পাত্র অনিচ্ছুক। তবু যেতে হচ্ছে বড় বোন ও দুলাভাইয়ের পীড়াপিড়িতে। সঙ্গে বড় ভাবীও আছে। কলাবাগান লেক সার্কাসের কাছে একটি ওষুধের দোকান আছে, দিন রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে, তার পাশ দিয়ে যে গলিটা গেছে, ওই গলি ধরে একটু ভিতরে লাল রংয়ের এক বাড়ি। যেতে হবে সেখানে। ওটাই পাত্রীর বাড়ি।
সেই মত একদিন বিকেলে বেরিয়ে পড়ে ওরা চারজন। আকাশের অবস্থা ভালো না। অন্ধকার করে নিয়ে আসছে সব। নির্ধারিত স্থানে পৌছে একটি লাল বাড়িতেই হুড়মুড় করে তারা ঢোকে। বাড়িতে কেউ নেই। আছে কেবল সোমা। সে বৃষ্টির গান শুনছিল, আর বই পড়ছিল। লোকজনের হট্টগোলে বেরিয়ে আসে। ততক্ষনে ঝুপ বৃষ্টি। বৃষ্টি বাড়তেই থাকে।
সেটা পাত্রীর বাড়ি ছিল না। উল্টোপাশে আরো একটি লাল ভবন। সেটাই পাত্রীর বাড়ি। কিন্তু আকাশের কান্না থামাবে কে। এক ঘন্টা হয়ে যায়। সোমা ব্যাপারটা বুঝতে পারে। চা করে দেয়। একটা দুটা কথা বলে। তার ভালো লাগে। জানালায় দাড়িয়ে বৃষ্টি পড়া দেখে। বৃষ্টির শব্দ শোনে।
তারা পাত্রীর বাড়ি যায়। পাত্রী দেখে আধঘন্টার মধ্যে বের হয়ে আবার আসে সোমাদের বাড়ি। ততক্ষনে ওর বাবা-মা বাসায়।
এক মাসের মধ্যে সোমার সঙ্গে বিয়ে হয় ওর। বিয়ের ৭ বছর পরে আজও সোমা ওর বরকে বৃষ্টিতে আটকে পড়ার ঘটনাটি বলে। ওইদিন বৃষ্টিতে ওরা সোমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল বলেই তো এই বিয়েটি হলো।
পাত্রের নামটি কি ছিল মনে করতে পারছি না। সকাল বেলা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রওনা হয়েছিলাম অফিসের উদ্দেশ্যে। বাসে ওঠার পর কি বৃষ্টি! ২০ মিনিটের পথ ফুরালো ২ ঘন্টা পর। অনেকদিন আগে এ রকম একটি গল্প সম্ভবত কোনো পত্রিকায় পড়েছিলাম। আজ ভীষন মনে পড়ছিল গল্পটি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



