(বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে লেখা)
ধান নদী খাল
নারিকেল সুপারি তাল
ভাঙ্গা-গড়া চোরাবালি
এই নিয়ে নোয়াখালী।
এই প্রবাদের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলার পরিচিতি তুলে ধরা হয়। এক সময়ের নোয়াখালীর মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, জেলার মূল ভূখন্ডের ভিতর দিয়ে অসংখ্য নদী-খাল এঁকে বেঁকে জাল বিস্তার করে দক্ষিণে সাগরের দিকে বয়ে গেছে। ফেণী ও লক্ষীপুর জেলার কথা বাদ দিলেও নোয়াখালীতে অনেকগুলো নদী ছিলো। এসব নদী দিয়ে বর্ষা-বাদলের পানি প্রবাহিত হতো সমুদ্রমূখে, আর এসব নদীর মিঠা পানি ছিলো চাষের কাজে বেশ উপযোগী, গৃহস্থালী কাজেও এসব নদীর পানির ব্যবহার ছিলো অপরিসীম। প্রমত্তা প্রবাহমান এসব নদীতে চলতো জোয়ার ভাটার খেলা; ফলে এক দিকে যেমন মিলতো প্রচুর মাছ.যা মিটাতো আমাদের খাদ্যপুষ্টি চাহিদার বড় একটি অংশ। অন্য দিকে নদী-খাল ছিলো আমাদের যাতাযাত ও পরিবহনের সহজ এবং বৃহত্তর উপায়। তখন যন্ত্রের বেসুরো ধাতব শব্দে আমাদের সহজিয়া প্রকৃতির সুরমগ্নতা ভেঙ্গে দেয়া নিয়ে কিংবা বাতাসে সীসার মাত্রা বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমাদের ভাবতে হতো না; ভাবতে হতো না অনেক টাকা দিয়ে দূরের দেশ থেকে এসব কাজে জ্বালানি আনার কথা। আর সামুদ্র বিশোধিত নির্মল বায়ুর জন্যও আমাদের ভাবতে হতো না। নদীর ভাঙ্গন বিলাসী স্বভারের সাথে আমাদের প্রবল সংগ্রাম হতো। সেসব সংগ্রামের প্রধান প্রাণশক্তি জোগাতো নদী থেকে আহরিত বিভিন্ন উপাদান। কিন্তু পূর্বের সে দৃশ্য আমাদের কারো কারো স্মৃতিপটে থাকলেও বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে নোয়াখালী জেলায় নদী নেই। জেলার নদীগুলো ছিলো প্রমত্তা মেঘনা ও এর বিভিন্ন শাখা হাতিয়া বা কালাইয়া নদী,বা¹া নদী, জালছেঁড়া নদী, ইলিশা নদী,ডাকাতিয়া নদী, নোয়াখালী খাল বা নোয়াখালী নদী,বামনি নদী। এসব নদীর অনেকগুলো হারিয়ে গেছে। অনেক নদী ঝিরঝিরে খালে পরিনত হয়েছে।
নোয়াখালী জেলার উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি নিস্কাষনের জন্য ১৬৬০ সালে বেগমগঞ্জে ডাকাতিয়া নদী থেকে সোনাপুর পযন্ত মেঘনার শাখা নদীকে সংযুক্ত করে বড় একটি খাল খনন করা হয়। নতুন করে কাটা হয়েছে বলে এর নাম হয় নোয়াখালী। এ খালের ফলে বাণিজকেন্দ্র চৌমুহনীর যোগাযোগ আরো স¤প্রসারিত হয় এবং কৃষি ও মৎসজীবিদের জীবিকায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। নোয়াখালী খাল নামে মাত্র খাল হলেও তা ছিলো নদীর মত প্রবাহমান পলিবাহি। এ নদীকে ঘিরে তৈরী হয় জেলার সহস্র মানুষের উৎপাদন ক্ষেত্র ও বিপননের জন্য হাট বাজার গঞ্জ। অথচ আজ নোয়াখালী খালটি একটি জ্বরাজীর্ন খালে পরিনত হয়েছে এবং বছরের বেশির ভাগ সময় শুকনো থাকে। জেলা শহরসহ জেলার দক্ষিনাঞ্চলকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য তৈরি ক্রসবাঁধের ফলে জেলার অনেক নদীর মত নোয়াখালী খাল ও এখন মৃত পায়। পলি ভরাট হয়ে খালটির দক্ষিনাঞ্চল এখন উঁচু হয়ে গেছে। ফলে খালটি দিয়ে আর বৃষ্টি বর্ষনের পানি সাগরে গিয়ে পড়তে পারে না। এছাড়া নদীর উপর অবৈধ স্থাপনা, নিচু পুল কালভার্ট, বাঁধ তৈরি, প্রভৃতি কারনে নদী তার প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। তাই জেলায় আবার দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে এবং পানি বাহিত নানা রোগে জনস্বাস্থ্য হুমকির মূখে পড়েছে।
নোয়াখালীতে নদীর অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সুরমগ্ন সবুজ প্রকৃতি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!
এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!
ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!
(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)

তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন
মুসা নবী এবং ফেরাউন

মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।