somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"আব্বে ওই"- পর্ব ২

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট এর সকালটা স্বর্গছেড়ায় শুরু হয়েছিল বন্দে মাতরম ধ্বনি দিয়ে সমগ্র স্বর্গছেড়ার আকাশটা প্রকম্পিত করে। সেই বন্দে মাতরম ধ্বনি এক কিশোরের নবীন মনে প্রচণ্ড ছাপ ফেলে। সে অনুভব করে দেশের জন্য এক প্রচণ্ড টান,তাঁর হাত দিয়েই উত্তোলিত হয় স্বাধীন ভারতের পতাকা স্বর্গছেড়ার আকাশে। " ওই যে পতাকাটা উড়ছে ওটাকে আমার আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে হবে, আর ওটাকে উঁচুতে নিতে হলে আমাকে ওই পতাকার সমান উঁচু হতে হবে।" স্বদেশপ্রেম জন্ম নেয় এইভাবেই দেশের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব আর কর্তব্য পালনের মধ্যে দিয়েই। দেশ সম্মানিত হয় তখনি যখন নিজের সম্মানপ্রাপ্তি ঘটে। সেই ১৫ই আগস্ট তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলির একটি।
অনিমেষের এর দাদু সরিৎশেখর চাচ্ছিলেন উনার ফেয়ারওয়েল হোক ১৫ই আগস্ট, ব্রিটিশরা ওইদিন সমগ্র ভারতকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিবে সেইসাথে তাঁর চা বাগানের ব্রিটিশ মালিকগুলো তাকেও অবসরের স্বাধীনতা দিবে। সরিৎশেখর উনার পুঞ্জিভূত করা সমস্ত সম্পদ দিয়ে জলপাইগুড়িতে বাসা বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে যেদিন স্বর্গছেড়া ছাড়লেন সেদিন পেলেন প্রকৃত ফেয়ারওয়েল। সরিৎশেখর উনার নাতি অনিমেষ আর মেয়ে হেমলতাকে নিয়ে যখন বাসা থেকে বের হয়ে জিপে উঠবেন ঠিক সেই মুহূর্তে সমস্ত চা বাগানের শ্রমিকরা তাঁর সম্মানে একটি কাপড় তুলে ধরে যে যা পারে তাই দিতে লাগল। যখন জিপটি চলতে শুরু করল সেই মুহূর্তে তারাও জিপটির পিছু নিল। সমস্ত স্বর্গছেড়া যেন আজ ওই জিপটার পিছনেই। সরিৎশেখর ড্রাইভারকে জোরে চালাতে বলার পর তারাও এইবার জোরে দৌড়াতে শুরু করল। বাধ্য হয়ে জিপটিকে আস্তে চালাতে হল। সরিতৎশেখর জিপের সামনের ফাকা অংশের সামনে দাঁড়ায়ে বললেন-
"তোরা আমাকে ফেয়ারওয়েল দিতে চেয়েছিলি, এর চেয়ে ভাল ফেয়ারওয়েল কে কবে কোথায় পেয়েছে?" আর তিনি তাঁর জন্য যে টাকাটা উঠানো হয়েছে সেটা তাঁদের দিয়ে দিলেন।বিদায় হল রাজকীয় বিদায়। স্বর্গছেড়া থেকে চূড়ান্ত বিদায় নেয়ার জন্য এর চেয়ে ভাল বিদায় আর হয় না।
উপন্যাসটির নাম উত্তরাধিকার আর সেখানে যাকে ঘিরে আবর্তিত কাহিনী সে তাঁর দাদুর সাথে করে জন্মভূমি ছেড়ে চলে যাচ্ছে অথচ সে যে ভুমির উত্তরাধিকার তাঁর প্রতি বিন্দুমাত্র মাইয়া থাকবেনা তাতো হয় না! সেই কিশোর স্বর্গছেড়ার মাটির গন্ধ না শুকে কিভাবে থাকবে? তাই সে তাঁর একটা ব্যাগে করে একমুষ্টি মাটি নিল। আর কেঁদে উঠল। "মাতরম" এর প্রতি এই যে একটা গভীর ভালোবাসা সবার অন্তরালে উদযাপিত হল অন্তরীক্ষের বিধাতা ছাড়া সেটা আরও একজন দেখলেন।
অনিমেষের দাদু জলপাইগুড়িতে এসে নতুন বাড়ির কাজ শুরু করলেন। নতুন বাড়ির কাজ শেষ হওয়ার পর পাকাপাকিভাবে বসবাসের উপযোগী হওয়ার পর সরিৎশেখর একটা পুজার আয়োজন করলেন। সেই উপলক্ষে অনিমেষের মা মাধুরী, বাবা মহীতোষ সবাই এলেন। দীর্ঘদিন পর মাকে কাছে পেল মায়ের কাছে ঘুমাতে পারল, মায়ের বুকের একটা মিষ্টি গন্ধ আরও ভালকরে অনুভব করার জন্য মায়ের বুকে মুখ ঘষল আর মা ঘুমের আড়ষ্টতায় বলল-
" আহ! ঠেসসিস কেন?"
মাকে সে বলল এক মালি আর এক শ্রমিকের মাঝে অবৈধ প্রেমের কথা। যা দেখে তাঁর একটা মেয়ের বুকে কামড়ানোর ইচ্ছে জাগে আর মাকে জিজ্ঞেস করে" মা আমি তোমার বুকে কামড় দিলে তুমি ব্যথা পাবে?" মাধুরী পুরো ঘটনাটা জানতে পেরে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নেয় অনিমেষকে সব কথা সে মাকে এসে বলবে।সরিৎশেখর তাঁর উত্তরাধিকারের মধ্যে অনিমেষকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। তাই বাড়ির পূজার অনুষ্ঠানে পুরোহিত যখন বললেন আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে আসুন তখন সরিৎশেখর তাঁর নাতিকে নিয়ে এসে বললেন এই আমার সবচেয়ে প্রিয়।
পুরোহিত ভবিষ্যৎ গণনা করে বললেন এই ছেলে ২০ বছর বয়সে জেলে যাবে। নারীর কারনে সে জিবনে উন্নতি লাভ করবে আবার এই নারীর কারনেই সে অধঃপতিত হবে।
ওই দিনটা ছিল অনিমেষের জন্য একটা কাল দিন। বিকেলে মাধুরী যখন বাসার ছাদে উঠে মহীতোষের সাথে অনিমেষের জেল আর নারী নিয়ে পুরহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঠাট্টা করছিল তখন মাধুরী হুট করে মাথা ঘুরে পরে গেল। অনিমেষ বুঝতে পারল না এখানে কি হল আসলে। অনিমেষ যখন শুধু মায়ের শয্যার পাশে আর সবাই ডাক্তার ডাকাডাকিতে ব্যস্ত। বিকাল থেকে শুরু হল প্রচণ্ড বৃষ্টি। অনিমেষ ছাড়া বাকি সবাই বুঝতে পারল মাধুরী অন্তঃসত্ত্বা । বৃষ্টি বারতেই লাগল সেই সাথে তিস্তার বাঁধ ভেঙে তিস্তা নদীর পানি এসে বাড়ির নিচে এসে জমা হল। মহীতোষ ডাক্তার নিয়ে আস্তে গেলেন। অনিমেষ যখন মায়ের সাথে একা তখন সে দেখল মায়ের শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছে অনিমেষ বুঝতে পারছে না সে রক্ত কিভাবে বন্ধ করবে? একটা বালকের তো কখনও বুজা সম্ভবনা তাঁর মাের শরীর থেকে কেন রক্তপাত হচ্ছে। জন্ম যে নাড়ির টান ছিঁড়ে হয়? সেই নাড়ির টান ছিঁড়তে মায়ের যে অনেক কষ্ট হয়!
মাধুরী তখন বলল তুই যখন জেলে জাবি আমিও তোর সাথে জেলে যাব। আমি তোর সাথে থাকব। কিন্তু মাধুরী রাতের তারা হয়ে অনিমেষের কাছে থাকবে?
মাধুরীকে যখন চিতায় পোড়ান হবে মুখাগ্নি করার জন্য অনিমেষকে মায়ের শবের সামনে যখন নিয়ে যাওয়া হল তখন পিছন থেকে মহী তোষ কেঁদে উঠলেন। এ যে ছেলের হাঁতে আগুন! মায়ের দেহ থেকে বের হয়ে আসা লাল শুকিয়ে যাওয়া রক্তের হাতেই অনিমেষ মাকে মুখাগ্নি করাল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৩:০৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×