হস্তরেখা ও ভাগ্য : পর্ব - ২
(পুরোনো পোষ্ট নতুন করে)
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করার পর একটা জিনিষ আমার মাথায় পোকার মত বসে গিয়েছিল। তা হলো গুপ্তবিদ্যা বা অধিবিদ্যা। যাকে সহজ কথায় বলি হস্তরেখা ও ভাগ্য সেই সাথে সংখ্যাতত্ত¡ নিয়ে প্রচন্ড উৎসাহ। রাতদিন এই বিষয়ে পড়াশুনা, গবেষনা, তর্ক, বিতর্ক আর বিভিন্ন মানুষের হাত দেখা ও মুখের গড়ন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা। রেজাল্ট ভাল হওয়ায় সুবাদে রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়ে (বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি তখনও) ভর্তি হলাম। কিন্তু ভাল লাগলো না। একদিকে আমার প্রেম অন্যদিকে আমার গুপ্তবিদ্যা চর্চায় ব্যাঘাত ঘটার কারণে প্রকৌশলী হবার খেয়াল মাথা থেকে বাদ দিলাম। প্রায় মাস তিনেক পর গেলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। কোন বিষয়েই ভর্তির তারিখ নেই। কয়েক মাস আগেই সব ডিপার্টমেন্টে ভর্তি শেষ। অগত্যা গেলাম সহজ কোন এক বিষয়ে ভর্তি হতে। পেলাম জিওগ্রাফী ডিপার্টমেন্ট। সেখানে ভাল ছাত্র ভর্তি হয় কম। ভূগোল বিভাগে তখন চেয়ারম্যান প্রফেসর সিরাজুল আরেফিন। সবকিছু খুলে বললাম ওনাকে। রেজাল্ট দেখলেন। দেখে সাথে সাথে ফোন করলেন ভিসিকে। ভিসি ওনাকে ভর্তি করানোর অনুমতি দিলেন। ভর্তি হয়ে গেলাম।
অনার্স পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথমে আমার নাম দেখে সম্ভবত উনি একটু বেশীই খুশী হয়েছিলেন। অফ টাইমে আমাকে ভর্তি করে তিনি কাজটা খারাপ করেননি ভেবে হয়তো স্বস্তি পেয়েছিলেন। রাশিফল ও হাত দেখা নিয়ে নিয়ে তখনও আমার কৌতুহলের শেষ নেই। তাই রেজাল্ট আমার কাছে তেমন একটা আশানুরূপ হয়নি। কারন এক স্বর্গীয় প্রমের নেশায় আমি তখন বুদ। যদিও সেই প্রেম শুধু চিঠির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমার প্রেমের নৌকা তখন ভাটির টানে দিশেহারা। এই সময় খবর এলো নাজমার বিয়ে।
আমার তখন মাষ্টারর্স পরীক্ষা চলছে। তিন পেপার হয়ে গেছে। প্রাকটিক্যালসহ আরও এক পেপার বাকী। সেই সময় একদিন বিকেলে নাজমা আর সুফিয়া এলো আমাদের বাসায় বিয়ের কার্ড দিতে। আমি বাসায় ছিলাম। ওরা আম্মার সাথে বিয়ের নানা বিষয় ও ছেলে কি করে এসব নিয়ে গল্প করছিল। ছেলে কানাডা থাকে। দেশের বাড়ী দিনাজপুর। বর যাত্রী আসবে দিনাজপুর থেকে। বাদ জুমা বিয়ে ও অনুষ্ঠান। আমাদের পুরো পরিবারের দাওয়াত দুপুরের অনুষ্ঠানে। বিয়ের পর বউ নিয়ে ছেলে কানাডা চলে যাবে।
নাজমার সেদিনের আগমনের মূল কারণটা অবশ্য ভিন্ন। আমাকে একটু ঠেস দেয়া, জানাতে আসা যে তার কানাডা প্রবাসী এক ছেলের সাথে বিয়ে হচ্ছে। এই বাজারে স্বামী হিসেবে নিঃসন্দেহে সেই ব্যক্তি আমার চাইতে অনেক বেশী গ্রহণযোগ্য। অন্তত তাদের কাছে তাই মনে হয়েছে। আর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য আমাকে হাত দেখিয়ে আগাম কিছু জেনে নেয়া। যেহেতু কানাডা চলে যাবে তাই ভবিষ্যতটা কেমন হবে, কেমন থাকবে ওখানে, সুখী হতে পারবে কিনা- ইত্যাদি বিষয় জেনে নেয়া। তখন আমার পরিবার ও চেনা জানা অনেকেই জানে আমি হাতের রেখা বুঝতে পারি। অনেককিছু ভলতে পারি। যাই হোক আমি নাজমার হাত দেখতে মোটেও আগ্রহী ছিলাম না। কারণ আমি পরীক্ষার পড়া নিয়ে তখন ভীষণ ব্যস্ত। সুফিয়া আর আমার মা দুজনেই পীড়াপীড়ি করাতে আমি দেখতে রাজি হলাম। হাতের রেখাগুলো ভাল করেই দেখলাম। আমার চোখে তখন নাজমার হাতে অনেক কিছুই দেখার ছিল। অনেক বিষ্ময় অপেক্ষা করছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



