somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোহানী
হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে। যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগে। আমার ফেসবুক এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

থার্টিফার্স্ট নাইট - দেশে বা প্রবাসে

০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যা কইতেছিলাম, থার্টিফার্স্ট নাইট এ কি করি আমরা এইখানে মানে প্রবাসে। দেশে থাকতে বিদেশী থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনের বিভিন্ন ছবি ভিডিও দেইখা ভাবতাম আহা কি আনন্দ বিদেশের আকাশে বাতাসে। খালি ফুর্তি আর ফুর্তি B:-/ । লোকজন আতশবাজি ফুটায়, গলাগলি করে, নাচানাচি গানাগানি করে, পার্টি করে আর মদ খায় B-))। আর তাই চিন্তা কইরাতো আমরা ও শুরু করছি লাফালাফি। যাক, যা শুরু করছিলাম.......



এই দুইটা ছবি হলো গিয়া টরেন্টোর নাথান ফিলিপস্ স্কোয়ারের। সবাই ওইখানেই জমায়েত হই সাধারনত। ওপেন স্টেজ প্রোগ্রাম, মিউজিক, আতশবাজি....... সবই আছে। তয় প্রত্থম প্রত্থম দুই তিন বছর হাজার হাজার লোকজনের ভীড় ঠেইলা ঠান্ডা উপেক্ষা কইরা গাদাগাদি লোকজনের মাঝে দাড়াঁয়ে আতশবাজি দেখতাম কিন্তু এখন ক্ষেমা দিসি। কারন বুড়া হইছি, কোমরে সয় না..... লোকজনের ভীড় ঠেইলা মাইনাস দশ ঠান্ডায় আতশবাজি দেখার চাইতে ঘরে শুইয়া মুভি দেখন ভালা B:-/ । তার উপ্রে আমার মাইয়া আধা ঘন্টা না যাইতেই চেঁচায় মা ক্ষিদা লাগছে :( । তারপর কোটি কোটি লোকের পিছনে লাইনের দাঁড়ায়ে এক প্যাকেট পিজ্জা কেনার পর সমুদ্র পাড়ি দিয়া স্কোয়ারে আসার পর দেখা গেল সবই শেষ :( । তাই মাপ ও দোয়া চাহিয়া এখন আর ওইপথে পা দেই না।

কানাডায় থার্টিফার্স্ট নাইট কেন যেকোন পাবলিক অনুষ্ঠানেই বাস ও ট্রেন কর্তৃপক্ষ যাবতীয় রাইড ফ্রি করে দেয়। এবং পুলিশ সহ সকল সেচ্ছা সেবক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়। কোনভাবেই পাবলিকলি এ্যালকোহল এ্যালাউ করে না। প্রতি মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার মদ খেয়ে গাড়ি চালায় কিনা তা পরীক্ষা করে। হাজার হাজার লোকের ভীড়ে আমরা বাস ট্রেনে চড়ি, গাদাগাদি লোকের মাঝে দাড়িঁয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করি কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ গায়ে ধাক্কা দেয়নি কিংবা ভিড়াভিড়িতে কেউ গায়ে হাত দেবার চেস্টা করেনি (না মানে আমিতো বুড়া আমার কথা বাদ দিলাম, অন্য ইয়ং মেয়েও আমার সাথে ছিল :-0 )।

মনে পড়ে সেই বাধঁনের কথা যারে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় থার্টিফার্স্ট নাইটে বন্ধুর সাথে ঘুরতে বের হবার অপরাধে ন্যাংটো কইরা ছাড়ছে পোলাপান। হাঁ, তারপরও এখানে কিছু অপ্রিতিকর ঘটনা হয়তো ঘটে কিন্তু সাথে সাথে ৯১১ এর পুলিশ হাজির হয়ে যায়। কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে এখানে কিছু করা মানে খবর আছে :-< । যে যার মতো আনন্দ করে... কেউ নাচে কেউ কাঁদে কেউ লাফায় আর আমার মতো অধিকাংশই তামাশা দেখে। কিন্তু দেশে সমস্যা হইলো গিয়া আমি ফুর্তি করুম ভালো কথা কিন্তু আশেপাশে দশজনরে জ্বালাইয়া ফুর্তি করুম। মাইকে হিন্দি গান বাজায়ে, সারারাত নাচাকুদা.. হৈহুল্লোড়। এখনতো শুনি কি জানি সব ডিজে পার্টি জায়গায় জায়গায় ভাড়া করা হয়.... মদ নারী গাজা ইয়াবা ক্যাসিনো ছাড়া থার্টিফার্স্ট নাইট পার্টিই নাকি পানসে। আহ্ দেশেইতো দেখি লোকজন ভালো আছে B:-/ কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।

মদ গান্জা নারী পর্টি এইখানেও হয় (তার উপ্রে আবার গান্জা এখানে বৈধ)। কিন্তু কাউরে জ্বালায়ে নয়। একটু শব্দ হইবো তো সোজা পুলিশ কল। কেউ এরকম পার্টি দিলে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকে যেন প্রতিবেশীকে ডিস্টার্ব না করা হয়। ক্রিসমাস আর নিউ ইয়া ইভ মিলে এখানের সবচেয়ে বড় বন্ধ। বন্ধের আগে অফিসে অফিসে চলে ক্রিসমাস ডিনার আর গিফট্ আদান প্রদানের আনন্দ (আমার অফিস আমারে ক্রিসমাস লাঞ্চের পর এক প্যাকেট মিস্টি আর ১০০ ডলারের গিফট্ ভাউচার দিসে B:-/ )। স্কুলের বাচ্চারাও স্কুল বন্ধের আগে ক্রিসমাস ক্যারল গেয়ে অনুষ্ঠান করে। একজন আরেকজনকে কার্ড ও গিফ্ট্ দেয়। টিচারদেরকে ও এ সময় বাচ্চারা গিফট দেয়। আনন্দ মুখর পরিবেশ। অনেক চ্যারিটি আছে যারা বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন খেলনা নিয়ে শপিং মল বা লোকজনের গেদারিং এ বসে বাচ্চাদেরকে খেলনা দেয়। প্রতিটি বড় বড় নামী দামী দোকানে থাকে ছাড়ের কম্পিটিশান। আমাদের মতো না যে ঈদ মানেই জিনিসের দাম ১০০ গুন X(( । বরং উল্টো এখানে, যেকোন উৎসব মানেই দাম কমিয়ে দেয়া। আলোকসজ্জায় শপিং মল সহ বাড়িঘরগুলো দেখার মজাই আলাদা।

ভার্সিটি জীবনে ছিলাম রোকেয়া হলে। সে এক এলাহি কান্ড হতো থার্টিফার্স্ট নাইটে। সারা ভার্সিটির হলের পোলাপানগুলা ভীড় জমাইতো হলের গেইট এর সামনে নতুবা এক্সটেনশান বিল্ডিং এর কোনায়। কারন ওইটাই একমাত্র জায়গা ছিল যেটা দেয়াল ঘেষা। আর ওই কর্নারের রুমে যারা ছিল তারাতো তখন ভিআইপি B-) । সবাই ভীড় করতো লাইট নিভায়ে(যাতে চেহারা দেখা না যায় B-)) ) ওই কোনায় পোলাপাইনের নাচাকুদা দেখার জন্য। যাহোক ফ্রিতে আমরা তখন পোলাপানের নাচ গান কৈাতুক সবই শুনতাম ও দেখতাম =p~ । সেই রাইতেই মনে হয় পোলাপাইনের প্রতিভা বিকোশিত হইতো রোকেয়া আর সামসুন্নাহার হলের আশেপাশে......... আহারে আমাগোরে বিনদুনের লাইগা এই শীতের রাইতে পোলাপাইন কতই না কষ্ট করতো... B:-/

সকলে ভালো থাকেন নতুন বছরে। আর মারামারি কাটাকাটি বাদ দিয়া ফেইসবুকে দেশ ও জাতি উদ্ধারে আগায়ে না আইসা সত্যিকারের উদ্ধারের চিন্তা করি। এবার আসেন কোলাকুলি করি, সব চিন্তা বাদ ;), হ্যাপি নিউ ইয়ার।



উপরের প্রথম দুইটা ছবি গুগল মামার আর বাকিগুলা আমার তোলা.............
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২২ ভোর ৫:০৪
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×