somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেদিন আমি মারা যাব

৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বয়োস ২৭ পেরিয়ে ২৮ বছর শুরু হয়েছে। আমি বেশ মোটা। তার উপর আবার প্রচুর সিগারেট খাই। মাঝে মাঝে মনে হয় হঠফত করে কখন জেনো মারা যাব আমি। পৃথিবীর এই মায়ার জগত তো আর ছাড়তে ইচ্ছা করে না। মনে হয় পৃথিবী যত দিন আছে তত দিন বেচেথাকি। কিন্তু তা কি আর হবার আছে? শরীর নামক এই জৈবিক কারখানা রীতি মত তার কমক্ষমতা তাহারেয়ে পরিতেক্ত কারখানার মত হয়ে যায়। তার পর আস্তে আস্তে ধবংশ হয়ে যায়। আমার জীবনেও সে দিন টি আসবে একদিন। হয়তো এখনো আসেতে পারে আবার ৪০ বছর পর ও আসতে পারে। তবে এটা যে আসবে তা চিরন্তন সত্য । আমি মোটা, দেখতে খারাপ ও কালো। এই বিসইটি নিয়া আমাকে অনেক সমস্যাই পড়তে হয়েছে। অনেক মানুষের অনেক কথা সুনেছি। আমি ওগুলোতে গা লাগাই না। তাই কনো মেয়েকেই তাদের বাড়িতে কার সাথে ঝগরা করতে হয় না। মানে আমার সাথে কনো মায়ের কনো রকম ভালোবাসার সম্পরক নেই। অবশ্য আমি অনেক কেই প্রস্তাব দিয়াছি। কিন্তু, নিজের চেহারা, শরীর ইত্যাদির প্রতি আত্মবিশবাস কম তাই কিছুদুর আগানোর পর ছেড়ে দিয়াছি সবগুল। এসব নিয়ে আমার বন্ধুরা আমাকে অনেক উপহাস করে। আসলে তাদের তো আর আমার মতো সুন্দর চেহারা না যে তারা কি করে বুজবে আমার মনে কি বেথা ! তবে হ্যাঁ আমি কারো করূনার পাত্র নই। এ যাবত কালে যত কাজে হাত দিয়েছি মোটামুটি সমস্ত কাজে সফল হয়েছি। আমার কিছু খারাপ বৈশিষ্ট আছে, যেমন মানুষকে তারাতারি বিস্বাস করা আর মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া। আধুনিক যুগে এই বৈশিষ্ট সম্পন্ন মানুষ একেবারেই ওচল। আমার বাবা-মা বেশ ধর্মিক মানুষ। কেনো জানি না ছোট বেলা থেকেই ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ছোট বেলা থেকেই ওনেক কম। কিন্তু আস্তে আস্তে সে ভুল ভংতে সুরু করেছে। কারন আমি যতই বিজ্ঞান জানার চেষ্টা করছি ততই একথা স্পষ্ট হচ্ছে যে আল্লাহ আছেন। আর তা সারা আমি দেখছি যে ভাগ্য ওনেক সহাই আমার উপর। আর ভাগ্য এক মাত্র আল্লাহ লেখতে পারেন। যদিও ভবিষ্যতে এ ধারা বজায়ে নাও থাকতে পারে। এতক্ষন এসব আলোচনা করলাম এ জন্য যে, যা আমি এখন যা বলবো তা হতো ঐ সব ঘটনার সাথে যোগসূত্র থেকে জেতেও পারে কারন তখন তো আমি থাকবো না, আমি চিরো বিদায় নিয়ে চোলে যাবো। আমি কি তখন বুজতে পারবো আমার চারপাশে কি হচ্ছে? হয়তো বা পারবো। হয়তো আমার প্রান প্রিয় বাবা-মা আমার পাশে বসে কাঁদবেন। কাঁদতে কাঁদতে হয়তো বা তাদের চোখের জল শুকিয়ে যাবে, হয়তোবা তাদের মুখে কথা থাকবে না, কিন্তু আমি তাদের একটুকুও সান্তনা দিতে পারবো না। যদি সে সময় আমার নানা-নানি বেঁচে থাকেন তাহলে তারা তাদের সমস্ত মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলবেন। কারন তারা আমাকে প্রচন্ড ভাবে ভালোবাসেন। আমার দাদা ওনেক আগে মারা গেছেন। তাই তার কথা আমার খুব একটা মনে নাই। শুনেসি মৃত্যুর সময় নাকি মানুষ তার সমস্ত জীবনের কর্ম এক বার করে দেখতে পায়! আমি আমার দাদা কে অনেক বেশি সময় ধরে দেখতে চাই। দাদী তো অনেক অসুস্থ ছিলেন তাই তার আদর আমরা খুব একটা পাই নাই। আমার বন্ধুরা এসে আমার দাফন কাফনের বাবস্থা করবে হয়তো। হঠাৎ করে তাদের একজন ভালো বন্ধু চলে যাওয়াতে তারা স্তম্ভিত হয়ে যাবে। কিছুদিন পর হয়তো তাদের মনে আমার জন্য আর ফাকা জায়গা থাকবে না। কারণ এই পৃথিবী বড়ই নিষ্ঠুর জায়গা। আমার ভাই ও বোনেরা আমাকে খুব ভালোবাসে। আমিও তাদের অত্যন্ত ভালোবাসি। আমার ভাই হইতো আমার লাশের পাশে বসে আহাজারী করতে থাকবে আর আমার বোনেরা নিরবাক মুখ আমার চোখের সামনে হয়তো ভেসে উঠতেও পারে। হয়তো বা উঠবে না। হয়তোবা তাদের এতো সব কান্না আমি শুধু ওনুভব করবো। হয়তোবা তাদের চিন্তার স্রোতে আমি বার বার ভেসে জেতে থাকবো। হয়তোবা আমার একজন স্ত্রী ও থাকবে। সে তো সব হারিয়ে পাথর হয়ে দরজার চৌকাঠের সাথে মাথা হেলান দিয়ে নির্বাক নয়নে আমার দিকে চেয়ে থাকবে। হয়তো সে মাঝে মাঝে কেঁদে উঠবে, আর ছিন্তা করতে থাকবে সে এখন কার কাছে আশ্রয় নিবে? হয়তোবা বেশ কিছুদিন পরে আমারই কোন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে, তার জীবনটাকে সুখী রাখার জন্য বা তার জৈবিক চাহিদা পুরন করার জন্য। হয়তো বা সে একদিন আমার সাথে তার দাম্পত্য জীবনের সুখের সৃতিগুলো ভুলে যাবে। হয়তোবা কেউ কেউ বলবে উনি খুব সৎ , নিষ্ঠাবান বা খুব ভাল মানুষ ছিলেন। আবার কেউ কেউ হয়তো আড়ালে আবডালে বলবেন উনি খুব দাম্ভিক ছিলেন কারো সাথে ভাল করে কথাও বলতেন না। এর পর সমস্ত আনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করে আমাকে দাফন করা হবে। আমি নির্বাক ভাবে সব কিছু ওনুভ করব মাত্র।

আমার স্বপ্নের ভুবনে স্বাগত
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৪৬
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×