আরিল,এই সিদ্ধান্তটা আপনাকে নিতেই হবে,এখুনি..
পোষ্টি পড়ে মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেল - যার থেকে এই লেখার চিন্তা। সত্যই বাংলায় এতো সুন্দর একটা ব্লগের সুযোগ একদল মানুষের নিজেরদের এজেন্ডা প্রচারের প্রচেষ্টা আর কর্তৃপক্ষের অদূরর্দীতার কারনে প্রায় ম্রিয়মায় - নিভে যাবে দ্রুতই। যখন কেহ জানবে এটা একটা ঘাতক দলের মুখপাত্র - তাদের জন্যে এখানে এসে সৃষ্টিশীল আর মুক্তচিন্তার কথা বলা কঠিন হয়ে যাবে)
[ডিসক্লেইমার: নীচের গল্পটি শুধুই একটি গল্প - কোন প্রকৃত ঘটনা বা ব্যক্তি যদি এই গল্পের সাথে এক করে ফেলেন সেটা নিজ দায়িত্বেই করবেন, ধন্যবাদ]
একদা একদল ছাগশিশু ‘কোথাও কোন এক’ এক মাঠে মনের আনন্দে দূর্বা উপভোগ করছিলো। এরমধ্যে তাদের কানে ভেসে এলো এক জলদগম্ভীর গলা - একটা গভীর কন্ঠের আহ্বান -
“ এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারে সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”
এই গম্ভীর গলার আহ্বান অনেক ছাগশিশুর কাছে কবিতার মতো শুনালেও - একটি ছাগশিশুর মনকে ভারাক্রান্ত করে ফেললো। সে গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হলো। রাতে ঘুম হয় না। নব্য ধনিকশ্রনীর ঘরে লালিত পালিত হবার সুবাদে এই ছাগশিশুটির কম্পিউটার সম্পর্কে কিছু জ্ঞান হওয়ায় গভীর রাতে বাড়ীর সবার ঘুমানোর সুযোগে কম্পিউটারে সামনে বসে ছোট্ট ছোট্ট খুর দিয়ে টাইপ করা শুরু করলো - “এবাবে চলে না। যা বলা হয়েছে - সব ঝুট হ্যায়, ছাগলদের কথা বলতে হবে - ছাগাধিকার নিশ্চিত করতে হবে”।
পরদিন ছাগশিশুটি মাঠে গিয়ে ঘোষনা দিল - “ভাইসব, ১৯৭১ সালে একটা যুদ্ধ হয়েছে এটা সত্য, মেই যুদ্ধে অনেক মহান মানুষ জী্বন দিয়েছে সেটাও সত্য। কিন্তু মানবকুল একটা অবিচার করেছে আমাদের সাথে - তারা ভুলে গেছে ৭১ এর কঠিন সময়ে আমাদের পূর্বপুরুষ ছাগলরা দুধ আর মাংস সেক্রিফাইস করে যুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সেই মাংস এবং দুগ্ধ উভয় পক্ষ পান করে শক্তিশালী হওয়ার সুবাদে যুদ্ধটা ৯ মাস স্থায়ী হয়েছে - নতুবা যুদ্ধটা অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। সুতরাং ৭১ এ যা ঘটেছে সেখানে ছাগলদের ভুমিকা বের করার লক্ষ্য একটা গবেষনাগার তৈরী করা হবে। টাকা পয়সা কোন সমস্যা না - কারন আমার পালনকর্তা দেশের অব্যবস্থার সুবাদে যথেষ্ট অর্থের মালিক - যা থেকে সহজেই কিছু সরানো যাবে। এখন দরকার ছাগল জাতির সমর্থন এবং সহযোগীতা”।
তার এই আবেগঘন বত্তৃতা শুনে ছাগজতগের মধ্যে এক ছাগাবেগের বন্যা বয়ে গেল। প্রায় সকল প্রজাতির ছাগল এই ছাগশিশুটির আশে পাশে ভীড় জমালো। এলো পাটনাইয়া ছাগল, এলো বিখ্যাত কালো ছাগল, এলো জোট সরকারের সরকারের ছাগল প্রকল্পের মোটাতাজা ছাগল, গ্রামাঞ্চলের পেতী ছাগল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছাগলবৃন্দ হলেন - ফাকুন্দ নামের এক ছাগল যে পানি নিয়ে সবসময় চিন্তিত, ঘাসরাফ নামের এক ইরানী ছাগল যে মুখ এবং পায়ু দুই পথেই ভ্যা ভ্যা করার মতো এক কঠিন দক্ষতা প্রদর্শন করে ছাগজগতে একজন ওস্তাদ হিসাবে বিবেচিত - ছামুদ নামের এক ছাগল - যে সবসময় একটা গোলটুপী পড়ে থাকে আর চানাচুর মার্কা কথা বলে নিজেকে ছাগজগতে জ্ঞানী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে - এসেছে কুপি ছাগল - এসেছে উটু ছাগল - দেখতে উটের মতো বলে ছাগজগতে একটা বিশেষ সন্মানজনক আসনে প্রতিষ্ঠিত - এলো আরো কিছু কুচ্ছাগল - ছাগল হলেও এরা কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারমঙ্গ।
মাঠে ছাগলদের এই সমাবেশ দেখে কিছু মানব সন্তান বেশ আগ্রহী হয়ে উঠলো। তারা নানান ভাবে ছাগলদের কার্যক্রম জানার জন্যে প্রচেষ্টা চালালো। কিন্তু মাঠে মাত্রারিক্ত ছাগলের সমাবেশের কারনে ছাগলের লাদি এবং চনার গন্ধে তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। ফলে ছাগালার্জি নামক রোগে আক্রান্ত কিছু মানব সন্তান দ্রুত মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হলো। বাকীরা রুমাল চাপা দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো ছাগুশিশুর মুক্তিযুদ্ধের ছাগুপোযোগী ইতিহাস প্রকল্পের স্বরূপটা দেখার জন্যে। কিন্তু দেখা গেল ছাগশিশুটি তার তরল স্বভাবের কারনে কোথাও স্থির না থেকে রবি ঠাকুর, জিআরই, স্ক্রীপ ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। এতে অনেকে হতাশ হলো।
অপেক্ষা করা এই মানব সন্তানরা অদ্যাবদি সেই ছাগুপোযোগী ইতিহাসের তেমন কিছুই দেখলো না - কিন্তু মাঠের মালিকদের আনাগোনা দেখলো - তাদের চিন্তিত মুখের আবছা চিন্তার ছাপ দেখা গেল। অবাক করা এক কাজ করলো মাঠের মালিকরা - এরা ছাগলের বিষ্টা পরিষ্কার না করে এক মানব সন্তানের সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো - এবং তাকে কিভাবে ছাগলদের না রাগিয়ে আচরন সংযত করতে হবে সেই বিষয়ে জ্ঞান দিলো। তাতে কিছু মানব সন্তান মাঠ ছেড়ে দিলে - মালিকপক্ষ ছাগরের লাদি এবং চনা পরিষ্কারে একটা আবছা ঘোষনা দিলো।মাঠের মালিকরা ঘোষনা দিল যে, ছাগলদের লাদি আর চনা পরিষ্কার করে মাঠকে আবার আগের মতো করার একটা প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছাগশিশুদের ভ্যা ভ্যা আওয়াজে সেই ঘোষনা অনেকটা বাংলাদেশের রাজনীতিকদের জনসভায় ঘোষনার মতো শুনালে অধিকাংশ মানুষ সেটা নিয়ে সন্দিহান হলেন। মাঠের মালিকদের সুষ্পষ্ঠ কার্যক্রম না আসায় এখনও কিছু মানব সন্তান সেই মাঠ ছেড়ে বৈকালিক ভ্রমনের জন্যে নতুন মাঠ খুৎজতে বেড়িয়ে যাচ্ছে। কেহ কেহ নিজ বাড়িতে মাঠ পরিষ্কারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই অবস্থায় গতকাল দেখা গেল এক ছাগশিশু মাঠটা ছাগল কর্তৃক দখল রাখার ঘোষনায় মাঠে অবস্থানকারী মানব সন্তানদের মধ্যে মাঠের মালিকদের কর্মকান্ড সম্পর্কে একটা আবছা সন্দেহের উগ্রেক করেছে। মাঠকে মানবোযোগী রাখার লক্ষ্যে যদি কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তবে মাঠটি দ্রুতই ছাগলের লাদি আর চনার কারনে মানব সন্তান কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষনার সম্ভাবনা সুষ্টি হয়েছে।
অনেক পুরো বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন - কারন ছাগুশিশু কর্তৃক ইতিহাস রচনার মতো বিশ্বের অস্টমাচর্য ঘটনার স্বাক্ষী হওয়ার মতো কোন মানুষই যদি মাঠে না থাকে - সেটা হবে সত্যই দু:খ জনক। আশা করি মাঠের মালিকগন ভেবে দেখবেন - আপনাদের মাঠকে ছাগল মোটাতাজা প্রকল্পের খামার হিসাবে দেখতে চান - নাকি একটা মুক্তচিন্তার ধারক বাংলা ব্লগ হিসাবে দেখতে চান।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০০৭ রাত ১১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



