somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আমার আমিতে আমিময়

৩০ শে নভেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

করোনাকালীন সময়ে যখন মুখে মাস্ক পড়া লাগত তখন থেকেই এই অদ্ভুত অভ্যাস দেখা দিল।মাস্ক পড়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাই পরিচিত মানুষরা,রিলেটিভরা এমনিকি আমার কাছের একবান্ধবী ও দেখি আমাকে চিনে না।বান্ধবী পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে আর আমি মাস্কের আড়ালে মুচকি মুচকি হাসছি।এর পর থেকেই যখন তখন অনেকেই দেখলেই তাড়াতাড়ি নাকের মাস্ক টেনে প্রায় চোখ পর্যন্ত উঠিয়ে আনি যাতে করে সামনের মানুষটা আমাকে না চিনে ফেলে। অনেকবার ভেবেছি আমি কি অন্যদের কাছে থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি? শেষে বুঝলাম আমি আসলে নিজের কাছ থেকে নিজেই পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

এভাবে পালিয়ে কতদিন আর বাঁচা যায়।ফোন আছে,ফেসবুক,নানা মেসেঞ্জার সাইট তো আছেই।তো সেখানে ও এই খেলা শুরু করে দিলাম।ফোন ধরা অফ,ইচ্ছা করেই ফোন সাইলেন্ট রাখি।অফিসের কাজে শুধু কথা চলত।কোন কোন সময় তো কথার মাঝেই ফোন কেটে দিয়ে বসে আছি।কেন জানি না আর কথা বলতে, কথা শুনতে ভাল লাগত না।পরে কেউ যখন জানতে চাইত অমুকদিন কথার মাঝে ফোন কেটে দিলাম কেন? তখন ভাব নিয়ে বলতাম, ব্যালেন্স ছিল না কিংবা ফোনের ঝামেলা ছিল।কয়েকদিন আগে ও আমার দেশের বাইরে থাকা বান্ধবীর সাথে কথা বলার মাঝেই ওয়াইফাই কানেকশন অফ করে দিয়ে বসে আছি। যখন সারা সপ্তাহে ফোন এভোয়েড করতাম তখন শুক্রবার অফডেতে সকালে টাইট করে নাস্তা খেয়ে তারপর সারা সপ্তাহের মিসডকল ঘেটে ঘেটে তাদেরকে কলব্যাক করে শর্টকাটে সরি আর হাই-হ্যালো বলতাম।

হুট করে কেন সবকিছু থেকে দূরে থাকছি কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখলাম অন্যদের সাথে ফোনে,মেসেঞ্জারে যখন বলি তখন বেশির ভাগ সময়ই সত্য বলিনা।ব্যাপারটা এমন ফোন দিয়ে কেউ যখন জানতে চায়, কেমন আছ? উত্তর দেই, ভাল আছি(কিন্তু আসলে আমি মোটেও ভাল নেই)।জব কেমন চলের জবাব দেই মোটামুটি (অথচ প্রায় দিনই মেনে হয় জব ছেড়ে দেই)।এমন টুকটাক মিথ্যা কথা বলা থেকে নিজেকে মুক্তি দিতেই মাস্কের আড়ালে চলে গেছি। আমার যখন টিনেজ চলছিল তখন আমি পুরাই এক্সট্রোভার্ট (বহির্মুখী) টাইপের ছিলাম।সারাদিন হাহা,হিহি চলত।ক্লাশে ননস্টপ কথা বলার জন্য আমার বাংলা টিচার কবিতাদিদি আমাকে টকিং মেশিন নাম দিছিল,মাঝে মধ্যে কানে ধরে দাঁড় করিয়ে ও রাখত।আমার স্কুলজীবন কেটেছে এক মিশনারি হোষ্টেলে। সেখানে আমাকে বানানো হইছে সেকেন্ড মনিটর। যার কাজ হলো যারা স্টাডি টাইমে কথা বলে তাদের নাম লিখে জমা দেয়া।অথচ নিজের বকবকানিই থামে না, অন্যদের মনিটর কিভাবে করব? এরপর কলেজ লাইফে এসে অ্যাম্বিভার্ট টাইপের (উভয়মুখী) হয়ে গেলাম। মুডের এমন অবস্থা এই গ্রীষ্ম, এই বর্ষা,এই শীত।কখনো অনেক আনন্দে থাকি কখনো কান্নাকাটি করে নায়িকা অঞ্জু ঘোষের(ছোটবেলায় আমি অঞ্জু ঘোষ হতে চাইতাম) মতন চোখ মুছি আবার আয়নায় দেখি কান্নাকাটি করার পর দেখি চেহারা্য় অন্যরকম ঝিলিক মারে। আর বয়স ত্রিশের কোটা পেরোতেই পুরাপুরি ইন্ট্রোভার্ট (অন্তর্মুখী) স্টেজে চলে গেছি এবং সেটা এখনো চলছে। দুনিয়ার সবকিছু থেকে যত গুটিয়ে নেওয়া যায় ততই শান্তি লাগে।

একটা সময় রাত দিন এক করে ব্লগে থাকা মানুষ কিভাবে জানি নিজেকে গুটিয়ে ফেললাম।নিজের বাড্ডে আর ব্লগ বাড্ডে জুলাই মাসে হওয়াতে সব সময় ব্লগ বাড্ডেতে ঘটা করে পোস্ট দিতাম।২০১৩ সালে লাস্ট ব্লগ বাড্ডেতে পোস্ট দিয়েছিলাম।যাইহোক,এখন ২০১৪-২০২৩ সাল থেকে সব অর্থাৎ ষষ্ঠ - পঞ্চদশ ব্লগীয় বর্ষপূর্তির আনন্দে অবশেষে পোস্ট দিলাম !:#P


সবাই ভাল থাকবেন......শুভ ব্লগিং

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:৫৬
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজধানীতে শিশু ধর্ষণ , নির্যাতন, হত্যাকান্ড ও মানুষরুপি কিছু জানোয়ারের কথা ।

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯

ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম , ইন্টারনেট ।

গতকাল ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছে এক রাশিয়ান শিশু। অভিযোগ পাওয়ার পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত গ্রেফতার করেছে নির্যাতনকারীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর-রাহমান

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:৪৬




আর-রাহমান চির দয়াময় যিনি
পৃথিবী ভরিয়ে দিয়ে লতায় পাতায়
মাটিকে জীবন্ত করে সবুজ শোভায়
করেন ধরনীতল অনিন্দ সুন্দর।
সৃষ্টি তাঁর অপরূপে সাজালেন তিনি
রাতের প্রকৃতি ভাসে চাঁদ জোছনায়
গ্রীষ্মের রোদের তাপে তরু-বনছায়
শান্তির শীতল বায়ু... ...বাকিটুকু পড়ুন

=সকল ছেড়ে যেতে হবে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৩:৫২



©কাজী ফাতেমা ছবি

কেউ রবো না এখান'টাতে
ইহকালের মোহ টানে
সাঙ্গ হবে ভবলীলা-
ভেসে যাবো মরণ বানে!

কেউ রবে না আপন হয়ে-
হাতটি ছেড়ে দেবে শেষে
যেতে হবে খালি হাতে
শেষের খেয়ায় একলা ভেসে!

সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অক্টোপাসের বাহুতে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:১২




রজর আলীর গাছীর বয়স সত্তুরের কাছাকাছি হলেও গায়-গতরে এখনো শক্তি সামর্থ্য সবই আছে। রোদে পুড়ে জলে ভিজে গড়া শরীরে কোন রকম বয়সের ভার চোখে পড়ে না। অগ্রাহায়নের শুরুতেই দুই গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। খেজুর

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:৪০



খুব পুষ্টিকর ফল খেজুর । সেই খেজুরের ট্যাক্স কমিয়েও রক্ষা নেই । খেজুর বিক্রেতারা খেজুরের দাম আরেক দফা দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের বিব্রত করেছে । সরকার কার্যত ব্যার্থ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×