরাতের দিকে ওয়ার্ড মাস্টার মোদাচ্ছের একটি নবজাতক নিয়ে এসে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। বাচ্চাটি নর্দমায় পরে ছিল, যার শরীরের একটা অংশ থেকে মাংশ খেয়ে ফেলেছে কুকুরেরা। ডাক্তাররা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি সন্তানটিকে। ডাক্তার ফাতেমার মনে এই ঘটনা রেখাপাত করে গভীর ভাবে ....।

ডাক্তারি চেকআপ করার জন্য সুবর্ণাকে বেডে শুয়ে পরতে বলেন ফাতেমা ম্যাডাম। গায়ের কাপড় সরানোর পর সুবর্ণার নাভির নিচে একটা বড় তিল দেখে চিনে ফেলে ফাতেমা। তারপর সেই রক্তাক্ত বাচ্চাটার ছবি ভেসে উঠে তাঁর মনে। সুবর্ণাকে ভর্ৎসনা দিতে থাকেন ডাক্তার ফাতেমা। আর বলেন, তুমি খুব অন্যায় কাজ করেছো। সেই অভিশাপেই তুমি আজ নি:সন্তান। তুমি কোন দিনও মা হতে পারবে না। ক্ষণিকের সুখ ভোগ করতে গিয়ে একটা নবজন্মা বাচ্চাকে প্রাণ দিতে হলো। বাচ্চাটার জন্মই যেন পাপ ছিল.........।

প্রতিক্রিয়া:
সমাজের এক ভয়ানক ব্যাধি গল্পে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখিত গল্পটি অনেকের মনেই রেখাপাত করবে। কোন কোন জায়গায় বর্ণনার বাহুল্য লক্ষনীয়। যেমন: সুবর্ণার বাবার নাম নিয়ে কয়েকটা লাইন না লিখলেই বোধহয় ভাল হত। গল্পটি এর আগেও ব্লগে পাঠ করেছেন আপনারা। দু-একজন বাদে সবার মন্তব্যই পজেটিভ দেখেছি।

রম্যগল্প: বর্ণবাদী ভূত ... (ভুয়া মফিজ)

গল্পসংক্ষেপ:
রাশেদ জামাল ইংল্যান্ডে থাকেন। সেখানে ব্যাচেলরদের জন্য বাড়ি ভাড়া পাওয়া বেশ কঠিন। কিন্তু এই কঠিন বিষয়টি খুব সহজেই পেয়েছেন রাশেদ। বাড়িটা বেশ সুন্দর আর সজানো গোছানো। কিন্তু এই বাড়িতে এর আগের ভাড়াটিয়া বেশিদিন টিকেনি। বাড়িতে নাকি ভুত আছে। রাশেদ আধুনিক মানুষ, ভূতে বিশ্বাসী নয়। সে সব ভয় উপেক্ষা করেই বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নিল .....।

প্রথমদিন থেকেই ভূতের বেশ উৎপাত শুরু হলো। উদ্ভট গন্ধে সারা ঘর ভরে যায় ভূতটা আসলে। কোন দিন পানি ছেড়ে দেয় বাথরুমের, কোনদিন রান্নাঘরের ঝনঝনানি শব্দ করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে ভূতটা। প্রথম প্রথম খুবই ভয় পান রাশেদ। তার বোনের কাছ থেকে আয়াতুল কুরছি আর দোয়া দরুদ শিখে নেয় সে। ভূত তাতে করে কোন ক্ষতি করতে পারে না। ভূত আসলেই মা-বাপ তুলে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে রাশেদ। গালি দিলে ভূতটা আর তেমন উৎপাত করে না।

অবশেষে একদিন ভূতের সাক্ষাত পায় রাশেদ। ভূত তাকে এই বাসা ছেড়ে দিতে বলে। রাশেদ রাজি হয় না। ভূতের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। ভূত বলে সাদা চামড়ার মানুষের সাথে সে থাকতে পারবে, কিন্তু কালো চামড়ার কারো সাথে সে রুম শেয়ার করতে পারবে না। রাশেদ আবার গালি দেয় ভূতটাকে বর্ণবাদী বলে। ভূত এবার নমনীয় হয়। বলে সাদা-কালা দুই ভাই মিলে মিশে এই বাসায় থাকবে। রাশেদ শর্ত দেয় ভূতকে, আর কোন দিন সস্তা চুরুট খাওয়া যাবে না, প্রয়োজনে বাংলাদেশী ব্যানসন খাওয়াবে ভূতকে। বর্ণবাদী ভূতটা এবার তার বন্ধু হয়ে যায়.........।


প্রতিক্রিয়া:
মধ্যম মানের রম্য মনে হয়েছে আমার কাছে। তবে রম্যের সাথে বাস্তবের কিছুটা মিশেল হলে দারুণ হতো।

গল্প: মহীরুহ ---- (মেহরাব হোসেন খান)

গল্প সংক্ষেপ:
বুদ্ধি প্রতিবন্ধি শাপলা, বাবার পরিচয়হীন তার শিশুপুত্র, স্কুল মাস্টার মাজহারুল ও গ্রামের মাতাব্বদের নিয়ে একটি কাহিনী। শাপলার ছোট্ট ছেলেটা বেশ নাদুস-নুদুস। পুলিশ, রাজনীতিবিদ, গ্রামের মাতাব্বর কাউকেই সে তার ছেলের কাছে ঘেষতে দেয় না। স্কুল মাস্টারকে কাছে পেলে শাপলা খুবই আনন্দিত হয়। তার ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলে। স্কুল মাস্টারেরও এক ছেলে (বউটা কোথায় তা গল্পে বলা হয় নি, সম্ভবত মারা গেছে)। নাম রাঈদ। শাপলা যখন তার ছেলেকে আদর করে রাঈদেরও খুব ইচ্ছা হয় মায়ের আদর পেতে।

স্কুল মাস্টার শাপলাকে খাবার কিনে দেয়। শাড়ি দেয়, যত্ন নেয় তার ছেলেরও। একে একে শাপলার ৬ টা শাড়ি হয়। আরেকটা শাড়ি পেলে রঙধনুর সাতরঙ হবে। শাপলা শাড়িগুলো পড়ে না। পুটলার মধ্যে রেখে দেয় আর বলে, তার ছেলের বউকে উপহার দিবে।

একদিন শাপলা আবার সন্তান সম্ভবা হয়। গ্রামের লোকেরা মাস্টারকে ধরে বেদম পিটুনি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মাস্টারকে দেখতে লোকেরা ভিড় করে। সবাই ভাবে দেবতার মতো মানুষ কিভাবে পারলো পাগলির সাথে এমন করতে? তারা ভাবে, মানুষের মন তো, কখন কি মনে চায় কে জানে! তার ভিতরেও এমন ছিল ভেবেই কেউ কেউ থুতু ছিটায়। আবার কেউ কেউ বলে মাস্টার যে জিনিস দিয়া এই কাম করছে সেই জিনিস কেটে গলায় ঝুলিয়ে দেন মাতাব্বর সাহেব ......।

কিছুক্ষণ বাদে শাপলা আশে। ভিড় ঠেলে মাস্টারকে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে, আর বলে মাস্টার তোমার এই অবস্থা কেন? কথা কও! আমার আরেকটা শাড়ি দিবা না? আর বিলাপ করে। গ্রামের মানুষদেরকে বলে, তোমরা মাস্টারকে মারছনি গো, মারছনি? তোমরা সিরাজরে মার, মোনায়েম সরকাররে মার! তা তো পারবা না। তারা খাওনের কথা বলে কাছে নিয়া আমার বুনি ছানাছানি করে যাইত্তা ধরে ........।
পাগলির কথায় কেউ কান দেয় না। পাগলেরা বকবক করে যাবে তাতে কার কি আসে যায়??


প্রতিক্রিয়া:
মারাত্মক এক সামাজিক ব্যধির চমৎকার উপস্থাপনা। "পাগলীটা মা হয়েছে কিন্তু বাবা হয়নি কেহ", শিরোনামে সংবাদ দেখেছেন নিশ্চয়। কারা করে এরকম কাজ তা গল্পে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেউ হয়তো মাস্টার মশাইয়ের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েন না তবে শাপলাদের মতো অবস্থা হয় অহরহ। পৃথিবীতে আসে বাবাহীন সন্তান!!! গল্পটি আমার মতে ৩য় অবস্থানে রয়েছে।

গল্প: সম্পাদকের সাথে এক ঘন্টা .... (মাহমুদ হাসান)

গল্পসংক্ষেপ:
মারুফ একটু আধটু পত্রিকায় লিখেন সখের বশে। পত্রিকায় লিখে টাকা কামিয়েছেন তেমনটি না তবে একটি পত্রিকায় তার লেখা ছাপানো হয়েছিল বিধায় কিছু সম্মানী তিনি পাবেন। সম্মানীটা যদিও তিন অংকের তবুও তিনি আনতে যাবেন পত্রিকা অফিসে। কারণ তার বউকে দেখাতে হবে, এই সব লেখালিখি অযথা নয়। না হলে তিনি যেতেনই না। পত্রিকা অফিসে গিয়ে সম্পাদকের সাথে দেখা করতে পারেন তার কথিত ব্যস্ততা শেষে। আইডি কার্ড না নিয়ে যাবার জন্য তিনি সেই টাকাও আনতে পারেন না অবশেষে।

প্রতিক্রিয়া:
বর্তমানের লেখকদের অবস্থা বেশ সুন্দর ভাবেই তুলে ধরা হয়েছে গল্পে। সম্পাদকের আত্মীয় আর পরিচিতজন ছাড়া কারো লেখা যে প্রকাশ করার প্রতি আগ্রহ দেখান না সেই চরম সত্যও অংকিত হয়েছে গল্পের মাঝে।

গল্প: অনাকাঙ্থিত মেঘ --- (আরজু পনি)

গল্প সংক্ষেপ:
গল্পের নায়িকা বীণা, নায়ক সুজন। সুজন বীণাকে মা-বাপ তুলে অকারনেই গালিগালাজ করে। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে শুধু বের করে দেয়ার বাকি। বীণা পড়াশো করে। সন্তান পেটে নিয়েও বিএড পরীক্ষা দেয়। শ্বাশুরির শত মানা সত্ত্বেও থেমে থাকে না বীণা। আর সে কারণেই ওর শ্বাশুড়ি সুজনের কান ভারি করে আর সুজন ক্ষেপে গিয়ে গালাগালি করে মা-বাপ তুলে।।

বীণা একটি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেন। শ্বাশুড়ির বাঁধায় চাকরিটা করতে পারে নি বেশি দিন। চাকরি ছাড়ার পর আরো কথা শুনায় শ্বাশুড়ি। ভাতের খোটা দেয়। ভালো লাগে না বীণার সেসব শুনতে।

বীণার খালাতো বোনের নাম রোখসানা। বিয়ে হয় সৌদি প্রবাসী ছেলের সাথে। রোখসানার বাড়িতে একদিন কোন দরকারে যায় বীণা। আর সেদিনই সুযোগ বুঝে বীণাকে ঝাপটে ধরে রোখসানার স্বামী।

প্রতিক্রিয়া:
গল্পের প্রথম অংশে বীণার শ্বাশুড়ি আর স্বামীর অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে, যা বাংলার অনেক ঘরেই দেখা যায়। শেষের অংশে রোখসানার বিষয়টি কেন উল্লেখ করা হলো বুঝলাম না। গল্প উপস্থাপনায় আরেকটু মনোযোগি হলে বিষয় দুটি একসাথে এমন ভাবে উপস্থাপন করা যেত যাতে করে সুখপাঠ্য হয়।

গল্প: লাল কাতান, নীল ডাকাত ..... (নাজিম উদ দৌলা)

গল্প সংক্ষেপ:
ম্যাজিস্ট্রেট শফিক আর সিকিউরিটি গার্ড গফুর মিয়া পাশাপাশি সিটে বসে খুলনা যাচ্ছেন। গফুর মিয়া শফিকের পরিচয় জানতেন না। যখন পরিচয় জানতে পারেন তখন যেন আকাশ থেকে পড়েন। সারা রাস্তা কথা বলতে বলতে নিজের বাড়ি আর পরিবারের সব খুলে বলেন। ৬ হাজার টাকা নিয়ে লাল কাতান কিনার কথা, বউকে প্রেম করে কিভাবে বিয়ে করে সে কথা, অল্প বেতনে কিভাবে চলেন সে কথা। কোন কথাই বাদ পড়ে না। কথা বলা থামিয়ে যখন শফিকের ব্যাপারে জানতে পারলেন তিনি ম্যাজিস্ট্রেট, তারপর থেকে আর একটা কথাও বলে না গফুর। শফিক মনে মনে ভাবে, যাক বাবা বাঁচা গেল। এবার একটু শান্তিতে ঘুমানো যাবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে শফিক ..........।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে দেখছিল গফুর শফিককে জোড় করে গফুরের বাড়ি নিয়ে গেছে। তার স্ত্রী শাড়ি পেয়ে সে কি খুশি!! স্বপ্নের ছেদ ঘটে রাস্তায় গফুরের ফিস ফিস স্বরে স্যার স্যার ডাক শুনে। ঝাপসা চোখে তাকায় শফিক। মুখে কাপাড় বাঁধা এক লোক, হাতে পিস্তল নিয়ে সবাইকে সাবধান করছে। তার পরিচয় নিচ্ছে নীল ডাকাত বলে। কথা বললে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে কেউ কোন কথা বলছে না। টাকা পয়সা সব দিয়ে নীল ডাকাত কে। নতুন কাপড় চোপর ও নিয়ে নিচ্ছে। গফুর শফিকের কানের কাছে গিয়ে ফিস ফিস করে বলছে, "স্যার আপনি তো আইনের লোক, আমাদের বাঁচান, একটা কিছু করেন"। তবুও শফিক সাহেব কোন কথা বলছেন না। অবশেষে ডাকাত আসে গফুরের কাছে। ডাকাতের ভয়ে গফুর সব টাকা দিয়ে দেয়। কিন্তু ব্যাগে থাকা লাল কাতান দিতে অস্বীকৃতি জানায়। নীল ডাকাত গফুরের হাতা থাকা পিস্তল গফুরের মাথায় ঠিকিয়ে ধরে সজোরে। আর তাতে রক্তও বের হয় কিছুটা ............।

বাস ভর্তি লোক সব হা করে দেখে গফুরের কান্ড। এতক্ষেণে ডাকাতের হাত কাঁপছে। শফিক এবার বুঝে যায় এটা নকল পিস্তল। লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে ডাকাতকে ধরে ফেলে। বাসে থাকা সবাই এগিয়ে আসে এবার গণপিটুনি দেয়। পড়ে থাকা পিস্তল হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখে শফিক। একদম আসল পিস্তলের মতোই দেখতে। উপরের দিকে নিয়ে খেলনা পিস্তলে ট্রিগার চাপে। সাথে সাথেই প্রচন্ড শব্দে গুলি বের হয়। তার মানে শফিকের ধারনা ভুল ছিল। এটা আসল বন্দুক! কিন্তু গুলি কেন করলো না নীল ডাকাত??

জানতে হলে পড়তে হবে গল্পটি। সে সত্যটি জানলে আপনিও অবাক হতে বাধ্য।

প্রতিক্রিয়া:
সবচেয়ে ভাল লেগেছে এই গল্পটি। যেমন বর্ণনা তেমনি আবেগ। বর্ণনা পড়ে মনে হচ্ছিল নিজেও ঘটনার সাথে উপস্থিত আছি। আমার কাছে গল্পটিকে প্রথম অবস্থানের মনে হয়েছে।

ধন্যবাদ সবাইকে। আপনারাও আপনাদের মতামত জানাতে পারেন।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৫৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার লেখা প্রথম বই

লিখেছেন ফারহানা শারমিন, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৩



ছোটবেলা থেকেই প্রচন্ড রকম কল্পনাপ্রবণ আমি। একটুতেই কল্পনাই হারিয়ে যাই। গল্প লেখার সময় অন্য লেখকদের মত আমিও কল্পনায় গল্প আঁকি।আমার বহু আকাংখিত বই হাতে পেয়ে প্রথমে খুবই আশাহত হয়েছি। আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- নয়

লিখেছেন করুণাধারা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০২



আগের পর্ব: নতুন জীবন- আট

অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমার বোন পেট্রার জন্মকে স্বীকৃতি দেয়া হল। আমাকে জানানো হল আমার একটা বোন হয়েছে। আমি বোন দেখতে গেলাম, দেখি মায়ের পাশে ছোট একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন নীল আকাশ, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩৬



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×