somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প- ভুলভুলাইয়া

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(১)
শরৎকাল কখন এসেছিলো তা খেয়াল না করলেও চলে যাবার সময় দিঠির মনে হলো শরৎকালে শহরের কিছু জায়গায় খুব চমৎকার কাশফুল ফোটে। শাদা কাশফুলের বনে আঁচল ছড়িয়ে ছবি না তুলতে পারলে নিভৃতচারী এই ঋতুটিকে সঠিক মর্যাদা প্রদান করা হয় না। বিয়ের দুই বছরে রেজাকে বেশ কবার সে শরৎ উদযাপনের আবদার করেছে, কিন্তু সে খুব একটু গা করে নি। কারণ, কাশবনে যেতে হলে দিনের বেলা যেতে হবে, আর দিনের বেলা যাওয়া মানে ছুটির একটা দিন মাটি। শাদা ফুল, নীল আকাশের প্রতি রেজার খুব একটু অনুরাগ নেই। এর চেয়ে বরং একটা দিন ঘুমিয়ে কাটালে শরীর এবং মন সতেজ থাকে। গত দুই বছরে নানা অজুহাত দেখিয়ে চাতুর্যের সাথে এড়িয়ে যেতে পেরেছিলো। কিন্তু এবার আর তা সম্ভব হলো না। কারণ এবার দিঠির শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওর সাথে যোগ দিয়েছে প্রিয়তম বান্ধবী রাজিয়া। রাজিয়াদের নতুন বাসা কাশবনের একদম কাছেই। আর সামনে একটি ছুটির দিনও আছে। শুধু তাই না, রাজিয়ার বাকপটু এবং আড্ডাপ্রিয় বর রিয়াজ কথার কৌশলে মোহিত করে ফেলেছে দুই নারীকে। স্বপ্ন দেখিয়েছে, সেখানে গেলে কী এক মায়াময় পরিবেশ তৈরি হবে, আর তাদের কত চমৎকার ছবি উঠবে! নারীদ্বয় এবার দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। তাদেরকে আর টলানো যাবে না। এবার আর অনুরোধ নয়, তারা রীতিমত ঘোষণা দিয়ে বসলো অক্টোবরের এক তারিখে খিলগাঁও লেকসিটির বাসাটিতে তারা সমবেত হবে।

কথা ছিলো তারা সকাল সকাল পৌঁছে যাবে, তারপর বন্ধুত্বের আনুষ্ঠানিকতা চুকিয়ে দুপুর নাগাদ রওনা দেবে। কিন্তু দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তাদের উৎসাহ বেড়ে চললো। এত আঁটোসাটো সময়সূচীতে হয় না কি! আগের রাতটা থেকে যাও? সারারাত কথা হবে, গান হবে, অশ্লীল রসিকতা হবে, প্রচুর হাসাহাসি হবে! ঠিক আছে, তাহলে তাই সই!
অবশেষে এলো সে রাত। এলো মুরগীর মাংস এবং আতপ চালের ভাত। রেজা সবজি খায় না বলে তার বান্ধবী তাকে ভর্ৎসনা করলো। দিঠি মিষ্টি বেশি খায় বলে মুটিয়ে যাচ্ছে বলে রিয়াজ খবরদারি করলো। তা দেখে আবার রাজিয়া রিয়াজের খাদ্যে অরুচি এবং শীর্ণ স্বাস্থ্য নিয়ে ফোড়ন কাটলো। রেজা এসব দেখে মওকামত একটি অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ রসিকতা করে সবাইকে খুব হাসালো। মোটামুটি উৎসবমুখর পরিবেশ। রাতের বেলা অবশ্য যতটা সুরগানগল্পময় মোহনীয় পরিবেশ আশা করা গিয়েছিলো ঠিক তেমনটা পাওয়া গেলো না। চলে আসে নানা কথা। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার আশঙ্কা, দেশের বিবাদমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসারে নতুন অতিথি এলে কীভাবে সামলাবে এত খরচ, ঢাকা শহরে থাকাটাই এক ঝক্কির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, শেষ পর্যন্ত গ্রামেই চলে যাবে না কি? কিন্তু গ্রামেও জমিজমা নিয়ে নানারকম ক্যাঁচাল লেগে আছে। এসব আলোচনায় ওদের কণ্ঠ শুস্ক হয়ে আসে। ওরা গলা খাকারি দেয়। পানি খায়। গলা ছেড়ে গান গাওয়া হয় না। রাজিয়া গুনগুন করে সুর ধরে “ভালোবাসি ঐ সবুজ মেলা/ প্রাণ জুড়ানো তার শ্যামল ছায়া...” রেজা সুর মেলাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। ওদের হাই ওঠে। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গিয়ে সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওরা নিজ নিজ কক্ষে গিয়ে সঙ্গম করে।
(২)
-এ্যাই, তোরা তাড়াতাড়ি ওঠ! আরে ওঠ না! এদিকে কী কাণ্ড হয়ে যাচ্ছে!
কী হলো আবার? ভূমিকম্প, নাকি সুনামি? সকাল সকাল ওরা রাজিয়ার এমন চিৎকার চেচামেচিতে সন্ত্রস্ত হয়ে উঠলো।
-কী ব্যাপার? কী হচ্ছে পৃথিবীতে?
ওদের উদ্বেগাকুল জিজ্ঞাসার জবাবে জানা যায় আকাশ বেশ মেঘলা হয়ে এসেছে, এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর জোরালো বৃষ্টির আশঙ্কা করছে। এককালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করা একটি বহুল চর্চিত নাগরিক অধিকার ছিলো। কিন্তু এখন প্রযুক্তির উন্নয়নে এসবকে গুরুত্বের সাথে নিতে হয়। কিন্তু তাই বলে এই সাত সকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ভেবে আরামের ঘুমটা নষ্ট করার কোন মানে হয়? আক্ষরিক অর্থেই সাত সকাল তখন। সাতটা বেজে পনের।
-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে জেনে খুবই খারাপ লাগলো। আমি আর ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নিয়েই এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত দুশ্চিন্তা শুরু করবো।
রেজা আশ্বাস দিলো।
-এ্যাই, ওসব আলসামী রাখ! ওঠ এখনই! তাড়াতাড়ি রওনা না দিলে কাশবন দেখা লাটে উঠবে। ওঠ বলছি!
রাজিয়ার সাথে এবার তার সখিও যোগ দিলো।
-হ্যাঁ, ও ঠিকই বলেছে। এখন না রওনা দিলে পরে দিনটাই মাটি হবে। ওঠো প্লিজ! অনেক বৃষ্টি হবে আজ। আকাশ ভীষণ মেঘলা। প্লিজ ওঠো!


মিনিট ত্রিশ পরে ওরা যখন একটি গাড়ি ভাড়া করে তাতে চেপে বসলো, তখনও আকাশের বিষণ্ণ ভাব কাটে নি। এতে অবশ্য ওদের উৎসাহ আরো বেড়ে গেলো! এমন মেঘমেদুর আকাশে কাশবন দেখতে একটা অন্যরকম অনুভূতি হবে। কাশবন খুব বেশি দূরেও নয়। বাসা থেকে গাড়িতে উঠলে বড়জোর মিনিট পাঁচেক লাগবে পৌঁছুতে। গাড়িটা চমৎকার এবং আরামদায়ক। আশেপাশের স্বচ্ছ বিষণ্ণতা ওদের প্রফুল্ল করে তুললো। মনে মনে সবাই ভাবলো, কাশবনে যাবার পরিকল্পনাটা করে একটা বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছে! ওদের প্রফুল্ল আলাপ শুনে ট্যাক্সির ড্রাইভারেরও অংশ নিতে ইচ্ছে করলো।
-এই সময়টায় আসলেই খুব সুন্দর লাগে। আপনারা আগে গেছিলেন এইখানে?
-না, আমরা গত বছরের এই সময়টায় এখানে ছিলাম না।
রেজা উত্তর দিলো।
রিয়াজ তো কথা পাবার মানুষ পেয়ে খুব খুশি! সোৎসাহে চালকের ঠিকুজির খবর নেয়া শুরু করলো। চালকের জেলা তার জেলা থেকে মাত্র দুইশ কিলোমিটার দূরে, এই নিবিড় আত্মীয়তার উৎস জেনে তার চিত্ত উদ্বেলিত হলো। অন্যরাও অল্প সময়ের মধ্যেই চালককে তাদের একজন করে নিলো। কাশবনের একদম কাছাকাছি এসে গেছে ওরা, তখনই শুরু হলো বৃষ্টি। তুমুল বৃষ্টি। এমন অবস্থায় নামার প্রশ্নই ওঠে না! কিন্তু এত কাছাকাছি এসে তো ফিরেও যাওয়া যায় না! কী করা যায়?
-ড্রাইভার সাহেব, আপনি গাড়ি চালাতে থাকেন। ধীরে ধীরেই চালান। আমরা বৃষ্টি থামার আগ পর্যন্ত ঘুরি।
রাজিয়ার প্রস্তাবটা সবার মনঃপুত হয়। গাড়ি করে ঘোরার জন্যে বেশ ভালো একটা দিন। শহরের এ অংশটা বেশ নিরিবিলি। আর কিছুদূর গেলেই মেট্রোপলিটন এলাকার সমাপ্তি। এমন নিরালা দিনে, বৃষ্টির মধ্যে, ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি করে ঘুরে বেড়ানোটা সুন্দর।
বৃষ্টি বেড়েই চলেছে। আকাশের গায়ে ছোপছোপ ঘন মেঘের আনাগোনা। ওরা কাশবন পেরিয়ে গেছে।
-আর কিছুদূর আগাইলেই নারায়নগঞ্জ।
ড্রাইভার জানালো।
এমন বিষাদঘন আনন্দের উপলক্ষ্য ওরা এর আগে পায় নি। তাই ওদের মধ্যে বেশ ফূর্তি।
-আরে চলেন নারায়নগঞ্জেই যাই। কী আছে দুনিয়ায়!
রেজা এই প্রথমবারের মত এই সফর নিয়ে তার উচ্ছ্বাস জানালো।
-নারায়নগঞ্জে কিন্তু নেটওয়ার্ক নাই। নেটওয়ার্কের বাইরে তো যাইতে পারুম না।
-নারায়নগঞ্জ কতদূর এখান থেকে? নেটওয়ার্কের আওতায় আর কতক্ষণ থাকতে পারবো আমরা?
-এই ধরেন আরো মিনিট বিশেক। বৃষ্টি তো থামার লক্ষণ দেহি না। আমি আস্তে ধীরেই চালাই।
-হ্যাঁ চালাইতে থাকেন।
চালকের সহৃদয় সহযোগিতায় সন্তুষ্ট হয় রিয়াজ।
দিঠি চুপচাপ। সে কথা বলছে না। তাকে দেখে মনে হচ্ছে আবিষ্ট হয়ে আছে একদম।
-কী সুন্দর, কী ভীষণ সুন্দর চারিপাশ!
তার কণ্ঠে মুগ্ধতা।
বৃষ্টি কেটে গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে। নির্জন থেকে নির্জনতর হচ্ছে চারিপাশ। এত সুন্দর রাস্তাঘাট, এত বিস্তৃত শূন্যতা চারপাশে, কোথায় ছিল এসব? ওরা হারিয়ে যাচ্ছে নিজেদের মধ্যে। ফিরে পাচ্ছে হারানো সময়ের সজীবতা, ফিরে পাচ্ছে উষ্ণতা।
-কী রে, তুই তো আসতেই চাস নাই, এখন দেখলি, ভালো লাগছে না ঘুরতে?
রাজিয়া টিপ্পনি কাটলো রেজাকে। ওর কথা ধরে ফেললো রিয়াজ।
-হ্যাঁ, তা তো ভালো লাগছেই, কিন্তু সুন্দরীতমাগণ, তোমরা যে এত শাড়ী টাড়ি পড়লে কাশবনে ঘুরবে বলে, তার কী হবে বলো তো? এই বৃষ্টি তো সহজে থামবে না! লেকসিটি, বসুন্ধরা পেরিয়ে গেলাম, সামনেই রূপগঞ্জ, এরপর তো আবার ব্যাক করতে হবে। আমরা ঘরে ফিরে যাবো, আর তোমরা আমাদের জন্যে খাবার তৈরি করবে।
কাশবনের প্রসঙ্গ তোলায় নারীগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। রিয়াজকে মোক্ষম কোন জবাব দেয়ার চেয়ে পরবর্তী পরিকল্পনাটা ঠিকঠাকমত করার দিকে তাদের মন দিতে হয়। সত্যিই তো, এক পথে আর কতক্ষণ ঘুরবে! রুপগঞ্জ ছাড়িয়ে তো যাওয়া যাবে না। ফিরতে হবে আবার। ওদের উদ্বিগ্নতা দেখে উপায় বাতলে দিলো চালক।
-দিয়াবাড়ি চলেন! সেইখানে সুন্দর কাশবন আছে। অনেক বড় জায়গা।
-দিয়াবাড়ি! কিন্তু সে তো মেলা দূর!
রেজার ঘরকাতুরে মন সতর্ক সংকেত দিয়ে উঠলো।
-আররে দোস্ত, দূর হলেই তো ভালো!
রাজিয়া অত্যন্ত উৎসাহিত!
-এই বৃষ্টি এত সহজে থামবে ভেবেছিস? এর মধ্যে আমরা আরো কিছু পথ সামনে এগুবো, তারপর আবার ব্যাক করবো। প্রায় মিনিট চল্লিশেক লাগবে। এতক্ষণ বৃষ্টি থাকবে না। দারুণ প্ল্যান! ড্রাইভার ভাইজান, আপনি দারুণ প্ল্যান দিছেন! আপনার নাম কী?
-আমার নাম ভুলু। ভুলু মিয়া।
স্মিত হেসে সে জানালো। নাম বলার মধ্যে হাসির কী আছে, কে জানে!
-ভুলু ভাই, চলেন ঘোরা যাক আরো কিছুক্ষণ!
ড্রাইভার সাহেব থেকে ভুলু ভাইয়ে উন্নীত হবার পর সে তার অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুলে বসলো।
-দিয়াবাড়ি জায়গাটা ভালো। ঢাকায় এরকম জায়গা নাই। আপনেরা আগে যান নাই ওখানে, না?
-না, যাওয়া হয়ে ওঠে নি। এত দূরে, আর এত নির্জন, শুনেছি নানারকম ক্রাইমও হয়!
দিঠি কি ভয় পাচ্ছে ওখানে যেতে?

(৩)
-ক্রাইম হয় না, এই কথা বলবো না, তবে ক্রাইম সবখানেই হয়। ক্রাইম হয় না এমন জায়গা নাই ঢাকায়। আমি বিশ বছর ধইরা গাড়ি চালাই। অভিজ্ঞতা থেকেই বললাম।
বোঝা গেলো, প্রচুর ক্রাইমের প্রত্যক্ষদর্শী হবার অভিজ্ঞতা নিয়ে সে বেশ তৃপ্ত।
-থাক, আপনার অভিজ্ঞতা আর না বাড়াই ভালো। ইনাদের বৃষ্টির মধ্যে কাশবন দেখার শখ হইছে, চলেন দেখে আসি।
-কু-ডাক দিচ্ছো কেন? এতক্ষণ তো ভালোই ছিলা!
রেজাকে ধমকে দেয় দিঠি।
তবে দিঠির ধমকে কাজ হয় না। ক্রাইম নিয়ে আলোচনা করা, ভয় পেয়ে শিউরে ওঠা, এবং মানবজাতির যাবতীয় হীনপ্রবৃত্তিকে নিয়ে বিষোদগার করা, এই আলোচনাচক্র চলতে থাকলো। ভুলু মিয়া বুদ্ধিমান কথক। সে শ্রোতার চাহিদা অনুযায়ী মালমশলা মিশিয়ে ঘটনা পরিবেশিত করতে লাগলো।
-তো এরপর হইলো কী, সেই ঘটনার পর থিকা আলমাস মিয়াকে আর এলাকায় দেখা যায় নাই। আমরা সবাই ধইরা নিলাম শামসাদের গলা সেই কাটছে। শুধু গলা কাইটা ক্ষান্ত হয় নাই, চোখ উপড়ায় ফেলছে। কী অমানুষিক কান্ড ভাইবা দেখেন!
সবাই একমত হলো, আসলেই খুব অন্যায্য কান্ড ঘটিয়েছে আলমাস মিয়া। সামান্য বাদানুবাদের জন্যে এভাবে প্রতিশোধ নিতে হবে? তারা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পাশাপাশি এমন আরো গল্প শুনতে উৎসাহ প্রকাশ করলো। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অপরাধজগতে এক চক্কর ঘুরে আসার পর তারা শহরতলী থেকে মূল শহরে প্রবেশ করলো। বৃষ্টি ততক্ষণে পড়ে এসেছে। সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত চারপাশ। ওরা বেশ চনমনে হয়ে উঠলো আবার। অন্ধকারের জগৎ থেকে আনন্দে ফিরতে বাধা রইলো না আর কোন। এই তো পার হচ্ছে খিলক্ষেত, উত্তরা পার হয়ে আরেকটু ভেতরে গেলেই সাধের কাশবন। খুব বেশি সময় লাগবে না। আজকে রাস্তায় জ্যাম নেই তেমন।
-ভুলু ভাই, ভয়ংকর গল্প তো অনেক বললেন, একটা সুন্দর গল্প বলেন দেখি এখন! ফূর্তির গল্প বলেন ।
-ফূর্তির গল্প ধরেন, এই যে আপনেরা আনন্দ করতেছেন, বৃষ্টি থাইমা যাইতেছে, কাশবনে যায়া আনন্দ করবেন, এটাই আমার আনন্দ। আমার এসব দেখতে ভালো লাগে।
-আপনি আসলেই একটা ভালো মনের মানুষ। আপনাকে আমার পছন্দ হইছে।
রিয়াজের সাথে বেশ জমে উঠেছে ভুলু মিয়ার। সবাই বেশ উপভোগ করছে ব্যাপারটা।
-দিয়াবাড়িতে যান, দেইখেন কত বড় কাশবন! লেকসিটির কাশবন এই কাছে কিছুই না! আপনেরা অনেক আনন্দ পাইবেন। আপারা ছবি তুলার ভালো জায়গা দেখায় দিলাম কিন্তু একটা। অনেক ছবি তুলতে পারবেন।
-আর কতদূর ভাই?
দিঠির কণ্ঠে ব্যগ্রতা দেখে অন্যেরা স্মিত হাসে।
-এই তো উত্তরা ষোল নাম্বার পার হমু এখন, সামনে আরেকটা মোড় নিলেই দিয়াবাড়ি। বেশিক্ষণ লাগবে না।
ষোল নাম্বার পার হতে হতে আবার বৃষ্টি শুরু হলো। অতটা জোরে না, আবার টিপটিপ করেও না। প্রকৃতির প্রতি অপার আকর্ষণ থেকে তারা হয়তো কিছুটা শরীর ভেজাতে আপত্তি করবে না, এ আশা করাই যায়। তবে এর থেকে বেশি জোরে নামলে প্রকৃতিপ্রেম দেখানোটা কঠিন হয়ে যাবে। এমন কী সুন্দর ছবি তুলতে গিয়েই নারীগণ এতটা ত্যাগ স্বীকার করতে কুন্ঠা বোধ করতে পারেন।
-দিয়াবাড়ি জায়গাটা বড় আছে। বৃষ্টি যদি আরো জোরেও নামে, ঘুরতে পারবেন অনেকক্ষণ।
কথা শেষ হতে না হতেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো।
-এইটা কোন কাজ করলেই ভুলু ভাই! বৃষ্টি ডেকে আনলেন! ধুরো! কোন কথা হল এটা!
রাজিয়া বেশ বিরক্ত!
-আরে ঢুকে দেখেন না, কত সুন্দর। গাড়ির ভেতর থেকেও দেখার অনেক কিছু আছে।
-আমার কিন্তু খারাপ লাগছে না!
দিঠি সঙ্গত করলো।

(৪)
দিয়াবাড়ির ভেতরটা কলজে কাঁপিয়ে দেয়া নির্জন। এমনিতেই দুইদিনের ছুটি পড়ে গেছে, ঢাকাবাসী অনেকেই শহর ছেড়েছে, আর আজকের এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, এর মধ্যে আসবে কে!
জায়গাটা আসলেই বিশাল। দুপাশের কাশবন পেরিয়ে ওরা চলছে তো চলছেই, ধীরগতিতে অবশ্য; এই আবহাওয়ায় জোরে চালানোর উপায় নেই। গাড়ি চলছে, ঘুরছে চারপাশ, কোথাও রাখার উপায় নেই। বৃষ্টিটা কি কখনই থামবে না?
-কী এক জায়গা! এখানে কাউকে মেরে লুকিয়ে রাখলে এক মাসেই খোঁজ পাওয়া যাবে না।
-কথা একদম মিথ্যা বলেন নাই।
রেজার কথায় সায় দিলো ভুলু মিয়া। তার হয়তো বিভৎস কোন অপরাধের গল্প বলতে ইচ্ছে করছিলো, কিন্তু দিঠি পরিস্থিতি বুঝে কৌশলে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে দিলো।
-আরে খালি খুন খারাপির কথা বলেন কেন! এখানে ভূতও তো থাকতে পারে!
দিঠির চাইছিলো তার এই ছেলেমানুষী নিয়ে সবাই হাসাহাসি করুক, খুনোখুনির গল্প বাদ দিক। এই নির্জন অঞ্চলে প্রবল বিরুদ্ধ আবহাওয়ায় লাশ হয়ে পড়ে থাকার কথা চিন্তা করতে ওর ভয় করছে। ভুলু মিয়া তার এই ইচ্ছাকে অনুমোদন দিয়ে নতুন গল্প শুরু করলো।
-ভূত বইলা কিছু আছে কি না জানি না, তয় আমার একটা অভিজ্ঞতা হইছিলো একবার। শুনবেন সেই কাহিনী?
এরকম পরিবেশে এমন গল্প শুনতে কে মানা করবে! সন্তুষ্ট মনে ভুলু মিয়া তার গল্প শুরু করলো।
-সেইবার আমি বাড়ি ফিরতেছি নাইট বাসে কইরা। নাইট বাসে আমার খুব ভালো ঘুম হয়। এক ঘুমে রাত পার কইরা দিয়া সদরের বাসস্ট্যান্ডে নামলাম। ঐখান থিকা আমার বাসা কিছুটা দূরেই। মিনিট বিশেক লাগে। তখন ঘুটঘুটা অন্ধকার। পৌরসভার লাইট কিছু জ্বলে, কিছু জ্বলে না। বাস ভোরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও আগেই পৌঁছায়া গেছে। এইসব অবশ্য আমার কাছে সমস্যা না। আমি ভীতু না। আর এই এলাকায় আমি চোখ বাঁইন্ধা দিলেও ঠিকঠিক চলতে পারবো। কাঁধে ব্যাগ ঝুলায়া হাঁটতে লাগলাম। আমাদের ছোট শহর, খুব একটু বদলায় না। ছয় মাস আগে যেমন দেখছি, এখনও তেমনই আছে। আমি হাঁটতেছি। মিনিট দশেক হাঁটার পর মনে হইলো, কিছু একটা ভুল হইতাছে। এতক্ষণে আমার বাসার রাস্তা আইসা যাওয়ার কথা। আমাদের বাসায় ঢোকার রাস্তায় একটা বড় আমবাগান আছে। ততক্ষণে সেটা চলে আসার কথা। আমি জোরে হাঁটা মানুষ। হাঁটার পাল্লায় কেউ আমার সাথে পারে না। তাইলে আমার এতক্ষণ লাগতেছে কেন? আমি হাঁটার গতি আরো বাড়ায় দিলাম। আরো বেশ কিছুদূর হাঁটার পর খেয়াল করলাম, কেমন যেন অচেনা লাগতেছে সব কিছু। এতক্ষণে অবশ্যই আমবাগান চইলা আসার কথা। আমি ভুল পথে আসলাম নাকি? চারিপাশ ভালোমত দেইখা লইলাম। আমার পাশে একটা বাতিল হওয়া সাবস্টেশন। তার পাশে শিবুদার সাইকেল গ্যারাজ। এই রাস্তা ধইরাই যাইতে হয়। কিন্তু সমস্যা হইলো, আমি যেখান থেকে নামছি, সেইখানে থেকে এইটা দুই মিনিটের হাঁটা পথ। আমি এতক্ষণে দুই মিনিটের পথ হাঁটলাম? তা কেমনে হয়? পিছন ফিরা তাকাইলাম। আবার ফিরা যামু বাসস্ট্যান্ডে? নিজের কাছেই নিজেরে কেমন বোকা বোকা লাগতেছে আমার। নাহ, সাহস হারানো যাবে না। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। হয়তো কোথাও ভুল কইরা ফেলছি। আবার শুরু করা যাক! কিন্তু আমারে ফিরতে দেখলে বাসস্ট্যান্ডের লোকগুলা কী ভাববে? আমি ভালোমত দিক দেইখা নিয়া আবার চলা শুরু করলাম। এবার সাবধানে। আগের মত অত দ্রুত না। হ্যাঁ, এইবার সব ঠিক আছে। বড় দীঘির কাছে একটা চাপকল বসছে। এত রাতেও সেইখানে একজন পানি চাপতাছে। চাইপাই যাইতাছে। শব্দটা যেন কেমন! আমি আবার দ্রুত পা চালাইতে লাগলাম। বড় দীঘি পার হইয়া আর পাঁচ মিনিট পরেই আমগো আমবাগান। সেইখানে একবার পৌঁছাইতে পারলে আর চিন্তা নাই। পানি চাপার শব্দ মিলায়া গেলো। আমি শীতের রাতেও ঘাইমা ভিজা গেছি হাঁটতে গিয়া। কিছুদূর যাওনের পর আবার শুনি পানি চাপার শব্দ। আমি আবার সেই জায়গায় আইসা পড়ছি!
একটানে কথাগুলি বলে সে টেনে টেনে শ্বাস ফেলতে লাগলো। তার একটু জিরোনো দরকার। ওদিকে বৃষ্টি বেড়েই চলেছে। ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। চার বন্ধু বেশ উৎকণ্ঠিত। ভীতও হয়তো বা।
-একটু জিরায়া নিয়া বলেন আপনি।
রেজার কন্ঠ কেমন খসখসে শোনালো। গলা শুকিয়ে গেছে তার।
-আমি তার দিকে তাকাইলাম। এই শীতের রাতেও তার গা খালি। সে কল চাইপাই যাইতাছে। বালতি ভইরা পানি উপচায়া পড়তাছে, কিন্তু তার খেয়াল নাই। ভাবলাম তারে গিয়া জিগাই। কিন্তু মনের ভেতর কুডাক দিলো। যাইস না রে ওর কাছে, যাইস না! যাইস না, ভালা হইবো না! আমি দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে আবার রওনা দিলাম। এর কাছ থেকে দূরে যাওয়া দরকার যত দ্রুত সম্ভব। একবার ভাবলাম দৌড় দেই! কিন্তু আবারও কেউ যেন কুডাক দেয়া শুরু করলো। দৌড়াইলেই বিপদ হবে! আমার তখন গলা শুকায় কাঠ। চাপকলের শব্দ চলতেইছে। আমি ধীরে ধীরে সইরা যাওয়ার চেষ্টা করতেছি। এইবার আর কোন ভুল করা যাবে না। এবার ভুল বিশাল বিপদ হবে। এই তো সামনে মসজিদ দেখা যায়। এইটা পার হমু, তারপর খালপাড়, তারপর তপন ময়রার দোকান, তারপর...সে কী! আবার কল চাপার শব্দ আসতেছে কেন! মসজিদটা কই গেলো! আমি আমি দেখলাম, আবার কলপাড়ে দাঁড়ায় আছি। দূর থিকা সেই লোকের খালি গা দেখা যাইতেছে। ঘামে জবজব করতেছে। কল চাপার গতি আরো বাইড়া গেছে। এত জোরে কেউ কল চাপতে পারে! পিঠ উঠতাছে আর নামতাছে ঢেউয়ের মত। আমি থ মাইরা তাকায় আছি। কোথাও যাওয়ার সাধ্য নাই। কতক্ষণ তার এই কল চাপা দেখছি খেয়াল নাই। হঠাৎ সে আমার দিকে ঘুইরা তাকাইলো। সাদা একটা চেহারা। কোন নাক, ঠোঁট নাই, খালি চোখ আছে। এক দৃষ্টিতে তাকায়া আছে আমার দিকে। আমার কইলজা জইমা গেলো। পা জইমা বরফ হয়া আছে। নড়তে পারতেছি না। তারপরেও শরীরের সমস্ত শক্তি জমায়া কীভাবে যেন দৌড় শুরু করলাম। কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর খেয়াল করলাম আমি মসজিদের সামনে আইসা পড়ছি আবার। একজন মুরুব্বি নামাজ পড়তে আসছেন অজু করতে। সুবহে সাদিকের তখনও বেশ দেরি আছে। তিনি আমারে দেইখা কিছু একটা বুইঝা ফালাইলেন। সব কথা শোনার পর বললেন ফজরের নামাজ পর্যন্ত অপেক্ষা কইরা তারপর বাসায় চইলা যাইতে। কিছুক্ষণ পর আজান দিয়া দিলো। আমি নামাজ পইড়া বাসার দিকে রওনা দিলাম। এইবার ঠিকঠাকমত বাসায় পৌঁছাইয়া গেলাম।
গল্প শেষ হবার পরে একটা থমথমে ভাব বিরাজ জমে আছে গাড়িতে। কেউ কোন কথা বলছে না।
কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভাঙলো রাজিয়া।
-কী এক অভিজ্ঞতারে বাবা! আমি হলে সেখানেই পটল তুলতাম!
-আমাদের অভিজ্ঞতাও তো খুব একটু ভালো না এখানে। বৃষ্টি থামতেছে না। কী করবো? কতক্ষণ আর এভাবে ঘুরবো?
অতি প্রাণচঞ্চল রিয়াজের ভেতরেও উৎসাহের অভাব আর অনীহা দেখা যাচ্ছে।
-তোমাদের কাশবন কি আজকে দেখতেই হবে? বৃষ্টিতে ভিজে দৌড়াইতে হবে? আর আমাদের তোমাদের পিছে পিছে ঘুরে ছবি তুলতে হবে?
রেজা রেগে গেলে ভয়ংকর ব্যাপার হয়!
-ঠিক আছে চলো, চলে যাই।
মিয়ানো গলায় দিঠি সম্মতি দিলো।
-ভুলু ভাই, অনেক ঘোরা হইছে। আমাদের এবার লেকসিটিতে নিয়া যান।
-ঠিক আছে। আসলেই বৃষ্টিটা ভালো না।
গাড়ি চলছে। বৃষ্টি নামছে আরো ঘন হয়ে। বৃষ্টির ফোঁটা বর্বরের মত থপথপ শব্দ করে হামলে পড়ছে গাড়ির ওপর। গাড়ি চালানোর গতি আরো কমিয়ে দিতে হলো। কিছুক্ষণ চলার পর দেখা গেলো একটা কানাগলিতে এসে দাঁড়িয়েছে সেটা। সামনে একটা মাটির ঢিবি। যাওয়ার রাস্তা নেই।
-উফ, কী বিপদে পড়লাম! এখান থেকে বেরুবো কখন!
-ভুলু ভাই, পথ ভুল করলেন নাকি?
-এইটা আসলে নতুন হইছে। এর আগে এই মাটির ঢিবি ছিলো না। এই রাস্তা আমার চেনা। চিন্তা কইরেন না।
ভুলু মিয়ার কণ্ঠ শান্ত। তাতে প্রত্যয়ের ছাপ। সবাই অপেক্ষা করছে, কখন সে ঠিক পথে ধরে বের হয়ে মূল সড়কে পৌঁছুবে।
গাড়ি চলছে। বৃষ্টি বাড়ছে। চারদিকে ছোপ ছোপ অস্পষ্টতা। পথ দেখা যায় না ঠিকমত। উইন্ডশিল্ডগুলো খেটে চলেছে খুব। কিছুদূর যাবার পর আবারও প্রতিবন্ধকতা। তবে এবার আর মাটির ঢিবি না। একটা গাছ পড়ে আছে। গাছটা অনেকদিন ধরেই পড়ে আছে, দেখে বোঝা যাচ্ছে। একটা মৃত গাছ। তার পাতাগুলো খয়েরি।
-এইটা আবার কইত্থিকা আইলো!
বিড়বিড় করে বললো ভুলু মিয়া। তার কন্ঠে প্রথমবারের মত আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
-কোন বাইঞ্চোত এইখানে গাছ ফালায় রাখছে!
রেজার কন্ঠের অস্থিরতা সবার মধ্যে সংক্রমিত হলো।
-ভাই আপনি নিয়া যাইতে পারবেন তো আমাদের? কারো হেল্প লাগবে?
রিয়াদ একটা সুরাহা চায় এর।
-হ্যাঁ, এই দুর্যোগের মধ্যে কারো ঠেকা পড়ছে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার!
রাজিয়া খুব ভুল কিছু বলে নি!
-ভাই, আপনি প্লিজ সাবধানে, দেখে শুনে গাড়িটা চালান। এই তোমরা কেউ অধৈর্য্য হয়ো না। প্লিজ!
দিঠি তার কোমলতা বজায় রাখলো।

বৃষ্টি বাড়ছে। ছয় ফিট দূরের দৃশ্যও ঠিকমত দেখা মুশকিল। তবে ওরা ভুলু মিয়ার ওপর আস্থা রাখে। সে খুব দক্ষ হাতে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
-আর কত দূর ভাই!
ভুলু মিয়া কোন উত্তর দেয় না। আচমকা গাড়িটে ব্রেক কষে। সবাই চমকে ওঠে। কী হলো আবার!
-সবাই চুপ কইরা বইসা থাকেন। গাড়িটা কিছুক্ষণ স্টে করাইতে হইবো। ভয়ের কিছু নাই।
বৃষ্টির ছাঁট কমে এসেছে। একটু একটু করে দেখা যাচ্ছে দূরের দৃশ্য। ওরা ভুলু মিয়ার চোখের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকালো। সামনে একটা নদী। মাত্র হাত পাঁচেক দূরে। আর একটু এগুলেই, অথবা ব্রেকফেল করলেই ওদের আর খুঁজে পাওয়া যেতো না।

বৃষ্টি থেমেছে। ওরা ফিরছে। রোদ উঠে গেছে। সাদা কাশবন অহংকারী নারীর মত তাচ্ছিল্য নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। কী নামবে না একটু? যাচ্ছো কোথায়, হ্যাঁ?
-নামবেন নাকি এখানে একটু? বৃষ্টি থেমে গেছে।
-বৃষ্টিকে বিশ্বাস নাই। আপনি চালান।

(৫)
ভুলু মিয়া একটা টং দোকানে বসে চা খাচ্ছে। এরা চা খুব ভালো বানায়, তা না, তবে আজকের স্বাদটা অন্যরকম! আহা, কী দারুণভাবেই না সবগুলি পরিকল্পনা মিলে গেলো কোন ঝামেলা ছাড়াই! দিয়াবাড়ির এই অলীক নির্জনতা, আর বখাটে বৃষ্টি দেখে ওর ভেতর দারুণ একটা গল্প তৈরি হয়েছিলো। সেই গল্পটা শুনিয়ে, আবহ তৈরি করে, সেই ভয়টাই আবার ওদের ফিরিয়ে দেয়া গেলো, আহা! দিয়াবাড়ি তার হাতের তালুর মত চেনা। কোথায় মাটির ঢিবি, কোথায় গাছে গুড়ি, আর কোথায় নদী আছে তার খুব ভালো করেই জানা, তা বোকা ছেলে-মেয়েগুলি জানবে কীভাবে!
-কই বাকের মিয়া, আরেকটা চা লাগাও কড়া কইরা!
সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে সে তার চাহিদা জানায় দোকানদারকে।

(এই গল্পে যা ঘটেছে, তার প্রায় সবটুকুই বাস্তব। গল্পের প্রয়োজনে কিছু রঙ চড়ানো হয়েছে, সমাপ্তিতে নাটকীয়তা আনা হয়েছে। কিন্তু শরতের কাশবন দেখতে গিয়ে এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আসলেই আমাদের হয়েছিলো!)


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৬
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কেন অটোপ্রমোশন চাচ্ছি?

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে অধিভুক্ত কলেজগুলো পুনরায় খোলার এক মাসের মধ্যে তারা সবার ফাইনাল পরীক্ষা নেবে। কিন্তু আমাদের কলেজ আবার কবে খুলবে বা কত বছর পরে খুলবে কেউ জানে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

জীবনের প্রাপ্তি কি?
প্রশ্নের মূখে নিজেকে বড়ই অসহায় মনে হয়!
কেঁচোর মতো গুটিয়ে যাই নিজের ভেতর!

ভাবনা তো ভার্চুয়াল
চেতনা তো অদৃশ্য
আসলেইতো! নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে হাঁপিয়ে উঠি!

সততা: দুর্বলতা হিসেবে প্রতিপন্ন
কৃচ্ছতা- ব্যার্থতার অনুফল হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জিজ্ঞাসা

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৪২



১। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা দূর্নীতি করে ধনী হলো তাদের সরকার গ্রেফতার করছে না কেন?

২। চিপা গলির মধ্যে রাস্তায় অসংখ্য দোকানপাট, পুলিশ বা সিটিকরপোরেশন ওদের সরিয়ে দিচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাড়ফুঁকের নামে নারীদের ধর্ষণ করতেন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৪৪


  উনি এক মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। এই কাঠমৌল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেছেন এক গৃহবধু। এর আগেও এই মৌল্লা ঝাড়ফুঁকের নামে একাধিক নারীকে ধর্ষণ করেছেন। কিন্তু লোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শীর্ষ শিল্পপতিদের মৃত্যু যেন অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে নতুন সংকট বয়ে না আনে!

লিখেছেন এক নিরুদ্দেশ পথিক, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৫০

১।
মির্জা আব্বাসের কল্যাণে নুরুল ইসলাম বাবুল ভূমিদস্যু পরিচয় পেয়েছেন সত্য, তবে বসুন্ধরার মালিক আহমেদ আকবর সোবাহান সহ বড় বড় ভূমিদস্যু বাংলাদেশে রাজার হালতেই আছে। শীর্ষ বেসরকারি ভুমিদস্যু বসুন্ধরা, ইস্টার্ণ, স্বদেশ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×