somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাছাকাছি থেকেও চির-অচেনা

১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



স্ত্রীর জন্য স্যান্ডেল কিনতে বের হয়েছি; আমি ট্রেনে যাবার পক্ষে ছিলাম, গাড়ীর পার্কিং পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার; আরো ২/১ যায়গায় যেতে হবে, শেষমেষ গাড়ী নিয়ে বের হতে হলো; রেসিডেন্সিয়েল এলাকায় শপিংমল; আশেপাশে পার্কিং নেই; দুই চক্কর দিয়ে, স্ত্রীকে দোকানের কাছে নামিয়ে দিয়ে বললাম, আমি ফোর্থ এভেনিউ ও ডীনষ্ট্রীটের কোণায় অপেক্ষা করবো। ফোর্থ এভেনিউ ও ডী্নষ্ট্রীটের কোণায় একটা খালি যায়গা পেলাম; কিন্তু পার্ক করা যাবে না, নো-পার্কিং এলাকা, গাড়ী থামিয়ে ভেতরে বসে থাকলে চলবে, পুলিশ এলে চলে যেতে হবে। আমি গাড়ীর ভেতরে বসে থাকতে পারি না, বের হয়ে, ট্রাফিক লাইটপোষ্টের ছায়ায় দাঁড়ালাম; লোকজন মলে যাচ্ছে, মল থেকে বাড়ীর দিকে যাচ্ছে; তেমন ব্যস্ততা নেই!

১১/১২ বছরের একটি ছেলে বাইক থেকে নেমে, গ্রীনলাইটের জন্য অপেক্ষা করছে, রাস্তা পার হবে; সে লাইটপোষ্টের গায়ে লাগানো কিসের বিজ্ঞপ্তি পড়ছে মনোযোগ দিয়ে; লাইট গ্রীন হয়ে, আবার লাল হলো, সে পার হয়নি; আমি ওর পেছনে গিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম, কি পড়ছে? একটা 'হারানো বিজ্ঞপ্তি', একটা হিজাবপরা সুন্দরী মেয়ের ছবি; মেয়েটির নাম, সেথ আমেন, ১৬ বছর বয়স, বেরগেন ষ্ট্রীট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী; গতকাল, সে সামার স্কুলের ক্লাশের পর বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়েছিল, বাড়ী ফেরেনি।

-তুমি মেয়েটিকে চেনো? আমি জিজ্ঞাসা করলাম ছেলেটিকে।
সে মুখ খুললো না, মাথা নাড়লো, চেনে না! সে ছবিটি মনোযোগ দিয়ে দেখছে; মিনিট'খানেক পরে বললো,
-আমাদের স্কুলের মেয়ে, আমি নিশ্চয় দেখেছি; তবে, চেহারা থেকে বুঝতে পারছি না, এটি কোন মেয়ে; এই রকম ২০/২৫টি সিনিয়র মেয়ে আছে, এরা হিজাব পরে থাকে; আমার কাছে সবাইকে একই রকম লাগে!
-তোমার ক্লাশে হিজাবপরা মেয়ে আছে?
-আছে ৪/৫ জন; আমি ওদের চিনি, ওরা আমাদের সাথে খেলাধুলা করে, ওরা মাথায় রুমাল বাঁধে; হিজাবপরা সিনিয়র মেয়েগুলো খেলেধুলা করে না, ওরা নিজেদের মাঝে থাকে। আজকে সকালে স্কুলে জরুরী মিটিং হয়েছে; কয়েকটা সিনিয়র গ্রুপ ১০ মাইল এলাকায় খুঁজতে বের হয়েছে।
-তুমি ওকে খুঁজতে চাও?
-আমি সেটাই ভাবছি, আমি আমার ২ বন্ধুকে নিয়ে আমাদের এলকায় খুঁজতে বের হবো; ভাবছি, এই ছবিটি খুলে নেয়া ঠিক হবে কিনা!

আমাদের আলাপের সময় ২ টি ১৩/১৪ বছরের মেয়ে এসে লাইটে থামলো, মনে হচ্ছে, এরা পরস্পরের বান্ধবী, একজন কোরিয়ান, অন্যজন সাদা আমেরিকান; রাস্তা পার হবে, ২ জনের হাতে মিল্কশেক; আমি বললাম,
-লেডিস, এই হারানো বিজ্ঞপ্তিটা দেখেছ?
সাদামেয়েটি বললো,
-কি হারিয়েছে?
-একটি মেয়ে, আমি বললাম।

মেয়ে ২জন ছেলেটার পাশে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞপ্তিটা পড়লো; সাদামেয়েটা আমাকে প্রশ্ন করলো,
-মেয়েটি কি তোমার কেহ হয়?
-না!
-আমি চাই আমার ধারণাটা সঠিক হোক, আমি চাই মেয়েটার খারাপ কিছু না হোক; আমার ধারণা, মেয়েটা পালিয়ে গেছে!
-কেন এই ধারণা।
-প্রথমত, আমি মনেপ্রাণে চাই ওর যেন ক্ষতি না হয়; পালিয়ে গেলে ওর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। মুসলমান মেয়েদের পরিবারের লোকরা ওদেরকে কারো সাথে কথা বলতে দেয় না, মিশতে দেয় না; এই কারণে অনেকেই পালিয়ে যায়।

মেয়েটা নিজের ফোন দিয়ে ২/৩টা ছবি নিলো। ছেলেটা বললো,
আমাকে ছবিটা পাঠাতে পারবে?
-তোমার সেল নম্বর দাও।
-সেলফোন নেই, ই-মেইলে পাঠাও, প্লীজ।

মেয়েটা ছেলের ই-মেইলে পাঠায়ে দিলো। একটি আফ্রিকান আমেরিকান মেয়ে টেলিফোনে বকবক করতে করতে গ্রীন লাইটে রাস্তা পেরিয়ে এ পাশে এলো; আমি হাত নেড়ে তাকে থামতে ইশারা করলাম; সে থেমে প্রশ্ন করলো,
-কি ব্যাপার?
-একটা মেয়ে হারিয়ে গেছে, বিজ্ঞপ্তিটা দেখ।
-স্যরি, আমার তাড়া আছে, আমি এলআইআর ট্রেন ধরবো।
সে পকেটে হাত দিয়ে ১ ডলার বের করে আমার হাতে দিয়ে হনহন করে চলে গেলো। সাদা মেয়ে বললো,
-ডলার দিয়ে কি হবে?
-আমি জানি না।
-মেয়েটি মনে করেছে, আমরা পরিবারকে সাহায্য করার জন্য টাকা তুলছি। টাকাটা তুমি কোন হোমলেসকে দিয়ে দিও।
-ঠিক আছে।

মেয়ে ২টি বিদায় বলে চলে গেলো; ছেলেটি রাস্তা পার না হয়ে, যেদিক থেকে এসেছিলো, সেইদিকে বাইক ঘুরালো, বললো,
-বাসায় গিয়ে ছবিটা প্রিন্ট করবো; আবার দেখা হবে।
আমি স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:১৬
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুভ জন্মদিন প্রিয় ত্রিরত্ন।

লিখেছেন এস.কে.ফয়সাল আলম, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৩৫



আজ যখন ঢাকাগামী ট্রেনের সিটে বসে মোবাইল থেকে এই পোষ্ট লিখছি, তখনও প্রিয় সামু ব্লগ দেশের বেশিরভাগ ISP তে ব্লক! ব্লগের সেই চিরচেনা দিনগুলি আস্তে আস্তে যেন স্মৃতিগত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই পাগলের ঝগড়া

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৫


শহীদ্লু ইসলাম প্রামানিক

দুই পাগলে গাছের নিচে
করছে বাড়াবাড়ি
হায়! হায়! হায়! করছে একজন
আরেকজন আহাজারী।

এমন সময় এক পাগলে
দিল গালে চড়
শব্দ হওয়ায় আরেক পাগল
পেল ভীষণ ডর।

ডরের চোটে বলছে পাগল,
এমন করলি কেন
এটম বোমের মতই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কূটনামীগুলো করলে আপনি ক্ষমতা লাভ করবেন ! :P

লিখেছেন রাকু হাসান, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৪১




সব কিছুই একটা নিয়মের মধ্য থেকেই করতে হয় । কূটনামী কিংবা ক্ষমতাবান হওয়ারও কিছু নিয়ম আছে ।
সেগুলো নিয়েই আজকের পোস্টে গোপন সূত্র শেয়ার করবো ;) । যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুটুম

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:২৬



শেষরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমার বেহালার সুর শুনতে ইচ্ছে করে। বেহালা যে আমি খুব ভালোবাসি তা নয়। তবে শেষ রাত সময়টা রহস্যময়। এ সময় মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দের ভার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×