somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোলাম আযমের বেতার ভাষণ

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী সৈন্যদের ভয়াবহ হত্যাকান্ড ও ধংসলীলার মাত্র ৬ দিন পর পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে এক ভাষণ দেন। এ বেতার ভাষণ শুনে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল যুগপৎ বিস্মিত ও আশঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ, গোলাম আযম বা জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন কেউ ছিলো না। পূর্ব পাকিস্তানে তখন পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছিল। যেমন, মুসলিম লীগের বিভিন্ন গ্রুপ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, পিডিপি প্রমুখসহ আরও দল ছিল। কিন্তু একমাত্র গোলাম আযমই ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে উস্কানীমূলক বেতার-বক্তৃতা দেন, তার ভাবটা এমন ছিল যেন ২৫ মার্চের কাল রাত্রির পর বুঝি জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতায় চলে এসেছে। গোলাম আযম তার এই বক্তৃতায় মূল প্রতিপক্ষ করেন ভারতকে। এই বক্তৃতায় মোট ১৬টি স্তবক ছিল এবং তিনি এই ১৬টি স্তবকের ৪০টি লাইনের ভাষণে সর্বমোট ৩৩ বার 'ভারত' শব্দটি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন,

"সম্প্রতি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়েও ভারতীয় লোকসভায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য এমনভাবে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, যা আমাদের মনে ঔৎসুক্য জাগায়। ...ভারতের মনে রাখা উচিত ছিল যে পূর্ব পাকিস্তানীরা তাহাদের নায্য দাবী আদায়ের ব্যাপারে কোন দেশের নিকট হতে সাহায্য চায় না। এটা তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ...ভারতীয় বেতার যে জঘন্য মিথ্যা প্রচার করেছে ঢাকার প্রতিটি নাগরিক তা ভালভাবে বুঝে, ভারতীয় বেতারের মতে সমগ্র ঢাকা নগরী মাটির সাথেই মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। ...এটা কি করে সম্ভব যে, ঢাকার জনগণ নিজ চোখে যা দেখেছে, নয়াদিল্লী তার চেয়ৈ বেশী দেখেছে। ... ভারত সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ করে কার্যত পূর্ব পাকিস্তানীদের দেশপ্রেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে। ...আমি বিশ্বাস করি যে, এই অনুপ্রবেশকারীরা পূর্ব পাকিস্তানী মুসলমান জনগণের নিকট হতে কোন প্রকার সাহায্য পাবে না।" (সূত্র: দৈনিক পাকিস্তান ৭ এপ্রিল, ১৯৭১)


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস- ডঃ মোহাম্দ হান্নান, গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×