somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

"জেরুজালেম সিনড্রোম" এবং বাংলাদেশের পীর/সাধু/যোগী/দরবেশ।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"জেরুজালেম সিনড্রোম" হচ্ছে এমন এক মানষিক অবস্থা যখন ভিকটিম জেরুজালেম যাওয়ার ফলে তার মাঝে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয় যেমন, সে নিজেকে বাইবেলের কোন এক চরিত্র মনে করে, কখনো সে নিজেকে যিশু মনে করে, কখনো আবার মনে করে সে নতুন এক নবী, তার অনুভূতি হয় যে স্রস্টা তার সাথে কথা বলছেন, হঠাৎ করে সে অতিধার্মিক হয়ে পরে,অনেক বিদেশি টুরিস্ট জেরুজালেম সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার পরে নিজের দেশে আর ফেরত না গিয়ে বাকি জীবন সেখানেই কাটিয়ে দেয়।

প্রতি বছর ইসরায়েলে প্রায় ৫০জন জেরুজালেম সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়, এমন অনেক উদাহরণ আছে যে ভিক্টিম সারা জীবন সাধারণ জীবন যাপন করেছে, ধর্মে কর্মে কোন আগ্রহী ছিলোনা কিন্তু জেরুজালেম বেড়াতে যাওয়ার পরে তার মাঝে অদ্ভুত এক পরিবর্তন ঘটে।
আমাদের দেশের পীর/সাধু/দরবেশ /যোগী বেশীরভাগই এই জেরুজালেম সিনড্রোম রোগের শিকার। এখন হয়তো বলবেন আমাদের দেশের এরা তো জেরুজালেম যায়না, তাহলে তারা কিভাবে এই রোগের শিকার?
তাহলে শুনুন, শুধু স্টকহোমেই যে স্টকহোম সিনড্রোম রোগ হয় তা কিন্তু না, এই রোগের উৎপত্তি বা আবিষ্কার হয়েছিলো স্টকহোমে তাই তার নাম স্টকহোম সিনড্রোম, একইভাবে শুধুমাত্র জেরুজালেমে গেলেই যে এই রোগ হয় এমন না, জেরুজালেম এখানে স্পিরিচুয়াল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে, আমাদের দেশে সেটা হতে পারে কোন পীরের আসর, মাজার,বা লালনের আখড়া৷
কেট উইন্সলেট অভিনীত "হোলি স্মোক" সিনেমাটি দেখবেন যে সিনেমার নায়িকা ইন্ডিয়া এসে হিন্দু ধর্মীয় এক গুরুর সান্যিধ্য লাভের পরে সে নিজ দেশ ও পরিবার বিসর্জন দেয় এবং একসময় পরিবারকে অস্বীকার করে, তার পরিবার পরে তাকে এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের হাতে হস্তান্তর করে। বলছিনা যে সিনেমার নায়িকার জেরুজালেম সিনড্রোম হয়েছিল, কিন্তু এই সিনেমা দেখলে এ সম্পর্কে কিছু আইডিয়া পাবেন।

জেরুজালেম সিনড্রোম ইউনিক কোন রোগ না, এটা একটা সাইকো জিওগ্রাফিকাল ডিসওর্ডার যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রূপে দেখা যায়, যেমন ইতালিতে ফ্লোরেন্স সিনড্রম (ঐতিহাসিক চিত্রকলা দেখে নিজেকে এর অংশ মনে করা এবং হিস্টরিকাল কারেক্টারদের নিয়ে হ্যালুসিনেশন হওয়া) বা আমেরিকায় ওয়াইট হাউজ সিনড্রোম (নিজেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভাবা) ইত্যাদি৷ এটা যে শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই হবে এমন না, রাজনীতি, সংস্কৃতি নানা ক্ষেত্রে অপরিমিত আকর্ষণের ফলে এই রোগ হতে পারে।

আমাদের দেশে অনেক সাধু/পীর/যোগী/দরবেশ আছে যারা স্রস্টার সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রাখে বলে দাবি করে,লালনের আখড়ায় দেখবে গাঞ্জায় টান দিয়ে বলে ওরা গুরুকে দেখতে পায়৷ মাজারে দেখবেন একই অবস্থা, গাঞ্জায় টান দিয়ে চোখে লাল নীল আলোর ঝলকানি দেখে আর বলে যে আমি আল্লাহকে দেখে ফেলেছি, মুরশিদ আমার কাছে ধরা দিছেন।
আমাদের দেশে এই ডিসওর্ডার নিয়ে তেমন গবেষণা না হওয়ায় আমরা এগুলো সম্পর্কে তেমন জানিনা। গবেষণা হলে দেখা যেতো যে আমরা এই রোগগুলির নাম দিতাম "মাজার সিনড্রোম" "গুরু সিনড্রোম" "দরবেশ সিনড্রোম" ইত্যাদি, অনেক এমন ব্যাক্তি আছেন যাদেরকে আমরা পীর বলে জেনে এসেছি(তাদের মধ্যে কেউ কেউ নামাজ পড়েনা রুজা রাখেনা কিন্তু দাবি করে আল্লাহর সাথে কথা বলে), তাদের মৃত্যুর পরে তাদের কবরকে মাজার বলে মেনে আসছি, তারা আসলে হয়তো এই মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এবং এখন তাদের মাজারে প্রতিনিয়ত আরো হাজারো রোগী তৈরী হচ্ছে।

তো ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ যখন এই ধরনের রোগী পায় তখন তাদেরকে চিকিৎসা দেয়। বেশীরভাগই ঔষধ ছাড়া শুধুমাত্র কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে যায়, অনেককে তার পরিবারের কাছে পাঠালেও সুস্থ হয়ে যায়, কারো ক্ষেত্রে মেডিসিনের দরকার হয়৷
আমদের দেশের এইসকল পীর/যোগীদেরও এভাবে চিকিৎসা দেওয়া উচিত। তাদের কতজন আসল পীর আর কতজন ভন্ড তা একটু গবেষণা করলেই বেড়িয়ে আসবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৫৭
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×