somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসলে কিন্তু সেই তোমাকেই চাওয়া...

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই যে দক্ষিণে ঘুরে যাওয়া মোড়, এই যে এম্বুলেন্স, এই যে ফুটপাতে গড়িয়ে পড়া পচা আপেল, কলা, এই যে রিক্সা অলার মধ্যাহ্ন-ধুমপানের হালকা গন্ধে খুবলে ওঠা ফুটপাত, আর মুরগীর চিড়িয়াখানা, এসাইলাম, বাজারী লোকজনের আশির্বাদে নিত্য গন্ধ ছোটা হাতিরপুল.. এখানেও মানুষ স্বপ্ন দেখে, ভাবতে পারো। দিন-তারিখ মনে নেই এই অদম্য স্বপ্নচারীদের পড়শি কোন এক রিক্সায় চেপে বসেছিলাম একবার। আচ্ছা, খুলেই বলি। দেখো, এরকম সবুজ দেশের রাস্তাঘাট সাধারণত শুক্রবারে ঝিমিয়ে পড়ে। সবাই ছুটির আমেজে ঘুমের ওভারটাইম শুরু করলে রাস্তাঘাটগুলোও কেমন বিশ্রাম পায়। কিন্তু তুমি তো জানো, সেদিনই ঘটতে হলো ঘটনাটাকে। তখনও কিন্তু তুমুল বসন্ত এসে শীতকে লাল কৃষ্ণচূড়া চোখ রাঙিয়ে বলেনি- এবার গুডবাই। তবু উত্তেজনার কারণেই হবে, ফুলস্লিভ হাতাটাকে গুটিয়ে ছেলেটা রিক্সায় চড়ে বসে আর অনেক দিন পর ভরাট শুক্রবারে হাতিরপুল বাজারের বিপুল জীবনস্রোতের মধ্যে দিয়ে উড়ে গেলেও কোন গন্ধ পায়না সে।

গন্তব্য একটা জানা থাকলেও সেটা শুধু রিক্সাঅলাকেই বলা। আসলে কিন্তু আকাশে ওড়ার অনুভব হয়। এগুলো ঠিক বিমানও নয়, কিংবা কে জানে হয়তো সোনালী চিলের মতো কিছুটা কিংবা অনেকটাই আলাদা, অন্যেরা ঠিক অনুভব করবেনা। সবজিবাগান রোডটা যখন বিপুল ছায়া দিচ্ছিল, তখনই মনে হলো কথাটা- একটা পুরাতন বাজি আমি নতুন করে ধরতে রাজি। মানুষের ব্রেইন, কম্পিউটার মেমোরি, আরো কি কি যেনো নিয়ে। এসব মনে হলো কেনো.. তখন আমার দারুণ সব এক্সাইটিং গান মনে পড়ছিল। তুমি আসবে বলে তাই, আমি স্বপ্ন দেখে যাই...। ব্যাটা অঞ্জন দত্ত বেকুব। হাসিও পাচ্ছে। আরেকটা জিনিস মনে পড়ছে। হাতে মোবাইল ধরা, গিফট প্যাক, ট্রেম্বলিং অবস্থা.. এরকম সময় কিন্তু সুরের দারুণ আকাল.. গলা দিয়ে সুর বেরোয়না। দেখা গেলো অঞ্জনের কথাগুলো সুমনের সুরের সাথে মিলে মিশে দারুণ খিচুরি..। হাসছো? আসলে কিন্তু ওটাই তখন অন্যরকম। আমার তখন মনে হয়েছিল ওরকম কোন জন্রা একসময় সৃষ্টি হবে গানের জগতে। দেখো, হবে কিন্তু।

হাওয়েভার.. এই তো চলে এলাম বেইলি রোডের কাছাকাছি। নাহ্ মনে হচ্ছে বলতে পারবোনা আর। বনেদি সেই অনুভূতিটা আরব্য রজনীর পঙ্খিরাজে চড়ে হাজির হয়েছে। আমি আর এগোবো কি করে বলো? আমি রিয়েলি কাঁপছি। কিন্তু রিক্সাঅলা তো থামছেনা, ওকে তো আমি একটা গন্তব্যের কথা বলেছি। আই মাস্ট স্টপ হিয়ার আদারওয়াইজ আই ওনট বি এইবল টু রাইট এনি মোর। কারণ এই রিক্সাঅলা আর কিছুদূর যাওয়ার পর আমার মাথা ব্ল্ল্যাক আউট হয়ে যাবে। সো বেটার স্টপ হেয়ার। অতীতমুখী টাইম মেশিনটা আপাতত স্টপ্ড। ভয়ঙ্করভাবে সময়টাতে আটকে যাচ্ছিলাম আরেকটু হলেই। আমি বরং খবরটা দিয়ে দেই আর কিছু স্ন্যাপশট্স, ফ্রি।

খবর. কোন এক ফ্রাইডেতে বেইলি রোডের গাইড হাউজ, মহিলাসমিতিগুলো ঘুমাচ্ছিল। ঘুমাচ্ছিল দোকানপাট আর ফুটপাতগুলোও। জাস্ট কয়েকটা দোকান জেগে ছিল তবুও ঝিমুনি অবস্থা। কোত্থেকে বলতে পারবোনা, হালকা একটা ইংলিশ মিউজিক শোনা যাচ্ছিল। ভিকারুন্নিসার মাথার উপরের নারিকেল গাছগুলো জাস্ট একটু বেশি কোমল। ঠিক তখনই বেইলি রোডের ইতিহাসে অদ্ভুত সুন্দর একটা গল্পের জন্ম হচ্ছিল...

স্ন্যাপশট্ ১. ফ্রেমে চারজন মানুষ। দেয়াল ঘেষে ফুটপাত। ফুটপাতের কোল ঘেসে কিছু নোংরা পানি জমে আছে। ফুটপাতে একটা ইলেকট্রিক পোল। পোলের পাশে দাঁড়ানো দুজন। একটা ছেলে একটা মেয়ে। তৃতীয়জন রিক্সাঅলা, চতুর্থ রিক্সার সিট থেকে নামতে উন্মুখ। ছবির দু্থজনের অবস্থা কিছুটা ট্রেম্বলিং।

স্ন্যাপশট্ ২. শটটা পশ্চিম দিক থেকে নেয়া। ওয়াইড শট। পুরোটা রাস্তা দেখা যাচ্ছে। ডানের ফুটপাতে এক চা অলা। দুরে ট্রাফিক পুলিশকে দেখা যাচ্ছে অলস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে। তিনটা ছেলে মেয়ে রাস্তার ডান পাশ ধরে পূব দিকে হেঁটে যাচ্ছে। একটা ছেলে বেশ সামনে। বাকি দুজন একটু পেছনে। ছবিতে একজনের অবস্থা ট্রেম্বলিং।

স্ন্যাপশট্ ৩. ব্যাক টু ক্যামেরা টাইপ শট। একটা আধো অন্ধকার কালারফুল টেবিলের মাথার উপর দিয়ে একটা কাউন্টার দেখা যাচ্ছে। কাউন্টারে বিরাট বিরাট কয়েকট জুস ব্লেন্ডার, একটা ওভেন, পেছনে তাকে সাজানো কালারফুল জুস আর ড্রিঙ্কসের ক্যান। কাউন্টারে দুজন মধ্যবয়স্ক। তিনটা মাথা টেবিল ঘিরে বসে। টেবিলে কিছু ছড়ানো বই, ক্যাসেট, একটা এমপিথ্রি প্লেয়ার, সাথে ফ্রেন্স আর চিকেন ফ্রাইয়ের তিনটা ডিব্বা, ড্রিঙ্কস। নোবডি ট্রেম্বলিং, এভরিবডি নরমাল হিয়ার।

স্ন্যাপশট্ ৪. ক্লোজ শট। জায়গাটা চেনা যাচ্ছেনা। একটা ছেলে কিছু একটা দিয়ে সামনে দাঁড়ানো মেয়েটার মাথায় বাড়ি দিচ্ছে। পাশে দাঁড়ানো কামরানকে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছেনা... মনে হচ্ছে বেশ অবাকই হয়েছে সে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:৪৯
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুসা নবীর পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কিত হাদিসটি ২৫টি হাদিসগ্রন্থে নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭

আমি গতকাল হযরত মুসা (আ) গাছের পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করেছিলাম। এটা ব্লগার নতুন চ্যালেঞ্জ করেন। আমি এরপরে সিহাহ সিত্তাহ-এঁর ৬টি হাদিসগ্রন্থ-সহ ২৫টি হাদিসগ্রন্থ থেকে 'কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×