somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

শুধুই কি ফিকশন? নাকি সালমান শাহ ফ্যানদের জন্য স্পেশ্যাল ট্রিট!

০৯ ই মার্চ, ২০২৩ রাত ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




হ্যাঁ, রিভিউ লিখতে যাচ্ছি সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ ‘বুকের মধ্যে আগুন’ নিয়ে। খুব ভালো হত যদি এই রিভিউ দুইভাগে বা দুইভাবে লেখা যেত। কারণ সালমান শাহ ফ্যানদের জন্য এই ওয়েব সিরিজটি ছিলো একটি স্পেশ্যাল ট্রিট। আর বাকিদের জন্য মাত্র একটি ওয়েব সিরিজি, অথবা স্রেফ একটি ফিকশন ছাড়া আর কিছুই নয়।

সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত সিনেমা ‘বুকের ভিতর আগুন (১৯৯৭)’ সিনেমা এর নাম থেকে এই ওয়েব সিরিজটির নাম ধার করা হয়েছে বলে আমার ধারণা। প্রধান প্রধান চরিত্রে আছেন, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, ইয়াশ রোহান, আবু হোরায়রা তানভীর, তমা মির্জা, শাহনাজ সুমি, তানিয়া আহমেদ, তৌকীর আহমেদ, তারিক আনাম খান, গাজী রাকায়েত প্রমূখ।

গত ২ মার্চ অনেকটা নীরবেই প্রকাশ হলো শাহরিয়ার শাকিল প্রযোজিত এবং তানিম রহমান অংশু নির্মিত আট পর্বের এই সিরিজ ‘বুকের মধ্যে আগুন’। ওটিটি প্লাটফর্ম ‘হইচই বাংলাদেশ’।


মুক্তি

সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন? নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে? – এই দুই প্রশ্নের উত্তর আজও কোনো বাংলাদেশির কাছে নেই। তবে সিনেমাপ্রেমী সবার কাছেই সালমান শাহ কে হারানোর একটি হাইপোথিসিস আছে। সিরিজের মধ্যেও এমন মন্তব্য করা হয়, যা লেখার পরিপক্কতা প্রমাণ করে।

অন্যদিকে সালমান ভক্ত এবং স্বজনদের থেকে বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় মুক্তি জটিলতায় ছিলো এই ওয়েব সিরিজটি। এমনকি মুক্তির পরেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চলছে নানাবিধ আইনী জটিলতা। যদিও অভিনেতা অপূর্ব পরিষ্কার করে বলেছেন, “এটা শুধুমাত্র একটি ফিকশন।”


আত্মহত্যা নাকি খুন?

একজন পরিচালকের কাজ নয় তদন্ত করা বা আইনী পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু এটাও তো সত্য যে, যদি শুধুমাত্র ‘আত্মহত্যা’ হত তাহলে এত বছর পরেও এর সুরাহা হলো না কেন? সে বিষয়ে নিশ্চয় একজন পরিচালক তদন্ত করে আইনী জটিলতা থেকে সত্য কে বের করে দেখাতে পারবেন না। বা, এটা তাঁর কাজও নয়। একজন লেখক, একজন পরিচালক এবং একজন অভিনেতার কাছ থেকে তাঁর কাজটুকু বুঝিয়ে পেলেই তো চলছে! পাশাপাশি এটা যে বাংলাদেশের প্রশাসনের ব্যর্থতা সেটা স্বীকার করবার মানসিকতা তেমন দেখা যায় না।

আমাদের ‘রানা প্লাজা’, ‘শনিবার বিকেল’ আটকে থাকবে ‘সেন্সরশিপ’ এর নাম করে। এতে ভেঙ্গে পড়া বাংলা সিনে-ইন্ডাস্ট্রি ‘পাঠান’ সিনেমা আমদানি করার জন্য মুখিয়ে থাকবে… কারণ, এই পরিমাণ সেন্সরশীপে কিছু হয় না, কিছুই হয় না। শিল্পের বৈশিষ্ট হচ্ছে, মুক্ত থাকবে। আধা আবৃত, আধা অনাবৃত বলে কিছু হয় না। শিল্প, স্রেফ এবং স্রেফ একটি শিল্প হয়। শিল্প নিষ্ঠুর হয়, এত কোমল সম্ভবত কখনোই হয় না, হতে পারেও না।


প্লট

গল্পটা খুব চেনা। সালমান শাহ কে ঘিরেই প্লটে কাজ করা হয়েছে এটা স্পষ্ট। একজন সালমান ভক্ত হিসেবে যতটুকু জানি ততটুকুই। কোথাও কলম খাটিয়ে বাড়াবাড়ি করবার বৃথা চেষ্টা করা হয় নাই। উল্টো প্রশংসার দাবী রাখেন স্ক্রিপ্ট রাইটার। বিশেষ করে সবগুলো চরিত্রের সাথে ন্যায় করাটা এত সহজ ছিলো বলে মনে হয় না। ফলে ন্যায়-অন্যায়ের মাঝের যে অংশটুকু আছে তার মাত্রা বেড়ে যায় তাই সময় সময় একঘেয়েমি এসেছে। কারণ গল্পটা শুধুমাত্র একজন সুপারস্টার কে নিয়ে নয়, আমাদের ভালোবাসার একজন মানুষকে নিয়ে।

গল্পে বিশাল ব্যর্থতা সালমান শাহ চরিত্র কে খুব বেশি সময় না দেওয়া। এই চরিত্র উন্নয়নে আরো সময় এবং আরো পরিষ্কার শব্দ লাগতো তুলে ধরতে। এখানে বাজেট কে দায় করা যেতে পারে। ইয়াশ রোহানের চেষ্টাটুকু চোখে পড়লেও তা খানিক সময় পরপর পিছলে যাচ্ছিলো। এত কম স্ক্রিন টাইমে ইয়াশ রোহান যেটুকু করেছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে।


অভিনয়

‘বড় ছেলে’ নাটক খ্যাত জিয়াউল ফারুক অপূর্ব সাম্প্রতিক সময়ে যে ভিন্ন ধারার কাজ শুরু করেছেন এবং নিজেকে ভেঙ্গে সাজাতে শুরু করেছেন তা আরো পরিষ্কার হওয়া যায় ‘ট্রল’ ও ‘গেম-ওভার’ এই কাজগুলো দেখলে। বাংলা নাটকে বরাবর তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এবার বাজিমাত ওয়েব সিরিজেও। নিজ চরিত্রকে সময় দেওয়া, সেটাকে আপন করে নিয়ে অভিনয়ে ফুটে তুলেছেন যথাযথভাবে। ফলাফল, ওপেনিং বড় আকারে হয়েছে কোনো বিশেষ মার্কেটিং ছাড়াই (সূত্র: হইচই বাংলাদেশ)।

ইয়াশ রোহান – আমাদের একটি ডায়ালগ নির্ভর সালমান শাহ কে উপহার দিয়েছেন। হাতে সিগারেট এবং সালমান শাহের বলার ভঙ্গি বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। সিরিজের মধ্যে একটি সিনেমার দৃশ্য ছিলো তাও খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ ইয়াশ রোহান এবং টিম ‘বুকের মধ্যে আগুন’। মনে হয়েছে, কোন দেশের নয়; নির্দিষ্ট কোন এক এলাকার সুপারস্টার। সালমান শাহ’র সেট আর সেখানে কিছু মানুষের ভিড় দেখাতে সক্ষম হলেও প্রযোজকের পকেট ফাঁকা থাকায় আর বেশি দেখানো সম্ভব হয় নি।

এছাড়া সালমান শাহের স্ত্রীর চরিত্রে আছেন তমা মির্জা। নায়কের মা নীলা চৌধুরীর মতো হাজির হয়েছেন তানিয়া আহমেদ। আছে সালমান শাহের নায়িকা শাবনূরের মতো চরিত্রও, শাহনাজ সুমি হাজির হয়েছেন নায়িকার আদলে। তৌকীর আহমেদ, তারিক আনাম খান, গাজী রাকায়েতসহ আরও অনেককে দেখা যায় এই সিরিজে।

আলাদা করে শুধু প্রশংসা করা যায় শাহনাজ সুমি কে ‘শবনম/শাবনূর’ চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করবার জন্য। বাকিদের অভিনয় ম্লান লেগেছে, অথবা ‘ঠিকঠাক’ বলা যেতে পারে।


চিত্রনাট্য

একাধিক সাব-প্লট থাকায় মূল প্লট প্রাণ পেয়েছে। কোথাও ধাক্কা খেয়েছে বলে আমার চোখে অন্তত ধরা পড়েনি। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় আরো দ্রুত গতির স্ক্রিনপ্লে হলে আমাদের মত দর্শকদের জন্য একটু সুবিধে হত। অন্যদিকে কিছু বিষয় খুব দ্রুত পরিষ্কার করা গেলেও কিছু বিষয় ঝাপসা থেকেই গেছে। তবে চেনা গল্প তাই এই গল্পটা ধরতে আমার জন্য খুব বেশি একটা বেগ পেতে হয় নি।

এছাড়া প্রযোজক যে সাহস করেছেন এটাই তো অনেক! কিন্তু বাজেট সত্যিই খুব কম ছিলো। এই বাজেটে সালমান শাহ কে পাওয়া যায় না। হোক সেটা ‘নকল’!


মতামত

অনেকদিন পর বাংলা সিনে-ইন্ডাস্ট্রির এমন সাহসী পদক্ষেপ সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। সালমান শাহ কে পুনরায় আমাদের কাছে ফিরে আনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এভাবে বারেবারে তিনি যেন আমার মত সকল সালমান ভক্তদের কাছে ফিরে আসেন। ‘সালমান’ শুধু একটি নাম নয়, আমাদের আবেগ এবং ভালোবাসা।

আর এই সিরিজটিকে ১০ এ ৭ দিচ্ছি। ৩ কাটলাম ইয়াশ রোহানের আরো প্রস্তুতির দরকার ছিলো এছাড়া বাজেট এবং লেখার মধ্যে ‘Self-Censorship’ নেবার জন্য। শুভকামনা ‘টিম – বুকের মধ্যে আগুন’।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০২৩ রাত ১১:১০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আলেম হতে হিকমাতের সাথে অভিন্ন ফিকাহের এলেম লাগে বিধায় চরমোনাই ও জমিয়ত নেতারা আলেম নয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০৫



সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামপন্থী মানে কি?

লিখেছেন মুনতাসির, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৯

সংবাদের শিরোনামে প্রায়ই দেখি— ইসলামপন্থী দল, ইসলামপন্থী রাজনীতি, ইসলামপন্থীদের কর্মসূচি। শব্দটা পড়লেই একটা প্রশ্ন জাগে: এরা কারা? ইসলামপন্থী মানে আসলে কী? এনারাই কি ইসলাম মানেন? তাহলে বাকিরা কি ইসলামবিরোধী?

আরও একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী আন্দোলনের প্রস্থান: বিভ্রান্তির অবসান, স্পষ্টতার শুরু

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট ছেড়ে দেওয়ায় এক দিক দিয়ে বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হলো। রাজনীতির স্বার্থে মুসলমানদের ঈমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

তায়াম্মুম: ইসলামী শরীয়তের সহজীকরণ নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫

তায়াম্মুম: ইসলামী শরীয়তের সহজীকরণ নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ

ছবি সংগৃহীত।

ভূমিকা

ইসলাম একটি বাস্তবমুখী, মানবকল্যাণমুখী এবং সহজীকরণভিত্তিক জীবনব্যবস্থা। এর ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর কখনোই তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

?

লিখেছেন স্প্যানকড, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৭



ছবি নেট



কবে যে ছুঁয়েছি বিষের পেয়ালা
ঠিক মনে নেই
তবে বিষ ছড়িয়ে গেছে সারা গায়
এ বেশ সকলে টের পায়।

কবে যে কাকে খেয়েছি শেষ চুমু
কবে যে কাকে বলেছিলাম ভালোবেসে
আয়,
একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×