somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি চিরচিরে দুপুর ও আমার বিক্ষিপ্ত সততা ভাবনা।

২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ দুপুরের রোদটা চিরচিরে, ঘাম বের করানো রোদ। আমার ঘামটা বরাবরই বেশি, কিন্তু আমি শীতকাতর মানুষ, গরমকাতর নই। গরমটা আমার সহ্য হয়। আশপাশের দালানগুলোর ফাকঁফোকর গলে রোদ গায়ে পড়ছে। দালানগুলোর ছায়া দিয়ে হাটার সময় ছায়ার সাথে পঁশলা পঁশলা ফুরফুরে হাওয়া অনুভুত হয়, ছায়া থেকে রেরুতেই আবার গায়ে পড়ে চিরচিরে রোদ। রোদ আর ছায়ারা পালা করে শরীর বুলিয়ে যায়, আমি হাটতে থাকি, আঁকাশ ছোয়া দালানগুলোর পাশ দিয়ে ভরদুপুরে। ঘামেভেজা পা চামড়ার স্যান্ডেলে পিছলে যাচ্ছে এটাই যা একটু বিরক্তিকর। তবে মনটা সেদিকে নয়, মন ভাবছে এই বড় দালানের মালিকদের কথা, তারা কত বড়লোক? তাদের কত ক্ষমতা? তাদের মধ্যে কতজন সৎ, আর কতজনই বা অসৎ? কতজন শতভাগ সৎ থেকে এই বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন? তাদের কত জন তাদের সম্পূর্ণ সম্পদের উপর আয়কর প্রদান করেন? কতজন সরকারী মন্ত্রী আমালাদের যোগসাজস ছাড়াই তাদের কন্ট্রাক পেয়েছেন?

আচ্ছা, আমি নিজে কি সৎ? কতটুকু সৎ? সততার সংজ্ঞা আমার কাছে কি? জীবনে চলতে গেলে একটু আধটু অসৎ হতে হয়, এটা এমন কিছু নয়। আসলেই কি! সৎ থাকার চেষ্টা করাটা কি বোকামির পর্যায়ে পড়ে?!

Oh! I got a pee! আমি মসজিদ খুঁজতে থাকি। যেখানে মসজিদ সেখানেই শৌচাগার। আশপাশে তাকাই, কোথাও যদি মসজিদের মিনার দেখা যায়!

যখন মসজিদটা দেখতে পাই, তখন জোহরের আজান হচ্ছে। আজানটাই মসজিদটা পেতে সাহায্য করে, মসজিদটায় পৌছতে পৌছতে মসজিদের ওজু খানায় মুসল্লীরা জমায়েত হতে শুরু করেছে। আমি নিন্মচাপ থেকে পরিত্রাণ পাই, তারপর ওজু করি। উদ্দেশ্য ছিল হাতমুখ ধোয়া কিন্তু অন্য সবাই যখন ওজু বানাচ্ছে তখন ওজুর নিয়ম বর্হিভূত ভাবে হাতমুখ ধুলে মুসল্লীদের অবাক দৃষ্টির মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা থাকে তাই আমিও ওজু করি নিবিষ্ট চিত্তে।
ওজু শেষে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আবার রাস্তার পথ ধরি মসজিদে না ঢুকে, কারও দিকে না তাকিয়ে। নিজেকে তখন কাক চালাক মনে হয়। মনে হয় আমি পেরেছি সবার (!) চোখ ফাঁকি দিতে। আমার ভেতরের শয়তানটার জয়ধ্বনি চলতে থাকে, আমি কুকরে যাই অপরাধবোধে, কিন্তু পিছু হটিনা শয়তানের প্ররোচনায় এগিয়ে যাই রাস্তা ধরে, কাপুরুষের মতো। ভাবি, আমিও ভন্ড অনেকের মতো।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:৫০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×