2. পার্কের বেঞ্চিতে বসে আছেন বিখ্যাত কবিবর। কাঁধে ঝোলা . . . এক মুখ দাড়ি-গোঁফ . . . লম্বা চুল . . . আলুথালু পাঞ্জাবী . . . নাকের ডগায় চশমা . . . অনেকটা ও পাড়ার হরিহর বাবুর মতো . . . বেশ একটা কৃত্রিম আভিজাত্য আনার হাস্যকর প্রচেষ্টায় তিনি একটা বই খুলে বেশ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে ভাবনার জগতে ডুব মারেন। ভাবনার তলদেশে কিসের জানি ঠোক্কর খেয়ে তিনি দম ছাড়েন- 'হুম' করে। এবার ডান হাতের তর্জনী দিয়ে চশমাটাকে নাসিকার কিঞ্চিত উপরে ঠেলে দিয়ে বইটাকে দুই হাতের মাঝখানে অর্ধবন্ধ করে বলতে থাকেন- "তো যা বলছিলাম। কবিতা হলো বিমূর্ত শিল্পকর্ম . . . ." । উল্লেখ্য- তার শ্রোতামন্ডলী হলো পাঁচ ছয়জন ছিন্নমূল শিশু যাদের রনবী প্রদত্ত নাম টোকাই। স্বভাবতই তাদের কারোরই এসব উচ্চমার্গের কাব্যিক বয়ানের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন কবিবর তার সেই চটের ঝোলাখানা হতে কিছু চকলেট কিংবা দু'এক প্যাকেট বাদাম বের করবেন সেই সময়টার জন্য। কবিবর এখন গভীর মনোযোগ সহকারে নন্দনতত্ত্বের আলোচনা করছেন। দু'একটা কাক নিয়মিত বিরতিতে কা কা করে কবিবরের সেই তত্ত্বের সাপোর্ট দিচ্ছে নাকি অবজেকশন জানাচ্ছে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। একটু দূর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে দু'জন সুন্দরী ললনা। চশমার কাঁচ ভেদ করেই চলে কবির ছিনালিপনা . . . বোকা পাঠক কবিতা বোঝে না . . . .
3. অ্যা থিং অফ বিউটি ইজ জয় ফর এভার। একটু বলবে কি সুন্দরের সংঞ্জাটা কি? সব দৃষ্টিভঙ্গিই কি খন্ডিত নয়? কোকিলের সুমধুর কন্ঠ শুনে তোমরা আপ্লুত হও, রচনা কর কত কবিতা-গান। অথচ কর্কশ স্বরের জন্য ঘৃণিত যে কাক তার ডাকেই প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গে। সে বসন্তের কোকিল নয়, নিত্যদিনের অবাঞ্চিত প্রতিবেশি। তবুও সে-ই কোকিলকে পৃথিবীর আলো দেখায়।
ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা :: [link|http://www.orkut.com/AlbumZoom.aspx?uid=17368474101873508513&pid=4| BkwZqvK wR
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


