somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাওয়ায় পুড়ুক আবছায়া মেঘদল....(মাহী ফ্লোরা)

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

..এখানে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়, এখানে বাড়ি ভাড়া দেয়া হবে চোখের সামনে এই রকম নেমপ্লেটই ঝুলছে শশীর। এসব আর ভাল্লাগেনা। বৃষ্টিকে নিয়ে আসবে একসাথে আদা রসুন পিষবে তা না। এখনো সংসারই শুরু করতে পারলোনা শশী।

কাল রাতে বৃষ্টি যে কঠিন ঝগড়া করেছে তাতে ইচ্ছে করছে আজই বাসায় চলে যেতে। মেয়েটা পারেও ঝগড়া করতে! অল্পতেই রেগে যায়। অবশ্য শশীর ও খুব ভাল লাগে রাগিয়ে দিতে। আগামী সপ্তাহে বাসায় যাবার কথা ছিল, বস আটকে ফেলেছে। বলতেই কঠিন ঝগড়া। কাল ঝগড়ায় কি কি বলেছে মেয়েটা ভাবতেই এখন শশীর হাসি এসে যাচ্ছে। বৃষ্টি নিশ্চয় নাক ফুলিয়ে ফুলিয়ে তখন বলছিল, পৃথিবীর সব মানুষকে ডেকে ডেকে বলতে ইচ্ছে করছে আই হেইট ইউ। তোমাকেও...!

বাপরে কি কঠিন মেয়েরে বাবা। দিনের মধ্যে পঁচিশবার লাভ ইউ না বললে নাকি তার অস্থির লাগে আর ঝগড়ার মধ্যে একেবারে সরাসরি হেইট!

-ভাই একটু সরে দাঁড়ান। এরকম রাস্তার মধ্যে এসে দাঁড়াইলেতো গাড়ি চাপা খাইবেন!

আারে তাইতো!
'' দেখো মেয়ে তোমার কথা ভাবতে গিয়ে একটু আগে গাড়ি চাপা খাইতেছিলাম। খাইলে আর কি। দুনিয়ার আর সবার মত তুমিতো আমারেও হেট কর।''

মেসেজ লিখে পাঠিয়ে দিয়ে শশীর খুব হাসি পায়। এখনি মেয়েটা চিন্তায় অস্থির হয়ে যাবে।

আচ্ছা ভালবাসা এরকম হয়! কি অদ্ভুত যে লাগে শশীর। সুরভীকে এখনো মাঝে মাঝেই খুব মনে পড়ে। দিন রাত যে কিভাবে কেটেছে সে সময়। ভাবলে শরীর কেঁপে ওঠে! উপেক্ষা ভাল জিনিস। কিন্তু অপেক্ষা বড় কঠিন। শশীর মনে হয়েছিল আর কোনদিন হয়ত সে ভালবাসতে পারবেনা। সারারাত ঘুম হতনা। একেরপর এক কবিতা লিখে গেছে। কি হয়েছে ওসব লিখে? শুধু শুধু যন্ত্রনা। সুরভী বন্ধু থাকতে চেয়েছিল। ঐ মেয়েরা যেমন হয় আর কি। ভবিষ্যত ভেবে বন্ধুকে আর প্রেমিকের জায়গা দিতে চায়নি। এই যে চাওয়া, সব দোষ কি একার ছিল শশীর? সুরভী কি আগুন উস্কে দেয়নি? রাগ আবদার ইচ্ছেপূরণ ঘোরাঘুরি প্রতিমুহূর্ত ঝুলিয়ে রাখা ! ভালবাসা কি কোন সূত্রমেনে চলে? শশীর ভেতরটা পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিলো।

উড়ুক উড়ুক হাওয়ায় পুড়ুক
আবছায়া মেঘদল;
আমি বৃষ্টিভেজা মুখ-
আমার কঠিন এক অসুখ!
আমি বাড়ি ফিরে যাব
আমি তোমার কাছে যাব
আমি টিকিট কিনে নেব
এই শহর বেচে দেব
এই শহর বেচে দেব অনেকটা কম দামে-
শুনছো বৃষ্টি শুনছো তুমি
এই চিঠিটা লিখছি তোমার নামে...
এই চিঠিটা লিখছি তোমার নামে!

মনে মনে সুর দিতে ইচ্ছে করে শশীর। ইশ গানটা যদি গাইতে পারতো বৃষ্টি শুনে কি অবাকটাই না হত। ধুর কেন যে গাইতে পারেনা সে!

-''তুমি যদি গাড়ি চাপা খাও আমিও রাস্তার মধ্যে গিয়ে গাড়ি চাপা খাব। মনে রাইখো।''

আরে কি বলে এই মেয়ে! তোরে আমি পুতুলের বাক্সে বন্দী করে রাখব, রাস্তায় বেরুতে দিলেতো!
বিয়ের দিন ও শশীর মনে হয়েছিল মা এত বড় ভুল করছে। একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হবে ভাবতেই শশীর খারাপ লাগছিলো। শশীতো আর কখনোই কোন মেয়েকে ভালবাসতে পারবেনা। অথচ কি যে হল! এই পাগলী মেয়েটা অস্তিত্ব দখল করে এখন মহাসুখে রাজত্ব করছে।

''আজ কিন্তু আমি ভাত খাবনা। তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিসো,হু।''
এই টুকরো টুকরো মেসেজ পাঠাতে গিয়েও শশীর মনে হয় এত সুখ কেন!

-''বৃষ্টি তুমি একটা কাঁচা আমড়া।''

'' বৃষ্টিকে কাঁচা আমড়া মনে করে এখন ভাত দিয়ে মেখে খেয়ে ফেলো তো দেখি চাঁদকুমার। কেমন পারো...''

নাহ আর পারা যাচ্ছেনা। মেসেজ না দিয়ে একবার ফোন দিলে কি হয়? কথা শুনতে ইচ্ছে করেনা শশীর?
বৃষ্টি ফোন ধরতেই শশী হড়বড় করে বলতে থাকে, ''এই শোন, বিয়ের পর এরকম প্রেম হয়? ইশ আগে জানলে না আমি দু চারটা বিয়ে ছোট বেলাতেই করে ফেলতাম। '' ওদিকে বৃষ্টি রেগে গেছে দেখে শশী টুপ করে ফোনটা রেখে অফিসের দিকে হাঁটতে থাকে। সারাদিন আজ অনেক কাজ। সন্ধ্যায় বের হয়েই আবার বাসা দেখতে হবে। অফিসের এক কলিগ তার পাশের ফ্ল্যাটের খোঁজ দিয়েছে। ভাড়া কম। দুজনের জন্য একরুম, রান্নাঘর, বাথরুম,ছোট একটা বেলকুনি।আরো কয়েকটা বাসার খোঁজ আছে। খুব দ্রুত দেখে ফেলতে হবে।

বৃষ্টি নিশ্চয় এখন মুখ হপ করে বসে থাকবে! মুচকি হাসে শশী।

সারাদিন আর কথা হয়নি। ঘুমুতে যাবার আগে শশী ছোট্ট একটা মেসেজ লিখে বৃষ্টিকে পাঠায়।
''শুনছো এক রুমের ছোট্ট বাসায় থাকতে তোমার কি খুব কষ্ট হবে?''


সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×