হস্তরেখা ও ভাগ্য : পর্ব - ৪
(পুরোনো পোষ্ট নতুন করে)
শুক্রবার। বাদ জুমা নাজমার বিয়ে। আমাদের বাসার সবাই নাজমাদের ওখানে। আমি আর ছোট চাচী বাসায়। আগামীকাল আমার পরীক্ষা তাই পড়া নিয়ে ব্যস্ত। দুপুরে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে সকলের ফিরে আসার কথা। অথচ দুপুর গড়িয়ে বিকেল প্রায়। কারো ফেরার নাম নেই। আমার উতকন্ঠা বাড়ছে। বিয়ে বাড়ী থেকে কেউই বাসায় ফিরছে না। আমার মনে তখন রীতিমত তোলপার শুরু হয়ে গেছে। আমি যা যা বললাম তা কি সত্যি হয়ে গেল? আমি মনে প্রাণে চাচ্ছিলাম যেন সব কিছু মিথ্যে হয়ে যাক। হঠাৎ দেখি রাজা ভাই হন্তদন্ত হয়ে বাসায় ফিরলো। সোজা আমার ঘরে। আমাকে বললো খারাপ খবর আছে। নাজমার বিয়ে হচ্ছে না কানাডার সেই ছেলের সাথে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? কি হয়েছে? রাজা ভাই যা বললো সংক্ষেপে তা হলো, ছেলের মা দিনাজপুর থেকে ফোন করেছিল দুপুরে। উনি বেশ কিছু গোপন তথ্য জানিয়েছে। তাদের ছেলে বিয়ের নামে নাজমাকে ঠকাতে যাচ্ছিল। কারণ তাদের ছেলে অলরেডী কানাডাতে বিয়ে করেছে। একটা ছেলেও আছে। টাকা আর যাওয়ার খরচ উঠানোর জন্য সে সবাইকে না জানিয়ে আরেকটা বিয়ে করতে যাচ্ছিল। আমি মা হয়ে একটা মেয়ের কিভাবে এতো বড় সর্বনাশ করতে পারি। আমার ছেলে একটা কুলাঙ্গার। তাই আপনাদের সব কথা জানিয়ে দিলাম। আপনারা আপনাদের মেয়ের অনত্র বিবাহের ব্যবস্থা করুন। ভদ্রমহিলা কাঁদছিলেন। আর কোন কথা বলেননি।
রাজা ভাই আরও বললো, নাজমা টুক টুকে লাল বেনারসীতে বউ সেজে বসেছিল। এই কথা শোনার পর নাজমা আর ওর মা দুজনেই অজ্ঞান। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান ফেরে। আবার অজ্ঞান হয়ে যায়। নাজমা বিড় বিড় করে বলছিল, বাবুল ভাই বলেছে- এই বিয়ে হবে না। এই কথা বলে আবার সে জ্ঞান হারায়। রাজা ভাই এসেছে আমার কাছে নাজমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আমাকে এই বিয়েতে রাজী করাতে। আমি যেন দয়া করে ওই বিয়ের পিড়িতে যেয়ে বসি। রাজা ভাই ইতিমধ্যে আব্বার সাথেও কথা বলেছে। আব্বা তখন ব্যবসার কাজে চট্টগ্রামে। আব্বা ফোনে বলে দিয়েছেন, আমি এসব কিছুই জানিনা। আমি এর মধ্যে নেই। যা বলার ছেলে বলবে। ছেলের এখন পরীক্ষা চলছে। ছেলে নিজে যা ভাল বোঝে তাই করবে।
আমি রাজা ভাইকে বকা দিয়ে বাসা থেকে বিদায় করলাম। কারণ আমি আমার অনিন্দিতার কাছে আগে থেকেই প্রতীজ্ঞাবদ্ধ। তাই নাজমাকে বিয়ে করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। তাতে অবশ্য সেদিন নাজমার বিয়ে আটকে থাকেনি। নাজমার এক চাচাতো ভাই ইকবাল চট্টগ্রাম থেকে এসেছিল বিয়ে খেতে। সেই ইকবাল পরিবারের চাপে পড়েই নাজমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। বিয়ে হয় সেই রাত্রেই। আমাকে গাড়ী বাড়ী দেবে বলে রাজা ভাই প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। আমি তখন একজনের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। আমার সত্ত্বাকে কোন কিছুর বিনিময়ে বিক্রি করতে পারিনি। সেদিন মনে হয়েছিল হাত দেখে আগাম কিছু বলা ঠিক না। বর্তমানে সেই নাজমা আর ইকবাল নিউইয়র্কের বাসিন্দা। হয়তো ভালই আছে। একটা মেয়ে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। আর হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি। আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে নাজমা ইকবাল দুজনেই এসেছিল। কোলে ছিল ফুটফুটে একটা মেয়ে। বিয়ের দিন কয়েক পরে আমরা সবাই মিলে কক্সসবাজার বেড়াতে গেছিলাম। নাজমার আবদার ছিল আমি যেন আমার বউয়ের মতো একই পোজে ওর ছবিগুলো তুলে দেই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



