somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মনোয়ার রুবেল
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ আমার লেখার ও সাহসের ভিত্তি। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলাই সত্যিকারের দেশপ্রেম মনে করি। সত্যম ব্রুয়ৎ!

খান আতা কত পার্সেন্ট রাজাকার? আসুন জেনে নিই।

২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


খান আতাউর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু খুন হওয়ার পর কাকরাইলে শ্যাম্পেন ভেঙে আনন্দ উদযাপন করেছেন। তিনি রেডিওর জন্য ১৫ই আগস্ট গানও লিখেছেন। কি সেই গান, "আধারের সীমানা পেরিয়ে আজ এসেছি আলোর ঠিকানায়"! আহাহা!

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তার নাকি আঁধার কেটে গেছে! খন্দকার মোশতাক হলো আলো। ১৯৭১ এর পরেও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি কৌশলে কম বিতর্ক করেন নি। মুক্তিযুদ্ধের পরে সিনেমা বানান "আবার তোরা মানুষ হ"। কবি কাজী নজরুলের বিখ্যাত লাইন “গেছে দেশ দুঃখ নাই আবার তোরা মানুষ হ’!” থেকে শেষাংশ ধার করে 'আবার তোরা মানুষ হ ' বলে খান আতা কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতকারী হিসেবে মানুষ হতে বলেন। দেশ পাকিস্তান গেছে, যাক। এই সিনেমা নিয়ে তখন থেকে বিতর্ক ছিল। বিতর্ক ছিল খান আতার উদ্দেশ্য নিয়ে।

জনাব খান আতার পাকিস্তান প্রীতি এখন অনেকে জানেনা। নতুন প্রজন্ম বইই পড়েনা। ইতিহাস সাহিত্য সংস্কৃতি তারা জানবে কোত্থুকে। তারা এখন মোবাইলের মনিটরে জীবন বেঁধে ফেলেছে। যে যাই বলুক সত্য মিথ্যা, এদের প্রতিবাদের জ্ঞান কই? খান আতাকে রাজাকার বলায় "সুযোগ সন্ধানী স্বঘোষিত মুরুব্বী" নায়কের ফারুকের আস্ফালনের বিরুদ্ধে কেউ আঙ্গুল তুলে ' বরং তুই রাজাকার' বলার মতো তরুন এখন আর নাই।

নীলিমা ইব্রাহিম কমিটির রিপোর্ট এর নামও অনেকে জানেনা। বেতার ও টিভির দালালদের তালিকা করে নিলীমা ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের মে মাসে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খান আতা ৬ মাস বেতার টিভিতে নিষিদ্ধ ছিল দালালীর অভিযোগে। কী ছিল তার দালালী? ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট প্রথম দিনেই যেমন গান লিখে ফেলেছিলেন। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ ১ম দিনেও পাকিস্তান টিভির জন্য খান আতা গান লিখেছিল "সাদায় সবুজে আমার পাকিস্তানি পতাকা" ।

১৯৭১ সালে ৫৩ জন বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে ৯ম স্বাক্ষরকারী খান আতা। যদিও এখানে ৫৩জনের সবাই কিন্তু বস্তুত স্বাক্ষর করেন নি। ১৯৮৭ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল এই স্বাক্ষর নিয়ে। খান আতা হাসতে হাসতে বলেছিল, মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে।

মি. আতা কি বোঝাতে চেয়েছেন তিনি মৃত্যুর ভয়ে স্বাক্ষর করেছেন? কিন্তু নিলীমা ইব্রাহিম রিপোর্ট ভিন্ন কথা বলে। "তারা লিখেছে "কয়েকজন কন্ঠ শিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, নাট্যশিল্পী, সংবাদ পরিবেশক, পরিচালক, ঘোষক, দ্বিগুন, তিনগুন, ও অথবা চারগুন অনুষ্ঠানের অংশ গ্রহণ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চিত অভিযোগের প্রমান না থাকলেও এ মন্তব্য করা যায় যে তারা পরোক্ষভাবে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর মনোরঞ্জন করেছেন। "
তারা স্বপ্রনোদিত হয়ে আহ্লাদে উচ্ছাসে বেতারে টিভিতে অনুষ্ঠান করেছে। এদেরকে কি রাজাকার বলা যাবেনা?

খান আতা নিয়ে এত কথা বলে তাকে রাজাকার প্রমান করাটাই এই মূহুর্তে জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র বা অন্যতমগুরুত্ববহ বিষয়ও নয়। তাহলে তিনি হঠাৎ আলোচনা এলেন কেন? ওই যে আমরা বলি ইতিহাসের গতিধারা। ইতিহাস মাঝে মাঝে তার চর্চার ঘুরপাকে কিছু অগুরুত্বপূর্ণ বা একেবারে অপ্রয়োজনীয় কোন তথ্য তুলে এনে নতুন প্রজন্মকে ছোট ছোট শিক্ষা দান করে যায়। নতুনবা প্রজন্মান্তরে সত্য চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। এখন যেমন কেউ কেউ খান আতার স্বাধীনতা কেন্দ্রিক কার্যক্রম অস্বীকার করেন মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে গালি দিচ্ছেন, তাদের চরিত্র উম্মোচনের জন্যও ইতিহাস স্বেচ্ছায় এসব ক্ষুদ্র প্রসঙ্গ তুলে আনে হয়তো। কি চরম ঔদ্ধত্যই বলতে হয়, খান আতাকে রাজাকার বলায় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নাকি ক্ষমা চাইতে হবে? নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে ক্ষমা চাইতে হবে? নায়ক ফারুক গায়ে মানেনা আপিন মোড়ল হয়ে সবাইকে শাসাচ্ছে তাই বলে প্রিয় যোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ,বাচ্চুকে? এত স্পর্ধা আসে কোথা থেকে?

যাই হোক। এখন প্রশ্ন হলো খান আতাকে আমরা কিভাবে দেখব? খান আতা নি:সন্দেহে অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষ। আমরা এর চেয়েও ভয়ঙ্কর সাংস্কৃতিক রাজাকার আশকার ইবনে শাইখ কে করুনা করেছি। আশকার ইবনে শাইখ পাকিস্তান রেডিওতে এম আর আখতার মুকুলের অনুষ্ঠানের কাউন্টার অনুষ্ঠান করতেন। পাকিস্তানি সৈন্যদের উজ্জীবিত করতেন। বাংলাদেশ তাকে করুনা করেছিল। আশকার ইবনে শাইখও মেধাবী মানুষ ছিলেন। আমরা তাদের মেধাকে অস্বীকার করিনা। প্রতিভাকে অবজ্ঞা করিনা। এজন্যই তারা মহান বাংলাদেশে শিল্পী স্বীকৃতি পান। কিন্তু তাদের স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকা ভুলে যাবো কোন আনন্দে?

তথ্যসূত্র:
* একাত্তরের ঘাতক দালালরা কে কোথায়?
* ইউটিউবে খান আতা নিয়ে সৈয়দ হাসান ইমামের স্বাক্ষাতকার।
* নিলীমা ইব্রাহিম কমিশন রিপোর্ট
* দৈনিক ইত্তেফাক।

#
মনোয়ার রুবেল
২০.১০.১৭, কমলাপুর।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভার্টিগো আর এ যুগের জেন্টস কাদম্বিনী

লিখেছেন জুন, ১০ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৯:১৩



গুরুত্বপুর্ন একটি নথিতে আমাদের দুজনারই নাম ধাম সব ভুল। তাদের কাছে আমাদের জাতীয় পরিচয় পত্র ,পাসপোর্ট এর ফটোকপি, দলিল দস্তাবেজ থাকার পরও এই মারাত্মক ভুল কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিমনি মা হয়েছে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১০ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১০:২৩



আজ পরিমনি একটা ফুটফুটে পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছে । বি ডি ২৪ এই খবর ছাপিয়েছে ।
করোনার সময়ে একটি ক্লাবে পরিমনি বনাম ক্লাব মেম্বারদের ঝগড়া ঝাটির সময়ে আমি পরিমনিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৈফিয়ত

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:০০


(ছবি নেট হতে)

আউযুবিল্লাহিমিনাশশাইত্বোয়ানিররাজিম।
বিসমিল্লাহিররাহমানিররাহিম।
আসসালামুআলাইকুম।

উপরের মত করে সূচনা যাদের নিকটে বিরক্তিকর মনে হয়, তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করে বলছি,

এভাবে শুরু করার ফলে আমার বিভিন্ন সুবিধা হয়ে থাকে। যেমন ঐ অংশটা লিখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবনঃ কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।

লিখেছেন জাদিদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:১৪

১।
মেয়েকে রুমে একা রেখে বাথরুমে গিয়েছিলাম। দুই মিনিট পরে বের হতে গিয়ে দেখি দরজা বাইরে থেকে লক। পিলে চমকে উঠে খেয়াল করলাম পকেটে তো মোবাইলও নাই। আমি গেট নক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোটিপতি এবং বাংলাদেশীদের সুইস ব্যাংকের হিসাব।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:১৮



স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন। ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬... ...বাকিটুকু পড়ুন

×