somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যঘেরা নাজকা লাইন- সে যুগের মানুষ নাকি ভিনগ্রহবাসীরা এঁকেছে ?

২৫ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে এমন অসংখ্য স্থান আছে যেখানে নানা নিদর্শন দেখে ধারণা হতে পারে মানুষের যে ইতিহাস আমরা জানি তা হয়তো ভুল। হাজার হাজার বছর আগে কোনো উন্নত সভ্যতা হয়তো ছিল, যা পরে যে কোনোভাবেই হোক নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে অথবা প্রাচীনকালে কোনো বুদ্ধিমান এলিয়েনের দল পৃথিবীতে এসেছিল। নাজকা লাইন এমন এক নিদর্শন, যা দেখে নতুন করে মানব সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে ভাবতে হবে আপনাকে।

নাজকা লাইন
নাজকা লাইন সম্পর্কে বলার আগে জিওগ্লিপস সম্পর্কে একটু জানা দরকার। উন্মুক্ত প্রান্তরে (মাটি, পাথুরে বা বালুময় মরু) ছবি আঁকাআঁকিকে বলা হয় জিওগ্লিপস। মূলত জিওগ্লিপসের বাংলা হলো ভূমিতে খোদাইকৃত নকশা। সাধারণত জিওগ্লিপস ৪ মিটার থেকে কয়েকশ’ মিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। তবে জিওগ্লিপসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ভূমিতে দাঁড়িয়ে আপনি এই আঁকাআঁকি বা নকশাকে ঠিক বুঝতে পারবেন না। আপনাকে ওপর থেকে নজর দিতে হবে। অঙ্কিত নকশা বা ছবিটি স্পষ্ট বোঝার জন্য জিওগ্লিপসের আকারভেদে কয়েকশ’ ফুট ওপরে ওঠার প্রয়োজন পড়তে পারে। আর নাজকা লাইন হলো প্রাচীন যুগের মানুষদের তৈরি জিওগ্লিপস।
অবস্থান ও আবিষ্কার
নাজকা লাইনের অবস্থান পেরুর নাজকা মরুভূমিতে। স্থানটি লিমা শহর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নাজকা এবং পাল্পা শহরের মাঝে অবস্থিত। মরুভূমিটির প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার বিভিন্নস্থানে আঁকা হয়েছে অজস্র জীবজন্তু, ফুল, গাছ, এলিয়েন ও অসংখ্য জ্যামিতিক নকশা, যার কোনো কোনোটি আবার ২০০ মিটার পর্যন্ত বড়। নাজকা লাইন প্রথম আবিষ্কার হয় ১৯৩০ সালের দিকে, যখন এই এলাকা দিয়ে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয়। বিমানের যাত্রীরা এই বিশাল নকশা ও ছবি দেখে পত্রিকা অফিসে জানালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং তখন থেকে এখন পর্যন্ত নাজকা লাইন পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় স্থান বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

কারা কখন কীভাবে এ ছবিগুলো এঁকেছে?
নাজকা লাইন কাদের তৈরি এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। তবে বেশিরভাগ গবেষকদের ধারণা, স্থানীয় বাসিন্দারা খ্রি.পূর্ব ২০০-৬৫০ খ্রিস্টাব্দের মাঝে এ নকশাগুলো এঁকেছিল।
যদিও অনেকেই প্রশ্ন তুলেন সে সময় তো ছিল না কোনো উন্নত প্রযুক্তি, ছিল না কোনো উন্নত যন্ত্রপাতি— তাহলে ছবিগুলো পাথুরে মরুতে আঁকা হলো কীভাবে? নাজকাতে নকশা ও ছবি আঁকা হয়েছে আয়রন অক্সাইডসমৃদ্ধ লালচে-বাদামি নূড়ি পাথর সরিয়ে ভেতরের অপেক্ষাকৃত সাদা মাটিকে উন্মোচন করে এবং বেশিরভাগ লাইনগুলোই ৪-৬ ইঞ্চি গভীর, যা শক্ত কাঠের টুকরো এবং পাথর দ্বারা করা সম্ভব। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, নাজকার অধিবাসীরা কাঠ দিয়েই লাইন খোদাই করেছিল। কারণ কিছু নকশার শেষপ্রান্তে কাঠের লম্বা টুকরো পাওয়া গেছে। তবে মূল রহস্য হলো—আঁকা ছবিগুলো ঠিক নকশামত হচ্ছে কিনা তা তারা দেখেছিল কীভাবে?

আগেই বলা হয়েছে, জিওগ্লিপস বোঝার জন্য ভূমি থেকে উপরে উঠতে হবে। যার ফলে অবশ্যই ছবিগুলো আঁকার সময় তা নকশামাফিক ঠিকমত আঁকা হচ্ছে কিনা এবং আঁকা শেষ হলে তা ঠিকমত আঁকা হলো কিনা তা দেখার জন্য কাউকে না কাউকে উপরে উঠতেই হয়েছিল। এখানে যুক্তি দেখানো যায়, উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করে তাতে পর্যবেক্ষকরা উঠে দেখত কাজ ঠিকমত হচ্ছে বা হয়েছে কিনা। কিন্তু নাজকা লাইনের বেশিরভাগ ছবিই এতো বিশাল যে তা দেখতে হলে কমপক্ষে শতাধিক ফুট উপরে ওঠার প্রয়োজন। প্রাচীন ওই সভ্যতার পক্ষে তো এটা সম্পূর্ণ অসম্ভব। জিম উডম্যানসহ কিছু গবেষক ধারণা দেন নাজকার প্রাচীন বাসিন্দারা বেলুন আবিষ্কার করেছিল এবং তা দিয়ে তারা আকাশে উড়তে পারত। যদিও এ যুক্তি মোটেও ধোপে টিকে না। কারণ বেলুন আবিষ্কার যদি তারা করতেই পারত তাহলে সে প্রযুক্তি হঠাত্ হারিয়ে গেল কেন? কেন ১৭৮০ সালে এসে আবার তাহলে মানুষকে বেলুন আবিষ্কার করতে হয়? তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কেন বেলুন আর বানাতে পারত না? আর বেলুন আবিষ্কার বা ব্যবহারের কোনো প্রমাণও তো আশপাশে পাওয়া যায়নি। অনেক গবেষক ধারণা দেন, প্রথম ছোট নকশা তৈরি করে তারপর এর অনুকরণে বড় করে ছবি আঁকা হয়েছে। কিন্তু এ ধারণাও গ্রহণযোগ্য না পর্যবেক্ষণের সমস্যার কারণে।
নাজকার রহস্য তাই শেষ হয় না। বরং এসব কিছু নাজকাকে আরও রহস্যাভূত করে তুলে। অবশ্য ‘এরিখ ভন দানিকেন’সহ কিছু গবেষক ধারণা দেন, এই লাইনগুলো নাজকার প্রাচীন বাসিন্দারাই এঁকেছিল, তবে তারা এককভাবে নয়, ভিনগ্রহবাসীদের সাহায্য নিয়ে।

নাজকা লাইন তৈরির উদ্দেশ্য কি?
কীভাবে আঁকা হয়েছে তার চেয়েও বেশি রহস্য লুকিয়ে আছে কেন এই ছবি আর নকশা তৈরি করা হয়েছে তা নিয়ে।
এলাকাটি মরুময় এখানে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। তাই এমন একটি স্থানে এ ধরনের জটিল সব নকশা আর ছবি আঁকার মানে কি হতে পারে তার কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি গবেষকরা। তবে বেশিরভাগ গবেষকই ধারণা করেন, ধর্মীয় রীতিনীতির অংশ হিসেবে প্রাচীন নাজকার বাসিন্দারা এ ছবিগুলো এঁকেছিল। কারও কারও ধারণা, এটি এক ধরনের অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল কেলেন্ডার। এখানে আঁকা মাকড়সা, পাখি ও গাছের প্রতীক বলে অবশ্য সবাই মেনে নেয়। ঠিক একই কারণে অনেকে মনে করেন, বৃষ্টিপাতের জন্য প্রার্থনা ও পানি প্রবাহের লাইনের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই ধারণাও ঠিক গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এলাকাটির জলবায়ু অতীতে খুব বেশি যে পরিবর্তিত ছিল এমন কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না। তবে সাম্প্রতিককালে কম্পিউটারের দ্বারা পরীক্ষায় একটি আশ্চর্যজনক তথ্য পাওয়া যায়। নাজকাতে আঁকা একটি বিশালাকার মাকড়সার ছবির সঙ্গে অরিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জের নকশার বেশ সামঞ্জস্য পাওয়া যায়।


যা হোক, বিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের নাজকা রহস্য উদ্ধারে ব্যর্থতা এঁকে নিয়ে কিছু আজব তত্ত্ব চালু করেছে। সুইস গবেষক এরিখ ভন দানিকেনের মতে, নাজকা লাইন এলিয়েনদের সহায়তায় নাজকার প্রাচীন মানুষরাই তৈরি করেছিল এবং এটি মূলত এলিয়েনদের বিমানবন্দর। যেখানে তাদের স্পেশসিপ ওঠানামা করত এবং এখানে আঁকা নানা নকশা মূলত স্পেশসিপ ওঠানামার নানা সঙ্কেত। যদিও দানিকেনের তত্ত্ব বেশ চমকপ্রদ কিন্তু তার তত্ত্ব কোনো গবেষকই পাত্তা দিতে চান না এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত কোনো প্রমাণ না দিতে পারায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেষ বিজয়

লিখেছেন রুমী ইয়াসমীন, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৬



শুধু আর একটা বিজয় চাই, শেষ বিজয়!
যে বিজয়ে আমরা মরে গিয়েও বেঁচে রবো,
ম্রিয়মাণ হয়েও দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবো,
ভেঙে দিয়ে তোমাদের যতো সংশয়, যতো ভ্রুকুটি।
যে জন্মের শুরু থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধূষর দিনে উড়াউড়ি

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬

সকাল থেকে তুমুল বরফের উড়াউড়ি দেখছি। যত না তুষার পরছে তার চেয়ে বেশি উড়ছে, মাটিতে শুয়ে থাকা বরফ।
ঘন মেঘের কুণ্ডলি পাকিয়ে ধূষর অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে দৃষ্টি সীমানা। দূরে দিগন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

সু চির বক্তব্য নিয়ে ব্লগাররা যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩০



যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করা মানুষ, যিনি শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন তিনিই কিনা আজ নির্যাতিতদের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে অসত্য বক্তব্য দিচ্ছেন। সুচি সামরিক শাসকের পুতুল।এমন নিকৃষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধীর কঠোর বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইফ ইন্ডিয়া ওয়াজ নট ডিভাইডেড, জিন্নাহ উড বি অনলি ফাদার অব হিজ ওন চিল্ড্রেন

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩২

আমি কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাষ্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড পলিসি বিষয়ে পড়ছি। একই বিষয়ের আগের ব্যাচের আফগান ছাত্র আবদুল হামিদ নজরি। তিনিও আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা। আমাদের দেখা হয় ডরমিটরির হালাল কিচেনে। কথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেকুব (ও দুষ্ট) বন্ধুর চেয়ে শিক্ষিত শত্রু ভালো

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৩



বেগম জিয়া সবচেয়ে কম-শিক্ষিত ও কম-বুদ্ধিমান মানুষ, যিনি আধুনিক যুগে, মুক্তিযুদ্ধে-জয়ী একটি জাতিকে অনেকটা একজন রাণীর মতো চালায়েছেন প্রায় ৩৫ বছর; এটা রূপকথার রাণীদের চেয়েও বড় ধরণের মীথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×