somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক্সিকঊজ িম ভাইয়া একটুচাপেবন িপ্লজ!

২৪ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন যথারিথি অফিসের পর মহাখালি থেকে লেগুনায় উঠলাম। তখন বেশ স্পষ্ঠ ও শাবলিল ভাষায় এক তরুণ বাইরে থেকে বলে উঠল, “এক্সিকউজ মি ভাইয়া একটু চাপবেন? কাইন্ডলি আমাকে সাইডে বসতে দিন, আমি শামনে নেমে যাব।” আমার ফেস টু ফেস পিজশনে বসল বেচারা। তাকে বেশ টায়ার্ড‍ লাগছিল আর চুল গুলোও ছিল উশকো শুশকো। তবে পরনের কাপড় বেশ পরিপাটি। একটু পরেই বুঝতে পারলাম যে, উনি বিএনপি বস্তির সামনে নামবেন আর উনি হচ্ছেন আমাদের দেশের উদিওমান ভবীষ্যত প্রজন্ম থেকে ঝরে যাওয়া এক যোদ্ধা, যিনি মাদকাশক্ত হয়ে আজ তার জীবনকে ক্রমাগত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তার বেকগ্রাউন্ড আমার কাছে স্পষ্ট হতেই, আমি আমার শরিরটাকে একটু গুছিয়ে নিলাম, যাতে তার মত একজন ড্রাগ আডিক্ট এর ঘৃণিত শরীরে আমার স্পর্ষ না লাগে। আমি আরেক্টু চেপে বসলাম।তার একটু পর খেয়াল করলাম আমার সামনে আর ওই তরুণের একজন পরেই আরেকজন বসে আছেন, যিনি খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে ওই তরুণ এবং আমার ঠিক পাশে বসা লোকটার দিকে তাকিয়ে আছেন। তখন লক্ষ করলাম আমার পাশের জনও এডিক্টেড। তার ঝিমুনি ও জীর্ণ শরীর-কাপড় দেখে বোঝা যাচ্ছিলো, তার অবস্থা আরও খারাপ। তারা দুজন মিলেই তখন ঝিমানো ও মাথা ঝাকানো শুরু করল পাল্লা দিয়ে। একটু পরে আরও টের পেলাম যে, যে বেক্তিটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তাদের দিকে, তিনিও নেশাগ্রস্ত। উনার চোখগুলোও লাল হয়ে ছিল ও উনি কোনভাবেই চোখ বুজতে পারছিলেন না। উনার নেশা দ্রব্যটি বাকি দুজন থেকে ভিন্ন ছিল বলে বোঝা যাচ্ছে। তারপর আমি যখন বাকি পেসেঞ্জারদের দিকে তাকালাম, তখন আফসোস করলাম। এই যে আমাদের সমাজেরই কিছু অধিবাসিরা নেশার মত ভয়ঙ্কর অভ্যাসের সাথে জরিত, তখন সমাজের অধিকাংশ মানুষরাই চেষ্টা করে একটু চেপে বসতে, চেষ্টা করে এগুলো এভয়েড করতে। এ সমাজের মানুষগুলো নিজের ফেমিলি, ফ্রেন্ড, চাকরি, ব্যবসা নিয়ে এত ব্যস্ত যে সমাজগ্রাশি এসব সমশ্যার দিকে তাকানোরও সময় নেই। কিন্তু ভাই আর কত চাপবো? আর কত সরে দারাবো? কত ওভারলুক করবো? আমি ও আমার সহযাত্রিরা সেদিন পারিনি সরে যেতে, নেশাগ্রস্থদের সাথেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যাত্রা করতে হয়েছে অনিচ্ছা সত্তেও। সেদিন নেশাগ্রস্থদের চেয়ে আমাদের (তথাকথিত সভ্য যাত্রিরা) বেশি নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিলো, যারা দুনিয়ার মোহে পরে তাদেরই পাশে বেড়ে উঠা ভাইটির দুরদশার দিকে তাকায় না, ছুটতে থাকে তার ইপ্সিত স্বপ্নকে অর্জন করতে। আজ আমরা আধুনিকতার নামে গ্রহণ করেছি ইন্ডিভিজুয়ালিসম। যা আমাদের এ ধরনের রুঢ় বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে ... ... ...। আমরা যেন চলতি পথের এসব হোছট খাওয়া থেকে নিজেদের সুধরে নেই। কারণ সেদিন দূরে নয়, যেদিন আমাদের এই অপারগতার শিকার হবে আমাদের প্রিয়জনেরা।
সুতরাং আমাদের সৎ কাজের আদেশ আর অসৎ কাজে বাধা দিয়ে যেতে হবে নতুবা সফল মানুষের তালিকায় আর যেই থাকুক, আমরা থাকব না! যা সৃষ্টিকর্তা আমাদের বার বার বলে সাবধান করেছেন, কিন্তু আমরা তা শুনলাম কোথায়?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×