somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপেক্ষা, না প্রতীক্ষা?

১০ ই জুন, ২০০৭ সকাল ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে, এক শীতের দিনে, বৃদ্ধনিবাসে ভর্তি করা হলো ৮০ বছরের দেখতে শক্তসামর্থ এক বুড়োকে। ডাক্তার বৃদ্ধনিবাসের পরিচালককে পইপই করে বলে দিলেন, মানসিকভাবে ভালো রাখলে ইনি আরো বছরখানেক বাঁচবেন। শক্ত আঘাত পেলে যে কোনো সময় মারা যেতে পারেন। তার এখন খুব আনন্দদায়ক সময় কাটানো দরকার।
কিন্তু মানসিকভাবে বৃদ্ধকে কে ভালো রাখবে? এখানে সবাই-ই তো বৃদ্ধ! আর এক বৃদ্ধ আরেক বৃদ্ধকে কতটুকুই বা সময় দিয়ে ভালো রাখতে পারবে! বৃদ্ধনিবাসের পরিচালক তাই বুদ্ধি করে বৃদ্ধের ছেলেমেয়েদের বললেন এমন কাউকে এখানে নিয়ে আসতে যে বৃদ্ধকে ভালো রাখতে পারবে।
ছেলেমেয়েরা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বৃদ্ধের তরুণ বয়সের খুব প্রিয় একজন বান্ধবীকে নিয়ে আসলো যার বয়সও ৭০-এর বেশি, কিন্তু এখনো বেশ সুস্থ। ছেলেমেয়েরা বৃদ্ধাকে ডাক্তারের কথাগুলো জানালো এবং অনুরোধ করলো বৃদ্ধকে যেনো সময় দেয়, হাসিঠাট্টা করে এবং উদ্বেগমুক্ত জীবনযাপনে সহায়তা করে।
বৃদ্ধের সঙ্গে বৃদ্ধার দেখা নেই চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তাই বৃদ্ধ বৃদ্ধাকে চিনতে পারলেন না। যা হোক, বৃদ্ধা ওই বৃদ্ধের পছন্দ-অপছন্দ জানতেন বলে খুব দ্রুত তাদের সখ্য গড়ে উঠলো। একটি আনন্দময় জীবন কাটাতে শুরু করলেন তিনি। এমন জীবন যেখানে বৃদ্ধার মোহময়ী স্নেহে-ভালোবাসায় বৃদ্ধের মনে কোনো হাহাকার থাকলো না।
মাস তিনেক পর একদিন বিকেলে হঠাৎ হালকা জ্বর আসলো বৃদ্ধের। ডিনার করিয়ে, ওষুধ খাইয়ে বৃদ্ধা তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে রাত ১০টায় আবার আসবেন বলে বিদায় নিলেন। এদিকে কিছুণ পরেই জ্বর সেরে গেলো বৃদ্ধের। ঘুমও আসছিলো, কিন্তু বৃদ্ধার প্রতীক্ষায় না ঘুমিয়ে বসে রইলেন বিছানায়।
ওদিকে বৃদ্ধা ভাবলেন বৃদ্ধ নিশ্চয়ই ঘুমুচ্ছে। তাই তিনিও আর দেখতে গেলেন না।
১০টা পেরিয়ে ১১টা... ১২টা... ১টা বাজলো। আস্তে আস্তে ৩টা... ৪টা... ৫টা...

পরদিন সকালে বৃদ্ধার ঘুম ভাঙলো শোরগোলে। জানলেন বৃদ্ধ মারা গেছেন। বিশ্বাস হলো না তারÑ হঠাত এভাবে মারা যাবে কেনো? তড়িঘড়ি করে বৃদ্ধের ঘরে ছুটে গেলেন। দেখলেন, বিছানার ওপর বালিশে হেলান দিয়ে নিথর বসে আছেন তিনি। চোখে তার অবারিত হাহাকার। দু-চোখের দৃষ্টি নিবদ্ধ হাট করে খোলা দরজার দিকে। চোখ দুটো যেনো অপো করছে। বৃদ্ধনিবাসের কেউ কিছু বুঝেনি। সবাই ভাবছিলোÑ বয়স হয়েছে তো! তাই! কিন্তু একমাত্র বৃদ্ধাই বোধহয় জানেন কেনো মারা গেলেন তিনি... ওই চোখ অপেক্ষা করছে কার জন্য... কীসের জন্য... অপেক্ষার কীরকম কষ্ট নিয়ে মারা গেলেন তিনি... শুধু অপেক্ষা, নাকি প্রতীক্ষাও ছিলো সে চোখে...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭২০১৪

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

"ভাই, এইখানেই নামবেন?"

হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×