somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ রাহীম উদ্দিন
বৃহত্তম বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষক আমি। একজন শৌখিন লেখকও বটে। শখের বশে কবিতাও লিখেছি এক সময়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পত্রিকায় এবং ব্লগে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি।

গ্রেট ফাদার- একটি অনুগল্প

০৭ ই জুন, ২০১৮ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথম দেখেছিলাম ৯০ এর দশকে। তাই পুরোপুরি মনে নেই কাহীনি বা সংলাপ। তের কি চৌদ্দ বছরের কিশোর তখন আমি। তবে মনে আছে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বাবা-মেয়ের ক্যামিষ্ট্রি নিয়ে এক অসামান্য আবেদন সৃষ্টিকারী গল্প ছিল সেটি। সেই থেকে একটি গানের রেষ আজো কানে বাজে। নিজে নিজে সেই সুরের টান ধরেছি অনেকবার। যখন ফিতার যুগ ছিল তখন হেমন্তের ক্যাসেট কিনে কতোবার যে শুনেছি সেই গান তার ইয়োত্তা নেই। ইন্দ্রজালের যুগ আসায় নেট থেকে ডাউনলোড করেও শুনেছি অনেকবার। এখন মেয়েকে ঘুম পাড়ানোর সময় প্রতিদিন রাতে আমার গেয়ে শুনাতে হয়। ‘‘আয় খুকু আয়…”।
প্রতিদিন আমি আমার মেয়ের দিকে নীরবে অপলক তাকিয়ে থাকি। প্রায় সময় আমার মনের অজান্তে জল এসে ভরাট হয় চোখরে কোনে। প্রতিদিন সে বেড়ে উঠছে। চার-পাঁচটা শব্দে তার কথা ফুটছে। আমার কাছে তার সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘‘পা…পা…” মানে বাবা । নিজে নিজে দাঁড়াতে শিখছে সে এখন। দু-এক কদম এগিয়ে পড়ে যায়, আবার প্রচেষ্টা চালায় উঠে দাঁড়াবার। ওর প্রত্যেকটা কর্মকান্ড আমি সুনিপূণ চোখে দেখি। কোন কারনে যখন ও কাঁদে আমি সহ্য করতে পারি না। অনেক সময় আমার চোখেও জল এসে যায়। আমার কেন জানি ভয় হয়। আমার এখনই ভাবতে মন খারাপ করে- এতো আদরের, এতো সখের মেয়েটাকে আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের কাছে রেখে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখতে পারবো তো! আমি তাকে এখনকার মতো জড়িয়ে ধরতে, চুমু খেতে পারবো তো? ও আমার কোমরের উপর পা তুলে দিয়ে, গলা জড়িয়ে গা ঠেসে শুয়ে থাকতে পারবে তো? এখনকার মতো বুকের মধ্যে আগলে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে, পিঠ চাপড়ে ওকে ঘুম পাড়াতে পারবো তো? আমি আমার সন্তানের সারা জীবনের আশ্রয় হতে চাই, Life Is Beautiful চলচিত্রের বাবার মতো একজন গ্রেট ফাদার হতে চাই। আমি তার সব বয়সে একই রকম বাবা হয়ে থাকতে চাই । একই রকম দায়িত্ব পালন করতে চাই যেমনটি এখন আছি। তার ঘুমানো, তার খাওয়া, তার খেলাধুলা, তার দুষ্টুমী করা, তার গোসল করা, টয়লেট সারানো, ঠান্ডার ভয়ে হাতের-পায়ের তালুতে রসুনসহ গরম করা সরিষার তেল মাখানো, গান শুনা ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছুতে আমি তার সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই।
গত কয়েক দিন ধরে নিজের অজান্তে সারাক্ষণ কানে বেজে চলেছে, ‘‘আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে..?” কাল সারারাত কিছুক্ষণ পরপর আমার ঘুমন্ত মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেছি, মাথায় হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখেছি সব কিছু ঠিক আছে তো? আমি বেঁচে আছি তো? আর হতাশা ও ভয়ে বারবার বড় বড় নিশ্বাস ফেলেছি। চোখের কোনে কথিত ‘বন্ধুক যুদ্ধে’নিহত পৌর কাউন্সিলর একরামের কণ্যাদ্বয়ের করুণ আর্তি মিশ্রিত ক্রন্দনরত চেহারা ভেসে উঠছিল বারবার। আর মাথার মধ্যে ঘরপাক খাচ্ছিল ফেইসবুকে লিখা মৃত বাবার কাছে তাদের আকুতিশুলভ খোলা চিঠির উক্তি, ‘‘তোমার শরীর থেকে বাবা-বাবা একটা ঘ্রাণ আসতো, খুব মিস করবো সে ঘ্রাণ।” যেদিন অনলাইন পত্রিকায় প্রথম এই খোলা চিঠিটি পড়েছি, সেদিন অফিসে বসেই চিঠিটি পড়তে পড়তে চোখের জল গড়িয়ে পড়েছে। ইচ্ছে করছিল হাউ-মাউ করে কাঁদি। কিন্তু অফিসের পরিবেশের কথা চিন্তা করে নিজেকে সামলে নিয়েছি। চোখের কোনে নিজের কন্যার স্থান অনুভব করলাম। ওর শরীরের গন্ধ নাকে ভেসে গেল। সাথে সাথে বাসায় ফোন করে আমার মেয়ের খবর নিলাম। সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। ভাবি, আমরা কি নিরাপদ? না জানি কখন কার কোন রেষানলে আমরাও স্বীকার হই এই রকম বিচার বহির্ভূত নির্মম হত্যাকান্ডে!
আমরা উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছি বটে। তবে আমাদের মনন উন্নত হতে পারেনি এখনো। একটা দেশের উন্নয়নের মাপকাঠি শুধু তার অর্থনৈতিক অগ্রগতি দিয়ে চিন্তা করলে হবে না। সাথে সাথে মানুষগুলোর শিক্ষা, মানবিকতা ও মানষিকতার উন্নয়নও আবশ্যক। একটা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে বিচার বর্হিভুত হত্যাকান্ড চলতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়। অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে বিচার বিভাগীয় সমাধানের পথে নিয়ে যাওয়াটাই তাদের কাজ। তা না হলে রাষ্ট্রীয় বিচার বিভাগের কোন প্রয়োজন পড়বে না। কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে ১০ জন বিচারপতি শপথ গ্রহণ করেছেন। এতো বিচারপতির একজনও কি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে রুল জারি করতে পারেন না! বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নিয়ে এখন প্রশ্ন জনমনে। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্যে দিয়ে জাতি তার পিতা হারিয়েছে। একরাম হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে জাতি সেই পিতা হারানো বেদনা আবার নতুন করে অনুভব করছে। সুশীল সমাজ নিরব নির্বিকার। তাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ নেই, মিছল নেই, নেই কোন সভাও। অধ্যাপক হূমায়ূন আজাদ আমাদের সুশীল সমাজকে আখ্যায়িত করেছিলেন, ‘‘গোপাল নামের ছেলের মতো, যে কলা খেতে ভালোবাসে”।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৮ সকাল ১০:২৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে নিয়ানডার্থাল জিন: করোনার প্রাদুর্ভাব

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:১১


ঘন্টা খানিক আগে একটা সাইন্টিফিক পেপার প্রকাশ হয়েছে.....পড়ে মাথা বন বন করে ঘুরছে....এত দেশ থাকতে কেন শুধু বাংলাদেশে????? এশিয়াতে তো করোনার প্রাদুর্ভাব কম এবং সেটা ব্যাখা করে ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারী পুরুষ সম্পর্ক

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৫৭




একজন পুরুষের জীবনে অনেক নারী আসে।
কমপক্ষে পাঁচ জন নারী। এরকম নারী জীবনের যে কোনো সময় আসতে পারে। বিয়ের আগে বা পরে। কিন্তু তারা জীবনে আসে। জীবন থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাটির চুলা

লিখেছেন সোহানাজোহা, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৩১


ছবি কথা বলে: আজ হাটবার আপনে দেড়ি না করে বাজারে যান গা, নাতি নাতনি ছেলে বউ শহরের বাসায় নদীর মাছ খায় কিনা আল্লাহ মাবুদ জানে! (মাটিরে চুলাতে দাদীজান পিঠা ভাজছেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তর মেরুতে নিশি রাতে সূর্য দর্শন - পর্ব ৪

লিখেছেন জোবাইর, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

বিভিন্ন ঋতুতে ল্যাপল্যান্ড: শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ

রেন্ট-এ-কার' কোম্পানীর সেই মেয়েটি কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে আগে থেকেই পূরন করা একটা ফরমে আমার দস্তখত নিয়ে কিরুনা স্টেশনের পাশের পার্কিং এরিয়াতে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নন্দের নন্দদুলাল : স্বপ্ন রথে

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৬

স্বপ্নের অশ্বারোহী
দূরন্ত ইচ্ছেতে ঘুরে বেড়াই, নন্দ কাননে
তাম্রলিপি থেকে অহিছত্র
পুন্ড্রবর্ধন থেকে উজ্জয়িনী, স্বপ্ন সময়ের নন্দদুলাল।

আমাদের শেকড়
বাংলার আদি সাম্রাজ্যে যেন
পতপত ওড়ে পতাকা সবুজ-লাল,
মিলেনিয়াম নন্দ ডাইনাস্টির স্বপ্ন সারথীর স্বপ্নরথে

মানচিত্র: নন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×