somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাকওয়া বিহীন আত্ন শুদ্ধি সম্ভব নয় । (দুই)

০৫ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগের পর্ব পড়ুন....।


দুর্নীতি , সন্ত্রাস, ভালো ও মন্দ, ভুল ও সঠিক, হক ও বাতিল, এ সবের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে মানুষ, তাকওয়ার মাধ্যমে । তাকওয়া বলতে বুঝি কোন এক অদৃশ্য ভয় যা আমাকে তাড়া করে ফিরে । যেমন কোন জনমানব শুন্য এলাকা যে খানে রাত হলে বিপদ ঘটার সম্ভবনা থাকে। কোন ব্যক্তি তা জানার পর সে অপ্রান চেষ্টা করে রাত হওয়ার আগে এলাকাটি দ্রুত ত্যাগ বা অতিক্রম করার। এখানে তাকে একটি ভয় তাড়া করে খুব দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার জন্য সাহায্য করেছে। ভয়টি হলো জীবন বা সর্বস্ব হারানোর ভয়। এমনি ভাবে জীবনের প্রতিটি কাজ সম্পাদন এবং প্রতিটি কথা বলার সময় যদি আল্লাহর ভয় আমাদেরকে তাড়া করে এবং সেই তাড়না ভালো মন্দ বাছাই করে চলতে বাধ্য করে। সেটিই হবে তাকওয়া। যিনি তাকওয়ার পথ অবলম্বন করেন, তিনি একজন মুত্তাকি, এর ফলে মানুষ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে এবং ন্যায় কাজ করার জন্য এগোতে পারে । এটাই হলো তাকওয়ার সহজ সরল কথা।

তাকওয়ার অভিধানিক অর্থ হলো কোন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আত্য়রক্ষা করা । তাকওয়ার পথে চলতে হলে প্রথমেই জানতে হবে কোন কোন জিনিস আমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং কোন জিনিস আমাদের জন্য উপকারী, কোন কর্মপদ্ধতি ভূল এবং কোনটি শুদ্ধ। এগুলোর পার্থক্য নিরূপনের জন্য দরকার জ্ঞান, আর জ্ঞানের প্রধান উৎস হলো আল কুরআন যেহেতু আমি বিশ্বাস করি যে, এ পৃথিবীর পর আর একটি জগৎ আসবে তখন মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতাকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপক যুগে যুগে তার প্রতিনিধি বা নবী রাসুল এবং কিতাব প্রেরন করেছেন । এটি এমন এক ঈমান যা আল কুরআনের জ্ঞানে সমৃদ্ধ, সে ঈমানই আমাকে তাড়া করে ফিরে, এ ঈমান আমাকে আরো তাড়া করে যে সাবধান !

তোমার জীবনের প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব সংরক্ষনের জন্য সম্মানিত লেখক নিয়োজিত আছেন, পৃথিবীর কেউ না দেখলেও আল্লহ রাব্বুল আলামিন তোমাকে ঠিকই প্রত্যক্ষ করেছেন। অনুবীক্ষন যন্ত্রের মাধ্যমেও যা ধরা যায়না, আল্লাহর কাছে তা গোপন থাকেনা । কারন তিনি দেখেন, জানেন ও শুনেন । এ ধরনের ঈমানের বাস্তব প্রতিফলনের নাম তাকওয়া তথা আল্লহর ভয়, এবং এটাই প্রতিটি ঈমান দারদের প্রকৃত চেতনা হওয়া উচিৎ।

সৈয়দ, খান, মীর, ভূঞা, চৌধুরী, ধাই, ধোপা, কুলি, মজুর ইত্যাদি আশরাফ ও আতরাফের মানদন্ড নয়, বরং তাকওয়াই সব মর্যাদা ও কল্যাণের একমাত্র মানদন্ড বা মাপকাঠি। তাকওয়া এমন একটি গুনের নাম যার মধ্যে মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সব মর্যাদা নিহিত। তাকওয়াহীন ব্যক্তি তিনি যেই হোন না কেন, তাকে সম্মানিত বলা যাবেনা। পৃথিবীর মানুষ গুলো বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ ও জাতীয়তার ভিত্তিতে মর্যাদার যেব বৃত্ত গড়ে তুলেছে, তাকওয়ার কাছে তা মূল্যহীন। যদিও এগুলো আল্লাহরই সৃষ্টি তবু এগুলো কোনো মর্যাদার মানদ্ন্ড বা কোনো মাপকাঠি নয়। বরং এগুলো আল্লাহ দিয়েছেন যাতে মানুষ পরস্পরকে চিনতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

হে মানবজাতি, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো । নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত, তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব কিছু জানেন ও খবর রাখেন । (সুরা আল হুজরাত ১৩

পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতি নিজেদের মধ্যে ভেদনীতি চালু করেছে। যেমন - হিন্দুরা তাদের মধ্যে বর্ণশ্রমের ভিত্তিতে ব্রাম্মণদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এবং শূদ্রদের লাঞ্চনার গভীর খাদে নিক্ষেপ করেছে। তাদের ঘরে অন্য ধর্মের কেউ ঢুকে গেলে সেটিকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে থাকে। এরাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদার গণতন্ত্র ও কট্রর সমাজনীতি শ্রেণী সংগ্রামের আগুন জ্বালিয়েছে, সাদা কালো বর্ণবাদ নীতি অসংখ্য বনি আদমের রক্ত ঝরিয়েছে, আদিবাসী অআদিবাসী উচ্ছেদের সংগ্রাম তো চলছেই।
আমাদের ভালো করে মনে রাখার প্রয়োজন খান্দান,বংশ,গোত্রও গোষ্ঠী,বর্ণ,ভাষা, দেশ ও জাতীয়তা এগুলো অহঙ্কারেরও হোতা। আরো মনে রাখা প্রয়োজন পৃথিবীর সর্বপ্রথম যে গুনাহের খাতায় নাম লিখেয়েছিল, সে হলো শয়তান এবং প্রথম যে গুনাহটি আল্লাহর হুকুমকে মানতে অবাধ্য করেছিল, সেটি হলো অহঙ্কার। আর অহঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল জন্মগত শ্রেষ্ঠত্বকে ভর করে।

সুরা বাকারয় আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমকে সেজদা করো। সবাই সেজদা করল । কেবল ইবলিশ করল না । সে অস্বীকার ও অহঙ্কার করল। সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।' অন্যত্র বলা হয়েছে, 'সে বলল আমি আগুনের তৈরি আর আদম মাটির তৈরি।' তার মধ্যে বর্ণবাদের অহঙ্কার ও বিদ্বেষ দানা বেঁধে উঠেছিল। ফলে সে ই পৃথিবীর নুকৃষ্ট কীট, যে আল্লাহর আদেশকে অমান্য করল এবং তার লানত নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত তাকে বেঁচে থাকতে হবে।

কিন্তু ইসলাম এসব নীতি কখনোই সমর্থন করে না। মানুষের মর্যাদা ও শ্রষ্ঠত্বের বুনিয়াদ হলো তাকওয়া।

চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:১৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×