somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিপিএ ৪.০.২

২৮ শে মার্চ, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরদিন গিয়ে ছোকরারে ধরলাম। কারণ আগের দিন কথা বলার সময় মনে হচ্ছিল, সাধারণভাবে চেহারা নিস্পৃহ রাখলেও শিক্ষিত ভবিষ্যতের রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কষ্টটা লুকাতে পারছিল না। তাই ভাবলাম একটা চান্স নিয়ে দেখি। তাই অনেক লম্বা সময় নিয়ে প্রথমে ঝাড়ি দিলাম, আগে স্কুল জীবনে ফাঁকিবাজি করার জন্যই তোর বাড়িল লোকজন তোর ওপর হতাশ, একবার না করেছে তো কি হয়েছে ফাইট না দিয়ে কেমনে ছেড়ে দিলি, তারপর আট দশটা এক্সাম্পল খ্যাত বিখ্যাত মানুষদের যারা ফাইট করে পড়াশোনা করেছেন। বকাঝকা শেষ করে বললাম, বল দেখি, এখন যদি তোরে পড়ার আরেকটা চান্স দেয়া হয় তাহলে কি করবি? চোখের মণিতে আশার আলোর ঝিলিক দেখেই আমি আমার জবাব পেয়ে গেছিলাম। তবে মিনমিন করে বলল যে, সে একটা চেষ্টা করে দেখতে পারে, কিন্তু বাসার সবার কে কি বলবে, এই সেই। আমি বললাম ঠিক আছে, আমি দেখছি সেটা, পরে বলে, পড়তে তো অনেক খরচ, সেই জন্যই ছাড়তে হয়েছে, বললাম তুই ঠিক আছিস কিনা বল। বলে ঠিক আছি।

পরে গেলাম তার যে বড়ভাই দেশে থাকে তার কাছে। তারে গিয়ে এক দুই দফা ঝাড়ি দিয়ে বললাম, কোন দুঃখে নিজের ছোটভাইয়ের পড়া বন্ধ করেন? উনিও মিনমিন করে বলে, অয় পড়লে তো আপত্তি নাই, তবে পড়ার খরচা তো বিদেশ থেকে আসে আর সে বন্ধ করে দিলে আমাগোর কিছু করারা নাই। আর ইস্কুলে যেই বান্দরামী করসে, এরে দিয়া পড়াশোনা হইব না। তারেও আরেকপ্রস্থ ঝাড়ি দেয়া হল। পড়াশোনা করার ফযীলত সম্পর্কিত আরেক প্রস্থ লেকচার দিয়ে চলে আসলাম।

আমি মনে মনে হিসাব করেছিলাম যে, ফার্স্ট ইয়ারে উঠে ছেলে কিছুদিন পড়েই ৭-৮ মাসের গ্যাপ দিয়েছে। এখন একাডেমিক আইন প্লাস পড়াশোনা দুইটা দিক থেকেই মুশকিল। গ্রামের কলেজ যেহেতু, স্যারদের একটু ঠিকঠাক মতন পায়ে ধরলে উনারা ভর্তি করে নেবেন। আর যেহেতু কমার্সে পড়ে, সাইন্সের মত পড়াশোনার ভয়াবহ চাপ নাই। বাংলা ইংরেজী সহ তিন চারটা সহজ সাব্জেক্টে পাশ করলেই সেকেন্ড ইয়ারে উঠে যাবে। পরে এক বছর ঠিকমতন পড়াশোনা করলে মোটামোটি উতরে যাবে। কমপক্ষে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলে জীবনের জন্য একটা ফাউন্ডেশন হবে বলে আশা করি।

সেদিনই চলে আসতে হল ঢাকায় একটা দরকারী কাজে। আসার আগে ছোকরারে বলে আসলাম তোরে দুইটা কাজ করতে হবে। স্যারদের পা টা ধরে রাজী করাতে হবে যেন তোরে ভর্তি করে, আর খুব খিয়াল কইরা চিন্তা ভাবনা করে আমারে বলবি তোর এক ইন্টার পরীক্ষা পর্যন্ত কত খরচ লাগবে পড়াশোনা বাবদ।

পিছে জিপিএ ৪.০.১ আছে আর সামনে জিপিএ ৪.০.৩ এ শেষ হবে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭২০১৪

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

"ভাই, এইখানেই নামবেন?"

হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×