তখন সবেমাত্র গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে এসেছি, নতুন দেশ, সবকিছু নতু্ন, প্রথম দিন থকেই ভয়ানক বরফ পড়া শুরু হল।
অনেক কষ্ট হেঠে হেঠে ইউনিভার্সিটিতে পৌছালাম। কঠিন ঠান্ডা। মনে হল নাক মুখ থেকে রক্ত বের হয়ে যাবে। ভালবাসার দেশ, মা, আর ভাইবোন ছেড়ে এই দূর আচিন এদশে আসার জন্যে নিজেকে ১০০ টা চড় মারলাম। প্রতিজ্ঞা করে ফেললাম যদি সামনের সপ্তাহে কোন ফ্লাইট পাওয়া যায় তবে তাতেই দেশে ফিরে যাব।।বাক্স পেটরা আর খোলার দরকার নেই।
ডিপারটমেন্টে পৌছে শুনলাম আমার প্রফেসর শহরে নেয়। কোন একটা কনফারেন্সে শহরের বাইরে রয়েছেন।তবে ডিপারটমেন্টের সেক্রেটারির কছে মেসেজ দিয়ে গেছেন আমি যেন গ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম ডাইরেক্টরের সাথে দেখা করি। সেই আমাকে কি কি কোর্স নিতে হবে তা বুঝিয়ে দেবেন।
গ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম ডাইরেক্টরের অফিস খুঝে নক করলাম। কোন সাড়া নেই।ভিতরে আলো জ্বলেছে, কাকে যেন দেখা যাচ্ছে, তবু কোন সাড়া নাই।অনেক্ষন নক করার পর এক বিশালদেহি বের হয়ে এলেন। জানতে চেলেন,
“কি চাই”
“আমি নতুন গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট। আমার এডভাইসার তোমার সাথে দেখা করতে বলেছেন। কোর্স রেজিস্ট্রেসন সংক্রান্ত” আমি মিনমিন করে উত্তর দিলাম।
উনি স্মভাবত আমার ইংলিস বুঝতে পারেননি, বললেন “আবার বল”
আমি অনেক কষ্টে শব্দগুলি আবার সাজিয়ে বললাম। বিশালদেহি খুব বিরক্ত হয়ে বললেন
“তোমার এডভাইসার কে”
“ডঃ সাব গল” আমি আমার প্রফেসরের নাম বললাম।
বিশালদেহি আরও বিরক্ত হয়ে বললেন,
“সেই তো তোমাকে এডভাইস করতে পারে। আমার কাছে পাঠিয়েছে কেন”
“উনি শহরে নেই, তাই তোমার কাছে আসা, এডভাইন্সিং স্লিপে সই না হলে রেজিস্ট্রেসন করতে পারব না, আগামিকাল রেজিস্ট্রেসনের শেষ দিন” আমার ইংরেজি আরও তোতলাতে লাগল।
এবার উনি দরজার উপরে আটকানো একটা কাগজ দেখিয়ে বল্লেনঃ
“এখানে আমার অফিসের সময় লেখা আছে। তোমার সেই সময় আসা উচিত ছিল। যা হোক এসেই যখন পড়েছ তোমার এডভাইন্সিং স্লিপ দেও”।
উনি স্লিপ নিয়ে খসখস করে তিনটা কোর্সের নাম লিখে সই করে দিলেন।
আমি তো তাজ্জব। কোন কথা নেই, কোন আলোচনা নেই, জানতেও চাইলেন না আমি কি কোর্স নিতে চাই, আমার ব্যাকগ্রউন্ড কি। এর নাম নাকি এডভায়সিং।
আমি কিছু বলতে চাইলে উনি বললেন
“এই কোর্স গুলি নিতে না চাইলে যেটা তোমার ইচ্ছে হয় সেটা নাও। আমকে বিরক্ত কোর না”।
বলেই উনি দরজা বন্ধ করে দিলেন।
আমার বিস্ময় তখন চরমে উঠেছে। একি রকম ব্যবহার। দেশে থাকতে শুনেছিলাম আমিরিকার প্রফেসররা নাকি সবাই খুব ভদ্র। সাহায্য করার জন্য এক পা এগিয়ে থাকে।তার তো কোন নমুনা দেখলামনা।
পরে জেনাছিলাম গ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর ডঃ স্ট্রয জার্মান ইমিগ্রান্ট। বুঝতে আসুবিধা হলনা কেন তার জাতি দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল।
এডভাইন্সিং স্লিপে তিকিয়ে দেখি প্রথম দুইটা কোর্স নিয়ে কোন সমস্যা হবার কথা নয়।তৃতীয় কোর্সটার নাম টার্বুলেন্স। আমি নিশ্চিন্ত হয়ে গেলাম এই কোর্সটাই আমি ফেল করব। কেননা এডভান্স ফ্লুইড ডিনামিক্সে আমার কোন ব্যাকগ্রউন্ড নেই। তাই টার্বুলেন্স নাওয়া আর সুইসাইড করা আমার জন্য একি ব্যাপার।
ফেল করব ভেবে দেখি তেমন খারাপ লাগছে না। বরং ভালই লাগছে। ফেল করলে আমাকে প্রোগ্রাম থেকে বের করে দেবে, আর আমি সাথে সাথে দেশে চলে যেত পারব এই চিন্তাই কেন যেন মনটা ভাল হয়ে গেল।
ডঃ স্ট্রিযের ব্যাবহারে মনটা খুব খারাপ হয়েছিল। তাই রেজিস্ট্রেসন শেষ করে ইনজিনিয়ারিং লাইব্রেরির দোতালায় এসে বসলাম। মুল লাইব্রেরি না, তাই বেশ ছোট আর লোকশুন্য। বাইরে তাকিয়ে দেখি চারদিক ধবধবে সাদা হয়ে আছে, আর বিষন্ন একটা আকাশ। হঠাত মনে হল আমি বাড়ি থেকে আনেক দূরে চলে এসেছি। প্রিয় মানুষগুলি আনেক দূরে রয়ে গেছ। অজান্তে চখে কোনটা ভিজে গেল
……………চলবে।
কপিরাইট©২০১১ স্পার্টন
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


