somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শামছুল ইসলাম
নিঃসীম নীল আকাশে পাখী যেমন মনের আনন্দে উড়ে বেড়ায়, কল্পনার ডানায় চড়ে আমিও ভেসে চলেছি মনের আনন্দে--রূঢ় পৃথিবীটাকে পিছনে ফেলে।

গল্প দাদু ভাই, আমি চলে যাচ্ছি (শেষ পর্ব)

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
২য় পর্বের লিংক:.


.
আমার সেই স্বপ্নকে আমার শাশুড়ি নানা কথায় কুঠারাঘাত করে। আমি ঘরে না থাকলে ছেলের সাথে আলাপ করে আর একটা সন্তান নিতে। আমি ঘরে ঢুকলে চুপ হয়ে যায়। ছেলেকে বুঝায়, বংশের বাতি দরকার। এই নিভু নিভু বাতি দিয়ে কাজ হবে না। প্রথম প্রথম ও মার কথায় পাত্তা দিতো না। এক কথা অনেকবার শুনলে মানুষের মন তা বিশ্বাস করতে শুরু করে। একদিন রাতে ও আমাকে আমাদের সংসারে আর একজন নতুন অতিথি আনার অনুরোধ করে। আমি চুপ করে থাকি। আস্তে করে বলি, “এই সংসারটাই চলে না, আবার আর একজন।” রাতের নিস্তব্ধতা আরও গাঢ় হয়ে আসে। সব চুপ। কোন উত্তর নেই।
.
অনেক কিছুরই কোন উত্তর নেই। ডাক্তারের ফিস দুই শ’ টাকা বাড়িয়েছে এই মাস থেকে। জিনিস পত্রের দাম নাকি বাড়তি। তাই ফিসও বাড়তি। কিন্তু কোন বাসা থেকে তো আমার বেতন বাড়ানোর কথায় কেউ রাজি হলো না। সাফ কথা, না পোষাইলে চইলা যাও।
.
আমার মতো অসহায় গরিবের যাওয়ার জায়গা কই! কবর ছাড়া! ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সেখানে যাওয়ার ইচ্ছেটাও মরে যায়। পাঁচ বছর বয়স হলো শাহজাহানের। কিন্তু দেখলে তা মনে হয় না। তাই এবার ডাক্তার সাহেব ওকে প্রতিদিন সুজি খাওয়ানোর জন্য বলেছেন। আমি ওর জন্য সুজি রান্না করি। ওকে খাওয়াই। ও খেতে চায় না। শ্বশুরকেও একটু দেই। শাশুড়ি মিষ্টি পছন্দ করে না। তাই সুজি খায় না। শ্বশুর হাত চেটে চেটে খায় আর বলে, “বউমা, তোমার হাতের রান্না খুব ভালো।“
-“আব্বা, আর একটু দেই”
“না, না, থাক। আমার দাদু ভাইয়ের জন্য রেখে দাও।”
তাও আমি জোর করে দেই।
.
ঘরে বসে থেকে আর ভালো লাগে না। তাই শাশুড়ি আমাকে প্রায়ই রান্নার কাজে সাহা্য্য করে। সেদিন রাতে শ্বশুরের পেটটা একটু খারাপ করায় উনি রাতে কিছু খেলেন না। আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। চারিদিকে তখনো অন্ধকার। রান্নাঘর থেকে একটা শব্দ আসছে। চোর আসলো নাতো? কী-ই বা আছে চুরি করার। হাড়ি-পাতিল চুরি করলেও তো আমাকে ওগুলো আবার কিনতে হবে। রান্নাঘরে গিয়ে দেখি আব্বা সুজি খাচ্ছে। আমাকে দেখে লজ্জা পায়। বলে, “বউমা, বুড়া বয়সে খিদা সহ্য করা যায় না।” মানুষটার জন্য আমার খুব মায়া হয়। শাশুড়িও ঘুম থেকে উঠে এসেছে। হঠাৎ দেখি উনি দুপা ছড়িয়ে মেঝেতে বসে বিলাপ শুরু করলেন,
“ও আমার আল্লাহ রে, আমার কি হবে রে। আমার সর্বনাশ হইয়া গ্যাছে।”
আমি উনার থেকে জানতে চাই কীসের সর্বনাশ। উনি ইনিয়ে বিনিয়ে যা বললেন, তার সারকথা এই, গতকাল রাতে সুজি বানানোর সময় উনি তাতে ইঁদুরের বিষ মিষিয়েছেন। শাহজাহান মরে গেলে উনি আবার দাদি হবেন।
আব্বার মুখ ভয়ে চুপসে গেল। উনি বমি করতে শুরু করলেন। ধরে ঘরে নিয়ে আসলাম। আমজাদেরও ঘুম ভেঙে গেছে। ঘটনাটা ওকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে বললাম। আব্বাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটা সিএনজি ভাড়া করার জন্য ও দৌঁড়ে বের হলো। আব্বার খুব হেচকি ওঠছে। উনি ইশারায় নাতিকে দেখতে চাইলেন। হট্টগোলে ওরও ঘুম ভেঙে গেছে। ওর চেয়ারটায় ওকে বসালাম। আব্বা তার বউয়ের গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছেন। অনেক কষ্টে শুধু বললেন, “দাদু ভাই, আমি চলে যাচ্ছি।“
আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে শাহজাহান ডেকে ওঠলো, “দাদা, দাদা।”
আমার সারা শরীরটা কেঁপে ওঠলো। আমার শাহজাহান ওর দাদাকে ডাকছে। আমি উঠে দাঁড়ালাম। কোথা থেকে যেন অসুরের শক্তি আমার শরীরে ভর করলো। আমি আব্বাকে কোলে তুলে দৌঁড়ে বাইরে এলাম। বিড়বিড় করে বললাম, “আব্বা, দাদা ডাক শোনার জন্য আপনাকে বাঁচতেই হবে।”
.
মো. শামছুল ইসলাম। .।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:২৭
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফতোয়া যখন আইসক্রিম: ক্ষমতার গরমে গলে, মার্কিন বাতাসে জুড়ায়!

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৩




মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির—ধর্মের নামে এই লেভেলের "মাল্টিটাস্কিং" মুনাফেকি কি আপনিও খেয়াল করেছেন?
ঈমানের তলোয়ার শুধু গরিবের ওপর চলে, আর হোয়াইট হাউজের সামনে গেলেই কেন এদের লুঙ্গি কোঁচা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×